৫টি ধাপ হরিনামে পূর্ণ উপলব্ধির

0
25

গভীর মনোযোগ সহকারে জপ করার জন্য
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর নিম্নোক্ত উপদেশগুলো প্রদান করেছেন


১. সাধুসঙ্গ করা উচিত, বিশেষ করে গুরুদেব এবং উন্নত ভক্তদের সঙ্গ।
২. মনকে জড় চিন্তা হতে মুক্ত করার দ্বারা বাহ্যিক এবং মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত জাগতিক জীবনের প্রতি নিরাসক্তি।
৩. দৃঢ়তা এবং প্রবল উৎসাহ।
পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে যে, নিরস্তর হরিনাম জপ করার মাধ্যমে ভক্ত কৃষ্ণের নাম এবং স্বয়ং কৃষ্ণের মধ্যে অগ্নিতা উপলব্ধি করতে পারে।
নামের দ্বারা প্রথমে কৃষ্ণের রূপ তারপর গুণ এবং পরিশেষে তার দিব্য-লীলা প্রকটিত হয়। হরিনাম চিন্তামণি এবং শ্রীভজনরহস্য গ্রন্থে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপের শুদ্ধতা অর্জনের পাঁচটি ধাপের বর্ণনা করা হয়েছে। যারা জীবনের কঠিনতম পর্যায়ে অনুপ্রাণিত থাকেন তাদের এই পাঁচটি ধাপ দ্বারা হরিনামে পূর্ণ উপলব্ধির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর উপায় নির্দেশ করা হয়েছে-
১. দশবিধ নামাপরাধ মার্জন করুন। অপ্রাকৃত শব্দতরঙ্গে ধ্যানস্থ হওয়ার সময় দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করে হরিনাম উচ্চারণ করার চেষ্টা করুন।
এর ফলে আপনি খুব শান্তিপূর্ণভাবে নিজের কাজ সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করতে পারেন।
রাতে ভাল করে ঘুমানোর পর ভোরে আমাদের এনার্জি পুরো দিনের ও রাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ থাকে। যদি দেরি করে ঘুম থেকে উঠেন তবে লক্ষ করে দেখবেন আপনি ভিতরে ভিতরে অনেক দুর্বলতা অনুভব করছেন। এই দুর্বলতা আপনার কাজের গতি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
অনেকদিন ধরে সপ্তাহান্তের জন্য ঘরে নানা কাজ জমিয়ে রেখেছেন? কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি? ৬ দিনের জমিয়ে রাখা কাজ এক সঙ্গে ১টি দিনে করা কতটা কঠিন এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এর চাইতে দিনের কাজ দিনে অনেক সহজে করে ফেলা যায়। পরিবর্তে ছুটির দিন খানিকটা সময় পাওয়া যায় যা অন্য কাজে লাগাতে পারেন কিংবা বিশ্রামও নিতে পারেন। তাই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে নিজের কাজগুলি সেরে ফেলুন।
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলে পুরোদিনের কাজের একটি সময়সূচি তৈরি করে ফেলা যায়। আপনি যখন সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন তখন আপনার হাতে সময় কম থাকে বলে তাড়াহুড়োয় গুছিয়ে কাজ করা হয়ে উঠে না। ফলে পুরো দিনটিই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। কিন্তু ভোরে ঘুম থেকে উঠে যখন আপনার হাতে সময় থাকে তখন ঠান্ডা মাথায় ভেবে পুরোদিনের সময়সূচি তৈরি করে ফেলতে পারেন। দিনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে পারেন। ফলে কাজে সফলতা আসার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। আপনি কি লক্ষ করেছেন যে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে আপনি রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েন এবং যেহেতু সারাদিন অনেক ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাবেন সুতরাং ঘুমটাও বেশ ভাল হবে। আর রাতে ভাল ঘুম হলে সারাদিন কাজে এনার্জিও পাওয়া যাবে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতেও রাতের পরিমিত ঘুম জরুরি।

কীভাবে সকালে ওঠা অভ্যাস করবেন

কথায় বলে, মানুষ অভ্যাসের দাস। কোনও মানুষ চাইলেই তার অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারে। ঠিক তেমনি দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও যে কেউ চাইলেই পরিবর্তন করতে পারে। এর জন্য তাকে প্রাত্যহিক জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় যদি ছোটবেলা থেকেই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা যায়। একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। আর সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস পরিবর্তনটা খুব কঠিন কিছু না। কিছু নিয়ম অবলম্বন করলেই সকালে ঘুম থেকে ওঠা যায়। যেমন-আপনি যখন ঘুম থেকে উঠবেন বলে ঠিক করবেন ঠিক তার থেকে অন্তত ৭ ঘন্টা আগে ঘুমোতে যান। ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না।
রাতে হালকা ডিনার করুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘন্টা আগে রাতের খাবার খান এবং তারপরে হাঁটাহাঁটি অথবা একটু ব্যায়াম করে নিতে পারেন। এতে খাবার সহজে হজম হবে। যারা বাড়িতে থাকেন তারা দুপুরে অনেকক্ষণ ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। পরদিন কী কী কাজ করা হবে, সেটা ঘুমাতে যাওয়ার অনেক আগেই ঠিক করে নিন।

ঘুমানোর সময় ঠিক রাখুন

সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার জন্য কোনও মতেই ঘুমের সময়ের সঙ্গে আপস করলে চলবে না। অর্থাৎ রাত ২টোয় ঘুমিয়ে ৫ টায় উঠে পড়লে চলবে না। ৬-৭ ঘণ্টা অবশ্যই ঘুমাতে হবে। পাশাপাশি রোজ একই সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এতে ঘুম সহজে আসবে এবং আপনি তাড়াতাড়ি উঠতেও পারবেন।


 

মাসিক চৈতন্য-সন্দেশ ২০২২ হতে প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here