এক চোখা গুরু

0
86

যদি আমরা কৃষ্ণ কর্তৃক সম্মোহিত না হই,
তবে আমরা অবশ্যই টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্মোহিত হবো।
(পর্ব-১)

উর্মিলা দেবী দাসী


যখন আমাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র মাধব, খুব ছোট ছিল তার কিছু খেলনার ব্লক, মাটির তৈরি জিনিসপত্র ছিল। আমাদের গৃহে তখন কোনো টেলিভিশন বা ভিডিও প্লেয়ার ছিল না। সে আমাদের কাছ থেকে যাই দেখত এই যেমন কৃষ্ণের পূজা করা, তাঁর পবিত্র নাম জপ-কীর্তন করা, বিগ্রহকে স্নান করানো, কোনো দীক্ষা উৎসব ইত্যাদি সব অনুকরণ করত। টেলিভিশন ছাড়া সে বেড়ে উঠাতে ছোটবেলার সেই খেলাধুলা এখন ভগবানের প্রতি পরিপক্ক সেবাতে রূপান্তর হলো।
শ্রীমদ্ভাগবতে (২/১৩/১৫) শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তগৃহে বেড়ে উঠার সুফল সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন : “শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার এবং আমি শৈশবে পিতৃদেবকে অনুকরণ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতাম। আমাদের পিতৃদেব রথযাত্রা, দোলযাত্রা আদি সমস্ত অনুষ্ঠান সর্বতোভাবে পালন করতে অনুপ্রাণিত করতেন এবং তিনি বহু অর্থ ব্যয় করে মুক্ত হস্তে শিশুদের এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রসাদ বিতরণ করতেন। আমাদের পরমারাধ্য গুরুদেবও বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মহান বৈষ্ণব পিতা ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের কাছ থেকে ভক্তিবিষয়ক সব রকম অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। সমস্ত সৌভাগ্যবান বৈষ্ণব পরিবারে এইটিই হচ্ছে ধারা।
বিখ্যাত মীরাবাঈ ছিলেন গোবর্ধনধারী শ্রীকৃষ্ণের নিষ্ঠাবতী ভক্ত। এই সমস্ত ভক্তদের ইতিহাস প্রায় একই রকম কেননা ভগবানের সমস্ত বড় বড় ভক্তদের প্রারম্ভিক জীবনে সর্বদা একপ্রকার ঐক্য দেখা যায়।
শ্রীল জীব গোস্বামীর মতে, পরীক্ষিৎ মহারাজ নিশ্চয়ই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা শ্রবণ করেছিলেন, কেননা তিনি তাঁর শৈশবে খেলার সাথীদের নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের লীলার অনুকরণ করতেন। শ্রীধর স্বামীর মতে, মহারাজ পরীক্ষিৎ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের শ্রীবিগ্রহের আরাধনার অনুকরণ করতেন।”

