সুখী হতে সবুজের পাশেই থাকুন

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৩ | ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৩ | ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 114 বার দেখা হয়েছে

সুখী হতে সবুজের পাশেই থাকুন
রাতের অন্ধকারে শহরের রাস্তার দু’পাশের আলো চারপাশের অন্ধকারকে যতটা না আলোকিত করে তার চেয়েও অনেক গুণ কম গ্রামের এক কোণে ঝুলন্ত সেই ল্যাম্পের আলো। হয়ত শহরের পিচ ঢালা রাস্তায় কাঁদা মাটিতে কিংবা ধুলোয় আমাদের শরীরকে ময়লা করে না কিন্তু গ্রাম এর সম্পূর্ণ বিপরীত। শহরে যেখানে কল চাপলেই ঝরঝর করে জল বেয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে গ্রামে হয়ত ক্ষুদ্র কর্দমাক্ত জলাশয়ের জলে শরীর ভিজাতে হয়। কিংবা জমিতে যেখানে শ্রম ও প্রবল ধৈর্য্য আর অনিশ্চয়তা সহকারে ফসল ফলানোর মাধ্যমে নিজের আর্থিক স্বচ্ছলতা খানিকটা বাড়ানোর তাগিদ দেয় সেক্ষেত্রে শহরের যন্ত্রের চাবি ঘুরালেই আসছে কাড়ি কাড়ি অর্থ। শুধুমাত্র এসব বিপরীত পক্ষীয় যুক্তির কারণেই কি সবাই গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে? এক্ষেত্রে বোধহয় অনেকের যুক্তি অবশ্য একটাই। শহরের অর্থ, সুখ ও সুবিধা সবগুলোই অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে অবস্থিত। গ্রামে যেটা নিতান্তই কষ্টসাধ্য। অথচ বিশ্বের ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান ঘাটলেই এর বিরাট অমিল পরিলক্ষিত হয়। হাজার হাজার বছর পূর্বে এই পৃথিবীতে বসবাসকারী গ্রাম্য লোকদের যে সুখ সমৃদ্ধি বিরাজমান ছিল বর্তমানে এসে এই তথাকথিত আধুনিক শহরে সেই সমৃদ্ধি। খুজে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে শাস্ত্রের অভ্রান্ত নির্দেশ হল বৈদিক সেই পুরানো সংস্কৃতি, গ্রাম্য পরিবেশে জীবনধারা এসবই একজন মানুষ বা পুরো সমাজকে সুখী করে। শাস্ত্রের এ অভ্রান্ত উক্তির সঙ্গে একমত আধুনিক বিজ্ঞানীরা। সবুজের কাছাকাছি বসবাস উদ্বিগ্নতা, হতাশার হার কমায়। এই হল নেদারল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল। অর্থাৎ গ্রামের সবুজ পরিবেশ আপনার শরীর ও মন দুটোর জন্যই খুবই উপযুক্ত একটি পরিবেশ। সম্প্রতি এটি বিশ্ব মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় যে, লোকেরা বাগান, পার্ক এবং অন্যান্য সবুজ বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত করলে তবে শহরের বসবাসরত মানুষদের থেকেও কম উদ্বিগ্নতা, হতাশায় ভোগে। এমনকি শরীরের দিক থেকেও তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। এ তত্ত্বটি উদ্ভাবনের জন্য বিজ্ঞানীরা নেদারল্যান্ডের প্রায় ৩,৪৫,০০০ লোকের উপর গবেষনা চালায়। এসব লোকদের মধ্যে যাদের গৃহ এক কিলোমিটারের মধ্যে সবুজের হার শতকরা ১০ ভাগ ছিল তাদের মধ্যে মানসিক উদ্বিগ্নতা ছিল ১০০০ লোকের মধ্যে ২৬ জনের। আবার যারা শতকরা ৯০ ভাগ সবুজের বেষ্টনী এর মধ্যে বসবাস করত তাদের মধ্যে মানসিক উদ্বিগ্নতার বিশৃঙ্খলা ছিল ১০০০ লোকের মধ্যে মাত্র ১৮ জনের। ভালো স্বাস্থ্য নির্ভর করে সতেজ বায়ুর উপর। আমস্টারডামের ভি. ইট বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের বিজ্ঞানীরা এ গবেষণায় সকল খুঁটিনাটি বিশ্লেষন করে দেখেছেন। বর্তমানে আধুনিক সভ্যতার লোকদের নগরায়নের প্রতি আকর্ষিত না হয়ে সবুজের সংস্পর্শে বসবাস করা উচিত। সবুজের সংস্পর্শ যে, শরীর ও মনের উপর কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসিডেসিওলোজি এবং কমিউনিটি হেলথের ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালদের জার্নালে। যে প্রতিবেদনে বলা হয় “পৃথিবীর অনেক দেশে জনগণদের মাঝে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব নির্ভর করে। একজন লোক কতটা সবুজের সংস্পর্শে বসবাস করছে তার উপর।” তাদের প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, হতাশা, হার্টের রোগ, পিঠে ব্যথা এবং অ্যাজমা সহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব খুব কমই পরিলক্ষিত হয় যারা অপেক্ষাকৃত বেশী সবুজ পরিবেশে বসবাস করে। সেটি নিম্ন আয়ের লোকদের থেকে শুরু করে ছোট ছেলেমেয়েদের স্বাস্থা এবং মন দুটোর জন্যই শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। কিন্তু সেক্ষেত্রে যারা মোবাইল ফোন কম ব্যবহার করবে এবং বেশিরভাগ সময় ঐ পরিবেশে বাস করে তাদের জন্যই। উপরোক্ত সামগ্রিক গবেষণার ফলাফলটি স্বীকৃতি দিয়েছে। নেদারল্যান্ড অর্গানাইজেশন ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ। এভাবে, বৈদিক গ্রাম্য পরিবেশে বসবাস। করার পরিবর্তে লোকেদের শহরমুখী। হওয়ার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ বা নিরাপদ সে বিষয়ে আঁচ পাওয়া যায়। অধিক পরিমাণে বৃক্ষ নিধন এবং কলকারখানার উপর নির্ভর শ্রীল প্রভুপাদসহ সমস্ত বৈদিক শাস্ত্র কখনো স্বীকার করেনি। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য শ্রীল প্রপান আধুনিক সভ্যতার সবুজের পরিবর্তে যন্ত্র নির্ভর হওয়াকে বরাবরই বিরোধিতা করেছিলেন। এর প্রমাণ জীবন আসে জীবন থেকে, হরেকৃষ্ণ চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায়। তাই অন্ততপক্ষে বিজ্ঞানীদের এ গবেষণা থেকে শিক্ষা নিয়ে হলেও সমাজে সর্বস্তরের লোকদেরকে আমন্ত্রণ জানাই বেশি করে সুবজের সংস্পর্শে অথবা থানা পরিবেশে বসবাস করুন সেটিই আপনার জন্য মঙ্গলদায়ক। হরেকৃষ্ণ।

চৈতন্য সন্দেশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন :https://play.google.com/store/apps/details?id=com.differentcoder.csbtg


Hare Krishna Thanks For Reading
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।