রানি কুন্তীর আশ্চর্য চাওয়া!

0
128
বিপদ মানুষের জীবনে   অবশ্যম্ভাবী।
কিন্তু একজন উচ্চস্তরের ভক্ত সেই বিপদকেই কামনা করেন।কেন তিনি ভগবানের কাছে বিপদসংকুল অবস্থা প্রার্থনা করেন?
 
মুকুন্দমালা দাস
 
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে একজন উন্নত ভক্ত বিপদময় পরিস্থিতি কামনা করেন। অধিকাংশ লােকই ভগবানকে আরাধনা করেন জাগতিক ভাব নিয়ে। শ্রীমদ্ভগবদগীতায় (৭/১৬) কৃষ্ণ এ ধরনের ব্যক্তিদের চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন: আর্ত, অর্থার্থি, জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেইমাত্র তাদের অভীষ্ট সিদ্ধি অর্জিত হয়, তারা ভগবানের আরাধনায় আর প্রয়াসী হয় না। তারা ভগবানকে শ্রদ্ধা করেন এই মনােভাবে যে, ভগবান হলেন এমন একজন, যিনি তাদের দুঃখদুর্দশা থেকে মুক্ত করে সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন দান করবেন। কেননা তারা কঠিন পরিস্থিতিতে কোনাে জড়জাগতিক কারাে প্রতি শরণাগত না হয়ে ভগবানেরই শরণাগত হয়েছেন।
সমস্ত আরাধকদের মধ্যে ভগবান কৃষ্ণ সেই ব্যক্তিকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত করেছেন, যিনি তার প্রতি শুদ্ধ প্রেমময় সেবায় নিযােজিত রয়েছেন। তিনি এই পূর্ণ জ্ঞানে অধিষ্ঠিত যে, কৃষ্ণই হলেন সর্ব কারণের পরম কারণ এবং তারই শ্রীপাদপদ্মে শরণ নিতে হবে। সে সমস্ত ভক্তদের একটিই উদ্দেশ্য, কৃষ্ণকে কীভাবে নিঃস্বার্থভাবে শুদ্ধ প্রেম ও ভক্তি সহকারে সেবা নিবেদন করা যায়। তাই কৃষ্ণ তার শুদ্ধভক্তদের সম্পর্কে বলছেন, “আমি তার অত্যন্ত প্রিয় এবং তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয়।” (ভগবদ্গীতা ৭/১৭)
একজন ভক্ত যিনি কৃষ্ণের প্রতি গভীর প্রেমে উদ্ভাসিত, তিনি এক সেকেন্ডের জন্যও ভগবানকে দর্শন বা সেবা না করে থাকতে পারেন না। কৃষ্ণসেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা তার জন্য অত্যন্ত অসহনীয়।
 
কুন্তীদেবীর দৃষ্টান্ত
 
এমন একজন ভক্তের দৃষ্টান্ত হলেন কুন্তী দেবী, যিনি পঞ্চপাণ্ডবের মহীয়সী মাতা। মহাভারতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, কীভাবে কুন্তীদেবী চরম দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন। বিবাহের পূর্বেই তাঁর প্রথম পুত্র কর্ণের জন্ম হয়। কিন্তু সামাজিক প্রতিবন্ধকতা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য কর্ণকে প্রত্যাখ্যান করতে হয়েছিল। বিবাহের পর তার পতি পান্ডুর মৃত্যু হয় এবং কুন্তীদেবী একাই তার পাঁচ সন্তানের লালনপালন করেছিলেন। যদিও কুন্তীদেবী এবং তাঁর পুত্ররা পাণ্ডুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রাজা ধৃতরাষ্ট্রের পরিচর্যার অধীনে ছিলেন বলে মনে করা হতাে; কিন্তু কপট, দুরাচারী দুর্যোধনসহ ধৃতরাষ্ট্রের অন্যান্য পুত্ররা সর্বদাই তাঁদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করতেন। এতেই ক্ষান্ত না হয়ে তারা পঞ্চপাণ্ডবদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত করতে নানা নীল নকশা করতে থাকেন। এমনকি দুর্মতি দুর্যোধনরা পঞ্চপাণ্ডবদের স্ত্রী দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতেও এতটুকু দ্বিধাবােধ করেনি। 
দুর্যোধন এক সময় এক সাজানাে পাশা খেলার আয়ােজন করেন। তার দুরভিসন্ধি চক্রান্ত ছিল পাণ্ডবদের ভাগের সমস্ত সম্পদ আত্মসাৎ করার। এজন্য তাদেরকে পাশা খেলতে প্ররােচিত করা হয়। পাশা খেলায় পাণ্ডবরা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তেরাে বছরের জন্য বনবাসে যেতে বাধ্য হয়। সে সময় কুন্তীদেবীকে এই তেরটি বছর প্রিয় পুত্রদের অনুপস্থিতিতে প্রাসাদেই কাটাতে হয়। অবশেষে কুরুক্ষেত্রের ঐতিহাসিক যুদ্ধে যদিও পাণ্ডবরা জয়ী হন, কিন্তু তাঁর অনেক প্রপৌত্র এবং নিকটাত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হারিয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।
 
