শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হলেন স্বয়ং কৃষ্ণ

0
31

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইস্‌কন) প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য
১৯৭৬ সালের ১৬ মার্চ শ্রীগৌর পূর্ণিমার দিন
শ্রীধাম মায়াপুরে প্রবচনের অংশবিশেষ


ইথং নৃতির্যগৃষিদেবঝষাবতারৈ-
লোকান্ বিভাবয়সি হংসি জগৎপ্রতীপান্।
ধর্মং মহাপুরুষ পাসি যুগানুবৃত্তং
ছন্নঃ কলৌ যদভবস্ত্রিযুগোহথ স ত্বম্ ॥

অর্থাৎ “হে ভগবান, এইভাবে আপনি নর, পশু, ঋষি, দেবতা, মৎস্য অথবা কূর্মরূপে অবতরণ করে সমগ্র জগৎ পালন করেন এবং অসুরদের সংহার করেন। হে ভগবান, আপনি যুগ অনুসারে ধর্মকে রক্ষা করেন। কিন্তু কলিযুগে আপনি আপনার ভগবত্তা প্রকাশ করেন না, তাই আপনাকে ত্রিযুগ বলা হয়। এই শ্লোকে অত্যন্ত নির্দিষ্টভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা বলা হয়েছে, যিনি হচ্ছেন অবতারী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন সেই একই পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং, কিন্তু তিনি ছন্ন। ছন্ন মানে আচ্ছাদন, প্রচ্ছন্ন, প্রত্যক্ষভাবে নয়, কেননা তিনি ভক্ত রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শ্রীমদ্ভাগবতেরই অন্য একটি শ্লোকে, একাদশ স্কন্ধে সরাসরিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে-

কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্।
যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্তনপ্রায়ৈর্যজন্তি হি সুমেধসঃ ॥
(শ্রীমদ্ভাগবত ১১/৫/৩২)

করভাজন মুনি মহারাজ নিমির কাছে বিভিন্ন যুগে পরমেশ্বর ভগবানের বিভিন্ন অবতারীত্বের বর্ণনা করার সময়ে এই শ্লোকটির উল্লেখ করেন। অর্থাৎ “কলিযুগে যেসব বুদ্ধিমান মানুষ ভগবৎ-আরাধনার উদ্দেশ্যে সংকীর্তন যজ্ঞানুষ্ঠান করেন, তাঁর অবিরাম শ্রীকৃষ্ণের নামগানের মাধ্যমে ভগবৎ-আরাধনা করেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীল বৃন্দাবন দাস ঠাকুরও যুগধর্মপালো বলে বর্ণনা করেছেন। কলিযুগে তিনি নৃসিংহদেব, বামনদেব, শ্রীরামচন্দ্র আদি অন্যান্য অবতারগণের মতো না হয়ে ভক্ত রূপে অবতীর্ণ হন। কেননা এই কলিযুগে মানুষেরা এতটাই মূর্খ যে, তারা কৃষ্ণকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না। যখন কৃষ্ণ বলেন সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ, তখন তারা মনে করে যে, “এই বাক্যটি এইভাবে নির্দেশ দেওয়ার কে, সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য? কি অধিকার আছে তাঁর?” এই হচ্ছে আমাদের ভবরোগ, জাগতিক ব্যাধি। যদি কেউ কোনোকিছু করতে নির্দেশ প্রদান করে অন্য কেউ প্রতিবাদ করবে “আপনি আমাকে নির্দেশ দেবার কে?” এই হলো অবস্থা। কৃষ্ণ, পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং। তিনি কি বলতে পারেন? তিনি পরম পুরুষ, পরমাত্মা। তিনি নির্দেশ প্রদান করেন। এই হচ্ছে ভগবান। কিন্তু আমরা এতই মূর্খ যে, যখন ভগবান নির্দেশ দেন যে “তুমি এটি কর”। আমরা তা অন্যভাবে নিয়ে বলি, ‘ওহ, কে হে এই ব্যক্তিটি সে আমাদের এইভাবে নির্দেশ দিচ্ছে। আবার বলছেন সর্বধর্মান পরিত্যজ্য, সবকিছু পরিত্যাগ কর? কেন, আমি তাকে সব দেব? সর্বধর্মান্ঃ “আমি কত রকম ধর্ম, মতবাদের সৃষ্টি করেছি আর এখন আমি তা পরিত্যাগ করবো? কেন আমি পরিত্যাগ করবো?” সুতরাং সেই একই ভগবান পুনরায় চৈতন্য মহাপ্রভুর রূপে আগমন করলেন। নরোত্তম দাস ঠাকুর বলেছেন-

রূপ রঘুনাথ পদে হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব, সেযুগল পীরিতি ॥

