কৃষ্ণের পথে আসা ও পথে বড় হওয়া

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪:১২ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 73 বার দেখা হয়েছে

কৃষ্ণের পথে আসা ও পথে বড় হওয়া

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে আমি কৃষ্ণের ভক্ত হই। সেটা ছিল ১৯৬৮ সালের ঘটনা। আমি এবং আমার মা সানফ্রান্সিসকোর তাঁরা একটি বড় দোকানের সামনে নৃত্যকীর্তন করছিলেন। তাদের মধ্য থেকে একজন আমার মাকে একটি নিমন্ত্রন পত্র দিলেন যে রবিবার ফ্রেডরিক স্ট্রীট এর মন্দিরে আসার জন্য। যখন আমরা মন্দিরে প্রবেশ করলাম তখন দেখলাম লম্বা টিকিওয়ালা কিছু ভক্ত ড্রাম, সিম্বল, মৃদঙ্গ, গীটার ও শঙ্খ সহযোগে নৃত্য কীর্তন করছিলেন। তারপর আমরা একজন ভক্তের প্রবচন শুনলাম এবং পরে সুস্বাদু নিরামিষ প্রসাদ পেলাম। আমার মা অতি শীঘ্রই একজন সম্পূর্ণ কৃষ্ণ ভক্ত হয়ে গেলেন এবং লসএঞ্জেলস এ চলে গেলেন যার ফলে আমি অন্যান্য ভক্ত শিশুদের সংস্পর্শে বেড়ে উঠতে পেরেছিলাম। লসএঞ্জেলসের হরেকৃষ্ণ কেন্দ্রটি ছিল এ.সি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের প্রধান কার্যালয়। একদিন লস এঞ্জেলসের ভক্তরা সংবাদ পেলেন যে শ্রীল প্রভুপাদ আসছেন।অতি শীঘ্রই তাঁরা মন্দির পরিস্কার করতে শুরু করলেন এবং ফুল দিয়ে সাজাতে লাগলেন।

শ্রীল প্রভুপাদ

ছিলেন তাঁদের প্রধান উৎসাহ প্রদানকারী, সঠিক পথপ্তদশক। হরে কৃষ্ণ আন্দোলনের সদস্যরা আধ্যাত্মিক নাম গ্রহণ করেন। প্রত্যেক নাম খুবই মাহাত্ম্যপূর্ণ এবং কৃষ্ণের সেবক হিসেবে পরিগণিত করে। যখন দেখলাম সবার আধ্যাত্মিক নাম রয়েছে তাই আমিও একটি আধ্যাত্মিক নাম চাইলাম। আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করলাম কখন সে নাম পাব? মা বললেন ধৈর্য ধর। অবশেষে শ্রীল প্রভুপাদ আসলেন এবং সকল ভক্ত উৎফুল্ল হয়েছিল। শ্রীল প্রভুপাদ বললেন লসএঞ্জেলস মন্দিরকে ভগবান কৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকার নামানুসারে নতুন দ্বারকা হিসেবে পরিচিত দেওয়া উচিত। যখন কয়েকজন জিজ্ঞেস করলেন আমাকে কি নাম দেওয়া উচিত তখন প্রভুপাদ এক মুহুর্তের জন্য থেমে গেলেন এবং বললেন, আমাদের তাকে দ্বারকাদিস দাস নাম দেওয়া উচিত। এতে আমি খুব পুলকিত হলাম। এই নামের অর্থ হচ্ছে দ্বারকাদিস কৃষ্ণের সেবক।এক বছর পর ১৯৬৯ এর গ্রীষ্মকালে আমি আমার মায়ের সাথে পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে চলে যাই। যেখানে ইসকন নতুন খামার প্রতিষ্ঠা করে শ্রীল প্রভুপাদ তার অনুসারীদেরকে নিয়ে এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় করতে চেয়েছিলেন। আমি প্রথম দশজন ছাত্রের একজন ছিলাম। এই ধরনের ব্যতিক্রমী বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম। আমাকে প্রথমে শ্রীল প্রভুপাদের ভগবদ্‌গীতা যথাযথ এবং ভগবান চৈতন্যের শিক্ষা এ দুটি বই প্রদান করা হয়।  ১৯৭২ সালে আমি এই গ্রামীণ জীবন ছেড়ে ডালাস এ চলে আসি। একটা নতুন জায়গায় যাব ভেবে আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম। আরও উত্তেজিত ছিলাম এই ভেবে যে, প্রথমবারের মত জেট বিমান এ চড়ব। আমি দুজন মহিলার পিছনে বসেছিলাম। যারা অতি কৌতূহলের সাথে আমার জপ করা, গেরুয়া পোশাক এবং ন্যাড়া কর মাথার দিকে তাকিয়েছিল। যখন রাতের খাবার দেওয়া হচ্ছিল তখন মা মহিলারা আমাকে মাংস খেতে জোর করেছিল কিন্তু আমি তাদেরকে লস প্রত্যাখান করি। তাদের আমি বলেছিলাম আমি একজন এড়ে নিরামিষভোজী, তাছাড়া আমি আমার খাবার খাওয়ার পূর্বে ভগবানকে সি নিবেদন করি। তারা আমাকে বলল মাংস খেলে তুমি স্বাস্থ্যবান হবে আমি তাদেরকে বলি যারা নিরামিষভোজী তারাও অনেক স্বাস্থ্যবান। ।। মাংস খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগতে হবে। ডালাসের বিদ্যালয়ে আমার ক্লাসের সংখ্যা আরও বেড়ে গেল। যোগ হল সংস্কৃত। একদিন শ্রীল প্রভুপাদ সংস্কৃতের একটি ক্লাস নিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ একজনকে সামনে আসার জন্য বললে সকলের নীরবতা দেখে আমি এগিয়ে গেলাম। তিনি আমাকে একটি কলম ধরিয়ে সংস্কৃতের কিছু অক্ষর শিখিয়ে দিলেন। পরে তিনি বললেন শিক্ষকদের উচিত ছাত্রদেরকে এক পৃষ্ঠা করে লেখানো। কেউ যদি দিনে দশ পৃষ্ঠা এভাবে লিখে তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে সে সংস্কৃত শিখে যাবে। আমি ডালাস বিদ্যালয়ে তিন বছর পর্যন্ত ছিলাম। পরে আমাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যেখানে শ্রীল প্রভুপাদ আন্তর্জাতিক গুরুকুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চেয়েছিলেন ছোট ছোট শিশুরা যেন বিশ্বজুড়ে সঠিক আধ্যাত্মিক পরিবেশ লাভ করে। আমি ভারতে এসে বাসযোগে কলকাতা থেকে আশি মাইল উত্তরে গঙ্গা নদীর তীরে মায়াপুরে আমি ভগবান চৈতন্যের জন্মতিথির বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। এ উৎসবে সারা পৃথিবী থেকে মানুষের সমাগম। হয়। উৎসব শেষ হলে ট্রেনে আমি বৃন্দাবন চলে যাই। হরেকৃষ্ণ

চৈতন্য সন্দেশ জুলাই ২০১১ইং

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।