জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা

0
88

কথায় আছে বাঙ্গালীদের বার মাসে তের পার্বণ। কিন্তু গৌড়িয় বৈষ্ণবদের ক্ষেত্রে প্রতিদিনই লেগে রয়েছে হাজারো পার্বণ বা উৎসব। মনে হয় যেন একটা অনুষ্ঠানে শেষ হতে না হতেই আরেকটা উৎসব এসে যায় আর শুরু হয়ে যায় তার প্রস্তুতি পর্ব। ইস্‌কন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল প্রভুপাদের কৃপায় ইস্‌কনের সমস্ত মন্দির, বিশেষ করে শ্রীধাম মায়াপুরের পরিবেশ সর্বদাই উৎসবমুখর। জন্মষ্টমী, রাধাষ্টমী, ঝুলনযাত্রা, রাসপূর্ণিমা, গৌরপূর্ণিমা, রথযাত্রা এইসব বড় বড় উৎসবের কথা সকলেই জানেন। তবে রথযাত্রার পূর্বে যে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ত্রিতাপ দুঃখে জর্জরিত বদ্ধজীব পরম পুরুষোত্তম শ্রীজগন্নাথদেবের অশেষ করুণালাভে ধন্য হন, তা হল জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। মূলত স্নান যাত্রার মধ্য দিয়ে রথ যাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা দিনটিতে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীক্ষেত্র পুরুষোত্তম ধামের পরমারাধ্যদেব শ্রীজগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানীকে নিয়েই স্নানযাত্রা মহোৎসব। স্বায়ম্ভুব মনুর যজ্ঞ প্রভাবে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতে শ্রীজগন্নাথদের অবতীর্ণ হন। তাই এই দিনটি জগন্নাথদেবের জন্মদিন হিসাবে স্নানযাত্রা মহোৎসব রূপে পালন করা হয়। শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব তার পরম ভক্ত মহারাজ ইন্দ্রদায়কে বলেছিলেন সমুদ্র তীরে অক্ষয় বটের উত্তরে একটি কুপ রয়েছে কিন্তু তা বালুকারাশির দ্বারা আবৃত। প্রথমে ক্ষেত্রপাল ও দিনপালের যথাবিধানে পূজা করে শঙ্খ ঘন্টা বাজিয়ে চতুর্দশীতে ঐ কুপের সংস্কার করে পবিত্র জল তুলে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমাতে আমাকে স্নান করাবে। কারণ স্নানের জনাই আমি ঐ কূপ তৈরী করে পরে অবতীর্ণ হয়েছি। জগন্নাথদেবের নির্দেশ অনুসারে স্নানযাত্রার দিন স্নানবেদী নানা প্রকার মণি, মুক্তা, মালা, পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। চন্দনযুক্ত সুগন্ধিত সুশীতল পবিত্র জল দিয়ে মার্জন করে সুগন্ধি ধূপের সৌরভে সুরভিত করা হয়। এরপর শ্রীশ্রীজগন্নাথ বলদেব সুভদ্রাকে স্নান বেদীতে আনা হয়। জগন্নাথের সেবকগণ কৃপ থেকে সংগ্রহিত ১০৮টি স্বর্ণ কলস পূর্ণ সুশীতল পবিত্র জলের দ্বারা তাঁদের মহাস্নান করান। জল ঢালার সময় পুরোহিতগণ পাবমানি মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকেন। এই সময় বিভিন্ন সেবকগণ চামর ও তালপাতাত্ম সাহায্যে শ্রীজগদীশকে বাতাস প্রদান করতে থাকেন। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র জয়ধ্বনী আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। দেবতাগণও অলক্ষ্যে এই স্নানযাত্রা দর্শন করে সুখী হন। স্নানযাত্রার পর শ্রীজগন্নাথ বলদের হস্তীবেশ ও সুভদ্র পদ্মবেশ ধারণ করে। এই সম্বন্ধে একটি প্রাচীন চিত্তাকর্ষক কাহিনী রয়েছে কাহিনীটি জানার জন্য “শ্রীজগন্নাথদেব লীলামৃত” গ্রন্থটি ইস্‌কন মন্দির হতে সংগ্রহ করতে পারেন।


 

চৈতন্য সন্দেশ হতে প্রকাশিত জুলাই-২০০৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here