লেকল্যান্ডে ক্রিয়েটিভ সঙ্গ ও রিট্রিটের আয়োজন

0
25

মাধব স্মুলেন: বলরাম নিত্যানন্দ দাশ, একজন গুরুকুলের ভক্ত, যিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এই রিট্রিট আয়োজন করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লেক ডিস্ট্রিক্ট ন্যাশনাল পার্কে একটি “ভক্তি কুটির” হিসাবে তার বাড়ি স্থাপন করতে চাইছেন, যেখানে মানুষ থাকতে পারে এবং ভক্তি যোগ সম্পর্কে জানতে পারে, কীর্তন এবং কৃষ্ণভাবনাময় সৃজনশীলতার চর্চা করতে করতে পারে। নয় বছর মায়াপুর গুরুকুলে পড়াশোনা করার পর, বলরাম নিত্যানন্দ যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে যেয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃজনশীল লেখালেখি নিয়ে অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি ভক্তিবেদান্ত ম্যানর-এ প্রচার সংঘের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিন বছর ধরে রিট্রিট-এর আয়োজন করেন। তিনি লেক ডিস্ট্রিক্টে একটি আশ্রম বাড়িতে ইয়ান এবং আন্দ্রেয়া কর্তৃক পরিচালিত মাসিক জপ প্রোগ্রামেও সাহায্য করেছিলেন। করোনা মহামারী ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি নতুন রিট্রিট কোম্পানির সাথে বলরামের কাজ বন্ধ করার পর, এই দম্পতি তাঁকে আশ্রমে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেখানে গিয়ে তিনি আরো সাতজন ভক্তের সাথে লকডাউন চলাকালীন আশ্রমে থাকতেন এবং নিয়মিত মর্নিং প্রোগ্রামগুলো চালিয়ে যেতেন। যুক্তরাজ্য এখন আরো উন্মুক্ত অবস্থায় থাকায়, বলরাম লেক ডিস্ট্রিক্টে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি সুন্দর কোনিস্টন ওয়াটার লেক থেকে আট মিনিট, সমুদ্র থেকে পাঁচ মিনিট এবং লন্ডন থেকে ৪.৫ ঘন্টা দূরে একটি অর্ধ বিচ্ছিন্ন (দুইটি ঘর কেবল একটি সাধারণ দেয়াল দ্বারা আলাদা ভাবে ভাগ করা হয় এমন) কুটির খুঁজে পেয়েছেন।
বলরাম অন্তত ১০,০০০ পাউন্ডের অর্ধেক হলেও সংগ্রহে সংকল্পবদ্ধ হন। যে অর্থ দিয়ে তিনি সেই ৪০০শ বছর বর্ষীয়সী কুটিরটিকে আপ্যায়ন যোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে। বাকি ভক্তদেরও তিনি বাকি অর্থ সংগ্রহের সেবায় নিয়োজিত করেন। তন্মধ্যে, কুটিরটি পুনরায় রঙ করা, মেরামত করা, শয্যা এবং অন্যান্য আসবাবপত্র, জ্বালানী কাষ্ঠ, হাঁড়ি-পাতিল এবং রান্নার জন্য কড়াই এবং প্রসাদ আস্বাদন অথবা ধ্যানের জন্য বাগানটিকে সুন্দর জায়গায় পরিণত করার জন্য অর্থের প্রয়োজন।
যখন কুটিরটি প্রস্তুত হয়, বলরাম একত্রে দুই থেকে চারজন ভক্তকে আমন্ত্রণে আশাবাদী হন। যার মধ্যে সিনিয়র ভক্তরা তাদের সেবা থেকে স্বল্প বিরতির মাধ্যমে চাঙ্গা হয়ে উঠতে চাচ্ছেন, আউটডোর এক্টিভিটিসে আগ্রহী যুবক, সপ্তাহান্তে ছুটি নিতে চান এমন বাবা-মা এবং তাদের কীর্তন চর্চা করে গভীরে যেতে চায় এমন ভক্তরা। ভবিষ্যতে তিনি আশা করে যে, স্থানীয়রা লেকসাইড হোটেলে উপস্থিতদের সঙ্গে বৃহত্তর কৃষ্ণভাবনাময় রিট্রিট আয়োজন করবে। বলরাম চাচ্ছেন যে, কুটিরটিকে “একটি ছোট মন্দিরের মতো” করতে, যেখানে প্রতিদিন একটি মর্নিং প্রোগ্রাম এবং সপ্তাহান্তে কীর্তনের আয়োজন হবে।
