কর্মস্থলে কৃষ্ণভাবনা (পার্ট-২)

প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬ | ১:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ৫ জুন ২০২৬ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 5 বার দেখা হয়েছে

কর্মস্থলে কৃষ্ণভাবনা (পার্ট-২)

প্রাণদা দেবী দাসী : জাগতিকভাবে কর্মে (চাকুরিতে) লিপ্ত থেকে মন্দিরে সবসময় সেবা করা কার্যত অসম্ভব। তথাপিও আমি যতক্ষণ মন্দিরে সেবা করি সর্বময় কৃষ্ণের প্রীতিবিধান এর উদ্দেশ্যে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করি। ফলে এটি আমাকে সমস্ত মায়ার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া রূপ শৃঙ্খল হতে মুক্ত হতে সাহায্য করে। এই যে জাগতিক কর্মে নিয়োজিত হয়ে জীবনের বহু কর্মঘণ্টা, শ্রম, নষ্ট করছি তাই তার থেকে উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ কৃষ্ণের সেবা, কৃষ্ণভক্তের সেবায় নিয়োজিত করে নষ্ট সময় ও শ্রমের কিছু সদ্ব্যবহার করতে পারি। আমি উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ অথবা অবসর সময়, কিংবা ফলমূল কৃষ্ণসেবায় নিয়োজিত করি। যদি আপনার সময় থাকে তবে তা কৃষ্ণভাবনায় নিয়োগ করা উচিত, একান্তই যদি আপনার সময় না থাকে তবে আপনার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ কৃষ্ণভাবনা বিস্তার প্রদান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অনেকে বড় বড় প্রকল্পে অর্থ প্রদানে উৎসাহী থাকে তবে কৃষ্ণভাবনা প্রচারে চলমান ছোট ছোট প্রকল্পগুলোতে সাহায্য করা উচিত। যেমন-আমি ইসকনের তিনটি মাসিক প্রকল্পের সাথে যুক্ত এবং বাৎসরিক চার থেকে পাঁচটি প্রকল্পে সাহায্য করি। এভাবে কৃষ্ণসেবায় অপ্রাকৃত সন্তুষ্টি ও আধ্যাত্মিকভাবে উপকৃত হতে পারেন। কৃষ্ণভাবনামৃত কৃষ্ণকে কেন্দ্রে রাখুন যদি আপনি ভগবানের মন্দিরের নিকটে বাস করেন তবে যখনই সময় পান ভগবানকে দর্শন করতে মন্দির পরিদর্শন করুন। প্রশ্ন হতে পারে এতে লাভ কি? ভগবান এর দর্শনের মাধ্যমে আপনিতো ভগবানের অশেষ কৃপা

পাচ্ছেনই সেসাথে তার শুদ্ধভক্ত গণের সমীপবর্তী হলে আপনি কৃষ্ণভাবনায়ও উন্নতি লাভ করতে পারেন। ‘সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়, লভে মাত্র সাধুসঙ্গ সর্বসিদ্ধি হয়।’ তবে যখন আপনি কৃষ্ণভক্তের সঙ্গ লাভ করেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই দৃঢ়ভাবে কৃষ্ণকথা আলোচনা করা উচিত এবং সকল আলোচনার কেন্দ্রে কৃষ্ণকে রাখা বাঞ্ছনীয়।

মন্দিরে জাগতিক কথাবার্তায় আসক্ত হওয়া অনুচিত। কৃষ্ণকৃপায় আমি মন্দিরের সামান্য দূরে থাকি। তাই প্রতিদিন মন্দিরে যাই ভগবানকে দর্শন করি এবং আমি বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি একজন কৃষ্ণভক্তের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে। যাই হোক আপনাকে কৃষ্ণভক্তের সঙ্গ লাভের প্রয়াসী হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ভক্তদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে অথবা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে এটি করতে পারেন। এটি আপনাকে জাগতিক কলুষতা হতে মুক্ত করবে এবং পারমার্থিক পথে পুন অগ্রসর হতে সহায়তা প্রদান করবে। সর্বোচ্চ জাগতিক আনন্দ বা সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা শ্রীকৃষ্ণের সাথে মিলিত হওয়ার যে আনন্দ তার সামান্য পরিমাণও এর সমতুল্য হবে না। তাই উচ্চতর আর্থিক প্রলোভন বা জাগতিক সুখের আমন্ত্রণ দ্বারা প্ররোচিত হয়ে কৃষ্ণভাবনা হতে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়। যদি আপনি এখানে কৃষ্ণসেবার মাধ্যমে আপনি আনন্দ লাভ হওয়ার প্রয়াসী না হন তবে আপনি এই জীবনে ভগবানের সাথে সম্বন্ধ লাভের সুযোগ হারাবেন। প্রভুপাদ বলেছেন পারমার্থিক জীবন ১টা ধারালো ক্ষুরের মত। সামান্য অযত্নের মাধ্যমেই রক্তক্ষয়ী ঘটনা হতে পারে। শুদ্ধ ভক্তি জীবন খুব সহজ নয় এতে দৃঢ়তা এবং লক্ষ্য সম্পর্কে সচ্ছতা থাকা প্রয়োজন কিন্তু আত্মদৃঢ়তা এবং নৈষ্ঠিকথার মাধ্যমে আপনি এটি সম্ভব করতে পারেন। সুতরাং যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হচ্ছে আপনি যাই উৎসর্গ করুন, কিংবা যেকোন পরিবর্তন কিংবা যেকোন কাজ সেটা ক্ষুদ্র বা বৃহৎ যাইহোক শুধু এটা নিশ্চিত করুন আপনি তার সবক্ষেত্রে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তার কেন্দ্রে রেখেছেন এবং এর ফল অপ্রাকৃতভাবে মহিমান্বিত হবে এবং তা পূর্ণতা লাভ করবে। পছন্দ আপনার। অজান্তে কোটি কোটি বার আবর্তিত হওয়া জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধির চক্রে কি ঘুরতে থাকবেন প্রাপ্ত দুর্লভ মনুষ্য জীবনের সময় ও শ্রমকে অপ্রয়োজনীয় জাগতিক কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত রেখে অপব্যয় করবেন। নাকি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত হয়ে নিত্যধামে প্রত্যাবর্তনের প্রয়াসী হবেন। সুতরাং একবার জেগে উঠুন, ভাবুন এই জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আর নয়। প্রয়াস করুন অন্তত এজন্ম থেকে


সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।