ধর্ম ছাড়া মানুষ হয় না

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 113 বার দেখা হয়েছে

ধর্ম ছাড়া মানুষ হয় না

শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম স্কন্ধের প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় শ্লোকটির প্রথম পংক্তিতেই বলা হয়েছে-ধর্ম প্রোজজিতকৈতবোহত্র’-‘ধর্ম’ অর্থাৎ ঈশ্বর আসনা আর কৈতব’ মানে প্রবঞ্চনা বা ভুক্তি মুক্তির বাসনা। ‘ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ’ এই চারটি জিনিস সভ্যতায় অগ্রণী বা পারমার্থিকতায় অগ্রণী মানুষদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে বলেই স্বীকার করা হয়। কেবল পারমার্থিক বিষয়ে অগ্রণী নয়, সভ্যতায় অগ্রণী যাঁরা, তাঁদেরও এইগুলি চর্চার প্রয়োজন । তাই এগুলির মধ্যে প্রথমটি হল ধর্ম। ধর্ম হল সভ্যতার মূল নীতি । ধর্মেন হীনাঃ পশুভি সমানাঃ। ধর্ম যদি না থাকে তবে সেটি হবে পশুদের সমাজ। এটিই হল মানব সমাজ আর পশু সমাজের মধ্যে পার্থক্য। মানব সমাজের অধঃস্তন পর্যায়ে আশি লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতি আছে। কিন্তু সেখানে ভগবৎ চেতনার কোন ব্যাপারই নেই । মানব সমাজে সঠিক কিংবা বেঠিক যে কোনভাবেই হোক তারা ধর্মনীতি কিছু হলেও মেনে চলে, সভ্য সমাজে ধর্মের একটা প্রতীক অন্তত সামনে থাকে। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং আরও কতজনের কত ধর্ম বিশ্বাস আছে। কারণ এটা হল মানব সমাজ, এখানে ভগবৎ উপলব্ধির কোন না কোনও ধারণা কিংবা কিছু একটা নীতিবোধ অবশ্যই থাকবে। তাকেই বলে ধর্ম। কিন্তু এখন ধর্মের নামে অনেক কিছুই চলছে। তাকে বলে কৈতব, প্রবঞ্চনা। ওসব নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই না। তবে বর্তমান যুগে প্রায় সকলেই ধর্মের নীতি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলছেন না। সেটাই বাস্তব সত্য। তাকেই বলা হচ্ছে কৈতব। আরেক ধরনের কৈতব হল এই যে, মানুষ জানে না ধর্মের মূল উদ্দেশ্যটি কি? ধর্মের অর্থ, যা আমরা বারে বারে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলে থাকি, তা হল ভগবৎ প্রদত্ত বিধি নিয়ম বা নীতিসূত্র। তাকেই ধর্ম বলে জানতে হয়। শুধুমাত্র তত্ত্বকথা আর সূত্র নয়। সূত্র বা ফরমুলা তো থাকবেই, তবে যথার্থ ধর্মের মূলগত নীতি হল যাকে বলে ভগবদ প্রদত্ত | বিধিনিয়ম, যা মেনে চলতে হয়। ঠিক যেমন আমরা একটা দেশে বাস করি ভারতে কিংবা ইংল্যান্ডে, না হয় আমেরিকায় বা জার্মানীতে-সেখানে রাষ্ট্রের কতকগুলো নিয়মকানুন আছে। সুনাগরিক তাঁরাই, যাঁরা রাষ্ট্রের সেই নিয়মকানুন সব ঠিক ঠিক মেনে চলেন। তেমনি, ভগবদ্ভক্ত মানে হল, যিনি ভগবানের নির্ধারিত আইন কানুনগুলি মেনে চলেন। এটাই শুধু বুঝতে চেষ্টা করুন। ঠিক একজন সুনাগরিক যেমন দেশের আইন মেনে ভালো হয়ে চলেন, তেমনি ভগবদ্ভক্তও ভগবানের আইন মেনে ভাল হয়ে চলেন। রাস্তায় যেখানে লাল আলো জ্বলে ওঠে, তক্ষুনি আপনি সেখানে গাড়ি থামিয়ে দেন, কারণ আপনি দেশের আইন মেনে চলতে চান। তা না হলে আপনি হবেন অপরাধী। যদিও কেউ হয়তো সেখানে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করছে না, তা সত্ত্বেও আপনি নিয়ম মেনে লাল বাতির সামনে গাড়ি থামিয়ে দেন। সেটা হল অনুগত হয়ে চলার লক্ষণ। আবার যখন সবুজ আলো জ্বলে ওঠে, আপনি গাড়ি চালাতে শুরু করে দেন। ধর্মও হল ঐ ধরনের ব্যাপার। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের বিশালতার তুলনায় লন্ডন শহরে একটি ছোট্ট জায়গা-নগণ্য ক্ষুদ্র একটা বিন্দুর মতো। এখানেই এত রকমের সব আইন কানুন গড়ে তোলা হয়েছে আর পরমেশ্বর ভগবান, যিনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি করেছেন, পালন করছে, তাঁর কোনও নিয়ম কানুন থাকবে না? কি করে আপনারা তা ভাবতে পারেন?

