এই পোস্টটি 144 বার দেখা হয়েছে
বিষয়: পাত্র/পাত্রী নির্বাচন
পূর্ব প্রকাশিতের পর
এ সংখ্যায় কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিবাহের জন্য পাত্র/পাত্রী নির্বাচন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
❓যদি কোন নবীন ভক্তকে পছন্দ করা হয় তবে সেক্ষেত্রে কি করণীয় ?
এ ক্ষেত্রে অবশ্যই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত যে, তিনি (পাত্র/পাত্রী) কৃষ্ণভাবনায় প্রগতির জন্য কতটা আন্তরিক বা আদৌ আন্তরিক/একনিষ্ঠ কিনা? যে ব্যক্তিটিকে আমরা পছন্দ করেছি তিনি যদি অভক্ত হন, তবে আমাদের উচিত তার কাছে কৃষ্ণভাবনার দৃঢ় অঙ্গীকার বিষয়ে সবকিছু ব্যাখ্যা করা। তাকে ভক্তসঙ্গ করার আমন্ত্রণ জানানো উচিত। যদি তার (পাত্র/পাত্রী) মধ্যে কৃষ্ণভাবনায় প্রগতির জন্য অকপট বা বিশুদ্ধ আগ্রহ প্রদর্শিত হয় তবে সেই ব্যক্তিকে গুরুর আশীর্বাদ অথবা গুরুর দীক্ষিত না হলেও সিনিয়র বৈষ্ণবদের আশীর্বাদ নিয়ে বিবাহের জন্য বিবেচনা করা উচিত। প্রসঙ্গত, অভক্ত কোন ব্যক্তিকে পছন্দ করা যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলা উত্তম।
❓ পাত্র/পাত্রী পছন্দ করার ক্ষেত্রে মূলত কোন কোন মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ?
জাগতিক এবং শারমার্থিক উভয়দিক থেকেই যেন পাত্র/পাত্রী পরস্পর পরস্পরের সন্তুষ্টি বিধান করতে সক্ষম হয় সেটি আমাদের সবারই আশা। কিন্তু এর বাইওের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। পুরুষরা সাধারণত নারীদের শারীরিক সৌন্দর্য্যের দিকে মনোযোগী হয় এবং নারীরা পুরুষের অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন তা বিচার বিবেচনা করে। দু’পক্ষের এসব বিচার। বিবেচনা কোন ভুল নয়, কিন্তু এটি যেন সর্বোচ্চ অগ্রগণ্যতার জন্য বিবেচিত না হয়।
❓ তবে সর্বোচ্চ অগ্রগণ্যতা কি হওয়া উচিত?
বুদ্ধিমান ব্যক্তি উপলব্ধি করবে-“যেহেতু কৃষ্ণই হলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি আমার বিবাহের জন্য আমাকে সাহায্য করবেন, তাই আমার উচিত এমন একজন ব্যক্তিকে পছন্দ করা যাকে কৃষ্ণ মঞ্জুর করেন বা অনুমোদন করেন। কৃষ্ণ যদি অনুমোদন না করেন তবে কিভাবে আমরা সুখী হতে পারি? কিভাবে শ্রীমদ্ভাগবতে দেবহুতি কর্দম মুনিকে তার স্বামী রূপে পছন্দ করেছিলেন? দেবহতির পিতা স্বয়ম্ভুব মনু কর্দম মুনির কাছে ব্যক্ত করেছিলেন। “যে মুহুর্তে সে নারদ মুনির কাছ থেকে আপনার উন্নত চরিত্র, বিদ্যা, রূপ বয়স ও গুণাবলীর কথা শ্রবণ করে, তখন সে আপনাকেই পতিত্বে বরণ করবে বলে দৃঢ় সংকল্প করেছে।
(শ্রীমদ্ভাগবত ৩/২২/১০) এ শ্লোকের উপর শ্রীল প্রভুপাদের তাৎপর্য-দেবহৃতি কর্দম মুনিকে চাক্ষুষ দর্শন করেননি, এমনকি তার চরিত্র এবং গুণাবলী সম্বন্ধে তার ব্যক্তিগত কোন অভিজ্ঞতাও ছিল না, কেননা সে সম্বন্ধে জানবার মতো কোন সামাজিক সাক্ষাৎকার তাদের মধ্যে হয়নি। কিন্তু তিনি নারদ মুনির কাছে কলম মুনির কথা শ্রবণ করেছিলেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেও মহাজনের কাছ থেকে শ্রবণ করাই হচ্ছে জানবার শ্রেষ্ঠ উপায়। তিনি নারদ মুনির কাছে শুনেছিলেন যে, কর্দম মুনি তাঁর পতি হবার উপযুক্ত; তাই তিনি তার অন্তর থেকে তাঁকেই বিবাহ করার সংকল্প করেছিলেন এবং তার সেই বাসনা তিনি তার পিতার কাছে ব্যক্ত করেছিলেন এবং তাঁর পিতা তখন তাঁকে কর্দম মুনির কাছে নিয়ে এসেছিলেন।’ আমরা দেখতে পাই, দেবহুতির কাছে কর্দম মুনিকে পছন্দ করার সর্বোচ্চ অগ্রণ্যতা ছিল প্রথমে তার উন্নত চরিত্র। এরপর শিক্ষা এবং এরপর তার সৌন্দর্য এবং সর্বশেষে যৌবন এবং অনন্য গুণাবলী। তিনি এমনকি তার অর্থনৈতিক পদমর্যাদার কথাও চিন্তা করেননি।