এ সমস্ত দুঃখ-দুর্দশা সত্ত্বেও কুন্তীদেবী পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ওপর আস্থা ও ভক্তি পূর্ণরূপে বজায় রেখেছিলেন। এ সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সর্বদা কৃষ্ণের আশ্রয়ের অনুসন্ধান করেছিলেন। তিনি কখনাে কৃষ্ণের কাছে একটি শান্তিপূর্ণ জীবন লাভের জন্য, অথবা তার পুত্ররা যেন হারানাে রাজ্য ফিরে পায় তার জন্য প্রার্থনা করেন নি। তিনি কৃষ্ণকে কখনাে এই অভিযােগও করেন নি যে, তাঁর উপস্থিতি সত্ত্বেও কেন তাঁর পরিবার এরকম অসহ্য দুঃখ-দুর্দশা ভােগ করছে? বরং যুদ্ধের পরে যখন তাঁর পুত্ররা পুনরায় রাজ্য ফিরে পায়, তিনি কৃষ্ণের কাছে আরাে দুর্দশার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন :
বিপদঃ সন্তুু তাঃ শশ্বত্তত্র তত্র জগদ্গুরো ।
ভবতাে দর্শনং যৎ স্যাদপুনর্ভবদর্শনম্ ॥
                                                       (শ্রীমদ্ভাগবত ১/৮/২৫)
“হে জগদীশ্বর, আমি কামনা করি যেন সেই সমস্ত সঙ্কট বারে বারে উপস্থিত হয়, যাতে বারে বারে আমরা তােমাকে দর্শন করতে পারি। কারণ তােমাকে দর্শন করলেই আমাদের আর জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হবে না বা এই সংসার চক্র দর্শন করতে হবে না।”
প্রতিকূল পরিস্থিতি কৃষ্ণপ্রেমকে আরাে বর্ধিত করে। এই জগতে দু’জন ব্যক্তির মধ্যে ভালােবাসা বিভিন্ন পন্থায় হয়ে থাকে। সাধারণত তারা কোনাে প্রতিকূলতা ছাড়াই সর্বক্ষণ একত্রে থাকতে পছন্দ করেন। যখন কোনাে বাহ্যিক বল-পরিস্থিতি, আত্মীয়-স্বজন, তাঁদের সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করে, তাতে বরং তাঁদের পারস্পরিক ভালােবাসাকে আরাে নিবিড় করে তােলে। তাঁদের পারস্পরিক বন্ধন আরাে শক্তিশালী হয় এবং তাদের সম্পর্ক আরাে মধুর থেকে মধুরতর হয়ে গতিশীল হয়।

ভক্তরা বিবেচনা করেন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যে কষ্ট তারা পাচ্ছেন, তা ভগবান থেকে বিচ্ছেদের বেদনার চেয়েও অতি নগণ্য। বরং ভগবানের প্রেমময়ী আলিঙ্গন লাভের জন্য বার বার প্রতিকূলতা বা দুর্যোগগুলােকে তারা আহরণ করেন।


ভক্ত ও কৃষ্ণের মধ্যকার পারস্পরিক যথার্থ ভালােবাসার সম্পর্কও তদ্রুপ গতিশীল হয়। ভক্তরা সর্বদাই প্রত্যক্ষভাবে ভগবানের অহৈতুকী সেবা করতে চায়। কিন্তু তাঁদের সেই ভালােবাসা আরাে বর্ধিত করতে কৃষ্ণ তাঁদেরকে মাঝে মাঝে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেন। এটি তিনি এজন্যই করেন, যাতে তারা জড়জাগতিক স্তর থেকে দূরে সরে, তার আরাে সন্নিকটে আসতে পারে। যারা জড়কর্মবন্ধনের উর্ধ্বে সে সমস্ত মুক্ত আত্মাদের চরম প্রতিকূল অবস্থায় নিক্ষেপ করে তিনি অন্যদের শিক্ষা দেন যে, কীভাবে ভগবানের প্রতি আস্থাশীল হওয়া যায়। যারা পারমার্থিক পথে কম অগ্রসর তারা এর মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করেন যে, কীভাবে মর্যাদা ও সততার সাথে সমস্ত প্রতিকূলতা মােকাবেলা করতে হয়। যখন প্রতিকূলতা আসে তখন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত জেনেই শুদ্ধভক্ত কৃষ্ণের প্রতি পূর্ণ শরণাগত হন। ঐরকম পরিস্থিতিতে ভগবান ও ভক্তের মধ্যে প্রেমময়ী আদান-প্রদানের ফলে, ভগবানের প্রতি তাঁর ভালােবাসা আরাে বহুগুণে বর্ধিত হয়। ভক্ত উপলব্ধি করেন যে, এ সমস্ত প্রতিকূলতাগুলাে ছিল তাঁর জন্য পরম আশীর্বাদ কেননা ভগবান সর্বদা তাঁর সাথে ছিলেন এবং তাঁকে প্রতি মূহূর্তে রক্ষা করছেন।
 
