দীপাবলী

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৮ | ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৮ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 1078 বার দেখা হয়েছে

দীপাবলী

প্রেমের প্রদীপ প্রজ্জলিত করার উৎসব

আসছে ৭ নভেম্বর দীপাবলী উৎসব

শ্রীমৎ রাধানাথ স্বামী মহারাজ

আজ সমগ্র ভারতে দীপাবলী উৎসব উদ্‌যাপিত হচ্ছে; অনেকের কাছে এটা নতুন বৎসর। সেই জন্যে অনেক উৎসব হচ্ছে। অনেকের কাছে দীপাবলী হল সেই সময়, যখন প্রচুর বাজী পোড়ানো হয়, যার ফলে বাতাসে প্রচুর শব্দ এবং ধোঁয়া উৎপন্ন হয়।
জগতের প্রকৃতিই এই যে, অত্যন্ত পবিত্র কোন কিছুকে সম্পূর্ণ পার্থিব বস্তুতে পরিণত করা। আমরা যা বলছিলাম, এই জগত হল আমাদের চেতনার প্রতিফলন। এই চেতনা হল অ্যান্টেনার মতো, আমরা যেখানে যুক্ত থাকি সেখান থেকেই শক্তি সংগ্রহ করি।

দীপাবলী উদ্‌যাপন করার কারণ

বিমাতা কৈকেয়ীর ঈর্ষার কারণে শ্রীরামচন্দ্রকে অযোধ্যা থেকে বনবাসে যেতে হয়েছিল। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মহান ভক্ত ছিলেন। জীবনের অন্য সবকিছুর থেকে তিনি রামকে অধিক ভালোবাসতেন, কিন্তু তার ঈর্ষান্বিত দাসী মন্থরার সঙ্গে থেকে তিনি ধীরে ধীরে বুঝলেন যা তিনি ভাবছেন তাই সত্য। এই হল মানব চরিত্র। যখন আমরা জেদী, ঈর্ষান্বিত এবং লোভী, আমাদের যখন এই অনর্থগুলি আছে,মায়ার প্রকৃতিই হল যা আমাদের বোঝায়, প্রকৃতপক্ষে বোঝায়,এটা কোন দূরবর্তী কারণে ভান করা নয় বরং সত্যি সত্যি আমাদের বোঝায় যে, ‘যা আমি বিশ্বাস করি তাই সত্যি’। অন্যথায় কিভাবে আমরা এভাবে দৃঢ়চিত্তে এত অপরাধ করতে পারি বা অন্যদের প্রতি এত বিপত্তির কারণ হতে পারি? কৈকেয়ী বিশ্বাস করেছিলেন যে, শ্রীরাম প্রকৃতপক্ষে একজন অত্যন্ত খারাপ ব্যক্তি এবং মন্থরা এই মহান ভক্তকে, শ্রীরামচন্দ্রের একজন মাকে বুঝিয়ে তাকে চৌদ্দ বৎসরের জন্য বনবাসে পাঠাল। তিনি এমনভাবে বিশ্বাস করেছিলেন যে, ঈর্ষার একটি ছোট স্ফুলিঙ্গকে মন্থরা এমন এক বিশাল অগ্নিতে পরিণত করেছিল যে, শ্রীরামের বিরহে তার স্বামী দশরথের মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিরস্ত হননি। এটা যেন এরকম ‘এরকম হতেই পারে, আমার পক্ষে যা সঠিক তা করতে গিয়ে কোন ক্ষতি হতে পারে তাতে কি?’ একদিন আগেও যিনি দশরথের জন্য লক্ষবার জীবন দিতে পারতেন। সম্পূর্ণ রামায়ণ আলোচনা করার সময় নেই। কিন্তু চৌদ্দ বছর পর শ্রীরাম গভীর অমাবস্যার রাতে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন করলেন। সেই রাত্রে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য হনুমান এবং ভরত অযোধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।

