একটি গ্রন্থের মাধ্যমে বিশ্ব পরিব্রাজক

0
65

শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ ও ভক্তসঙ্গের আশ্চর্য শক্তির প্রভাবে
যেভাবে এক সুশিক্ষিত যুবকের জীবন পাল্টে গেল।

শ্রীমৎ ভক্তিবিনোদ স্বামী


আমি কিভাবে কৃষ্ণভক্ত হলাম এই বিষয়টি সবার জন্য একটি আকর্ষনীয় বিষয়। অধিকাংশ ভক্ত যখন পরস্পরের সান্নিধ্যে আসে, তারা জানতে আগ্রহী হয়, কিভাবে তারা কৃষ্ণভক্ত হলেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন। অনেক ভক্ত আমাকে জিজ্ঞাসা করেন “মহারাজ আপনি কিভাবে কৃষ্ণভক্ত হলেন? ঠিক কি ঘটেছিল” ইত্যাদি প্রশ্ন। বিষয়টি শুধু আমাদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রীমদ্ভাগবতেও দেখতে পাই, নারদমুনি ব্যাসদেবের কাছে বর্ণনা করছেন, কিভাবে তিনি কৃষ্ণভক্তে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি একসময় গন্ধর্ব ছিলেন এবং পরবর্তীতে কিভাবে কৃষ্ণভাবনায় অগ্রসর হয়ে নারদমুনিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। তাই বিষয়টি অনেক আকর্ষনীয়। এর মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, কিভাবে কৃষ্ণের অপার কৃপা বদ্ধ জীবদের মাঝে বৰ্ষিত হয়। এছাড়াও কিভাবে অনেক পতিত জীবদের শ্রীল প্রভুপাদ ও তাঁর মিশন আকর্ষণ করে জাগতিক কলুষময় জীবন থেকে শুদ্ধ বা নিষ্কলুষ জীবন দান করেন।
কিভাবে কৃষ্ণভক্ত হলাম’ এর অর্থ হলো কিভাবে একজন ভক্ত পার্থিব জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পথে পরিচালিত হয়। তাই জাগতিক প্রেক্ষাপট থেকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি কৃষ্ণভক্তে পরিণত হয়েছিলাম গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে । বিশেষভাবে বলতে গেলে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ রচিত ‘আত্মজ্ঞান লাভের পন্থা” গ্রন্থটির মাধ্যমে। আমি গ্রন্থটি সর্বপ্রথম পেয়েছিলাম ভারতের ডিটি নামক একটি রেল স্টেশনে। আমি তখন মুম্বাইয়ে গিয়েছিলাম IIT (Indian Institute of Technology) তে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য। আমার মধ্যে তখন একটি দ্বন্দ্ব কাজ করছিল যে, আমি কি চাকরিতে যোগ দিব নাকি পড়াশোনা চালিয়ে যাব? সিদ্ধান্ত নিলাম যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই উত্তম হবে। কেননা আমি চেয়েছিলাম মাস্টার্স করার পর পি.এইচ.ডি সম্পন্ন করব এবং একজন কানসালটেন্ট হিসেবে কাজ করব। কিন্তু কৃষ্ণের অন্য পরিকল্পনা ছিল। কিছু ভক্ত ঐ রেল স্টেশনে গ্রন্থ প্রচার করছিল এবং আমি তাদের কাছ থেকে সেই গ্রন্থটি ক্রয় করে নিয়েছিলাম। এটি একটি আশ্চর্য গ্রন্থ ছিল কেননা গ্রন্থটির নাম ও দেহ পরিবর্তনের চিত্রটি আমাকে আকর্ষণ করেছিল । গ্রন্থটিতে কিছু বিষয় যেমন পুনর্জন্ম, আত্মা ইত্যাদি নিয়ে বিশদভাবে আলোচিত হয়েছিল এবং সেগুলো খুব আকর্ষণীয় ছিল আমি গ্রন্থটি একদিনেই অধ্যয়ন শেষ করেছিলাম। তারপর কৌতুহলী হয়ে ভক্তদের অন্বেষন শুরু করি। ইতোমধ্যে আরেকটি বিষয় আমাকে আকর্ষণ করেছিল তা হলো প্রসাদ। একদিন আমি ও এক বন্ধু
মুম্বাই ইস্‌কন জুহু মন্দিরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রসাদ পাওয়ার প্রতীক্ষা করছিলাম। তখন আমরা খিচুড়ি প্রসাদের সাধারণ লাইন থেকে লাইফ মেম্বারদের জন্য বিশেষ বিশেষ প্রসাদের একটি লাইনে চলে গিয়েছিলাম। কারণ লাইফ মেম্বারদের সারিতে ঘি, পুরি, সবজি সহ আরো বিশেষ বিশেষ প্রসাদ দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু অন্য সারিতে দেওয়া হচ্ছিল খিচুড়ি। ওখানের কিছু যুবক বলছিল “না আপনারা এই সারিতে দাঁড়াতে পারবেন না। আপনারা ইস্কনের লাইফ মেম্বার না।”
আমি বললাম, ‘লাইফ মেম্বার আবার কি? যে কেউ এই সারিতে দাঁড়াতে পারবে।’ তার সঙ্গে আমাদের কিছু বাকবিতণ্ডা হয়। আমরা তবুও ওদের কথা অগ্রাহ্য করে ঐ সারিতেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমাদের পরনে ছিল গেঞ্জি, জিন্স প্যান্ট। কিছুক্ষণ পর বাঙালী একভক্ত এসে পুণরায় জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনারা কি ইস্কনের লাইফ মেম্বার?
তখন আমরা বললাম “হ্যাঁ আমরা ইস্কনের লাইফ মেম্বার’। আমরা তাঁকে মিথ্যা কথা বলেছিলাম শুধুমাত্র ঐ ঘি, পুরী, প্রসাদ পাওয়ার জন্যই ।


