প্রভুপাদ উবাচ

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩:০৮ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 102 বার দেখা হয়েছে

প্রভুপাদ উবাচ

ভগবানকে জানতে হবে পরম্পরার মাধ্যমে

১৯৭৪ সালের ২৯জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইসকন মন্দিরে শ্রীল প্রভুপাদ ও জনৈক অতিথি সঙ্গে কথোপকথনের অংশবিশেষ

 

অতিথি: কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি, ভগবানকে হৃদয়ঙ্গম করাই কি মনুষ্য জন্মের উদ্দেশ্য?
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ সেটিই একমাত্র উদ্দেশ্য।
অতিথি: আপনি কি ভগবানকে হৃদয়ঙ্গম করেছেন?
শ্রীল প্রভুপাদ: আপনি কি মনে করেন? আপনার মত কি? অতিথি: আমি বলতে পারব না।
শ্রীল প্রভুপাদ: তাহলে আমি যদি বলি
হ্যাঁ, আপনি কি বুঝবেন? আপনি যদি দক্ষ না হন আর তখন আমি যদি বলি হ্যাঁ আমি ভগবানকে উপলব্ধি করি। আপনি সেটিকে কিভাবে গ্রহণ করবেন? আপনি যদি জানেন না যে ভগবান বা ভগবদুপলব্ধি কি? তাহলে কিভাবেই বা আপনি উত্তরের দ্বারা সন্তুষ্ট হতে পারেন? তাই আপনার এই প্রশ্ন করা উচিত নয়। এর কোন মূল্য নেই যদি না আপনি অবশ্যই আমি আপনাকে যে উত্তর প্রদান করব তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন। আপনি কি প্রস্তুত?
অতিথি: হ্যাঁ
শ্রীল প্রভুপাদ: তাহলে ঠিক আছে। আমি ভগবানকে প্রতি মূহূর্তে দর্শন করছি। (কিছুক্ষণ থেমে) কিন্তু যদি না আপনি উত্তরটি গ্রহণে সম্মত থাকেন, আপনার এই ধরনের প্রশ্ন করা উচিত নয়।
অতিথি: কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি, ধ্যান কি ভগবদুলব্ধির একটি উপায়?
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ, ধ্যান একটি উপায় কিন্তু
আপনি এখন ধ্যান করতে পারবেন না। কেননা আপনি জানেন না ভগবান কি। তাহলে কিভাবে আপনি ধ্যান করবেন? আপনি যদি না জানেন ভগবান কি? আপনি কার উপর ধ্যানস্থ হবেন? প্রথমত: আপনাকে জানতে হবে। আমরা জানি ভগবান হচ্ছেন কৃষ্ণ এবং কৃষ্ণ বলছেন মম্মনা ভব মস্তক্তঃ “সর্বদা আমার কথা চিন্তা কর”। তাই আমরা কৃষ্ণের ধ্যান করি। সেটি পূর্ণ ধ্যান, কেননা ধ্যান অর্থ
হল ভগবানের চিন্তা করা। কিন্তু আপনি যদি ভগবান কি তা না জানেন কিভাবে আপনি তার চিন্তা করবেন?
অতিথি: অনেক শাস্ত্রে লেখা হয়েছে যে ভগবান হচ্ছেন আলো।
শ্রীল প্রভুপাদ: ভগবান সবকিছুই। ভগবান
অন্ধকারও। আমরা বলি যে ভগবান হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যার কাছ থেকে সবকিছুর উৎপত্তি হচ্ছে। তাই আলোও ভগবানের কাছ থেকে আসে, অন্ধকারও ভগবানের কাছ থেকে আসে।
অতিথি: আপনি কি মনে করেন আপনার অন্ত:করণের ভগবানের দর্শন করার জন্য ধ্যান একটি পন্থা?
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ। সেটিই ধ্যানের
বর্ণনা। ধ্যানাবস্থিত তদগতেন মনসা পশ্যন্তি যং যোগিনঃ মনের দ্বারা মনোযোগী হয়ে যোগী নিজের মধ্যে ভগবানকে দর্শনের চেষ্টা করে। তাই আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ভগবান কি? উদাহরণ স্বরূপ আমাদের এই ইসকন সংস্থাটির কথা বিবেচনা করুন। আমার শিষ্যরা জানে ভগবান কি তাই তারা ভগবানের কথা চিন্তা করতে পারে। কিন্তু আপনার যদি কোন ধারণাই না থাকে কিভাবে তার কথা চিন্তা করবেন?
অতিথি: বর্তমান সময়ের অর্থটি কি ভক্তিযোগের পথ?
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ, ভক্তিযোগই হচ্ছে প্রকৃত যোগ।
ভগবদগীতায় যোগ। ভগবদগীতায় যোগ পদ্ধতি বর্ণনা করার সময় আপনি সেটাই পাবেন। ভগবান বলেছেন, “প্রথম শ্রেণীর যোগী হচ্ছেন তিনি যিনি সর্বদা আমার কথা চিন্তা করেন।” তাই আমাদের ছাত্ররা চব্বিশ ঘন্টা অখণ্ড ভাবে সর্বদা কৃষ্ণকে চিন্তা করার শিক্ষা পাচ্ছে। সেটিই প্রথম শ্রেণীর যোগ।

