এই পোস্টটি 119 বার দেখা হয়েছে
তুমি কি দেখেছ, আমি যা দেখেছি
গত সংখ্যার পর
মহাত্মা দাস: যখন আমি প্রায়ই গ্রন্থ প্রচারে যেতাম, ১টি জিনিষ আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ প্রদান করত। তা হচ্ছে ভক্তদের দর্শন করা। আমি লক্ষ্য করতাম ভক্তরা গ্রন্থ প্রচারের সময় কোন না কোনভাবে ভুলে যেতেন যে তারা ভক্ত। আমি তাদের হৃদয়ে এক অভূতপূর্ব স্ফুলিঙ্গ দর্শন করতাম। যা বহু পূর্বে হয়ত অজ্ঞতার অন্ধকারে লুকায়িত ছিল। আমি যতদূর তাঁদের মধ্যে এই স্ফুলিঙ্গ দর্শন করেছি, তত উপলব্ধি করতে পেরেছি তারা বহুলাংশে কিংবা সর্বতোভাবে কৃষ্ণভাবনাময় এগিয়ে অন্তত আমার চেয়ে। আমি তোমাকে মহাত্মা দাস এই বিষয়টি ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ (দর্শন) করার জন্য সাহায্য করতে পারি। আগামীকাল যখন তুমি কাজে যাবে (যদি তোমার সেরকম কোন কাজ না থাকে তবে যখন তুমি বাইরে কোথাও যাবে তখন এটি করতে পার) সকলকেই ভক্তরূপে দর্শন কর।
একজন সহজাতভাবেই ভুলে যায় যে সে ভক্ত। তোমার যদি এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থাকে তবে তোমার সম্পূর্ণ দিনটিই পরিবর্তন হয়ে যাবে। কেননা তোমার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করলেই বস্তুটিও তোমার কাছে পরিবর্তিত রূপে ধরা দেবে। এই ধরনের অনুশীলন আরো বৈচিত্র্যময় হবে যদি তুমি সকলকে চিন্ময় রূপে দর্শন কর অথবা যদি সকলের হৃদয়ে কৃষ্ণকে দর্শন করার অনুশীলন কর। কখনোই কাউকে পুরুষ বা নারী, সাদা বা কালো এভাবে বিবেচনা করো না। যদি তুমি সকলকে আত্মা যা সকলের হৃদয়ে কৃষ্ণকে দর্শন করতে সমর্থ হও তবে প্রতি মুহুর্তে তুমি কৃষ্ণভাবনার অমৃত আস্বাদন করতে পারবে। তুমি সর্বত্র কৃষ্ণকে দর্শন করতে পারবে। এমনকি যে পাতাটি তুমি পড়ছ সেখানেও।
শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন “যখন তুমি সর্বত্র কৃষ্ণকে দর্শন করবে তখন শুধু দর্শন করার মাধ্যমেই তুমি পূর্ন কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে উঠবে।” প্রকৃতিতে ক্রিয়ারত গুণগুলি (স্বতঃ, রজঃ তমো) কিভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে গভীরভাবে বিবেচনা কর। যদি কেউ তোমার উপর ক্রোধ প্রদর্শন করে তুমি ঐ লোকটিকে উদাহরণ হিসেবে নিতে পার যে, সে ১টি পাপেটের পুতুল মাত্র যে রজোগুণ নামক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে (ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ে এটি বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।) যখন আমি গ্রন্থ প্রচার করেছিল তখন অনেকেই গ্রন্থ নেয়ার জন্য বলতে বলতে হতাশ হয়ে পড়ত (যেহেতু গ্রন্থ নিত না)। কিন্তু কৃষ্ণ প্রায়ই এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দর্শন করানোই আমি কখনা ব্যথিত হতাম না বা দর্শনার্থীদের (যারা গ্রন্থ গ্রহণ করেনি) তাদের নির্দয়, খারাপ ব্যক্তি বলে মনে করতাম না। শুধু ভাবতাম রজোগুণই এই ব্যক্তিটিকে এই ধরনের অসৎ কর্ম করতে চাপ প্রয়োগ করে তাকে ক্রোধান্বিত করে তুলছে। আমি শুধু ভাবতাম আহা! কত কষ্টেই না আছে লোকটি যে সামান্যতম কারণে সে হতাশ হয়ে রাগান্বিত হয়। প্রতিদিন তুমি এভাবে দর্শন করার ফলে তুমি সমগ্র বিশ্বকে কৃষ্ণভাবনাময় রূপে দর্শন করতে সমর্থ হবে। উপরে যেমন ভাবে উদাহরণ দিয়েছি সেভাবে শাস্ত্র চক্ষু দ্বারা কৃষ্ণকে সর্বত্র দর্শন করা উচিত। আর যদি তুমি তা অনুশীলন কর তবে তুমি কর্মক্ষেত্রে বা যেখানে থাক তুমি কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে উঠবে।
কর্মস্থলে কৃষ্ণভাবনা (পর্ব ১ )
