এই পোস্টটি 114 বার দেখা হয়েছে
আমেরিকার বোস্টন ইসকন মন্দিরে ভক্তরা খুবই ব্যস্ত কখন সাগর তীরে অবস্থিত অতি মনোরম স্থান কমনওয়েলথ পিয়ারে যাবে।
সেখানে তড়িঘড়ি করে সবাই উঠে পড়বে ‘জলদূত’ নামক জাহাজে। আর তাদের সঙ্গে থাকছে শ্রীল প্রভুপাদও। সে অনেক আগে থেকেই শুরু করে ২০০৯ সালে এসেও শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের সঙ্গে ‘জলদূত’ জাহাজে চড়ে প্রতি বছর সাগর ভ্রমণ করে আসছেন। যারা শ্রীল প্রভুপাদ সম্পর্কে আগে থেকেই জানেন তারা উপরের এ কথাগুলো পড়ে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন ‘তার মানে, প্রভুপাদ এখনও সশরীরে উপস্থিত আছেন কিভাবে? তিনি তো অনেক আগেই বৃন্দাবনে দেহ রেখেছিলেন।’ আসলে পুরো ব্যাপারটাই হল একটি ফেস্টিভ্যালের কাহিনী। যেটি প্রতি বছর বোস্টনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
এ অনুষ্ঠানটি উদযাপন করার বোস্টনের ভক্তরা একটি জাহাজকে নাম করেন ‘জলদূত’ নামে এবং ঐ জলদূত জাহাজেই ভক্তরা। শ্রীল প্রভুপাদের বিগ্রহকে আরোহন করিয়ে সাগর ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। এঐ একটি উৎসব দেখতেই তখন জড়ো হয় ১০,০০০ এরও বেশি লোক। কেননা তাদের জন্য পুরো উৎসবটাই একটু ব্যতিক্রমী মনে হরেও আসলে তারা খুব উপভোগও করে। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন ? শুধুমাত্র জাহাজে চড়ার মাধ্যমে এ ব্যতিক্রম উৎসবটি পালন করা হয়ে থাকে। তার কারণ তুলে ধরতেই আমাদের এবারের ভিন্ন সাদের খবর ‘জলদূত’।
শ্রীল প্রভুপাদ যখন কৃষ্ণভাবনা প্রচারের জন্য আমেরিকার উদ্দেশ্যে ‘জলদূত’ নামক এক কার্গো জাহাজে পাড়ি দিয়েছিলেন তখন এই বোস্টন শহরের কমনওয়েলথ পীয়ার নামক স্থানটিতেই তার প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল। সে সময়টি ছিল ১৯৬৫ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর। তার গুরুদেবের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে সমস্ত কষ্ট সহ্য করেও তিনি প্রায় ৩৫ দিন জলদূত জাহাজে করে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন। আরও একটি দিক দিয়ে এ স্থানটি ভক্তদের জন্য বিরাট তাৎপর্য বহন কর। কেননা এই স্থানেই প্রভুপাদ তার বহুল আলোচিত পথ ‘মার্কিনে ভগবৎ ধর্ম’ রচনা করেছিলেন। তিনি তার কবিতায় কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা নিবেদন করেছিলেন, ‘আমি ইচ্ছা পোষণ কঢর যে, আপনি এদের (আমেরিকার লোকদের) মুক্ত করবেন।
অতএব, শুধুমাত্র যদি আপনিই তাদের মুক্ত করার জন্য ইচ্ছা পোষন করেন তবেই তারা আপনার বার্তা বুঝতে সক্ষম হবে। যেহেতু এ স্থানটিকেই প্রভুপাদ কৃষ্ণের কাছে আমেরিকার জনগণদের তথা সমগ্র বিশ্বকে উদ্ধার করার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে আকুল প্রার্থনা জানিয়েছিলেন তাই ভক্তদের জন্য এ স্থান এক মহা তীর্থ স্বরূপ। তাই বোস্টন ইসকন মন্দিরের প্রেসিডেন্ট দারু কৃষ্ণ দাস বলেন, “প্রতিটি ভক্তরাই তার জীবনে একবার হলেও এ স্থান শ্রদ্ধাভরে পরিদর্শন করা উচিত।” এসব তাৎপর্যকে স্মরণ রেখে প্রতি বছর এখানে এ উৎসবটি শ্রদ্ধাভরে পালিত হয়। মূলত এটি বড় পরিসরে আয়োজিত হয় ২০০২ সাল থেকেই। কেননা সেবার প্রথমবারের মত একটি জাহাজের ব্যবস্থা করা হয় যার নাম দেয়া হয় ‘জলনুত’।
২০০৮ সালে এটি সবার কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ঐ উৎসবে উপস্থিত থাকে শ্রীল প্রভুপাদের অন্তরঙ্গ শিষ্যরা। খুব সকাল থেকেই এ উৎসব শুরু হয়। প্রথমে আরতি তারপর শ্রীল প্রভুপাদের লীলামৃত পাঠ, গুরু পূজার মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর সমস্ত ভক্তরা মিলে প্রসাদ গ্রহণের পর প্রায় ২ ঘন্টা হরিনাম কীর্তনে মেতে উঠে। এর পরের দিন শ্রীল প্রভুপাদের পশ্চিমাদেশের জন্য অনুপম উপহার শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পালন করা হয়। তবে আগে অবশ্য হরেকৃষ্ণ ব্যান্ড কীর্তন, ‘মার্কিনে ভগবৎ বাণী’ কবিতাটি পাঠসহ আরো বিভিন্ন জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সব মিলিয়ে বলতে গেলে এই ব্যতিক্রম উৎসবটি সবার কাছেই অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। “জাহাজে করে শ্রীল প্রভুপাদকে সঙ্গে নিয়ে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের তালে তালে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া সত্যিই রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি করে। “ও এই স্থান দিয়েই প্রভুপাদ এসেছিলেন, এ স্থানেই প্রভুপাদ কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, এ স্থান থেকেই প্রভুপাদ আমেরিকা উদ্ধারের আভাষ দিয়েছিলেন এ অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। একেবারে অন্যরকম।” এভাবেই নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন সেখানকার অনেক ভক্ত। শ্রীল প্রভুপাদকে আরও বেশি মহিমান্বিত করে তোলার জন্যই হোক কিংবা তার কাছে আমেরিকান ভক্তদের অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্যই হোক নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী এ উৎসবটি সবার মাঝে প্রতি বছর আরও বেশি ভিন্ন স্বাদের সৃষ্টি করবে এটুকুই প্রত্যাশা। হরে কৃষ্ণ।
