এই পোস্টটি 140 বার দেখা হয়েছে

শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর
আপনারা শুদ্ধভক্তের নিকট হরিকথা শুনতে থাকুন, বিশ্বকে ভগবৎসেবক বলে দেখুন, তাহলে আপনাদের কোনো দুঃখ থাকবে না। আপনারা ভগবানের কথায় মনোযোগ দিন। ভগবান কি বলছেন তা উৎকর্ণ হয়ে শুনতে থাকুন। ভগবান কি বলছেন? ভগবান বলছেন- হে জীব, তুমি অনাদি-বহির্মুখ হলেও অন্তর্মুর্খ ধর্মও তোমাতে ছিল, তুমি আমাকে সেবা করতে পারতে, কিন্তু তা না করে আমার নিকট থেকে সেবা চাচ্ছ। তুমি আমাকে ভুলে নিজে প্রভু সাজতে চাচ্ছ, কিন্তু জানো তুমি সেবক-তুমি কোন দিন প্রভু নও ।
শ্রীহরিই সকলের প্রভু আর বাদবাকী সকলেই তাঁর সেবক। হরিকথা শ্রবণ করা তাঁর সেবা। হরিকীর্তনকারী হলেন গুরু আর শ্রবণকারী হলো শিষ্য। শ্রবণকারী Submissive (অনুগত) হবে। হরিকথা শুনবার জন্য আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। যেদিন হরিকথা আলোচনার সুযোগ না হয়, সেইদিনই দুর্দিন।
আপনারা শ্রীমদ্ভাগবতের কথা শুনুন। শ্রীমদ্ভাগবত বলছেন অনেক জন্মের পর মনুষ্যজন্ম লাভ হয়েছে, সুতরাং ইহা অত্যন্ত দুর্লভ। এই জন্ম অমিত্য হলেও পরমার্থপ্রদ। মনুষ্যজন্ম অনিত্যমপি অর্থাম্। স্বতন্ত্রতা পরিত্যাগপূর্বক শরণাগত হয়ে নিষ্কপটে ভজন করলে এই জন্মেই ভগবৎপ্রাপ্তি হতে পারে। অতএব, ধীর ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আর ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করে চরম কল্যাণ লাভের জন্য যত্ন করবেন। আহার-বিহারাদি সব জন্মেই পাওয়া যায় কিন্তু পরমার্থ অন্য জন্মে লভ্য নয়। আমাদের যেকোন জন্ম হোক না কেন, বিষয় লাভ প্রত্যেক জন্মেই হবে। মনুষ্য না হলেও বিষয় সব জন্মেই পাওয়া যাবে। এজন্য মনুষ্যজন্মে শ্রেয়ের অনুশীলনই কর্তব্য। ভগবৎ-সেবাই হলো একমাত্র শ্রেয়ঃ বা মঙ্গল সেবা কাকে বলে জানা দরকার। শুধু সেব্যের সুখবিধানের নামই সেবা। শ্রীহরি সবার মূল, সবার প্রভু, সবার উপাস্য, সবার একমাত্র সেব্য। আমরা সবাই সেই শ্রীহরিরই সেবক। তাঁর সেবাই আমাদের ধর্ম, কার্য বা কর্তব্য। এ ছাড়া আমাদের আর কোন কর্তব্য নাই।
ভগবানই পূর্ণ বস্তুজীবের একমাত্র উপাস্য বস্তু। তাঁর সেবা লাভ করতে হলে তাঁর সন্ধানদাতা তাঁর প্রকাশবিগ্রহ শ্রীগুরুদেবের পাদপর আশ্রয় করতে হবে, সেই শ্রীগুরুদেবের সেবা প্রীতির সঙ্গে করতে হবে। শ্রীগুরুদের ছাড়া এ জগতে এমন নিঃস্বার্থ বন্ধু ও পরমাত্মীয় আর কেউ নেই। গুরুতে আপন জ্ঞান ও প্রীতি হলেই আমাদের মঙ্গল হবে। আদরের সঙ্গে সেবা করতে করতেই সেবক অভিমান জাগবে এবং শ্রীগুরুগোবিন্দে প্রীতি হবে।
-শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর