দোলযাত্রা/দোলপূর্ণিমা, হোলি বা গৌরপূর্ণিমা কি?

প্রকাশ: ৮ মার্চ ২০২০ | ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৮ মার্চ ২০২০ | ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 1224 বার দেখা হয়েছে

দোলযাত্রা/দোলপূর্ণিমা, হোলি বা গৌরপূর্ণিমা কি?
  • ৯ মার্চ ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি। আজ আমরা জানবো, প্রথম থেকে পড়ুন এবং আরো ভালো করে জানুন।

দোলপূর্ণিমাঃ

বসন্তের এই পূর্ণিমার দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামক অসুরকে বধ করেন। কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর নামক অসুর বধের কথাও আছে। অন্যায়কারী অত্যাচারী অসুরকে বধ করার পর সকলে আনন্দ করেন। এই আনন্দ মহা আনন্দে পরিণত হয়।
আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে বৃন্দাবন লীলায় ব্রজবাসীগন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং তার অন্তরঙ্গা শক্তি রাধারাণীকে একত্রে পেয়ে সীমাহীন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে তাদের চরণে আবির বা গুলাল ঢেলে রঞ্জিত করে দেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধারাণী ও এই আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। কিন্তু ঐদিন ছিল ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথি। ঐদিনটিতে এতটাই আনন্দ উৎসব হয় যে, পরবর্তীতে বৃন্দাবন বাসীরা আর ঐদিনটিকে ভুলতে পারেন নি। যা আজ ও মানুষ পালন করে চলছে। ঐদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আর রাধারাণীকে বৃন্দাবন বাসীরা প্রেমানন্দে দোলনায় দোল দিয়েছিল বলে এই উৎসবটিকে দোল উৎসব ও বলা হয়। আর ফাল্গুন মাসের এই পূর্ণিমাকে বলা হয় দোল পূর্ণিমা।

হোলি উৎসবঃ

এই দোল উৎসবটি পরবর্তীতে সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এই উৎসবটি পরে হোলি খ্যাতি পায়। ধরে নেওয়া হয়, অত্যাচারী রাজার হিরণ্যকশিপুর দানবী বোন হোলিকা থেকে এই নামের উৎপত্তি। হোলিকা বর পেয়েছিল যে,কোন প্রকার আগ্নি তাকে ক্ষতি বা ধ্বংস করতে পারবে না। অন্য এক কাহিনী থেকে জানা যায়, হোলিকা একটি বিশেষ বস্ত্র পেয়েছিল, যা পড়ে থাকলে অগ্নি তার কোনো ক্ষতি বা ধ্বংস করতে পারবে না। শ্রীহরির আরাধনার জন্য হিরণ্যকশিপু তার পুত্র প্রহ্লাদের উপর রেগে গিয়ে তাকে অনেকবার হত্যা করার চেষ্টা করে কিন্তু ভগবানের কৃপায় প্রহ্লাদ বারবারই বেঁচে যান। হিরণ্যকশিপুর আদেশে হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে করে তুলে নিয়ে আগুনের ভিতর নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেন। ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসে এবং এই অন্যায় কাজের জন্য হোলিকা সেই আগুনে পূড়েই মার যায়/ধ্বংস হয়ে যায়। অন্য কাহিনী মতে, হোলিকা যখন প্রহ্লাদ নিয়ে আগুনে প্রবেশ করে তখন হোলিকার বিশেষ বস্ত্র উড়ে এসে প্রহ্লাদের শরীরে পড়ে। প্রহ্লাদ অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসে এবং হোলিকা আগুনে পুড়েই ধ্বংস হয়ে যায়। সকল প্রকার ধ্বংস যজ্ঞের বিরুদ্ধে জয়লাভের প্রতীকই হলো এই রঙ্গিন আনন্দ উৎসব। এখন সমগ্র বিশ্বের মানুষ এই আনন্দ উৎসব পালন করে চলছে। কেউ কেউ এই উৎসবটিকে বলছে, ফেস্টিভ্যাল অফ কালার্স।

গৌরপূর্ণিমাঃ

মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব এই দোল পূর্ণিমার পূন্যতিথিতে নবদ্বীপে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তখন জাতিভেদ বর্ণভেদ আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে বিভেদের প্রাচীর তুলে দিয়েছিল। শ্রীচৈতন্যদেব ( গৌরাঙ্গ) সমাজ থেকে এই বিভেদ দূর করে জীব উদ্ধারের জন্য হরিনাম প্রচার করেছিলেন। দোল পূর্ণিমার এই দিনে জন্মগ্রহণ করে জীব উদ্ধারের জন্য কাজ করে গেছেন বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামে ও অভিহিত করা হয়।চঁন্দ্রোদয় (সকাল থেকে সন্ধ্যা) পর্যন্ত নির্জলা উপবাস করে তারপরে অভিষেক করে অনুকল্প প্রসাদ গ্রহন করতে হবে।

★★★ কিভাবে উপবাস পালন করবেন?
১)রাত ১২ টার আগে অন্ন খেতে হবে এবং ঘুমানোর আগে ব্রাশ করে ঘুমাতে হবে।
২) যদি সম্ভব হয় ভোর রাত্র ৪.৩০ মিনিটে মঙ্গল আরতি, সকালে হরিনাম জপ, মহাপ্রভুর লীলা শ্রবন করা, সন্ধ্যায় অভিষেক দর্শন করা।
৩) সন্ধ্যায় অভিষেক শেষে অনুকল্প প্রসাদ, ফল বা সবজি খাওয়া যাবে একাদশী প্রসাদের মত।
৪) পারণ পরের দিন সকালে একাদশীর মতো পারণ করতে হবে।
সকলে কৃপা করে উপবাস পালন করবেন,,
এবং মহাপ্রভুর বিশেষ কৃপা লাভ করুন।
বছরে একটি দিন মাত্র ভগবানের কৃপা লাভ করার সুযোগ।
হরিবোল….

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।