প্রতি মুহূর্তে কৃষ্ণভাবনামৃতের নীতি মেনে চলুন

0
103

শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: উন্নত সন্ন্যাসীরা সবকিছু ত্যাগ করেন, যাতে তাঁরা জড় কর্মের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারেন এবং আধ্যাত্মিক জীবন যাপন করতে পারেন। সে স্তরে যাওয়ার জন্য যে কর্ম করতে হয় তাকে অকর্ম বলা হয়। অকর্ম মানে এই নয় যে কাজ করা যাবে না। শুধু পারমার্থিক স্তরে অবস্থান করতে হয়। সুতরাং এটি জড় কর্মের ঊর্ধ্বে সম্পন্ন হয়। যখন ভক্তিযোগে যুক্ত হয়ে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করি, তখন এই স্তর প্রাপ্ত হওয়া যায়।
ভগবানের মন্দির দর্শন করা, পুষ্প নিবেদন করা, ভগবৎ প্রসাদ গ্রহণ করা, ভাগবতীয় প্রবচন শোনা, কীর্তনের সময় নৃত্য করা- এই সব কর্ম জড় জগতের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত এবং এগুলি হচ্ছে সত্যিকারের পারমার্থিক কর্ম। প্রত্যেক মানুষ তাদের কর্মসমূহকে ভগবৎ সেবায় রূপান্তরিত করতে পারে। যেমন- আর্টিস্ট, গায়ক, ব্যবসায়ী, গৃহকর্তা/গৃহকর্ত্রী তাদের নিজ নিজ কর্ম ভগবৎ ভাবনাময় হয়ে করতে পারেন। কিন্তু নিষিদ্ধ কর্ম যেমন- মাদকদ্রব্য সেবন, প্রাণী হত্যা করা উচিত নয়। এসব কর্মের ফল কৃষ্ণের সেবায় লাগে না। দৈনন্দিন কর্মগুলো যা আমাদের জড় জগতে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন, তা অপ্রাকৃতভাব নিয়ে সম্পাদন করা যায়। যাতে দিনের মধ্যে চব্বিশ ঘণ্টা অর্থাৎ সারা জীবন ভগবানের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকতে পারি। যখন কেউ ভগবৎসেবা করেন, তখন তিনি এটি বুঝতে পারেন। এটি এ ধরনের মতবাদ নয় যে-কিছু লোক বিশ্বাস করে, কিছু করে না। এই জ্ঞান যখনই ভগবৎসেবার মাধ্যমে আমরা কাজে লাগাব, তখনই ফল প্রদান করবে। এই পারমার্থিক জ্ঞানের মাধ্যমে যে কেউ তার নিজের সম্বন্ধে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্বন্ধে এবং ভগবান সম্বন্ধে জানতে পারে। এটি কখনো হারিয়ে যায় না। এই জ্ঞান হৃদয়কে সম্পূর্ণরূপে আলোকিত করে, আত্মাকে সুখ ও শান্তি দেয়। অনেকে এই ধরনের সুখ ও শান্তির কথা শুনে থাকতে পারে; কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে আরও ভালো হয়। এই অভিজ্ঞতা আমরা ইস্্কনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের জীবন থেকে পাই। এ ধরনের সুখ ও শান্তি প্রচুর পরিমাণে তিনি আমাদের প্রদান করেছেন। আমরা তাঁর শিষ্যদের মধ্যেও তা দেখতে পাই। এমনকি যদিও তাদের মধ্যে সকলেই শতভাগ আত্মজ্ঞান লাভ করতে পারেনি, কিন্তু তারা সঠিক পথে ছিল। প্রভুপাদ ধরাধামে থাকা অবস্থায় আমরা এই জগতে এসেছি এবং শুধু তাঁর সংস্পর্শেই আমরা এ ধরনের আত্মিক সুখ ও শান্তির সন্ধান পেয়েছি।
অতএব, এই পারমার্থিক জ্ঞান মানুষের মধ্যে ব্যবহারিকভাবে বিতরণ করার চেষ্টা করছি, যাতে তারা আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারে। অর্থ দিয়ে কাউকে সাহায্য করার দরকার নেই। যদিও এর মাধ্যমে মানুষের সেবা করা যায়। আমাদের কোনো জড় উদ্দেশ্য নেই। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারে। যদি কেউ এক বছর, দশ বছর অথবা পঁচিশ বছর পর ফিরে এসে আমাদের বলে যে আগের থেকে সুখে-শান্তিতে আছেন, তখন আমরা নিজেদের সার্থক বলে মনে করি। এটিই আমাদের লক্ষ্য।

সূত্র: শ্রীকৃষ্ণের চরণাশ্রয়

চৈতন্য সন্দেশ মার্চ ২০২২ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here