পরিবার ও রকমারি সমস্যা (পার্ট-৭)

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ১২:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ১২:২৪ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 35 বার দেখা হয়েছে

পরিবার ও রকমারি সমস্যা (পার্ট-৭)

পরস্পরের সান্নিধ্য

বিজয় গোপাল দাস এবং প্রেমপদ্মিনী দেবী দাসী: “তুমি আমাকে কিচু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছ যে, কৃস্ণভাবনামৃত যৌন জীবনের বৃত্তি কিরুপ? এর উত্তর হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃতের মৌলিক আদর্শ হচ্ছে যতটুকু সম্ভব যৌনজীবন পরিত্যাগ করা। যাই হোক, তা যদি পরিত্যাগ করা অসম্ভব হয় তবে কৃষ্ণভাবনাময় সন্তান উৎপাদনের জন্য কেবল একটি করা উচিত। সেক্ষেত্রে পতি এবং পত্মী উভয়ে কাম চরিতার্থ করার পূর্বে কমপক্ষে ৫০ মালা জপ করা উচিত … (শ্রীল প্রভুপাদ, শ্যামাদাসীকে চিঠি ১৮ জানু ১৯৬৯)

সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বৈদিক শাস্ত্রে যৌন জীবন অনুমোদিত হলেও তা কঠোরভাবে শুধুমাত্র কৃষ্ণভক্ত সুন্তান লাভের জন্য এটি করা নিয়ন্ত্রণের বিধান দেওয়া হয়েছে। এখন যেহেতু উচিত, তাহলে যেসমস্ত দম্পতি তাদের পরিবার গঠন করেছেন এবং তারা আর কোন সন্তান চান না তাদের ক্ষেত্রে কি কাম চরতার্থ করা সম্ভব? এ প্রসঙ্গে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, পারিবারিক জীবনে প্রীতি বা অনুরাগ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। তোমরা তোমাদের পরস্পরের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করতে পার আলিঙ্গন, চুম্বন, সেবা এবং প্রীতিময় কথা আদান প্রদানের মাধ্যমে। শুধুমাত্র একটি জিনিস তোমাদের পরিত্যাগ করা উচিত। তা হল যৌন জীবন। কারণ অপরের প্রতি অনুরাগ প্রদর্শনের জন্য এটি কোন প্রয়োজনীয় পন্থা নয়। এটি শুধুমাত্র কারো ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে সহায়ক।” (শ্রীল প্রভুপাদ, প্রেমরস দাস ও সন্দিপনি মুনি দাসের গ্রন্থ ‘সংস্কার’)

যৌন সংসর্গ ছাড়া এই প্রকারের ভালবাসা এবং ঘনিষ্টতার মাপকাঠি অর্জন করা অনেক গৃহস্থ ভক্তদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে আমরা কিছু বাধ্যবাধ্যকতা প্রয়োগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই পথে অগ্রসর হতে পারি যেমন-আমরা, একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অন্যান্য উপবাসের দিন ছাড়াও মাসে সংসর্গের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমাতে পারি। সবচাইতে জরুরী প্রত্যেক দম্পতির উচিত সাধুসঙ্গ করা। সাধনায় নিমগ্ন থাকা, নিয়মিত মন্দিরে গমন করা এবং পারমার্থিক সেবায় নিযুক্ত থাকা। এতে দম্পতিগণ এক উচ্চতর পারমার্থিক স্বাদ লাভ করবেন এবং একে অপরের প্রতি গভীর ভালবাসা উপলব্ধি করতে পারবেন, যা প্রকাশের জন্য কোন প্রকারের কামক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। ভক্ত দম্পতিগণের যদি পারমার্থিক উচ্চতর স্থিতি নাও থাকে তবে তাদের কোনরূপ হতাশ হওয়া উচিত নয়। কারণ রাতারাতি সুফল আশা করাও ঠিক নয়। কিন্তু তারা যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যান তবে কৃষ্ণ এবং গুরুদেবের কৃপায় তারা অবশ্যই চরম উন্নতি সাধন করতে পারেন। যে পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবস্থান করছেন সেখানে পূর্ণ আশীর্বাদ এবং আনন্দ বর্তমান থাকে, যখন পতি পত্নীর কৃষ্ণের প্রতি ভালবাসা অহৈতুকি হবে তখন তারা উপলব্ধি করতে পারবেন যে, তাদের পরস্পরের প্রতি ভালবাসাও তেমনি সত্য ও দীর্ঘস্থায়ী।

