শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের নাম ভজনের ২০টি উপদেশ (পর্ব-০১)

0
67

২০টি উপদেশের ১০টি নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. “ভগবান দিব্য নাম-সমূহ জপের মাধ্যমে সর্বদাই ভগবানকে আহ্বান করা উচিত। উচ্চস্বরে দিব্যনাম জপ করা এবং জপমালায় নির্দিষ্ট জপ-সংখ্যা পূরণ করার বিষয়ে আপনাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এতে সকল প্রকার অনর্থ দূর হয়ে যাবে। তখন নাস্তিক ভাবাপন্ন মানুষদের নিন্দাবাক্যে আপনি আর বিচলিত বোধ করবেন না।”
২. “নাম জপকালে যদি পাপময় ও জড়বিষয়ক ভাবনা আপনাকে গ্রাস করে, তবুও তা যেন আপনাকে অধ্যবসায়ের সঙ্গে জপের অভ্যাস হতে বিচ্যুত না করে। জপ অভ্যাসের প্রাথমিক স্তরে মনে এরকম চিন্তাভাবনার উদয় হওয়া স্বাভাবিক। এরকম চিন্তার দ্বারা হতোদ্যম হবেন না, কেননা তা আপনার পারমার্থিক অগ্রগতিতে সাহায্যে করবে না। নামে প্রীতির উদয়ের ফলেই কেবল ঐসব চিন্তা বন্ধ হতে পারে। নামজপে যদি নিষ্ঠা ও উৎসাহ না থাকে, তাহলে কিভাবে জড় চিন্তার নিরসন হতে পারে? কায়-মন-বাক্যে নামসেবা দ্বারা আপনি অচিরেই পরমেশ্বর ভগবানের উজ্জ্বল বিগ্রহ অবলোকন করতে পারবেন।”
৩. “আমি এটি শ্রবণ করে প্রীত হচ্ছি যে, দিব্যনাম জপে আপনার উৎসাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিষ্ঠা সহকারে অবিশ্রান্ত নাম জপের মাধ্যমে সর্ব অনর্থ বিদূরিত হবে। তখন শ্রীনামের রূপ, গুণ ও লীলা স্বতঃই প্রকাশিত হবে। ভগবান ও তাঁর দিব্যনাম অভিন্ন।
কিন্তু এটি কেবল তখনই অনুভব করা যায়, যখন সকল অনর্থ দূর হয়। নিরপরাধে নামজপ আমাদের এটি উপলব্ধি করতে সাহায্য করে যে দিব্যনাম সর্বসিদ্ধি প্রদান করে থাকে।”
৪. “শুদ্ধ-নাম জপের ফলে আত্মার স্থূল ও সুক্ষ্ম জড়াবরণ নাশ হয়ে যায়,
*‘শ্রীগোপীনাথ গৌড়ীয় মঠ হতে প্রকাশিত ‘শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী’ নামক গ্রন্থে মুদ্রিত তাঁর বিভিন্ন শিষ্যকে লেখা শ্রীল সরস্বতী ঠাকুরের পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত। ইংরাজী অনুবাদ করেছেন শ্রীল ভক্তিস্বরূপ দামোদর মহারাজ। এবং ভক্তের নিত্য শুদ্ধস্বরূপ প্রকাশিত হয়।”
“শ্রীনামেই জীবের স্বরূপ উদয় হয়। কৃষ্ণরূপ আকর্ষণ-কারণ।”
৫. “কায়, মন ও বাক্য দ্বারা শ্রীনামের সেবা অব্যাহত রাখলে শ্রীনাম আপনার অন্তরে প্রকটিত হবেন। নাম জপে যেসব উপলব্ধি হয়, শাস্ত্র শ্রবণ ও পাঠ সে বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চিত হতে সাহায্য করে।”
৬. “নামাপরাধ-শূন্য হতে হলে নিরন্তর নামজপ করে যেতে হয়। শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীরূপ গোস্বামীতে তাঁর সকল শক্তি অর্পন করেছিলেন। সেজন্য, আমরা অবশ্যই শ্রীরূপ গোস্বামী ও তাঁর অনুগামীবৃন্দের কৃপা প্রার্থনা করব। শ্রীরূপ গোস্বামীর অপ্রাকৃত সেবায় নিয়োজিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য শ্রীনামের কৃপা প্রার্থনা করা কর্তব্য। নিশ্চিত থাকুন যে শ্রীভগবান আপনার হৃদয়ে নাম রূপে বিরাজ করার জন্য আগমন করবেন।”
৭. “কুসঙ্গজনিত কু-প্রভাব বিদূরিত করার সর্বাপেক্ষা ভাল উপায়গুলির একটি হচ্ছে নামজপ বৃদ্ধি করা। আপনি যদি দৈনিক ১ লক্ষ নাম করেন তাহলে নাস্তিকেরা আপনার ভজনাক্রিয়ায় আর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। আপনি সময় বের করার প্রয়াস করুন, যাতে আপনি প্রতিদিন ১ লক্ষ নাম (৬৪ মালা) জপ করতে পারেন। নাহলে তাকে পতিত বলে বিবেচনা করা হয়। এই পতিত অবস্থা অতিক্রম করার জন্য চেষ্টা করা কর্তব্য।”
৮. “শ্রীভগবান তাঁর নাম হতে অভিন্ন। যদি কেউ তাঁর বদ্ধ অবস্থার জন্য এটি উপলব্ধি করতে না পারে, তাহলে তাঁর কর্তব্য হরিভজনে অভিজ্ঞ কোনো শুদ্ধ ভক্তের সেবা করা। আপনিও ভজনে দক্ষ হয়ে অন্যদের উপকার করতে পারেন। আপনার ভোগপ্রবৃত্তি যাতে আপনাকে পরাভূত না করতে পারে, সেজন্য অনুগ্রহ করে উচ্চস্বরে জপ করুন।”
৯. “শ্রীগৌরসুন্দর বিশেষভাবে সেসব বিনীতচিত্তদের প্রতি কৃপাপরায়ণ, যাঁরা নিজেকে সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে অনুভব করেন। আমি শ্রীমন্মহাপ্রভুর নিকট প্রার্থনা করি যাতে দিব্যনাম জপে আপনার অনুরাগ বর্ধিত হয়। আপনার কর্তব্য হচ্ছে বিনম্র চিত্তে অমানীমানদ গুণের অনুশীলন করতে করতে নিরন্তর হরিভজন করা। আপনি যদি নির্বিঘ্নে শ্রীনাম জপ করতে পারেন, তাহলে আপনি অত্যন্ত সুখী হবেন।”
১০. “শ্রীনাম জপ সরাসরি কৃষ্ণ সাক্ষাৎকারের সমতুল্য। মুক্তাত্মাগণ শ্রীনামের মূর্তিমন্ত বিগ্রহের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, সেসাথে দিব্য গ্রন্থাবলি পাঠ করতে থাকেন- যেমন শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, চৈতন্যভাগবত, প্রার্থনা, প্রেমভক্তি চন্দ্রিকা এবং কল্যাণ-কল্পতরু। আপনার জানা কর্তব্য যে, বিগ্রহ পূজা ও শ্রীভগবানের দানাদি কার্যকলাপের মুখ্য ফল হচ্ছে নাম জপ।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here