আমরা যা দেখি যা ভাবি, তাই হয়ে উঠি

মহারাজ পরিক্ষিৎ কৃষ্ণের অতীত লীলাবিলাস শ্রবণ করতেন এবং তার অনুকরণ করতেন। আমাদের পুত্রও আমাদের কাছ থেকে কৃষ্ণের আরাধনা কিভাবে করতে হয় তা দর্শন করত এবং তার অনুকরণ করত। এই কার্যক্রমসমূহ কারো জড় চেতনাকে চিন্ময় চেতনায় রূপান্তর করে। সন্তানদের কৃষ্ণকে দর্শন করা উচিত এবং তাঁর সম্পর্কে শ্রবণ করা উচিত, কারণ তার ফলে তারা যা দেখবে, শ্রবণ করবে এবং ভাববে সেরকমভাবে গড়ে উঠবে। শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতার ৮/৬ নং শ্লোকে কৃষ্ণ এটিকে ব্যাখ্যা করেছেন : “অন্তিমকালে যিনি যে ভাব স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি সেই ভাবে ভাবিত তত্ত্বকেই লাভ করেন।”
প্রভুপাদ এই শ্লোকের ভাষ্যে লিখেছেন, “যে মানুষ দেহত্যাগ করবার সময়ে কৃষ্ণচিন্তা করে, সে পরমেশ্বর ভগবানের পরা প্রকৃতি অর্জন করে। কিন্তু এই কথা ঠিক নয় যে, শ্রীকৃষ্ণবিহীন অন্য কিছু চিন্তা করলেও সেই পরা প্রকৃতি অর্জন করা যায়। এই বিষয়টি আমাদের বিশেষ যত্ন সহকারে অনুধাবন করতে হবে। কিভাবে উপযুক্ত মনোভাবে আবিষ্ট হয়ে দেহত্যাগ করা যায়? এক মহান ব্যক্তি হয়েও মৃত্যুর সময় মহারাজ ভরত হরিণের কথা চিন্তা করেছিলেন, তাই তাঁর পরবর্তী জীবনে তিনি হরিণ শরীর প্রাপ্ত হন। হরিণরূপে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও মহারাজ ভরত তাঁর পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করতে পেরেছিলেন, কিন্তু তাঁকে পশুর শরীর গ্রহণ করতে হয়েছিল। স্বভাবতই, জীবিত অবস্থায় আমরা যে সমস্ত চিন্তা করে থাকি, সেই অনুযায়ী আমাদের মৃত্যুকালীন চিন্তার উদয় হয়। সুতরাং, এই জীবনই সৃষ্টি করে আমাদের পরবর্তী জীবন।”

টেলিভিশনের ধারণা, শব্দ ও ছবি কৃষ্ণ নয়

Four Agreements For The Elimination or Television এ জেরি ম্যান্ডার লিখেছেন :
“যখন আপনি টিভি দেখেন, তখন আপনি মনকে উন্মোচন করে দেন এবং কারো দিবাস্বপ্ন আপনার ভিতরে প্রবেশ করে….আপনার মন এসব মাইক্রোওয়েভ চিত্রের স্ক্রিন হিসেবে কাজ করে। একবার এই সমস্ত চিত্র বা ছবি আপনার ভিতরে প্রবেশ করলে, তা আপনার স্মৃতিপটে স্বাক্ষী রেখে দেয়।
অনুগ্রহ করে মনের মধ্যে নিম্নের কোনো একটিকে নিয়ে আসুন : জন এফ. কেনেডি, মিল্টন বালে, ক্যাপ্টেন কাঙ্গারু, ক্যাপ্টেন ক্রিক, হেনরী কিসিঞ্জার। আপনার মস্তকে তাদের একটি ছবি তৈরি করতে কি সমর্থ হচ্ছেন?…এখন চেষ্টা করে দেখুন তো, মন থেকে এই সমস্ত টিভি ব্যক্তিত্বদের ছবি মুছে ফেলতে পারেন কিনা?… সেগুলোকে মন থেকে চলে যেতে দিন। জনি কার্সন কিংবা হেনরি কিসিঞ্জার সবাইকে মুছে ফেলার চেষ্টা করুন…. একবার যদি টেলিভিশন আমাদের মস্তকে কোনো ঘটনা বা চিত্র ঢুকিয়ে দিতে পারে, তবে তা বহুদিনের জন্য মস্তিস্কে গেঁথে যায়”।
সেরকম ছোট ছেলেমেয়েরা যখন চিন্ময় ছবিগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করে তখন তারা সেগুলোর অনুকরণ করে। যদি ছেলেমেয়েরা টেলিভিশনের ইমেজগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করে তখন তারা সেই ইমেজগুলোর অনুকরণ করে।
ম্যান্ডার লিখেছেন, “ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা ব্যাপকভাবে তাদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যদি তারা গ্রাম্য এলাকায় বাস করে তবে তাদের খেলাধুলার মধ্যে থাকে প্রাণীরা। যদি তারা মুভি দেখতে যায় তবে তা তাদের খেলাধুলায় প্রতিফলিত হবে। সর্বক্ষেত্রেই তারা তাদের মনের মধ্যে যা বহন করে সে ছবিগুলোর ওপর ভিত্তি করে তারা সেই প্রকার চরিত্র ও সৃষ্টিকে অনুকরণ করে থাকে।”
আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত আমরা কি আমাদের সন্তানদেরকে টেলিভিশন চরিত্রের মতো গড়ে তুলতে চাই নাকি কৃষ্ণের মতো করে গড়ে তুলতে চাই? আমরা কি চাই আমাদের সন্তানরা মৃত্যুর পর চিন্ময় জগত প্রাপ্ত হোক নাকি টেলিভিশনের প্রভাব বিস্তারকারী ভাবনার আলোকে তাদেরকে গড়ে তুলতে চাই?