দুর্যোগময় কষ্টসমূহের গুরুত্বহীনতা
 
ভক্তরা বিবেচনা করেন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যে কষ্ট তারা পাচ্ছেন, তা ভগবান থেকে বিচ্ছেদের বেদনার চেয়েও অতি নগণ্য। বরং ভগবানের প্রেমময়ী আলিঙ্গন লাভের জন্য বার বার প্রতিকূলতা বা দুর্যোগগুলােকে তারা আরােহন করেন। তারা এটি উপলব্ধি করেন যে, ভগবান প্রেমময়ী পিতার মতাে যিনি সর্বদা তাদের সুরক্ষা বিধান করছেন। তারা এগুলােকে তাঁদের পরিশুদ্ধতার জন্য কৃষ্ণের সুব্যবস্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রার্থনায় তিনি কুচক্রী দুর্যোধন কর্তৃক তার এবং পুত্রদের ওপর বিবিধ অত্যাচারের কথা পুনঃ তুলে ধরেন। পাণ্ডবদের পত্নী দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় কৃষ্ণ তাঁকে অপরিসীম বস্ত্র প্রদানের মাধ্যমে রক্ষা করেছিলেন। বনবাসের সময় দুর্যোধনের অনুরােধে দুর্বাসা এবং তার শিষ্যগণ তাদের বাসস্থানে এসে উপস্থিত হলে, কৃষ্ণ তাদেরকে মুনির ক্রোধ থেকে রক্ষা করেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের রথের সারথি হয়ে ভীস্ম, দ্রোন, কর্ণ এবং জয়দ্রথের মতাে মহান শক্তিশালী কুরু যােদ্ধাদের পরাজিত করতে অর্জুনকে পরিচালনা করেছিলেন। অর্জুনের প্রপৌত্রকে প্রপৌত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে উত্তরার গর্ভে অশ্বত্থামা ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করলে, কৃষ্ণ তার অচিন্ত্য শক্তি দ্বারা সেই গর্ভকে আবৃত করেন এবং শিশুটিকে রক্ষা করেন।
এভাবে কুন্তীদেবী যখন এ সমস্ত ঘটনা স্মরণ করছিলেন কুন্তী উপলব্ধি করছিলেন যে, কৃষ্ণের ব্যক্তিগত উপস্থিতি বিহীন কখনাে এ সমস্ত বিপদ অতিক্রম করা সম্ভব হতাে না। হস্তিনাপুরে যুধিষ্ঠির মহারাজকে রাজ্যাভিষিক্ত করে কৃষ্ণ দ্বারকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত তখনই কুন্তীদেবী কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে এ প্রার্থনাগুলাে নিবেদন করেন। কেননা তিনি ভীত হয়েছিলেন যে, এখন রাজকীয় অবস্থায় অত্যন্ত সুখে দিনাতিপাত করলেও কৃষ্ণকে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তিনি কৃষ্ণের কাছে আরাে দুঃখদুর্দশা প্রার্থনা করছিলেন। এর মাধ্যমে কৃষ্ণস্মরণের দুর্লভ এ সুযােগ প্রবাহমান থাকবে। 
 
