এই পোস্টটি 59 বার দেখা হয়েছে
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা লীলা পাঠ করলে জানা যায় যে, তাঁর ১৬,১০৮জন মহিষী (স্ত্রী) ছিলেন। এই লীলাটি অনেক অজ্ঞানী এবং ছিদ্রান্বেষী ব্যক্তিদের কাছে বিতর্কিত বলে মনে হয় এছাড়া অনেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এই কারণে কামুক, নীচ, কিংবা প্রেমের দেবতা বলে মনে করে। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই বিশেষ লীলার পেছনে গভীর তাৎপর্য বিদ্যমান যা আমাদের জড় কলুষিত হৃদয়ে উপলব্ধি করা অসম্ভব।
৫০০০ বছর আগে নরকাসুর নামক এক অসুর ১৬,১০০ জন যুবতী অবিবাহিত রাজকন্যাকে অপহরণ করে তার প্রাসাদের কারাগারে বন্ধী করে রেখেছিল। তখন ইন্দ্রদেবের অনুরোধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ একাই প্রাগজ্যোতিষপুরের (বর্তমান আসাম রাজ্যের তেজপুর) সেই অসুরের প্রধান নিবাসস্থল আক্রমণ করে ধ্বংস করেন এবং নরকাসুরের শক্তিশালী সেনাদলকে বিনাশ করেন। এরপর কৃষ্ণ তার সুদর্শন চক্র দ্বারা নরকাসুরের মস্তক ছিন্ন করেন এবং ১৬,১০০ জন রাজকন্যাকে মুক্ত করেন।
সেই সময় নারীদের জন্য কিছু কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ ছিল। কোনো নারী বিবাহিত হোক আর অবিবাহিত হোক যদি সূর্যাস্তের পর কর্তৃপক্ষ ছাড়া ঘরের বাইরে থাকে তাহলে সেই নারীকে অসতী বলে গণ্য করা হয় এবং তাকে স্বামী, পরিবার ও সন্তানদের নিকট থেকে পৃথক হয়ে যেতে হত। এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সামনে সেই অসহায় রাজকন্যারা একটি অদ্ভুত কাজ করেছিলেন। তারা নারীর অন্যতম ভূষণ ‘লজ্জা’ ত্যাগ করেছিলেন। তারা কোনো ধরনের সংশয় ছাড়া ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বিবাহ করার জন্য আকুল অনুরোধ করতে থাকেন। করুনাসিন্ধু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন সেই অসহায় নারীদের আকুল প্রার্থনায় সারা দেন এবং নরকাসুর পরাজিত করে সেসব রাজকন্যাদের কারাগার থেকে উদ্ধার করে দ্বারকায় নিয়ে গিয়ে খুব ধুমধাম ও ঐশ্বর্যের সাথে তাদের বিবাহ করলেন। বিশ্বকর্মা সেই ১৬,১০০ নতুন রাণীদের জন্য ১৬,১০০টি নতুন মনোরম রাজপ্রাসাদ তৈরি করলেন। যেগুলো অনুপম ঐশ্বর্য দ্বারা সাজানো ছিল এবং হাজার হাজার দাস দাসী ভগবানের ও মহিষীদের সেবায় রত ছিল। সেই ১৬,১০০ অপহৃত রাজকুমারীদের অসহায় অবস্থা হতে দ্বারকার রাণী হিসেবে স্থান দেওয়া এই কাজ শুধু একজন অসাধারণ ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। আর তিনি হলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত স্ত্রীগণই মূলত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিত্যভক্ত যারা বৈকুন্ঠলোকে শ্রীকৃষ্ণের নিত্যসেবায় রত ছিলেন। কৃষ্ণের এই জড়জগতের লীলা পরিস্ফুটনের জন্য মূলত তাঁরা এই সকল লীলার অবতারণা করেছিলেন। তাই আমাদের সীমিত ইন্দ্রিয় দিয়ে ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর শ্রীকৃষ্ণের লীলার কোন অজ্ঞানপ্রসুত মন্তব্য করা উচিত নয়। হরে কৃষ্ণ।
আগস্ট-২০১১ইং
