এই পোস্টটি 92 বার দেখা হয়েছে
নন্দ দুলাল দাস : ভগবান নৃসিংহদেব যখন আবির্ভূত হয়েছিলেন তখন তাঁর রূপ ছিল ভয়ানক। স্বর্ণ রঙের কেশর উড়ছে, ক্রোধান্বিত আঁখিয়ুগল, ধারাল নখ যে কোন হৃদয়কে আতঙ্কিত করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ভগবান নৃসিংহদেবের কথা উল্লেখ করা হলেই দেখা যায় তাঁর অর্ধ নর, অর্ধ সিংহ রূপ সমন্বিত বিশাল দেহে ভয়ংকর রূপ। ভগবান আবির্ভূত হয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজকে তাঁর পিতার রোষানল থেকে রক্ষা করার জন্য, এমনকি হাতে সুতীক্ষ্ম তলোয়ার নিয়ে যখন প্রহ্লাদ মহারাজকে হত্যা করতে হিরণ্যকশিপু উদ্যত হয়েছিলেন তখনও ছোট প্রহ্লাদ ভগবানের প্রতি তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস থেকে বিচ্যুতি হননি। তিনি সে অবস্থায়ও তাঁর অন্ধ পিতাকে কৃপাপরবশ হয়ে ভগবানের অস্তিত্ব রয়েছে এ বিষয়ে এবং আত্মঅহংকারের নিরর্থকতা সম্পর্কে উপদেশ দিতে লাগলেন। যখন নিষ্ঠুর পিতা তাঁর ছোট পুত্রের দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত হলেন, তখনই ভগবান তাঁর ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হলেন তাঁকে রক্ষা করার জন্য। এর পরের ইতিহাস হলো অত্যাচারী সেই রাজা নিধন হলো এবং সর্বকালের জন্য প্রহ্লাদ মহারাজের মহিমা প্রতিষ্ঠিত হলো। ভগবান সর্বত্রই বিরাজমান এ বিষয়টি প্রহ্লাদের কাছ থেকে অবগত হয়ে হিরণ্যকশিপু তখন প্রহ্লাদকে হত করার পূর্বে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘যদি তোমার ভগবান সর্বত্রই বিরাজমান হয় তবে তিনি কি এই পিলারটির মধ্যেও অবস্থান করছেন?’ প্রহ্লাদ তখন দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই’। হিরণ্যকশিপু তখন তৎক্ষণাৎ তার তলোয়ার তুলে এর শেষ সমাধান করতে চাইল। ঠিক তখনই প্রহ্লাদের উদ্ধৃতি প্রমাণ করতে ভগবান নৃসিংহদেব সেই পিলার থেকে আবির্ভূত হলেন।
আশ্চর্যজনকভাবে, এই ঘটনায় দু’জন ব্যক্তি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন। একজন ভগবানের অস্তিত্ব বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, অন্যজন তার অস্তিত্ব না থাকা বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। নাস্তিক পরিবেশে বেড়ে উঠেও প্রহ্লাদ কিভাবে মৃত্যুর চরম মুহূর্তেও ভগবানকে সর্বত্র দর্শন করার দৃষ্টি লাভ করলেন? প্রহ্লাদ মহারাজের মত শুদ্ধ ভক্তের সান্নিধ্য পাওয়া সত্ত্বেও কিভাবে হিরণ্যকশিপু সমস্ত কিছুতে ভগবানের অস্তিত্ব না থাকা বিষয়ে ধারণা অর্জন করলেন?
মানুষ ভগবানকে পাওয়ার জন্য বনে, পর্বতের সুউচ্চে এবং দূর-দূরান্তে অনুসন্ধান করছে। সাধারণ প্রচলিত ধারণা হল ভগবান ঐসব স্থানেই অবস্থান করেন। অনেক সময় লোকদের আকাশের দিকে তাকিয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা নিবেদন করতে দেখা যায়। কেননা তাদের ধারণা ভগবান আকাশে বিদ্যমান। রাশিয়ান মহাকাশ নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন যখন মহাকাশ থেকে ফিরে আসেন তখন তাকে প্রশ্ন করা হল, তিনি মহাশূন্যে ভগবানকে দেখতে পেয়েছিলেন কিনা? তার উত্তর ছিল ‘না’।
তবে প্রকৃতপক্ষে ভগবানের অস্তিত্ব কোথায়?
মাসিক চৈতন্য সন্দেশ ২০১১ হতে প্রকাশিত