শ্রীল প্রভুপাদের এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন মূলত জনসাধারণের জীবনের অভূত পরিবর্তন সাধন করছে। এটি সাধারণ কোনো বিষয় নয়। যারাই এই কৃষ্ণভাবনার সান্নিধ্যে আসছে তারা পরিশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটি একটি শতভাগ বাস্তবতা যে আমরা আপনার জীবন পরিবর্তন করতে পারি।

পরের সপ্তাহেও পুণরায় ঐ লাইফ মেম্বারদের লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীবার শ্রীমৎ শ্রীধর মহারাজকে দায়িত্বরত সেবকরা বলেন, ‘লাইনে কিছু যুবক দাঁড়িয়ে আছে যারা লাইফ মেম্বার নয়” ।
আমার সাথে যে দু’জন বন্ধু ছিল তারা দু’জনই ছিল IIT ছাত্র। তখন শ্রীমৎ শ্রীধর মহারাজ নীচে নেমে এসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলেন। তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনারা কোথা হতে এসেছেন?”
আমরা বললাম, ‘আমরা আইআইটির ছাত্র।’ তখন এটি শুনে শ্রীধর মহারাজ দায়িত্বরত ভক্তদের বললেন ‘এই যুবকরা যখনই আসবে তাদেরকে সর্বদা এই লাইনেই প্রসাদ দিবে। আমি তখন মনে মনে হাসতে হাসতে সেখানকার একজন ভক্তকে বললাম ‘দেখুন আমি আগেই বলেছিলাম আমরা লাইফ মেম্বার। প্রসাদ পাওয়ার পর মহারাজের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাদেরকে একটি ভিডিও কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে একটি বড় পর্দা বা স্ক্রীন ঝলমল করছিল। আমি সেখানে প্রথম বারের মতো শ্রীল প্রভুপাদকে দর্শন করেছিলাম। প্রথম বারের মতো আমি তাঁর একটি সাক্ষাৎকার ভিডিও দর্শন করে তাঁর প্রতি প্রভাবিত হয়ে পড়ি। এরপর থেকেই আমি নিয়মিত মন্দিরে যাতায়াত শুরু করি। আমি এটি শ্রীশ্রী রাধা রাসবিহারী বিগ্রহের কৃপা বলে মনে করি। এরপর আমি গ্রন্থ অধ্যয়ন ও ভক্তদের সঙ্গ করতে শুরু করি।
প্রথমদিকে নৃত্য কীর্তনের প্রতি ততটা ঝোঁক না থাকলেও ক্রমান্বয়ে আমি এতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি। তখন কৃষ্ণভাবনামৃতের দর্শন, কীর্তন ও প্রসাদের প্রতি আমার উত্তরোত্তর আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিছুদিন পর মুম্বাই ছেড়ে ব্যাঙ্গালোরের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ব্যাঙ্গালোরে স্থানীয় একটি ইস্কন মন্দিরে সপ্তাহ অন্তর যাতায়াত শুরু করি। কারণ আমি কারও সাথে কৃষ্ণভাবনা বিষয়ে আলোচনা করতে চাইতাম এবং সেসাথে প্রসাদ পাওয়ার আকর্ষণও ছিল ।