রূপ রঘুনাথ পদে হইবে আকুতি। আমরা যদি না এই পন্থাটি গ্রহণ করি, আমরা যদি না গুরুবর্গের শরণাগত হই, তবে সেটি সম্ভব নয়। শরণাগতিই হচ্ছে সামগ্রিক পন্থা। আপনি যদি কৃষ্ণকে অবগত হতে চান, তাহলে আপনকে অত্যন্ত বিনীত, সমর্পিত হতে হবে। প্রশ্ন উঠতে পারে “কৃষ্ণ তো এখানে নেই, তাহলে আমি কার কাছে নিজেকে নিবেদন করব?” তাঁর ভক্তের কাছে, তাঁর প্রতিনিধির কাছে। বিষয়টি হলো আত্মনিবেদন। তাই এই যুগের অধঃপতিত, মূর্খ জীব, যারা কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করতে পারে না তাদেরকে কৃপা করার জন্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হলেন। তিনি স্বয়ং শিক্ষা প্রদান করনে কিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করতে হয়। আর সেটি হচ্ছে কীর্তন। আমাদের ‘শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা’ গ্রন্থটিতে আপনার একটি ছবি দেখেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে প্ৰয়াগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে কীর্তন করছেন এবং শ্রীল রূপ গোস্বামী তাকে দণ্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করছেন এবং শ্রীল গোস্বামী এই শ্লোকটি রচনা করেছেন-

নমো মহাবদান্যায় কৃষ্ণপ্রেমপ্রদায়তে।
কৃষ্ণায় কৃষ্ণচৈতন্য নাম্নে গৌরত্বিষে নমঃ ৷৷

অর্থাৎ “আমি সকল অবতার, এমনকি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের চেয়েও বদান্য পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যে বন্দনা করি; কারণ পূর্বে যা কেউ প্রদান করেননি, সেই কৃষ্ণপ্রেম তিনি মুক্তভাবে বিতরণ করছেন।”
হ্যাঁ! এই হলেন ছন্ন অবতার। তিনি কৃষ্ণ, তিনি আপনাকে কৃষ্ণপ্রেম প্রদান করতে এসেছেন, কিন্তু তিনি কৃষ্ণের ভক্তের মতো আচরণ করছেন। আত্মনিবেদন বা শরণাগতি বিনা কৃষ্ণভাবনামৃতে অগ্রগতির কোনো আশা নেই সেটিই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা-

তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ ॥

আপনি যদি হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করতে চান, তাহলে আপনাকে তৃণাদপি সুনীচেন এই নীতি গ্রহণ করতে হবে। আপনাকে একটি তৃণ বা ঘাসের থেকেও বিনীত হতে হবে। ঘাসকে মাড়িয়ে গেলেও সে প্রতিবাদ করে না। তরোরিব সহিষ্ণু অর্থাৎ তরুর চেয়ে সহিষ্ণু হতে হবে। তরু বা বৃক্ষ আমাদের বহুভাবে সাহায্য করছে। বৃক্ষ আমাদের ছায়া, পত্র, পুস্প, ফল, কাঠ, অক্সিজেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্যসহ অনেক কিছুই দিচ্ছে। তবুও আমরা প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন করছি। কিন্তু কোনো প্রতিবাদ নেই। বৃক্ষ কখনোই বলে না, “আমি তোমাদের এত উপকার করছি আর তোমরা আমাকে কেটে ফেলছ?” না সে সহনশীল। তাই চৈতন্য মহাপ্রভু গাছের তুলনা দিয়ে বলেছেন তরোরিব সহিষ্ণুনা এবং অমানিনা মানদেন নিজের জন্য সম্মান আকাঙ্ক্ষা করা উচিত নয়, বরং কেউ যদি ভক্ত হয়, তার সবাইকে সম্মান নিবেদন করা উচিত। অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়াঃ সদা হরিঃ। আমরা যদি এই ধরনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারি তাহলে নির্বিঘ্নে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন করতে পারবো। এটিই হলো যোগ্যতা।
এই নীতিসমূহ শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ন চৈতন্যাৎ কৃষ্ণাৎ পরতত্ত্বং পরম্ ইহ। পরমতত্ত্ব, পরম ব্রহ্ম বা পরম সত্য হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। পরম ব্রহ্ম হচ্ছেন কৃষ্ণ কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণ থেকে ভিন্ন নন। ন চৈতন্যাৎ পরতত্ত্বং পরম ইহ, যদ্ অদ্বৈতাং ব্রহ্মোপনিষদি। ব্রহ্ম, অদ্বৈত-উপনিষদে যা বর্ণিত হয়েছে সেই বিষয়- ব্রহ্ম, পরমাত্মা ও ভগবানই হচ্ছে পরম ব্রহ্মের তিনটি বৈশিষ্ট্য।