রজঃ ও তমোগুণের সান্নিধ্যে

বৈদিক শাস্ত্র হরিভক্তি সুধোদয়-এর উদ্ধৃতি দিয়ে শ্রীল প্রভুপাদ লিখেছেন, “সঙ্গ প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্বচ্ছ পাথরের ন্যায় কাজ করে, এর সামনে যা কিছুই রাখা হবে তা প্রতিফলন হিসেবে প্রদর্শন করবে।” কৃষ্ণপ্রেম লাভ করার জন্য যথাযথ সঙ্গ লাভ করার গুরুত্ব সম্পর্কে মন্তব্য প্রকাশ করে প্রভুপাদ লিখেছেন, “সকাল সন্ধ্যা হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ কীর্তনে নিমগ্ন এমন সব শুদ্ধভক্তদের ক্রমাগত সঙ্গ করা আবশ্যক, এভাবে কেউ তার হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ লাভ করবে এবং কৃষ্ণের শুদ্ধ অপ্রাকৃত প্রেম গড়ে তুলতে পারবে।” তিনি আরো ব্যক্ত করেছেন, “যে সমস্ত ব্যক্তি কৃষ্ণভাবনার প্রতি আগ্রহী নয় তাদের সঙ্গ কঠোরভাবে বর্জন করার উচিত।” দুর্ভাগ্যবশত, টেলিভিশন মানে সাধু ব্যক্তিদের সঙ্গ না করাই নয়, বরং যারা রজঃ ও তমোগুণে আছেন তাদের সঙ্গও বর্জন করা।
The Big Book of Home Learning গ্রন্থে ম্যারি প্রাইড লিখেছেন যে, “টিভি ছেলেমেয়েদের রাস্তার এক কোণে ফেলে রাখতে পারে, আবার রাস্তার সেই কোন্‌টি আমাদের বাসকক্ষেও নিয়ে আসে।” ৩ বছর বয়স থেকে ১৭ বছর বয়সের ছেলেমেয়েরা গড়ে আঠার হাজার সহিংসতামূলক বিষয় দর্শন করে।
জিম ট্রেলিস্ এর লেখা Read-Aloud Handbook অনুসারে, “আপনি যদি মানবের সহিংসতা (৫৪টি) সম্পর্কে দেখতে চান তবে শেকস্পিয়রের ৩৭টি নাটকই দেখতে হবে, কিন্তু এর সবগুলো সহিংসতা আপনি দেখতে পাবেন টেলিভিশনে।”
১৯৭৫ সালে ২৬ জুন লস্ এঞ্জেলেসে প্রভুপাদ এই সহিংসতা সম্পর্কে এক কথোপকথনে ব্যক্ত করেছেন :
প্রভুপাদ : কুকুর, টেলিভিশন, মদ ও সিগারেট। এতটুকুই (হাসি), তাই নয় কি? ভারতেও এগুলো ঢুকে গেছে।
শিষ্য : এই হলো অধঃপতন।
প্রভুপাদ : হ্যাঁ।
শিষ্য: যত পার যৌন জাতীয় সবকিছু দর্শন কর।
প্রভুপাদ: এরকম ভয়ংকর দৃশ্যগুলোই শুধু নয়
শিষ্য : হ্যাঁ।
প্রভুপাদ : হত্যা এবং এরকম আরো কত কিছু।
এই সহিংসতার মাধ্যমে সন্তানরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ম্যারি উইন তার The Plug-in Drug গ্রন্থে লিখেছেন: “যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা সিরিয়াস অপরাধ কার্যক্রমগুলোর সঙ্গে জড়িত তারা যে স্বাভাবিক অবস্থায় নেই, এতে কোনো সন্দেহই নেই। তাদের অতীত ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, তারা