হ্যাপি নিউ ইয়ার

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২:০৩ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 1243 বার দেখা হয়েছে

হ্যাপি নিউ ইয়ার

চৈতন্য চরণ দাসের Happy new year এর বঙ্গানুবাদ আরও একটি নতুন বছর এলাে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে। সুতরাং আবারও সবার জন্য বলতে হয়, হ্যাপি নিউ ইয়ার’। নতুন বছরের প্রথম দিনই সবাই একে অপরের প্রতি শুভ কামনা
জানায়। কিন্তু ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ কি শুধুমাত্র একে অপরের প্রতি উইশিং এ সীমাবদ্ধ? না, এর বাইরেও রয়েছে একটি নিগুঢ় বাস্তবতা। চলুন প্রথমে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই‘হ্যাপি নিউ ইয়ার
অভিবাদনটি বিশ্লেষন করা
‘সময়’- এটি কি?

‘বছর’ শব্দটির সঙ্গে সবাই পরিচিত। সময়কে পরিমাপের জন্য একটি এককের নাম হল বছর। তবে সময় কি? বৈজ্ঞানিক সঙ্ঘানুসারে সময়কে পরিমাপ করা হয় বিশ্বজগতের পুরাত সকল বস্তুর পরিবর্তনের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মতে। একটি বছর’ মানে হল, পৃথিবী সূর্যকে একবার ঘুরে আসার সময় । যদি একটি বস্তু ক্রমাগতভাবে একই কক্ষপথে ঘুরতে থাকে তবে আমাদের বাস্তবিক দৃষ্টিকোন থেকে সেটি কি বিশেষ কিছু বলে বিবেচনা করা যায়?কেননা পৃথিবী এবং সেই কক্ষপথ তাে সবসময় পুরাতনই থেকে যায় । পৃথিবী যে যুগে যুগে ঘুরছে কোন পরিবর্তন ছাড়াই তাতে নতুনত্ব বলে তো কিছু নেই। অতএব বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে আসলে কোন নতুন বছরের নতুনত্ব বলতে কিছুই নেই।

কি নতুনত্ব?

আমাদের সবার কোন না কোন নতুন কিছুর উপর আকর্ষন রয়েছে। সবাই চাই পুরাতনকে ছাড়তে। আপনি কি কখনাে ভেবেছেন এটি কেন হয়? উত্তরটি কি এটি নয় যে আপনার পুরাতন যা কিছু রয়েছে তার প্রতি যে কোন কারণবশত আপনি অসন্তুষ্ট? পুরাতন লাইফ স্টাইল বা জীবন ধারা,পুরাতন বন্ধন, পুরাতন চাকরি এসব কিছু মাঝে আপনি অসম্পূর্ণতা বা পরিপূর্ণ নয় অনুভব করেন এবং যার ফলে, কোন নতুন ইচ্ছা আপনার মাঝে ঠাঁই পায় এবং যার মাধ্যমে আপনি চেষ্টা করেন পুরাতন সেই একই গল্পকে পরিবর্তন করতে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ন তথ্য হল । আপনার চারপাশে যা কিছু সচক্ষে দেখছেন সেসবের অন্তরে। রয়েছে কিছু বিশেষ গঠন প্রণালী । বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়।‘পারমানবিক বা আনবিক গঠণপ্রণালা’। পৃথিবীর যে কোন বস্তুর (মােবাইল, ফার্নিচার, কোন শরীর ইত্যাদি) মধ্যে এ গঠনপ্রণালী রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি বস্তুর। পরমাণুর মধ্যে কিছু সংখ্যক ইলেকট্রন তাদের কক্ষপথে অবিরামভাবে ঘূর্ণায়মান । এ প্রকার গঠন প্রণালী পরিবর্তনের কারণে আমাদের চারপাশের সকল বস্তু পরিবর্তিত হচ্ছে। যার ফলে বস্তু পুরাতন হয় এবং আমাদের মাঝে অসম্পূর্ণতা ও অপরিপূর্ণতা। সৃষ্টি করে। মানুষ তাই নতুনের খোঁজ করে। নতুন পুরুষ /স্ত্রী, (দেহটিতে এসব
কাঠামাে রয়েছে), নতুন গাড়ি, নতুন বাড়ি,নতুন অনেক কিছু বাসনার জন্ম দেয়।এক্ষেত্রে গড় বস্তুর মধ্যে এসব ঘটনা বা কার্যবলী আপনার আয়ত্তের বাইরে। আপনি তা পরিবর্তন করতে পারেন না আথচ সবাই জড়বস্তুর মাঝে সুখ খুঁজতে গিয়ে যখন সে বস্তুটি পুরাতন হয়ে যায়। তখন সবাই নতুনের খোঁজ শুরু করে। আর যদি কোন নতুন কিছু যেতে অসমর্থ। হয় তখন সে দুঃখিত অনুভব করে। এক্ষেত্রে হ্যাপি নিউ ইয়ার’ অভিবাদনটাই তার প্রমাণ। সবাই নতুনকে বরণ করতেই সেলিব্রেট করে। তারা এর মাধ্যমে সুখ খােজার চেষ্টা করে। কিন্তু যে সুখ আমরা মাঝে মাঝে অনুভব করি তারও ব্যাখ্যা দিচ্ছে বিজ্ঞান ।।

সুখের আপাতবিরােধী সত্যতা।

আমরা প্রকৃতপক্ষে সুখের অন্বেষনে এসব বিষয়ের উপর হাত বাড়াই। অথচ বিজ্ঞানীরা সুখের ভাষ্য দিচ্ছে অন্যভাবে। আমাদের কোন আনন্দ বা ব্যাথা বা দুঃখ।হল শরীরের নির্দিষ্ট অংশে নিদিষ্ট কিছু ‘সি’ ফাইবা অথবা ডেলটা ফাইবারের কিছু পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিজ্ঞানই কি সবকিছু?

উপরে যেসব নিগুঢ় তত্ত্ব প্রদর্শিত হয়েছে। তার সঙ্গে বিজ্ঞানের এক ঘনিষ্ট সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। মনে হয় বিজ্ঞানই। আমাদের জীবনের সবকিছু যদি আমাদের চারপাশের সবকিছু এমনকি আমাদের সুখ- দুঃখের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
থাকে তবে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার এই অভিবাদনের কি কোন মূল্যই নেই?

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।