বদন্তি তৎ তত্ত্ববিদস্তত্ত্বং যজ্ঞানমদ্বয়ম্ ।
ব্রহ্মেতি পরমাত্নেতি ভগবান ইতি শব্দ্যতে ॥

পরম ব্রহ্ম এক। অদ্বয় জ্ঞান। কোনো ভিন্নতা নেই। কিন্তু আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পরম ব্রহ্মকে হৃদয়ঙ্গম করার জন্য তিনি নির্বিশেষ ব্রহ্ম, পরমাত্মা এবং পরমেশ্বর ভগবান কৃষ্ণ রূপে আবির্ভূত হন। যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে । সেই অর্থে। আপনি পরম ব্রহ্মকে পরমাত্মা রূপে হৃদয়ঙ্গম করতে চান, সর্বত্র আপনি তাঁকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন এবং আপনি যদি তাকে পরম প্রেমময় রূপে হৃদয়ঙ্গম করতে চান, আপনি সেটিও পারেন। যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে কথাটির সেটিই অর্থ। যে কোনো ভাবেই আপনি পরম ব্রহ্মকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। আপনার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তিনি নিজেকে প্রকাশিত করতে প্রস্তুত। তিনি উপস্থিত রয়েছেন। কারণ, সে কথাই এখানে আলোচ্য শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে নৃতির্যগৃষিদেবঝষাবতারৈঃ। বিবর্ধিত পন্থা অনুসারে একসময় সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড ছিল জলে পরিপূর্ণ। সেই সময় দশ অবতারের এক রূপ ছিল কেশব ধৃত মীন-শরীর জয় জগদীশ হরে।
তেমনই, তিনি কচ্ছপও হয়েছিলেন। তিনি নৃসিংহদেব, বামনদেব হয়েছিলেন ইত্যাদি। এভাবেই চলছে-নিত্য-লীলা। ভগবান যে কেবল মানব সমাজেই অবতার হয়ে আসেন তা নয়। তাই ভগবদ্‌গীতায় এই কথা উক্ত হয়েছে যে, “আমি বৃক্ষদের মধ্যে ঐ বৃক্ষ, আমি জন্তুদের মধ্যে ঐ জন্তু, ব্যক্তিগণের মধ্যে যোদ্ধাদের মধ্যে আমি এই, আমি এই৷” প্রকৃতপক্ষে তিনি সমস্ত কিছুই, কিন্তু সময় ও ক্ষেত্র বিশেষে তিনি নির্দিষ্ট কিছুর উল্লেখ করেন। অন্য এক জায়গায় তিনি বলেছেন রসোহহমন্সু কৌন্তেয়। যদি আপনি কিভাবে তাঁকে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে সে বিষয়ে তাঁর নির্দেশ গ্রহণ করেন। কোনো অবস্থায় ভগবান আপনার কাছে প্রকাশিত হতে প্রস্তুত কিন্তু আপনি যদি নিজস্ব মতের উদ্ভাবন করেন, তাহলে সেটি সম্ভব নয়। এমনকি আপনি যদি অত্যন্ত সাধারণ মানুষও হন, আপনি তাঁকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন। কিভাবে? কৃষ্ণ বলছেন, রসোহহমন্সু কৌন্তেয়- “হে অর্জুন, আমি জলের স্বাদ।” এখন, কে না জল পান করে? প্রত্যেকে। পশুরাও জল পান করে, মানুষও জল পান করে। কিন্তু পশুরা ভগবানকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না, যদিও ভগবান ঐ জলের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু মানুষ সেটি বুঝতে পারে। তাই মনুষ্য-জীবন পশু-জীবন থেকে ভিন্ন। আমরা যদি পশুদের মতোই থেকে যাই-তাহলে আমরাও পশু। প্রত্যেকেই বহুবার জল পান করে আর আমরা বহুবার জল পান করার সময় কৃষ্ণকে স্মরণ করতে পারি। আর সেইটিই ভক্তি পন্থা।
তাই আপনি যদি প্রতিবার জল পান করার সময় কৃষ্ণকে স্মরণ করেন তাহলে আপনি ভক্তির পন্থার মধ্যেই রয়েছেন। সমস্যাটি কোথায়? কিন্তু মূর্খরা সেটি স্বীকার করে না। প্রত্যেকেই জল পান করে এবং যখনই আপনি পিপাসার্ত হয়ে জল পান করছেন, জলের স্বাদ আপনার তৃষ্ণা নিবারণ করছে। আর আপনি যদি কেবল মনে রাখেন যে ‘ভগবদ্‌গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই স্বাদ হচ্ছেন ‘কৃষ্ণ’ তাহলে তৎক্ষণাৎ আপনার কৃষ্ণস্মরণ ঘটবে এবং যখনই আপনার কৃষ্ণ স্মরণ হবে, সেটি ভক্তির একটি পন্থা। সমস্যাটি কোথায়? রসোহহমন্সু কৌন্তেয় প্রভাস্মি শশিসূর্যয়োঃ। আমি জলের স্বাদ এবং চন্দ্র ও সূর্যের প্রভা। তাই, কে না চন্দ্রলোক ও সূর্যলোককে দর্শন করছে? দিনের বেলা আপনি সূর্যলোক দেখেন এবং রাত্রিবেলা চন্দ্রলোক দেখেন। তাই যখন আপনি চন্দ্রলোক ও সূর্যালোক দেখেন তখন যদি আপনি কৃষ্ণের উক্তিটি স্মরণ করেন যে “এই সূর্যলোক ও চন্দ্ৰলোক কৃষ্ণ”, তাতে সমস্যাটি কোথায়?