দারিদ্রতা, অধঃপতন, অবহেলা, ব্যর্থতা, হতাশা এবং খুব বেশি টেলিভিশন দেখার মধ্য দিয়ে গমন করেছিল। কিন্তু ১৯৫২ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে আমেরিকান সমাজে যখন দারিদ্রতা ও পারিবারিক দুর্ভোগ ছিল না তখন প্রথমবারের মতো একটি ভীতিপ্রদ অপরাধ কার্যক্রম সংঘঠিত হলো। দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসে এক রিপোর্টার লিখেছেন, “যদিও আমাদের সমাজে একটি নতুন জেনেটিক যুগের সূচনা হয়েছিল, তখন একজন শিশু হত্যাকারী যে কিনা অনুশোচনা অনুভব করে এবং তার কার্যক্রম নিয়ে ভয়ঙ্করভাবে সচেতন….।” সমস্যাটি এই নয় যে, তারা টেলিভিশনে সহিংসতাগুলো দেখতে দেখতে কিভাবে সহিংস কার্যক্রম করতে হয় তা শিখছে (যদিও তারা মাঝে মাঝে তা করতে পারে), পক্ষান্তরে টেলিভিশন তাদেরকে প্রভাবিত করে যে, টেলিভিশনে যা প্রদর্শিত হচ্ছে তা বাস্তবিক জীবনে কিভাবে করতে হয়।
টেলিভিশনের চরম সহিংসতা সন্তানদেরকে সংবেদেনশীলতা হ্রাস করানোর মাধ্যমে নিষ্ঠুরতার দিকে পরিচালিত করে। প্রোগ্রামের বিষয়বস্তু থেকে দূরে সরে গিয়ে টিভি প্রায়ই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। টেলিভিশনের চরম সহিংসতা প্রদর্শন হলো এটি সবাইকে ইন্দ্রিয়তৃপ্তি, জাগতিক জীবন লাভ ও ভোগের প্রতি উৎসাহ করে। বিভিন্ন কোম্পানি টিভিতে বিজ্ঞাপনের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করছে, কারণ এটি কার্যকরী। এ সমস্ত বিজ্ঞাপনগুলো দর্শকদের মধ্যে শুধু জাগতিক মানসিকতাই তৈরি করছে না বরং বিজ্ঞাপন দাতাদেরও অনুপ্রাণীত করছে। তা না হলে একটি নেটওয়ার্ক বা স্থানীয় স্টেশন প্রোগ্রাম পরিচালনার খরচ বহন করতে পারতো না। তাইতো অধিকাংশ প্রোগ্রাম এমনভাবে ডিজাইন করা হয় তা যেন বিশেষ ধরনের ব্যক্তিদের আকর্ষণ করে এবং এমনভাবে প্রক্রিয়া সাধন করা হয়, যাতে এ সমস্ত বিজ্ঞাপনগুলো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এটিই হলো প্রকৃত সহিংসতা। যেরকম প্রভুপাদ লিখেছেন, “যে কোনো অবস্থায় যে সন্তানটি সত্যিকারভাবে সুখী হতে পারে যেরকম শৈশবেই নিষ্পাপ ছেলেটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইন্দ্রিয় তৃপ্তি সাধনের প্রতি এবং এটিই হল সর্বশ্রেষ্ঠ সহিংসতা।”
অবশেষে উপদেশামৃতে প্রভুপাদ লিখেছেন কৃষ্ণভাবনার প্রতি আগ্রহী বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের এরকম টেলিভিশন দেখার প্রতি অত্যুৎসাহী হওয়া উচিত নয়।

