মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইস্‌কনকে প্রথম রথযাত্রায় সাহায্য

0
288

বঙ্গানুবাদ : হরিধন দেবনাথ

সেই প্রথম ১৯৭৬ সাল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইস্‌কনকে প্রথম রথযাত্রা করার জন্য সাহায্য করেছিলেন। ২০১৭ সাল। আমরা কাঠনির্মিত তিনটি প্রকাণ্ড রথ তৈরির জন্য বদ্ধ পরিকর। শুধু নিউইয়র্কে নয়, বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতেও এমন কর্মযজ্ঞ করার কথা ভাবছিলাম। দরকার ছিল পর্যাপ্ত স্থানের অনেকের দ্বারস্থ হলাম। কেবল প্রত্যাখ্যাত হলাম। আমার বোধ হয় রথযাত্রা করার জন্য জায়গা পাব না। সবকিছু কেমন জানি ধোঁয়াশে মনে হচ্ছিল। অবশেষে টজানকৃষ্ণ স্থান বের করার দায়িত্বটা নিজের কাঁধে নিলেন। রথ কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের জন্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইস্‌কনকে প্রথম রথযাত্রায় সাহায্য পন্সিলভেনিয়ার রেলওয়ের সামনে জায়গাটি ছিল সর্বাপেক্ষা সর্বোত্তম। টজানকৃষ্ণ সে স্থানের প্রকৃত মালিককে প্রস্তাব দিলেন। আমাদেরকে যেন রথ নির্মাণ কার্য সুসম্পাদন করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়। কিছুটা নিরাশ করে তাকে বলা হল যে, এ জায়গাটি তারা অপরজনের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কথাবার্তাও ঠিক হয়ে গেছে।
তিনি আমাদেরকে জানালেন, স্থানটি ব্যবহারের অনুমতি দিবে কি দিবে না তা একান্ত নতুন মালিকেরা বিষয়। এ নবক্রয়ক্রিত জায়গার মালিক অন্য কেউ নয়। তিনি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমাদের সমস্যাটি তিনি জানতে পারলেন। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তিনি আমাদের ডাকলেন। আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বিশালাকারের প্রসাদের ঝুঁড়ি নিয়ে গেলাম। তাঁর সেক্রেটারি আমাদের সাদরে গ্রহণ করলেন। সেইসাথে তিনি এক সতর্কবার্তা জানিয়ে বললেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কাজে কখনোই সাই দিবেন না।
তোমরা চেষ্টা করে দেখতে পার। তিনি ‘না’ ছাড়া কিছুই বলবেন না। আজ থেকে তিনদিন পর আমরা প্রেসিডেন্টের সেই সেক্রেটারির কাছ থেকে এক বার্তা পেলাম। বার্তায় তিনি জানালেন, “বুঝতে পারছি না ট্রাম্পের কি হল! তিনি তোমাদের প্রস্তাবপত্রটি পড়েছেন। তোমাদের দেয়া প্রসাদ খানিকটা তিনি গ্রহণ করেছেন। অতিসত্ত্বর তোমাদের প্রস্তাবটিতে সম্মত হয়েছেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘তোমরা আসা। অবশ্যই রথযাত্রা করার জন্য আমার অনুমতি পাবে।” এমন বার্তা শুনে টজানকৃষ্ণ ও আমরা সবাই বেশ অবাক হলাম। তিনি চাইলেই আমাদের প্রস্তাবটি না করতে পারতেন। কিন্তু কেন করেন নি তা কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ভগবা কৃষ্ণই জানেন। সামনে এমন সুযোগ আরো পাব বলে আশা রাখছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদারতা আর ভক্ত টজানকৃষ্ণের সুদৃঢ় প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
রথাযাত্রা অনুষ্ঠানের ফল
পাঁচশ বছর আগে শ্রীমন্মহাপ্রভুর যিনি সাক্ষাৎ গোলকপতি হয়ে ভক্তভাব ধারণ করছেন তাঁর লীলা ছিল এই রথযাত্রা। মহাপ্রভু প্রতিবছর তাঁর পার্ষদবৃন্দকে নিয়ে রথানুষ্ঠানে নৃত্য ও কীর্তন করতেন। কেবল ভগবানের শ্রীরথদর্শনে এতই মঙ্গলময় যে, যা আমাদের অনেক জন্মে উৎপন্ন পাপকর্মরাশি মোচন করতে পারে। প্রভু জগন্নাথের রথের দঁড়ি টানার মাধ্যমে ভক্তগণ শ্রীকৃষ্ণকে বৃন্দাবনে চড়ানো ও শ্রীমতি রাধারানীকে বৃন্দাবনে চড়ানোর মতো কার্য নিষ্পন্ন করতে পারেন।
রথযাত্রায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কৃপাশীর্বাদ লাভ হয় তা অশেষ। যেমন- শ্রীজগন্নাথ দর্শনে বিশেষ করে তাঁর গোলাকার পদ্মস্বরূপ বৃহৎ চক্ষুদ্বয় দর্শনের ফলে পলকেই শুদ্ধতা লাভ করবে এবং তার পারমার্থিক ঊর্ধ্বোগতি তৎক্ষণাৎ শুরু হবে। কেউ যদি রথ আসতে দেখে দাঁড়িয়ে ভগবান দর্শনের জন্য অপেক্ষা করে তাহলে সে দেহোৎপন্ন সকল পাপ হতে যুক্ত হয়। কেউ যদি রথে বিগ্রহকে সামনে বা পিছন হতে অতিক্রম অবস্থায় দর্শন করে তাহলে যে শ্রীবিষ্ণুসময় ঐশ্বর্য্য লাভ করবে এমনকি সে নীচু বংশোদ্ভূত হলেও। রথ শোভাযাত্রায় শুধুমাত্র নামকীর্তন ও নৃত্যকীর্তন করার মাধ্যমে কেউ তার আত্মকে ধ্যানে করেও করা যায় না।
কেউ যদি এ রথপর্ব কর্মযজ্ঞকে সার্থক করার জন্য কোনো কার্য নিষ্পন্ন করে তাহলে সে অবশ্যই পূর্ণ কৃপা লাভ করবে। কেউ যদি তার সময় ও শ্রম ব্যয় এবং অর্থ ভগবানের সেবায় দান করে তাহলে তার পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব সর্বতোভাবে কৃপাপুষ্ট হবে। যদিও কেউ মনে করতে পারে এ ধরনের কথাবার্তা অতিরঞ্জিন কিন্তু অভিজ্ঞ যারা আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের জটিলতাসমূহ জানে তাদের এ বিষয়ে কোনো রূপ সন্দেহ থাকে না।
সূত্র: www.newsgrom.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here