আমার মনে পড়ে ব্যাঙ্গালোরের ঐ কেন্দ্রটি একটি ভাড়া বাসা ছিল। সেখানে মালয়েশিয়ার ভক্ত অম্বরীষ দাস প্রতি শনিবার রাতে আমাকে স্বাগত জানাতেন। আমি একজন ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম। আমি কর্মস্থল থেকে রাতে ফিরে মন্দিরের গেইট টপকে মন্দিরে প্রবেশ করতাম, কেননা তখন অনেক রাত হয়ে যেত, সময়টি প্রায় ১০টা। তিনি ঘুম থেকে ওঠে আমার জন্য দরজা খুলতেন এবং প্রসাদ দিতেন। তিনি আমাকে মঙ্গলারতিতে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। আমি খুব ছোট একটি কক্ষে মঙ্গলারতিতে অংশগ্রহণ করতাম। তখন ভক্তদের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ, ছয়জন । তখনকার মুহূর্তগুলো খুব সুন্দর ছিল। কেননা ভক্তরা আমাকে খুব যত্ন করতেন। সেই মন্দির থেকেই আমি হরিনাম জপ শুরু করি। বিশেষভাবে শ্রীপাদ অম্বরীষ প্রভু আমাকে খুব যত্ন করতেন। ধীরে ধীরে তিনি আমার জপ সংখ্যা বৃদ্ধি তে সহায়তা করেছিলেন। আমি শুরুর দিকে তাঁকে বলতাম রাতে জপ করার জন্য আমার সময় নেই। আমি বড় জোর গ্রন্থ অধ্যয়ন ও মাঝে মাঝে প্রবচন শ্রবণ করতে পারি। তখন তিনি বলতেন, অন্তত এক মালা জপ কর। আমি ক্রমাগত বলতাম ‘আমার সময় নেই’। দুই কি তিন সপ্তাহ পরে আমি একমালা জপ শুরু করি। পরবর্তীতে অম্বরীষ প্রভু আমাকে বলেছিলেন, কৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতায় বলেছেন যে, ‘তিনি হলেন স্বয়ং কাল’। তুমি বলছ তোমার সময় নেই, কিন্তু কৃষ্ণ চাইলে সময়কে প্রসারিত করতে পারেন এবং তোমাকে জপ করার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করতে পারেন। তা শুনে আমি ভাবলাম ‘বাহ্, এটি তো সময় সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত দারুন ব্যাখ্যা।’ তিনি যা বলেছিলেন তাই সত্যি হলো। আমি ধীরে ধীরে চার মালা জপ করতে থাকি এবং তখন তিনি বলেন, ‘শীঘ্রই তুমি ভালভাবে জপ করতে পারবে।’ এরপর দুই তিন মাসের মধ্যেই আমি ১৬ মালা জপ শুরু করি এবং তাকে বলি “হ্যা আসলে আপনি সত্যি বলেছেন। আমি ষোলমালা জপ করার সময় পাচ্ছি এবং সে সাথে অন্য কিছু করার জন্য আলাদা সময়ও পাচ্ছি।”
এভাবে কৃষ্ণভাবনার প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এসব কিছুর পিছনে ছিল বৈষ্ণবদের কৃপা, শ্রীল প্রভুপাদের কৃপা যা পূর্বতন আচার্য থেকে শুরু করে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু ও সর্বোপরি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে প্রবাহিত হয়েছিল। প্রথমদিকে আমি এই সব কিছু করার জন্য আভ্যন্তরিণভাবে অনিচ্ছুক ছিলাম, কিন্তু বাহ্যিকভাবে আমি কোন একটি বিশেষ কিছুর প্রতি অগ্রসর হচ্ছিলাম। আমার ভিতরে এক ধরনের কোলাহল হচ্ছিল যে, “এটি করো না, সেটি করো না, ওখানে যেও না ইত্যাদি”। আমি ভক্তসঙ্গ ও প্রসাদের মাধ্যমে সুরক্ষিত ছিলাম। এভাবে একসময় আমার সমস্ত পরিকল্পনা বিনাশ ঘটে। যা আমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও আত্মীয় স্বজনদের আতঙ্কিত করেছিল। পিতা-মাতা আমাকে নিয়ে অনেক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। একদিন আমি মাকে সরাসরি বলি, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি চাকরি ছেড়ে মন্দিরে যোগদান করবো।’ আমাদের পরিবার বড় হওয়াতে আমাকে অনেক কর্তব্য সম্পাদন করতে হতো।