টেলিভিশন নেশার প্রতি আসক্তির মতো

টেলিভিশনের সব কর্মসূচী বা বিষয়ই হলো দৃঢ়ভাবে রজঃ ও তমোগুণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি আমাদের সন্তানদের চেতনার মধ্যে বিভিন্ন নিন্মগুণসম্পন্ন ছবি ও কামনা বাসনাতে পরিপূর্ণ করছে। এক্ষেত্রে টেলিভিশন যে এক ধরনের নেশাসক্তির মতো সে সম্পর্কে প্রচুর প্রমাণও রয়েছে। The detroit free press (৯ মে, ১৯৯০) এ এলিনর র‍্যাওলফ লিখেছেন, “টিভি হলো একটি নেশা”। অন্যান্য নেশা যেমন সিগারেট, ড্রাগস্ ইত্যাদির ন্যায় আমাদের সমাজে টেলিভিশন হলো এমন একটি বস্তু, যা এ মুহূর্তে হয়তো ভাল লাগতে পারে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা খারাপ অবস্থার দিকে আমাদেরকে পরিচালিত করে।…. যদি কেউ একাকিত্ব থেকে পরিত্রাণের জন্য টিভি খুলে বসে থাকে, তবে টিভি দেখা শেষ হওয়ার পর সে এমনকি আরো বেশি একাকিত্ব অনুভব করে।”
টেলিভিশন দর্শকরা ড্রাগস্ ব্যবহারকারীদের ন্যায় ভিজুয়্যাল-মোটর দ্বন্দ্বে ভোগেন।
Esquire ম্যাগাজিনে (মে ১৯৯০) প্রকাশিত Crack and the Box প্রতিবেদনে, পিট হ্যামিল লিখেছিলেন, “টেলিভিশন ড্রাগসের মতো মানুষের জীবনে আধিপত্য বিস্তার করে…. এর কারণে ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী এক তৃতীয়াংশ একটি দল টেলিভিশন ত্যাগ করার চেয়ে বরং তাদের পিতাকে ত্যাগ করা শ্রেয়। হিসেবে গ্রহণ করে। তাদেরকে বিভিন্ন বিষয় যেমন কোকেইন বা হেরোইন, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, পতি-পত্নি, সন্তান, চাকুরি বাছাই বা পছন্দ করতে বললে তাদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকে টেলিভিশনকেই পছন্দ করে।”
১৯৯০ সালে The Detroit News এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে অ্যানে রোর্ক লিখেছিলেন : “অন্য কোনো অবসর কর্মকাণ্ডের চেয়ে টেলিভিশন লোকেদেরকে নেতিবাচক, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ও অমনোযোগী করে তোলে লোকেরা যত বেশি টিভি দেখে, তত বেশি তারা অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তারা অধিকভাবে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে উঠে। যত সময় অতিবাহিত হয়, তারা তত বেশি বিমর্ষ, একাকী, বিরক্তিকর ও শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠে। যদিও এটি সত্য, যখন লোকেরা টেলিভিশন সেটের সামনে বসে থাকে তখন তারা বেশ অলস হয়ে পড়ে। এমনকি, টিভিতে প্রদর্শিত বিভিন্ন বিষয় ছেলেমেয়েদেরকে, জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিকল্প হিসেবে রাসায়নিক নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের প্রতিও প্রভাবিত করতে পারে।
শ্রীল প্রভুপাদ একবার বলেছিলেন, “যদি আমরা কৃষ্ণ কর্তৃক সম্মোহিত না হই, তবে অবশ্যই টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্মোহিত হব।”

ড. এডিথ ই. বেস্ট (উর্মিলা দেবী দাসী) আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটি থেকে এডুকেশনাল লিডারশীপ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যা। তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাক টু গডহেড ম্যাগাজিনের সহ- সম্পাদক রূপে সেবা করছেন। এছাড়াও তিনি ইস্‌কন শিক্ষা বিভাগের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। অনন্ত বল্লভ দাস ও তার পরিবার ব্যাঙ্গালোরে, ইস্‌কন শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের ভক্ত গোষ্ঠিদের সঙ্গে কৃষ্ণভাবনা অনুশীলন করেন। উল্লেখ্য, তিনি Vaikuntha Choldren: a guide to Krishna Consious Education for Children গ্রন্থের লেখক।


 

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৬ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here