এছাড়াও, বলরাম, যিনি পূর্বে “কীর্তন স্পেস” নামে একটি অনলাইন কোর্স এবং “দ্য ইন্সপায়ার শো” নামে ইউটিউব টক শো একটি চালাচ্ছিলেন। একই সাথে, ভক্তি কটেজে থাকা ব্যক্তিদের সুবিধার্থে “ক্রিয়েটিভ সঙ্গ” নামে একটি নতুন কোম্পানি চালু করার পরিকল্পনা করছেন। সে প্রোগ্রামটিতে পদব্রজে হাঁটা, হাইকিং এবং ডিঙি নৌকার মাধ্যমে জলপথ ভ্রমণ-এর মাধ্যমে প্রকৃতির সাহচর্য ও অভিজ্ঞতা লাভের মাধ্যমে প্রাপ্ত সৃজনশীলতাকে কৃষ্ণভাবনাময় করে তুলবে; প্রতিদিন সকালে ডায়েরী লিখন, কীর্তন এবং ভক্তি যোগের দৃষ্টিকোণ থেকে কৃষ্ণভাবনাময় সৃজনশীলতার উপর বিভিন্ন কোর্স এবং কর্মশালারও আয়োজন করা হয়। জুলিয়া ক্যামেরনের বই “দ্য আর্টিস্টস ওয়ে: এ স্পিরিচ্যুয়াল পাথ টু হাইয়ার ক্রিয়েটিভিটি” পড়ে বলরাম “ক্রিয়েটিভ সঙ্গ” চালু করতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি আরো উপলব্ধি করেছিলেন যে, লেক ডিস্ট্রিক্ট এমন একটি প্রকল্প শুরু করার জন্য উপযুক্ত জায়গা যখন তিনি পড়েছিলেন যে, শ্রীকৃষ্ণের অধীনে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টিকারী ভগবান ব্রহ্মা ভগবান বিষ্ণুর নাভি হতে আবির্ভূত হন, যা শ্রীমদ্ভাগবতে (৩.৯.২৪) বর্ণিত আছে।
“আমি এটা কৌতূহলোদ্দীপক বোধ করছি যে, ব্রহ্মা হলেন সৃজনশীল দেবতা এবং তিনি একটি হ্রদ থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন ও লেক ডিস্ট্রিক্ট অনেক সৃষ্টিশীল মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে,” বলরাম বলেন। “উদাহরণস্বরূপ, লেখক জন রাস্কিন, শিশুতোষ বই লেখক বিট্রিক্স পটার এবং ইংরেজ কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, যিনি ‘সরল জীবনযাপন উচ্চ চিন্তাধারা’ বাক্যটি সৃষ্টি করেছিলেন, যা স্কটিশ চার্চ কলেজে অধ্যয়নকালে শ্রীল প্রভুপাদ খুব পছন্দ করেছিলেন। সুতরাং সৃজনশীল সঙ্গের ধারণাটি সেখান থেকেই জন্ম হয়েছিল।”
বলরাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থিত “দ্যা হারমনি কালেক্টিভ”-এর সাথে দেব মাধব দাস প্রভুর সেবার দ্বারা অনুপ্রাণিত, লেকল্যান্ড ভক্তি কুটিরকে “বিচার-মুক্ত অঞ্চল” হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যা “প্রকল্প নয়, জনগণের বিষয়”। বলরাম সারা বছর অতিথিদের আতিথেয়তা করতে আশাবাদী। কারণ লেক ডিস্ট্রিক্টের মনোরম প্রকৃতি সব ঋতুতে মনোরম রূপে থাকে। তিনি বলেন, “আমরা লেক ডিস্ট্রিক্টে কৃষ্ণভাবনায় সমৃদ্ধ হতে দেখতে চাই।” “কারণ এটি এমন একটি অঞ্চল যা আমাদের চলাফেরার দিক থেকে এখনো প্রচ্ছন্ন হয়নি এবং এটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম সুন্দর জায়গা।”


চৈতন্য সন্দেশ অক্টোবর-২০২১ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here