বিনোদনের ব্রহ্মাস্ত্র

0
37

ব্রহ্মাস্ত্র-অস্ত্র এবং চলচিত্র, এই দুটিতে বাহ্যতঃ কোন সাদৃশ্য নেই। এদের মধ্যে একটি হলো আসল, আর অন্যটি হলো উদ্দেশ্য বা বিষয়সূচী সম্বলিত জববষ (চলচিত্র)। উদ্দেশ্য বা বিষয়সূচীটি কি? সেটি হল: সচেতন বা অবচেতনভাবে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বা স্বার্থান্বেষণ। চলুন দেখা যাক প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক প্লেটো অভিনেতা ও শিল্প সম্পর্কে কি বলেছেন, যা চরিত্র ধারণ করতে পারে না, একজন অভিনেতা যে চরিত্রে অভিনয় করেন তা তার নিজের চরিত্রকেই ধ্বংস করে দেয় এবং সেই ধ্বংসাবশেষ কখনোই সেই ব্যাক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত¦ নয়। এ ধরনের মানুষ সেই চরিত্রটি অভিনয় বা যাপন কোনটাই করতে পারে না। শিল্প কখনো দর্শন ও ধর্মের সমপর্যায়ভুক্ত হতে পারে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিল্প এই দুটিকে বিকৃত করতে পারে। শিল্প এবং শিল্পী বিষয়ে ধর্মশাস্ত্রে কি বলা আছে? চানক্য পণ্ডিত অর্থ শাস্ত্রে বলেছেন যে, বিনোদনের বিনিময়ে শিল্পীদের শুধুমাত্র তাদের ন্যায্য পাওনাটুকুই দেয়া উচিত। তাদের বিশেষ কোনো পদ দেওয়া উচিত নয়। কারণ বিশুদ্ধ বিনোদন ছাড়া তাদের আর কোন পদ নেই। রাজার প্রতি সাধারণ শাস্ত্র উপদেশ হলো, অভিনেতা (নট-নটি) এবং গায়কদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে এমনকি জনগনের থেকেও।
যখন “বিনোদনের জগৎ”, “পরামর্শদাতা ও সমাজ প্রভাবকদের জগতে” পরিণত হয় তখন তারা সমাজকে উন্নতির বদলে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। অবশ্যই কেউ বিনোদন ছাড়া বাঁচতে পারে না। বিনোদন শিল্প মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের মাতলামির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের জীবনে অবশ্যই পারিপাশির্^কের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে এবং তার অর্থ হল প্রগতিশীল জীবনধারাকে আপস না করেই ঐতিহ্যকে বজায় রাখা। ব্রহ্মাস্ত্র হচ্ছে সবচেয়ে ধ্বংসাত্বক এবং ভয়াবহ অস্ত্র। এটি যে কাউকে দেওয়া হয় না। অশ্বথামা তপস্বী না হওয়াতে তিনি তা লাভ করতে পারেননি। এ ধরণের অস্ত্র প্রত্যেকের হাতে কল্পনাই করা যায় না। সেভাবে বিনোদনের ব্রহ্মাস্ত্র অত্যন্ত ভয়ংকর, যদি তা সাবধানতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়। বলিউড এই ব্রহ্মাস্ত্রটি একেবারে শুরু থেকে না হলেও শুরুর কিছুটা পরেই এতই দায়িত্বহীনতার সাথে পরিচালনা করে, যা ভারতীয় এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারণা ও নীতির অশেষ ক্ষতি সাধন করে। বর্তমানে এই ইন্ডাস্ট্রি বিশে^ ব্যাপক সমালোচনার শিকার হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই জন্য শুধুমাত্র সচেতনই নয়, বরং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। তারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে দায়ী করছে যে, এটি অভিনেতাদেরকে সাধারণ মানুষ থেকে পূজ্য দেবতার স্তরে তুলে নিচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ জনগণ তাদের প্রশংসার বদলে উত্তম-মধ্যম দিচ্ছে / প্রহার করছে। কিন্তু তারা কেন এর নিন্দা জানাচ্ছে যখন তাদের অনুসারীদেরকে তীব্র মাত্রায় প্রশংসা করা থেকে তারা বিরত আছে।


মাসিক চৈতন্য সন্দেশ অক্টবর ২০২২ হতে প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here