আমার পাঁচ বোন ও দুই ভাই ছিল। আরো দুই ভাই মারা গিয়েছিল। তাই বলতে গেলে আমার দশ ভাই বোনের একটি বৃহৎ পরিবার ছিল। আমার মা বুদ্ধিমতী ছিলেন এবং আমার বিষয়টি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। তখন তিনি কাপড় সেলাই করছিলেন এবং আমার কথা শুনে প্রথমে আমার দিকে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে পুণরায় স্বাভাবিক হয়ে যান। পরে তিনি বললেন, “ঠিক আছে আমার তো অনেক সন্তান রয়েছে, তো এক সন্তান না হয় ঐ পথেই চলে গেল। এটি কোনো ব্যাপার নয়।” তা শুনে আমি খুব অবাক হই। তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। আমি অবাক হয়ে বললাম, “সত্যিই আমার এই যোগদানে আপনি কিছু মনে করছেন না”
আমার মাতা পারমার্থিক আদর্শগুলো উপলব্ধি করতে পেরে আমাকে বাধা দেননি। এরপর ছয় মাসের মধ্যেই পিতা-মাতা দুজনই কৃষ্ণভাবনায় দীক্ষা লাভ করেন। তখন থেকে গৃহে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা অর্চনা ব্যতীত অন্যকোনো পূজা অর্চনা হতো না। তারা নিয়মিত হরেকৃষ্ণ জপ করতেন এবং ভগবানকে ভোগ নিবেদন করে প্রসাদ পেতে করতে শুরু করলেন। উল্টো এখন তাদের কৃষ্ণভাবনার প্রগতি নিয়ে আমি চিন্তা করতে লাগলাম। যখন পেছনে ফিরে তাকাই তখন দেখি কি অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে, কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থের এবং ভক্তসঙ্গের মাধ্যমে আমার জীবন পরিবর্তন হয়েছে।
শ্রীল প্রভুপাদের এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন মূলত জনসাধারণের জীবনের অভূত পরিবর্তন সাধন করছে। এটি সাধারণ কোনো বিষয় নয়। যারাই এই কৃষ্ণভাবনার সান্নিধ্যে আসছে তারা পরিশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটি একটি শতভাগ বাস্তবতা যে আমরা আপনার জীবন পরিবর্তন করতে পারি। পরিশেষে কৃষ্ণভাবনায় রূপান্তরের মাধ্যমে ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এটি আমি বিশ্বাস করি এবং সমস্ত ভক্তরাও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। তাই ইস্‌কন কোনো সাধারণ সংস্থা নয়। এ সংস্থার সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যদিও আমি একজন ক্ষুদ্র সেবক, শ্রীল প্রভুপাদকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি যাতে করে অনেক বদ্ধজীব।


 

এপ্রিল-জুন ২০১৭ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here