গৃহস্থ ভক্তদের উচিত তাদের স্ত্রীপুত্রসহ পরিবারের সকল সদস্য একসাথে হরিনাম জপ করা। এতে পরিবারের প্রত্যেকেই কৃষ্ণের প্রতি শরণাগত হওয়ার শিক্ষা লাভ করেন এবং সেইসাথে তাদের প্রত্যেকের পরস্পরের প্রতি পারিবারিক ভালবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। যেহেতু জপের সময় কেউই অনুপস্থিত থাকেন না সেহেতু কোন ধরনের উদ্বিগ্নতা থাকে না এবং পূর্ণ মনোযোগের সাথে তারা মহামন্ত্র সাধনায় রত হতে পারেন। এতে পরিবারের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শক্তিশালী বন্ধনের সৃষ্টি হয়। এতে পারিবারিক ঝগড়া কিংবা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে না। এছাড়া বিগ্রহ সেবা, আরতি এবং ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম আদি শাস্ত্রসমূহ পরিবারের সকলে সমবেতভাবে করলে তাদের মধ্যে সত্ত্বগুণের বিস্তার হয় এবং তারা ঈর্ষা, রাগ, দ্বেষ থেকে মুক্ত হতে পারেন। এছাড়া এই সময়টাই হবে পরিবারের সকল সদস্যদের সবচেয়ে উপভোগ্য সময়, কেননা কৃষ্ণের উপস্থিতি মানেই হচ্ছে অপ্রাকৃত আনন্দের বিস্তার।

এছাড়া ভক্তগণ সপ্তাহে অন্তত একদিন তাদের গৃহে একটি ভক্তিবৃক্ষ কিংবা, নামহট্ট কার্যক্রম অনুষ্ঠিত করতে পারেন যাতে তারা নিকটস্থ প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে সকলকে অপ্রাকৃত আনন্দের উৎস সম্পর্কে অবগত করাতে পারেন

শ্রীল প্রভুপাদ বলেন, “কৃষ্ণসেবার পক্ষে থাকা বিবাহকে আমি কখনো নিরুৎসাহিত করি না যদি না এটি শুধুমাত্র কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থের জন্য হয়। বিবাহ বলতেই সেখানে একটি উচ্চতর উদ্দেশ্য থাকবে। উদ্দেশ্যটি হচ্ছে নারী এবং পুরুষ পরস্পর মিলিত হবে ভগবানের গুণকীর্তনের জন্য, যৌন জীবনের জন্য নয়। যৌন জীবন যতবেশী এড়িয়ে কৃষ্ণসেবা, সাধন ভজন যতবেশী করা যায় তাদের লক্ষ্য থাকবে সেদিকে। শ্রীমদ্ভাগবত হতে আমরা জানতে পারি যে, বৈকুন্ঠে এই জড় জগতের চেয়েও অধিকতর সুন্দর নারী রয়েছে যারা বসনে, ভূষনে এবং হাসিতে অধিকতর উন্নত কিন্তু সেখানে নারী, পুরুষ উভয়ই হরেকৃষ্ণ জপে এবং ভগবানের প্রতি ভালবাসা, সেবায় এতই মগ্ন থাকেন যে, তারা পরস্পরের প্রতি কোনরুপ কামবাসনা পোষণ করেন না। এখানেও আমরা ভাল উদাহরণ লক্ষ্য করতে পারি, কারণ আমাদের সংস্থায় ছেলেরা এবং মেয়েরা একই সাথে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নৃত্য কীর্তন করে, কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি এতই আকর্ষিত যে তারা নিজেদের প্রতি কোন যৌন কামনাসূচক আবেগ থাকে না। এটিই হচ্ছে জীবনের পূর্ণতা, কৃষ্ণের প্রতি তারা এতই আকর্ষিত অন্য সকল জড় আনন্দ সুখের কথা তারা ভুলে যায়।”

(উদ্ববের নিকট পত্র, ১৭ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯)।

হরে কৃষ্ণ

 মাসিক চৈতন্য সন্দেশ জুলাই -২০১১ ইং

 

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।