অতিথি: আপনাকে যদি কিছু সম্বন্ধে ভাবতে হয় আপনাকে প্রথমে তা দর্শন করতে হবে। আপনি কি আপনার ভক্তদের কৃষ্ণকে দর্শন করান?
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ, অবশ্যই।
অতিথি: তাহলে কি—মানে—কৃষ্ণ কি? তিনি কিরকম দেখতে?
শ্রীল প্রভুপাদ: দেখুন এই হচ্ছে কৃষ্ণ।
অতিথি: কিন্তু এটা তো একটা ছবি।
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ এটা ছবি। কিন্তু ধরুন আপনার একটি ছবি এখানে রয়েছে, আমি কি বলব না এই হচ্ছে অমুক?
অতিথি: হ্যাঁ।
শ্রীল প্রভুপাদ: তাহলে ভুলটি কোথায়? আপনার ছবি কি আপনি নন?
অতিথি: হ্যাঁ, তা ঠিক।
শ্রীল প্রভুপাদ: তেমনই, এটি কৃষ্ণের ছবি।
কিন্তু পার্থক্যটি হল আমরা আপনার ছবির সঙ্গে কথা বলতে পারি না, কিন্তু কৃষ্ণের ছবির সঙ্গে কথা বলতে পারি। সেটিই পার্থক্য।
অতিথি: তবুও তাকে প্রকৃতরূপে আঁকার জন্য কারোর তাকে দর্শন করা আবশ্যক।
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ, কৃষ্ণ যখন এই পৃথিবীতে ছিলেন অনেক মানুষ তাকে দর্শন করেছে। সেই থেকে মন্দিরে কৃষ্ণের রূপ, কৃষ্ণ বিগ্রহ রয়েছে। এই একই রূপ যা বৈদিক সাহিত্যে বর্ণনা করা হয়েছে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়েছেন এবং ভক্তগণ বিগ্রহ নির্মাণ করেছেন। কৃষ্ণের এই রূপসমূহকে নিয়মিত আরাধনা
করা হয়। সহস্র সহস্র কৃষ্ণ মন্দির রয়েছে।
অতিথি: কিন্তু কেউ কি প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণকে দেখেছেন?
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ ঠিক যেমন আপনার
প্রপিতামহকে আপনার পিতা দেখেছেন। আপনি হয়ত তাকে দেখেননি, কিন্তু আপনার পিতা তাঁর বর্ণনা করতে পারেন, “আমার পিতা এই রকম।” অসুবিধাটা কোথায়?
শিষ্য: উনি জিজ্ঞাসা করছেন এখন কেউ কৃষ্ণকে দেখেছেন কি না।

শ্রীল প্রভুপাদ: কিভাবে কেউ এখন তাঁকে
দেখতে পারে? এখন তাকে দেখতে হবে পরম্পরা মাধ্যমে। আপনি আপনার প্রপিতামহকে নাও দেখে থাকতে পারেন তাহলে আপনি কি করে জানবেন যে তিনি কে ছিলেন?
অতিথি: আপনার পিতা মাতা আপনাকে তা বলবেন।
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ, তাই আপনাকে ভগবান
বিষয়ক জ্ঞান গ্রহণ করতে হবে তত্ত্ববেত্তাদের থেকে, পরম্পরা থেকে। হরে কৃষ্ণ।

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ, মে  – ২০১১ইং

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।