কেননা তার কাছে সুখী বিবাহের জন্য ওটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। যদিও দেবহুতি ছিলেন একজন রাণী এবং বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন তবুও তার কাছে সম্পদশালী স্বামীর চেয়ে প্রাধান্য পেয়েছিল অন্যান্য গুণাবলী। যদিও তিনি চাইলে বিত্তবান স্বামী আশা করতে পারতেন।
কর্দম মুনি উত্তর দিলেন: “আমি বিবাহ করতে ইচ্ছুক, কথা সত্য, আপনার কন্যাও বিবাহিতা নয়। অতএব বৈদিক বিধি অনুসারে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হতে পারে। “(ভা: ৩/২২/১৫)
শ্রীল প্রভুপাদ এর তাৎপর্যে ব্যক্ত করেছেন, “সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিল যে, দেবহুতি প্রথমে তাকেই বিবাহ করতে সংকল্প করেছিলেন। তিনি অন্য কোনও পুরুষকে তার পতিরুণে বরণ করতে মনস্থ করেননি। এটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় ছিল। কেননা রমনীদের মনোভাব হচ্ছে এমনই যে, প্রথমে যে পুরুষকে তাঁরা হৃদয় অর্পন করেন, তা ফিরিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়। আর তাছাড়া তিনি ছিলেন কুমারী।”
কর্দম মুনি বলতে লাগলেন, “আপনার কন্যার বিবাহের বাসনা, যা বৈদিক শাস্ত্রের খারা অনুমোদিত, তা পূর্ণ হোক। তিনি এতই সুন্দরী যে, তার অঙ্গকান্তির দ্বারা তাঁর অলঙ্কারেরও শোভা তিরষ্কৃত হয়, সুতরাং কোন পুরুষ সমাদরপূর্বক তার পানিগ্রহণ না করবে? (ভা: ৩/১২/১৬)
তারপর তিনি আরো বললেন, “অতএব এই সাধ্বী কন্যাকে আমি একটি শর্তে আমার পত্নীরুপে গ্রহণ করব-যতদিন পর্যন্ত না তিনি আমার বীর্য ধারণ করেন, ততদিন পর্যন্ত আমি তার ভজনা করব এবং তারপর পরমহংসেরা ভগবদ্ভক্তির যে পন্থা অবলম্বন করেন, আমি সেই জীবন গ্রহণ করব। সেই পন্থা ভগবান শ্রীবিষ্ণু বর্ণনা করেছিলেন এবং তা হিংসা রহিত।” (ভা: ৩/২২/১৯)
অতএব, কর্দম মুনি সবার প্রথমে দেবস্থতির চরিত্র, দৃঢ়তা এবং সতীত্ব বিবেচনা করেছিলেন, যেগুলো একটি নারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী। ঠিক এর পরেই তিনি বিবেচনা করেছিলেন তার সৌন্দর্য্য। তিনি আরো গুরুত্বারোপ করেছেন সন্তান উৎপাদন এবং তার ভগবদ্ সেবা বিষয়ে তার মহৎ ইচ্ছার কথা। তিনি একটি শর্তে দেবভূতিকে গ্রহণ করেছিলেন যে, দেবহুতি যেন তাকে কৃষ্ণভাবনার প্রগতির জন্য সহায়তা করে।
সর্বোপরি আমাদের উচিত কৃষ্ণের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা যিনিই একমাত্র আমাদের সহায়তা করবেন। ইন্দ্রিয় চরিতার্থ করার জন্য মনকে উন্মত্ত করা উচিত নয়। আমাদের উচিত যথার্থ উপায়ে বিবাহ বন্ধন গড়ে তোলা। অতএব, যথার্থ অনুমোদন এবং শুরু বা বিশ্বস্ত সিনিয়র ভক্তদের আশীর্বাদ নিয়ে যারা ইচ্ছুক তারা বিবাহ বন্ধন শুরু করতে পারেন। আগামী সংখ্যায় ‘বিবাহ উৎসব’ কিভাবে সম্পাদন করা উচিত সে প্রসঙ্গে তুলে ধরা হবে।। হরে কৃষ্ণ।