দুর্যোগে কৃষ্ণের সুরক্ষা
 
কুন্তী এবং পাণ্ডবদেরকে কৃষ্ণ তার অচিন্ত্য শক্তি দ্বারা রক্ষা করেছিলেন। প্রতি মূহূর্তে তাঁদের জীবন বিপদাপন্ন ছিল, কিন্তু কৃষ্ণ তাঁদেরকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছিলেন। শাস্ত্রে এ সম্পর্কিত অনেক কাহিনি রয়েছে, যেখানে ভক্তরা চরম বিপর্যয়ে ভগবানের সুরক্ষা অনুভব করেছেন। সাম্প্রতিক সময়েও ভক্তরা তাঁদের বিপদাপন্ন অবস্থায় কৃষ্ণের অপার সুরক্ষা প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে, হয়তাে কৃষ্ণের সুরক্ষা, মৃত্যু থেকে সুরক্ষার আকারে নাও আসতে পারে। একজন অনুশীলনকারী ভক্ত দৃঢ়ভাবেই উপলব্ধি করেন যে, এই দেহটি অস্থায়ী এবং যেকোনাে সময় বিনাশপ্রাপ্ত হবে; চিন্ময় আত্মা হওয়ায় আমরা প্রকৃতপক্ষে দেহ থেকে পৃথক, তাই কৃষ্ণ যে মৃত্যু থেকে আমাদের সর্বদা রক্ষা করবেন, এরকমটি প্রত্যাশা করা উচিত নয় । প্রকৃত সুরক্ষা হল আমাদের চেতনার সুরক্ষা প্রদান, যার মাধ্যমে আমরা সর্বদা কৃষ্ণের ওপর বিশ্বাস এবং তাঁকে স্মরণ করতে পারি। কৃষ্ণের কৃপায় একজন ভক্ত যখন মৃত্যুবরণ করেন, পরবর্তী জীবনে যাতে তার ভগবৎ সেবা চালিয়ে যেতে পারেন, তার একটি উপযােগী পরিবেশ লাভ করেন।
একজন ভক্তের জন্য সবচেয়ে ভীতিপ্রদ অবস্থা হল ভগবানকে বিস্মরণ। কেননা এই বিস্মরণই জীবকে জন্ম-মৃত্যুর অজ্ঞানতায় নিপতিত করে । ভক্তদের জন্যই নরকে যাওয়াটাও কোনাে বিষয় নয়, যদি তারা সেখানে গিয়ে কৃষ্ণসেবা করতে পারে। পক্ষান্তরে যেটি কৃষ্ণসেবাবিহীন সেরকম একটি স্থান যদি স্বর্গতুল্যও হয় তা তারা প্রত্যাখ্যান করেন । যেরকম দেবাদিদেব মহাদেব শ্রীমদ্ভাগবতে (৬/১৭/২৮) পার্বতীকে উপদেশ দিয়েছিলেন,
নারায়ণপরাঃ সর্বে ন কুতশ্চন বিভ্যতি।
স্বর্গাপবর্গনরকেম্বপি তুল্যার্থদর্শিনঃ
’’ভগবান নারায়ণের সেবায় সর্বতােভাবে যুক্ত ভক্তেরা কখনও জীবনের কোনাে অবস্থা থেকেই ভীত হন না। তাঁদের কাছে স্বর্গ, মুক্তি এবং নরক সমান, কারণ এই প্রকার ভক্তরা কেবল ভগবানের সেবাতেই আগ্রহশীল।”
 
একটি বিরল প্রার্থনা
 
কুন্তীদেবীর মত প্রত্যেকে প্রার্থনা করতে পারেন না এভাবে। প্রার্থনা করতে প্রচুর উৎসাহের প্রয়ােজন। যা হােক, কুন্তীদেবীর দৃষ্টান্ত থেকে আমরা শিখতে পারি যে, কীভাবে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে হয় এবং এজন্য কিরকম মনােভাবের প্রয়ােজন হয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও আদর্শ প্রার্থনা কীভাবে করতে হয় তা আমাদের জন্য প্রদর্শন করে গেছেন।
“হে জগদীশ! আমি ধন, জন বা সুন্দরী রমণী কামনা করি না; আমি কেবল এই কামনা করি যে, জন্মে-জন্মে তােমাতেই আমার অহৈতুকী ভক্তি হােক।”
আমাদের উচিত সমস্ত জড় অভিলাষ প্রত্যাহার করা, যেগুলাে অনিত্য এবং কলুষময়। আমরা হয়তাে সময়ে সময়ে তাঁর সেবার সহায়িকা হিসেবে জড় বিষয় প্রার্থনা করতে পারি, কিন্তু এরূপ প্রার্থনার ক্ষেত্রেও আমরা যেন যেকোনাে পরিস্থিতিতে ভগবানের প্রতি আমাদের ভক্তিপুত সেবায় আরাে নিবিড় হতে পারি, তা যেন উল্লেখিত বা প্রদর্শিত হয়। অনেক লােক রয়েছেন যারা নিজেদেরকে ধার্মিক হিসেবে প্রতিপন্ন করেন, অথচ জীবনের জাগতিক প্রয়ােজনগুলাের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন। জীবনের উচ্চতর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে তারা এই মায়িক জগতে বিভিন্ন তথাকথিত স্বপ্নপূরণে প্রয়াসী হয়। কিছু তথাকথিত জাগতিক পুরস্কার প্রার্থনার চেয়ে ভগবানের প্রতি কুন্তীদেবীর যে প্রার্থনা তা ছিল বহুলাংশে সর্বোৎকৃষ্ট। তার প্রার্থনা সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুশীলনের নামে প্রচলিত স্বার্থপর কামনা-বাসনা রহিত ছিল।

 

ত্রৈমাসিক ব্যাক টু গডহেড, এপ্রিল-জুন ২০১৩

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here