তুলসী দেবী ভক্তের ক্যান্সার আরোগ্য করলেন

প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২:২০ অপরাহ্ণ আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২:২০ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 64 বার দেখা হয়েছে

তুলসী দেবী ভক্তের ক্যান্সার আরোগ্য করলেন

আমেরিকার মেরীল্যান্ড নিবাসী ইস্কন ভক্ত শ্রীচৈতন্য প্রেম দাস প্রতি রবিবার মেরীল্যান্ড ইস্কন মন্দিরে চলে আসতেন ভগবানের সেবা করার জন্য। ৬৯ বৎসর বয়সেও তাঁর সুন্দর স্বাস্থ্য। বিগত ২৫ বছর যাবৎ তিনি পেন্টাগনে ডিফেন্স ইন্সপেক্টর বিভাগে চাকুরী করছেন। তাঁর অফিসে তিনি শ্রীল প্রভুপাদের একটি ছোট বিগ্রহ এবং শ্রীশ্রীরাধা-কৃষ্ণের একটি বড় বাঁধানো ছবি রেখেছেন, যাতে তাঁর সহকর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলে প্রত্যেকবার ভগবানকে দর্শন করতে পারেন। এখনও তাঁর কর্মক্ষমতা ও সুন্দর স্বাস্থ্য দেখলে মনেই হবে না যে ১৯৯৭ সনে ৫৫ বছর বয়সে তার দেহে ‘নন হজকিন’স লিম্ফোমা’ অর্থাৎ রক্তের ক্যান্সার ধরা পড়েছিল, যা তখনই চতুর্থ স্তরের ছিল। ক্রমে ক্রমে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে তার হাড়ের মজ্জায়, যকৃতে ও অন্যান্য স্থানে। তার রক্তের শ্বেত কনিকার সংখ্যা ছিল অনেক বেশী। ডাক্তারদের মত অনুযায়ী কেমো থেরাপি চিকিৎসা করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। কিন্তু তার কন্যা জাহ্নবী দেবী দাসী কেমো থেরাপীর বিরোধী ছিলেন তাই তার বাবাকে কেমোথেরাপী নিতে দেননি। শ্রীমতী জাহ্নবী দেবী দাসী বিষয়টি বর্ণনা করলেন এভাবে–“তখন আমার বাবার জন্য এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলাম যে আমি এক মূহুর্তের জন্যও আমার জপমালা হাতছাড়া করিনি এবং সবসময় জপ করে গেছি। ডাক্তাররা বাবাকে কেমো থেরাপি করার জন্য জোর দিলেও আমি রাজী হইনি বরং আমি চেয়েছিলাম ডাক্তাররা প্রাকৃতিক উপায়ে বাবার রোগ প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধি করুক। এই প্রেরণা আমি লাভকরেছিলাম “লোরেঞ্জ’স অয়েল” নামক একটি সিনেমা দেখে, যেটি ছিল একটি সত্যি ঘটনা এবং সেখানে বাবা মা তাদের সন্তানের দুরারোগ্য মস্তিস্কের ব্যাধি প্রাকৃতিক উপায়ে সারাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং অবশেষে সফল হয়েছিল। আমিও তাই বাবার রক্তের ক্যান্সার প্রাকৃতিক উপায়ে সারাবার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম কেননা আমি বিশ্বাস করি প্রকৃতির মধ্যেই সকল ব্যাধির ওষুধ রয়েছ, যা আমরা এখনও জানি না কিংবা উপেক্ষা করছি। তাছাড়া গ্রামি আমার পরিচিত দু’জন ক্যান্সার -রাগীকে দেখেছি যে তারা কেমোথেরাপি নিবার পর সাময়িকভাবে কিছুদিন আপাতদৃষ্টিতে ভালো ছিল কিন্তু পরে ক্যান্সার আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে কিছুদিনের মধ্যেই তারা মারা গেছে। আমি বাবার ব্লাড কাউন্ট সবসময় নিরীক্ষণ করতাম, ডাক্তাররা যদিও আমার উপর বিরক্ত ছিলেন এবং বলতেন যে আমি ভুল করছি কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম কোন – একটা উপায় হবেই এবং ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে যেতাম। আমি জেনেছি যে এই কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন চিকিৎসার প্রভাবে ক্যান্সার সেলগুলোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক সুস্থ সেলও নষ্ট হয় যা আমাদের রোগ প্রতিরোধক শক্তি কমিয়ে দেয়।

