কর্মস্থলে কৃষ্ণভাবনা (পার্ট-১)

প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৫:১০ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 45 বার দেখা হয়েছে

কর্মস্থলে কৃষ্ণভাবনা (পার্ট-১)

জড় জগতের কোন স্থানই কৃষ্ণকে স্বারণ করার জন্য উৎকৃষ্ট নয়, কিন্তু আমরা যেকোন স্থানেই আমাদের পারমার্থিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি।


মহাত্মা দাস সম্প্রতি আমি একটি কৃষ্ণভাবনাময় প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম, যেখানে একজন ভক্ত বলছিল ইচ্ছাশক্তির চেয়ে পরিবেশ বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। পরে তিনি আমাকে বলছিলেন যে, তিনি যেখানে কাজ করেন সেটি কৃষ্ণভাবনার জন্য মোটেই অনুকূল কর্মস্থল নয়।
তার সাথে কথা বলার পর, আমি ব্যাপারটি নিয়ে অনেকক্ষণ ভেবেছিলাম এবং মানে হল। এটি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তাই নিয়ের প্রতিবেদনটিতে আমি চারপাশের পরিবেশ বনাম ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আলোচনা করব। বলতে গেলে কর্মস্থলে কৃষ্ণভাবনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
আদর্শ পরিবেশ কি?
একটি সুসংবাদ দিয়েই শুরু করি, আসলে আমরা যে কোন স্থানেই কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারি। এরপর একটি সুসংবাদ: আর সেটি হল আসলে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার এরকম আদর্শ পরিবেশ কোথাও নেই।
বলতে পারেন, ‘আপনি এটি কিভাবে বলছেন? তাহলে মন্দিরও কি কৃষ্ণভীবনার অনুকূলে নয়? এবং বৃন্দাবন এবং মথুরার মত পবিত্র স্থানও কি নয়? কিংবা রথ যাত্রার মত পবিত্র উৎসবগুলোও কি নয়?
হ্যাঁ, এগুলো কৃষ্ণভাবনার উন্নয়নের জন্য আদর্শ পরিবেশ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আমার একটি প্রশ্ন হল, যারা বৃন্দাবনে, কিংবা মন্দিরে, কিংবা রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করে তারা কি প্রত্যেকেই কৃষ্ণভাবনাময় হয়? অনেক লোকই হয়, কিন্তু আবার কেউ ভগবানের উপস্থিতির মধ্যেও মায়ার দ্বারা পতিত হতে পারে।
মহামন্ত্র জপ কীর্তনই হল এ যুগের যুগধর্ম এবং এটিই হল কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ পথ। যারা এই হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করে তারা প্রত্যেকেই কি কৃষ্ণভাবনাময় হয়? মায়াবাদীরা তা হতে পারে না। তারা জপ করে কৃষ্ণের সাথে একীভূত হওয়ার মানসে এবং আমাদের মধ্যে যারা জপ-কীর্তন করছে তারা তাদের ঠোঁট দিয়ে বেরিয়ে আসা সেই পবিত্র শব্দগুলোর মধ্যে কৃষ্ণকে কতজন গভীরভাবে স্মরণ করছে?
‘বেশ’ আপনি হয়ত বলবেন, অন্তত জপ। কীর্তন তো করছি এবং সেটিই আমাকে মায়া থেকে রক্ষা করবে। তার নামের মধ্যেই কৃষ্ণ রয়েছেন, কিন্তু আপনার মন মায়ার জগতে ঘুরছে। বাস্তবতা হল এই যে, কোনভাবেই আমি কৃষ্ণকে স্মরণ করছি না এবং তখন সেটি আদর্শ নয়।
ভগবান শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সেবক কালা কৃষ্ণদাস যখন ভ্রমনে মহাপ্রভুর সঙ্গী হয়েছিলেন তখন তিনি যাযাবর প্রবৃত্তি দ্বারা প্রলোভিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ যাযাবরের মত ঘুরার বাসনা তার মধ্যে জাগরিত হয়েছিল। দেখুন, ভগবানের সাথে ভ্রমণ করা সত্যিই এক আদর্শ পরিবেশ ছিল বা এর চেয়েও উত্তম পরিবেশ আর হতেই পারে না। অথচ সেরকম একটি আদর্শ পরিবেশে থেকেও তার মতিভ্রম হল। অর্থাৎ অনুকূল পরিবেশের মধ্যেও আমাদের কৃষ্ণকে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।