মাংস গ্রহণ ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়

0
202

সূত্রঃ ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট- সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অন্তর্ভূক্ত আমেরিকান গবেষকেরা তাঁদের এক গবেষণায় বলেছেন যে সকল মানুষ প্রচুর পরিমাণে লাল মাংস এবং কৃত্রিম উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা মাংস গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার যেমন ফুসফুসের ক্যান্সার ও মলদ্বারের ক্যান্সারের মত ভয়ানক মরণব্যাধির ঝুঁকি বেশি। এই প্রথম তাঁরা বিশাল গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, মাংস গ্রহণ ক্যান্সারের অন্যতম একটি কারণ। এই গবেষণার কাশ মাধ্যমে আরও জানা যায় যে, প্রচুর পরিমাণে মাংস খাওয়ার ফলে লিভার, কণ্ঠনালীর ক্যান্সার এমনকি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। মাংস দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধকারী কোষগুলোকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে ফেলে। ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের প্রধান ডাঃ অ্যামান্ডা ক্রোস ও তাঁর সঙ্গীগন এই গবেষণার উপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে এবং “PLOS MEDICINE” নামক পাবলিক লাইব্রেরীর এক বিজ্ঞান জার্নালে প্রতিবেদনটি করে।  উক্ত গবেষকগণ,

American Association for Retried Person ফর রিটায়ার্ড পারসন (AARP) সংগঠনটির পাঁচ লক্ষ মানুষ যাদের বয়স ৫০ থেকে ৭১ এর মধ্যে তাদের খাবার প্রণালী ও স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা সম্পাদন করেন। ৮ বছর পর তাদের মধ্যে ৫৩, ৩৯৬ জন মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। গবেষকরা লিখেছেন, “পরিসংখ্যান মতে দেখা গেছে যে যারা লাল মাংস বেশি খান তাদের ফুসফুস, লিভার ও অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে (২০-৬০)% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া যারা তাদের মাংস অর্থাৎ কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মাংস গ্রহণ করেন তাদের মলদ্বারের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। লাল মাংস যারা ভক্ষন করেন তাদের ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্ভাবনা ১৬% পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়া লাল মাংস গ্রহণ আমাদেরকে ক্যান্সার ছাড়াও অন্যান্য মারাত্মক রোগের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়া ধুমপান করলেও রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ।

এছাড়া গবেষকরা আরোও বলেছেন যে লাল মাংস গ্রহণে গ্যাসট্রিক, মূত্রথলির ক্যান্সার, লিউকোমিয়া, মেলানোমা প্রভৃতি রোগ হতে পারে। লাল মাংস বলতে সকল রকমের গরু, ছাগল, ভেড়া, শূকর ইত্যাদি পশুর মাংসকে বোঝায়। প্রক্রিয়াজাত বা কৃত্রিম উপায়ে প্রস্তুত মাংস বলতে জারিত শূকরের মাংস, লাল মাংসের কাবাব, হটডগ, হ্যামবার্গার, এবং সকল প্রকারের ফাস্টফুডকে বোঝায়।

এছাড়া গবেষকরা বলেছেন যে, মাংস খেলে মানুষ অত্যাধিক মোটা এবং দূর্বল হয়ে পড়ে। মাংসে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিতে সহায়ক হয়। উদাহরণস্বরূপ মাংসে নাইট্রোসো কম্পাউন্ডস (NOCs) হেট্রোসাইক্লিক অ্যামাইনস এবং পলিসাইক্লিক-অ্যারোমেটিক (HCAs) এবং হাইড্রোকার্বনস (PAHs) থাকে যা মানুষের ডিএনএ (ঊূই) এর বিকৃতি ঘটায়।

এছাড়া ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির জেনাইন জেনকিনজার এবং কানাডার মনট্রিয়েল ইউনিভার্সিটির অনিতা কৌশিক অন্য আর একটি গবেষণায় উপরিউক্ত একই ফলাফল পেয়েছেন। তারা মন্তব্য করেন “মাংস খাওয়ার ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে তা সারা বিশ্বব্যাপী একশ’র ও বেশি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।”

তাছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বার্ড-ফ্লু মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করছে। সুতরাং মুরগী, ছাগল, ইত্যাদি পশু-পাখির মাংস গ্রহণ করলে মানুষেও ক্যান্সারসহ বার্ড-ফ্লু ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


 

চৈতন্য সন্দেশ ফেব্রুয়ারী ২০২২ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here