যাই হোক ১৯৯৮ সনের গৌর পূর্ণিমার দিন রাত্রে ঘুমের মধ্যে আমি এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখি যে আমি পোটোম্যাক ইসকন মন্দিরে বসে অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কিছু একটা দেখেছি এবং ঐ অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখলাম যে তুলসী দেবী আমার বাবার স্বাভাবিক সেলগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছেন ক্যান্সারকে গ্রাস করার জন্য। এরপর আমি শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরকে দেখলাম যে তিনি আমাকে বলছেন ‘এই স্বপ্নকে হাল্কাভাবে নিও না, তুলসী দেবী তোমার বাবার আরোগ্যের কারণ হবেন।’

এরপর আমি পরদিন থেকে পবিত্র তুলসী পাতা নিয়ে গবেষণা শুরু করি এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে তুলসীকে নিয়ে যে সব গবেষণা শুরু করি এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে তুলসীকে নিয়ে যে সব গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে তা পাঠ করতে শুরু করি। যেমন ২০০৬ সনে টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি হেলথ সাইন্স সেন্টারের অধীনে ‘সেন্টার ফর ক্যান্সার বায়োলজি’ তুলসীকে নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে; ২০০৯ সনে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অনকোলজি তুলসী নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে; ২০০৯ সনে সাউথ কোরিয়ার সিওলের ‘কলেজ অব ওরিয়েন্টাল মেডিসিন’ তুলসী নিয়ে গবেষণা করে ২০১০ এর ফুড এন্ড কেমিক্যাল টক্সেলজি নামক চিকিৎসা সংক্রান্ত পত্রিকাতেও তুলসীর আশ্চর্য গুণাবলী নিয়ে একটি গবেষনা পত্র প্রকাশিত হয়।এইসব গবেষণাপত্রগুলির সবকটিতেই তুলসীর ক্যান্সার ধ্বংস করার শক্তির কথা স্বীকার করা হয়েছে। তাছাড়া তুলসী স্বাভাবিক সেলগুলোর শক্তি বৃদ্ধি করে এদের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

এইসব গবেষণাপত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে আমি বাবাকে প্রতিদিন বেশ কিছু তুলসী পাতা ও তুলসী মঞ্জুরী খেতে দিতে থাকি। আমি শুকনো তুলসী পাতাকে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে বাবাকে দিতাম এবং বাবা তা পছন্দ করতেন। এর সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, বেটা ক্যারোটিন, ইত্যাদিও বাবাকে দেওয়া হতে থাকে। এছাড়া বাবা সবসময় হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপেও মগ্ন থাকতেন। এইভাবে ছয় মাসের মধ্যে বাবার (চৈতন্য প্রেম দাস) উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেল। আট মাস পরে বাবার সিটি স্ক্যান, রক্ত ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা গেল ওনার দেহে ক্যান্সারের আর কোন চিহ্ন নেই। কৃষ্ণ আমাদের প্রার্থনা শুনেছেন, তাই তুলসীদেবী আমাদের এইভাবে কৃপা করেছেন। যারা এইভাবে তুলসী নিয়মিত, গ্রহণ করে সুস্থ থাকতে চান, তাদের বলব সরাসরি তুলসী গ্রহণ না করে ভগবানকে নিবেদন করে সেটিগ্রহন করুন।

হরে কৃষ্ণ

সেপ্টেম্বর – ২০১১ইং

 

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।