একটা ছোট্ট শহর এই লন্ডন, একটা নগণ্য শহর। আমাদের জাগতিক হিসাবে এটি নগণ্য নয়, কিন্তু বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালতার তুলনায় একটা লন্ডন কিংবা নিউইয়র্ক শহরের কি মূল্য আছে। যখনই আপনি আকাশের উপরে উঠতে থাকবেন, এই মনে করুন পঁচিশ কিলোমিটার উপরে, তাহলেই আপনার শহরটিকে আর চোখে দেখতেই পারবেন না। ক্রমশঃ ছোট হয়ে হয়ে অদৃশ্য হয়ে যাবে। তেমনি মহাকাশের মধ্যে গ্রহ-নক্ষত্রে অমনি কত না কত শহর রয়েছে। কত রকমের ব্রহ্মাণ্ড, কত রকমের সমুদ্র, মহাসমুদ্র, পাহাড় পর্বত। আকাশ ছোঁয়া প্রাসাদ, ঘরবাড়ি-আমরা সেসবের কিছুই দেখতে পাই না। কেননা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যা কিছু রয়েছে, তা সবই নিতান্ত নগণ্য বস্তুকণা মাত্র। তাই, যদি এই সমস্ত অতি নগণ্য বস্তুকণার মধ্যে এত রকমের রাষ্ট্রের আইন কানুন থাকতে পারে, তাহলে ভেবে দেখুন তো, এই বিশাল বিপুল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের তত্ত্বাবধানের জন্য পরমেশ্বর ভগবানকে কতই না আইনকানুন বিধি নিয়ম গড়তে হয়েছে। কেউ তা অস্বীকার করতে পারে? যে অস্বীকার করবে, তার মানে সে এক মহামূর্খ । বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে, প্রকৃতির নিয়ম অত্যন্ত বিধিবদ্ধভাবে চলে। এমনকি অধ্যাপক আইনস্টাইনও স্বীকার করেছিলেন, “আমি যত এগিয়ে চলেছি, ততই দেখছি নিশ্চিতরূপে এক বিশাল বিপুল বুদ্ধিমত্তা, একজন ভগবান অবশ্যই রয়েছেন।” এই হল প্রকৃত জ্ঞান। সবকিছু অমন চমৎকারভাবে পালন করা হচ্ছে আর সেখানে কোন বুদ্ধি কাজ করছে না, সবকিছু দেখাশুনা করার কেউ নেই? যদি একথা কেউ বলে যে “ভগবান মারা গেছে বা ভগবান নেই” সে হল এক নম্বর মূর্খ। কারণ সে যথার্থ মনস্তত্ত্ব জানে না, কিভাবে আমরা পরমপুরুষের তত্ত্ব মেনে নিয়েছি।

মনে করুন একট শিশু লন্ডন শহরে এসেছে। কিন্তু সে রাণীকে দেখতে পাচ্ছে না। কিংবা শিশুটির বাবাও দেখতে পাচ্ছে না । কত লোকইতো লন্ডনে বেড়াতে আসে। এমন নয় যে, তারা সকলেই রাণীকে দেখতে পায়। কিন্তু রাণীকে দেখতে না পেয়ে যদি সে বলে “ওহ, তার মানে রাণী নেই” কিংবা “রাণী মারা গেছে”, তাহলে কি তার কথা সত্য বলে মানা যাবে? তেমনই, কিছু মহামূর্খ রয়েছে যারা জানে না কিভাবে এই বিরাট বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তারা বলতে পারে “ভগবান মরে গেছে, ভগবান নেই”। কিন্তু সে কথা কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ মেনে নেবেন না । সুস্থির মানুষ বলবেন, “নিশ্চয়ই কেউ রয়েছেন, যার থেকে প্রতিটি বস্তুর উৎপত্তি হচ্ছে।” জন্মাদস্য, যতঃ। সেটাই ভাগবতের জ্ঞান। বেদান্ত সূত্রের প্রথম স্মরণীয় সূত্রটি হল “পরমতত্ত্ব কি?” অথাতো ব্রহ্মজিজ্ঞাসা। পরমতত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের আলোচনা করতে হবে, জানতে হবে। তার উত্তরে সেই ব্রহ্মতত্ত্বকেই আমরা পাই পরমজ্ঞান-যাঁর থেকে সবকিছু উৎসারিত হয়ে আসছে। তিনিই হলেন সবকিছুর আদি উৎস। অতি সহজ সরল বর্ণনা-জন্মাদস্য যতঃ

এই হল ধর্ম, আসলে যার অর্থ হল সেই আদি উৎস পরমতত্ত্বের উপলব্ধি। তাকেই বলা হয় ধর্ম। সুতরাং সেই ধর্ম, ভগবৎ উপলব্ধির তত্ত্ব, প্রত্যেক মানব সমাজেই রয়েছে, কী ইউরোপে, কী আমেরিকায়, বা আফ্রিকায়। কিছু না কিছু আছেই। মানব সত্তার সেইটাই হল বৈশিষ্ট্য, সেটাই হল গভীর তাৎপর্য। সমাজটা যদি মানুষের সমাজ হয় তাহলে তার মধ্যে ধর্মের নীতি খানিকটা থাকবেই। যদি সমাজে কোন ধর্ম না থাকে তবে সেটা হল পশুর সমাজ ।


চৈতন্য সন্দেশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন :https://play.google.com/store/apps/details?id=com.differentcoder.csbtg


Hare Krishna Thanks For Reading
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।