কেমন আছেন???(পার্ট-২ )

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 144 বার দেখা হয়েছে

কেমন আছেন???(পার্ট-২ )

এ কলামে শাস্ত্রমতে তিনাট দুঃখ আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক, অ্যদিদোবক দুঃখ প্রসঙ্গে বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের বাস্তবিক উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে। যারাও জীবনে এ দুঃখগুলোর সম্মুখীন হয়েছিলেন।লিখেছেন-গৌরাঙ্গ দাস।


আদিদৈবিক দুঃখ

বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট একসময় এই পৃথিবীর অনেকাংশই তার রাজত্বে নিয়ে এসেছিলেন। তার অর্জনের মধ্যে ছিল অনেক রাজ্য, অনেক অনেক সম্পদ। কোন কিছুই তার অভাবে ছিল না এবং তিনি ভাবছিলেন আরও আরও রাজত্ব জয় করে তিনি আরও আরও বেশী সুখ ভোগ করবেন। পৃথিবীর ক্ষমতাশালী রাজারা তার কাছে অবলীলায় পরাস্ত হয়েছিল। এক সময় তিনি ভারত জয়ের উদ্দেশ্যে তার সৈন্য সামন্ত নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু ভারতে মশার উপদ্রবে রীতিমত তারা ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়েন। কেননা আলেকজান্ডার তার সৈন্য সামন্তদের অনেকেই ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। যার ফলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। অনেকেই তাই পরিহাস করে বলে বিশ্বের বাঘা বাঘা সৈন্যরা যাকে পরাস্ত  অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করছিলেন। কোন ডাক্তারই তাকে সুস্থ করতে পারেনি। যখন তিনি গ্রিসে ফিরে যাচ্ছিলেন তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন জীবিত অবস্থায় হয়তো গ্রীসে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাই তিনি তার মন্ত্রিপরিষদের উদ্দেশ্যে জীবনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে তিনটি শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। “(১) মৃত্যুর পর আমার শরীরকে একটি পালঙ্কে চড়ানো হবে। পালঙ্কটির চার কোনে চারজন ডাক্তার যারা আমার চিকিৎসা করেছিলেন, তারা বহন করবে। (২) সেই শোভাযাত্রার সময়ে আমার সমস্ত ঐশ্বর্য সামনের দিকে একের পর এক ছুড়ে ফেলা হবে। (৩) আমার শরীরটি এমনভাবে পালঙ্কে রাখা হবে যাতে করে আমার খালি দু’হাত দু’পাশে বাইরে ঝুলে থাকে।”
মন্ত্রীপরিষদ তখন তাকে এ ইচ্ছাগুলোর কারণ জিজ্ঞেস করলে, আলেকজান্ডার বলেন, “বিশ্বের কাছে এটি আমার বার্তা যে, আমি সারা জীবন আমার সমস্ত শক্তি ব্যবহার করেছিলাম অনেক অনেক ঐশ্বর্য অর্জনের জন্য। কিন্তু রোগের উপদ্রব যখন হানা দেয় তখন অন্তিম মুহূর্তে কোন ডাক্তারই আর সাহায্য করতে পারে না। তাই এ ডাক্তাররা এতদিন আমার অনেক রোগ সারিয়ে তুলেছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে তারা ব্যর্থ। আর তারাই এখন ব্যর্থ মনোরথে আমার শবদেহ বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, যে সমস্ত সম্পদ আমি সারাজীবন অনেক কষ্ট করে অজন করেছিলাম সেগুলো আমার মৃত্যুকে প্রতিরোধ করতে পারেনি। তাই আমার সমস্ত অকেজো সম্পদ এভাবে অবহেলায় ছড়ানোর মাধ্যমে এই শিক্ষাই আমি বিশ্বকে জানাতে চাই।
তৃতীয়ত, আমার দু’হাত খালি দেখে সবাই বুঝতে পারবে আমি আমার ধন সম্পদের কোন কিছুই নিয়ে যেতে পারছি না। এসেছি শূন্য হাতে যাচ্ছিও শূন্য হাতে।
এভাবে আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট প্রকৃতির চারটি দুঃখের অন্যতম ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বা আদি আদিভৌতিক দুঃখের (অন্য জীব থেকে প্রাপ্ত দুঃখ। যেমন-সাপ, মশা, বিছা, পিপড়ার কামড়, জন্তুর আক্রমন ইত্যাদি) শিকার হয়ে করুণ মত্যুর মধ্য দিয়ে হারিয়ে গেছেন।


কেমন আছেন???

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।