সমস্ত অযোধ্যাবাসী শ্রীরামকে এত ভালোবাসতেন যে, তাদের কাছে চৌদ্দ বছর চৌদ্দ হাজার বছরের সমান ছিল। তারা তাদের ছাদে, দরজার সামনে, জানালায় নিজেদের হাতে প্রদীপ জ্বালিয়েছিল শ্রীরামের গৃহে প্রত্যাগমনকে স্বাগত জানাতে। সুতরাং দীপাবলী হল হৃদয়ের উৎসব। অমাবস্যার গভীর অন্ধকার রাতের মতো এতদিন তারা অন্ধকারে বাস করেছিল।

কৃষ্ণ সূর্যসম; মায়া হয় অন্ধকার

কৃষ্ণ হলেন আলোক, মায়া অন্ধকার। আমাদের কৃতজ্ঞতার প্রদীপে, আমাদের ভালোবাসার প্রদীপে আমরা আমাদের ভালোবাসার ভগবানের গৃহে পুনরাগমনকে স্বাগত জানাই আমাদের হৃদয়ে, এই হল দীপাবলী। আমাদের জীবনে ভগবানের আগমন, ভগবানের মহিমা উদযাপনই হল আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করার এই হল প্রকৃত সময়। ব্যক্তিগতভাবে এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের ভালোবাসার প্রদীপ নিবেদন করার অর্থই তার সন্তুষ্টির জন্য জীবন নিবেদন করা। যদি সেই চেতনায় আপনি বাজী পোড়ান তাহলে সেই বাজীগুলিও চিন্ময় হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা জানি না কয়জন লোক এমন মনে করেন, অন্যথায় এগুলি শুধু তমোগুণের বিস্ফোরণ। বৃন্দাবনে দীপাবলীতে অন্য একটি মধুর লীলা হয়। এটি সেই দিন যখন শ্রীকৃষ্ণ সমগ্র জগতকে দেখিয়েছিলেন তাঁর ভক্তদের ভালোবাসা কত শক্তিশালী এবং কিভাবে তিনি তার ভক্তদের প্রেমের বন্ধনে বাঁধা পড়েছিলেন ও পরাজিত হয়েছিলেন।
দীপাবলী হল প্রকৃত দিন যেদিন দামোদর বন্ধন লীলা হয়েছিল। যখন কৃষ্ণ মাখন চুরি করায় পুত্র স্নেহে দাম বন্ধনে যশোদা মাতা তাকে বেঁধেছিলেন। প্রথমে বন্ধন করা, পরে বন্ধন মুক্ত করা এবং যশোদা মাতার সাথে অধিক অন্তরঙ্গ বন্ধনে চিরকালের জন্য বাঁধা পড়া, গোপীরা এইদিন থেকে কৃষ্ণকে প্রেমময় দামোদর নামে ডাকলেন। এর অর্থ যার মায়ের ভালোবাসার রজ্জুবন্ধনে তাঁর উদর আবদ্ধ হয়েছিল।


এই পবিত্র দিবসে আসুন আমরা ভক্তির সেই রজ্জুর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। শ্রীরাধা হলেন ভক্তির প্রকৃত উৎস। তিনিই সেই রজ্জু যা দিয়ে যশোদামাতা শ্রীকৃষ্ণকে বেঁধেছিলেন। এটি তাঁরই শক্তি। শ্রীশ্রী রাধাদামোদর সমগ্র জগত, সমগ্র আধ্যাত্মিক জগত, সমগ্র জড় জগতকে জানাতে চেয়েছিলেন যে, তিনি চিরকালের জন্য তাঁর ভক্তদের প্রেমের বাঁধনে বাঁধা পড়েছেন।

 


লেখক পরিচিতি: শ্রীমৎ রাধানাথ স্বামী মহারাজ  শ্রীল প্রভুপাদের একজন সন্ন্যাসী শিষ্য এবং বর্তমানে ইসকন গভর্নিং বডির কমিশনার। তিনি নিয়মিত ভাবে সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিল্পোদ্যোগী, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তির সাথে যুক্ত বিভিন্ন পেশাদারদের এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্গদর্শন প্রদান করেন।

এরকম চমৎকার ও শিক্ষণীয় প্রবন্ধ পড়তে চোখ রাখুন চৈতন্য সন্দেশ এ

যোগাযোগ: ০১৮৩৮-১৪৪৬৯৯

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।