রসোহহমন্ত্র কৌন্তেয় প্রভাস্মি শশিসূর্যয়োঃ।
প্রণব সর্ববেদেষু শব্দঃ খে পৌরুষং নৃষু ॥

এখন আপনি যদি চিন্তা করেন যে, “আমি হচ্ছি বৈদান্তিক পণ্ডিত, কেন আমি এইসব চন্দ্ৰলোক সূর্যলোক নিয়ে ভাবতে থাকবো? আমি জপ করব-ওঁ। তখন ভগবান বলেন “মূর্খ, এই ‘ওঁ’ আমিই।” প্রণব সর্ববেদেষু। প্রতিটি বৈদিক মন্ত্রই ওম্‌ম্কার ধ্বনির পর উচ্চারিত হয়। যেমন ওম্ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ো। এই হচ্ছে বৈদিক মন্ত্র, যা সকল বেদে সর্বদা ওম্‌কার ধ্বনির পর উচ্চারিত হয়। তাই আপনি বৈদান্তিকই হোন অথবা অজ্ঞ হোন—আপনি কৃষ্ণকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
সুতরাং, কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার জন্য কৃষ্ণ সমস্ত শিক্ষাই প্রদান করেছেন, তবুও আমরা এতটাই মূর্খ যে আমরা কৃষ্ণকে হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই এখন আমি ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমে কিভাবে কৃষ্ণের ভক্ত হতে হয় সেই শিক্ষা প্রদান করব।” এই হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিজ আচরণের মাধ্যমে ভক্তরূপে কৃষ্ণভাবনামৃতের শিক্ষা প্রদান করছেন। ভুলে যাবেন না শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছে পরমেশ্বর ভাগবান কৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য রাধাকৃষ্ণ নহে অন্য। আপনার রাধাকৃষ্ণের আরাধনা করছেন আর সেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিগ্রহও রয়েছে। এমন কিছু দল রয়েছে যারা এর প্রতিবাদ করে বলে “কেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিগ্রহ কৃষ্ণের সঙ্গে স্থাপিত হবে।” কিন্তু তারা জানে না যে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য রাধাকৃষ্ণ নহে অন্য। এখানে কোনো প্রভেদ নেই।
তাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য হচ্ছে কৃষ্ণ শাস্ত্রে সেটি প্রতিপন্ন হয়েছে এখানে তাই বলা হয়েছে ছন্নঃ কলৌ যদভব। এই কলিযুগে তিনি নৃসিংহদেব, বামনদেব বা শ্রীরামচন্দ্রের মতো প্রত্যক্ষভাবে অবতীর্ণ হন না। কিন্তু তিনি তাঁর ভক্তরূপে অবতীর্ণ হন।“তাই কখনো কখনো আপনাকে ত্রিযুগ বলা হয়।” যুগ চারটি রয়েছে। কিন্তু তাঁকে ত্রিযুগ বলা হয়। কেননা তিনটি যুগ ভগবান প্রত্যক্ষরূপে আবির্ভূত হন। চতুর্থ যুগে, কলিযুগে কেবল ভক্তরূপে আবির্ভূত হন। অতএব শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি, শ্রীগৌর পূর্ণিমা। আর মায়াপুর হচ্ছে তাঁর আবির্ভাবস্থলী। সর্বদা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে স্মরণ করুন এবং কীর্তন করুন। জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ, শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ। তাহলে আপনাদের জীবন সার্থক হবে। আপনাদের অজস্র ধন্যবাদ। হরেকৃষ্ণ


 

জানুয়ারি-মার্চ ২০১৬ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here