এই পোস্টটি 90 বার দেখা হয়েছে
গত সংখ্যার পর : (রিচার্ড এল. থম্পসন এর এলিয়েন আইডেন্টিটি অবলম্বনে)
১৯৪০ এর শেষভাগের এক ঘটনা। দুর্গা যাদব নামক এক ভারতীয় ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহ যাবদ টাইফয়েড রোগে ভুগছিলেন। হঠাৎ একদিন কয়েক ঘন্টা ধরে তার সম্পূর্ণ শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এতে ডাক্তাররা এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভাবলেন যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে দুর্গা যাদব পুনরায় বেঁচে উঠলেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের এক আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। তিনি বললেন বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় এক সময় তার কাছে দশজন অদ্ভুত লোক এল। তারা তাকে টেনে হেঁচড়ে কোথাও নিয়ে যেতে চাইল। তিনি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে চাইলে সেই অদ্ভুত লোকেরা তার পা কেটে দিল।
এবার তাকে এমন এক স্থানে নিয়ে যাওয়া হল যেখানে আরো ৪০ থেকে ৫০ জন লোক বসেছিলেন। সেই লোকগুলো তাদের কাগজের দিকে তাকিয়ে বুঝলেন যে, ভুল ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা যাদবকে চলে যেতে বললে তিনি তাদেরকে তার কাটা পা দেখালেন। তারপর তারা কয়েক জোড়া কাটা পা দেখালে দুর্গা যাদব নিজের কাটা পাটি চিনতে পারলেন। তারপর তার পাখানি পূর্বাবস্থায় জোড়া লাগানো হল। এরপর অনুচরেরা তাকে আবার নিয়ে এসে শরীরে প্রবেশ করালেন। উপরোক্ত ঘটনাবলী ঘটা অবস্থায় দুর্গা যাদবের শরীর বিছানায় পড়ে ছিল। কিন্তু তারই এক সত্ত্বা উক্ত অজানা ব্যক্তিদের আকর্ষনে শরীরের বাইরে এসে সমস্ত ঘটনা প্রত্যক্ষ করল। পূর্ব চেতনায় ফিরে আসার পর তিনি যখন তার বোন এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের জানালেন যে, তার পা কাটা হয়েছিল। তখন তারা লক্ষ্য করলেন যে, সত্যিই তার সেই পায়ে গভীর ক্ষত আছে।
১৯৭৯ সালে তার এক্সরে করা অবস্থায়ও সেই দাগ পর্যবেক্ষণ করা গেছে তবে ১৯৮১ সালে করা তার এক্স-রে রিপোর্টে পরবর্তীতে আর সেই দাগ পরিলক্ষিত হয়নি। শরীরের ভেতরে থাকা নিজের অপর সেই সত্ত্বার প্রভাব জড়শরীরেও প্রত্যক্ষ হতে পারে যা আমরা উক্ত ঘটনাবলী থেকে দেখলাম। এছাড়া ইয়ান স্টিভেনসন নামক বিজ্ঞানী প্রায় ২০০ জন শিশুর কেস লিপিবদ্ধ করেছেন যাদের পূর্বজন্মের ঘটনা অনুসারে বর্তমান জন্মে বিভিন্ন জন্মদাগ কিংবা অন্যান্য সত্যতা পরিলক্ষিত হয়েছে। দুর্গা যাদব, মঙ্গল সিং এর মতো আরো ১৬ জন ব্যক্তির NDE এর ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন সাওয়ান্থ পাসরিচা এবং ইয়ান স্টিভেনসন। ভারতীয় উপমহাদেশীয় এবং পাশ্চাত্যে যে সকল ঘটনা ঘটেছে তাতে অনেকাংশে মিল পরিলক্ষিত হয়। যেমন ভিন্ন কোন প্রাণী বা এলিয়েনের দ্বারা ভিকটিম ব্যক্তিটি শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রভাবিত হন। এছাড়া জড় শরীরের বাইরে অন্য এক ভিন্ন দেহে পৃথিবীর বাইরে কোন এক অজানা অঞ্চলে তাদের পরিভ্রমনের অভিজ্ঞতা হয়। কিন্তু এই এলিয়েন কিংবা ইউএফও রহস্যের সমাধান কোথায়?
বৈদিক শাস্ত্র মতে, প্রতিটি জীবের পুনর্জন্ম হয় এবং আত্মা মৃত্যুর পর এক দেহ থেকে অন্য দেহে গমন করতে পারে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন যে, আমরা যেমন জীর্ণ পোশাক ছেড়ে নতুন পোশাক পরিধান করি তেমনি জীব মৃত্যুর পর জীর্ণ শরীর ছেড়ে নতুন শরীর গ্রহণ করে। অধিকাংশ এলিয়েনের ঘটনা ঘটেছে প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে।
এছাড়া বৈদিক শাস্ত্রানুসারে জানা যায় যে, মানুষের জড় দেহের বাইরে এক সূক্ষ্ম দেহ রয়েছে। মৃত্যুর পর কর্ম অনুসারে সেই ব্যক্তি এই সূক্ষ্ম দেহের মাধ্যমে কর্মফল ভোগ করতে পারে। এছাড়া বৈদিক শাস্ত্র মতে আমাদের কর্মফলের হিসাব সংরক্ষিত থাকে যমরাজের কাছে। যমরাজের অনুচরদের বলা হয় যমদূত। সেই যমদূতগণ মৃত্যুর পর মানুষের সূক্ষ্মদেহকে নিয়ে যায় যমলোকে। যমলোকে তাদেরকে কর্মফল অনুসারে শাস্তি বা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া যমলোকে চিত্রগুপ্ত মানুষের প্রতিটি কর্মের ফল লিপিবদ্ধ করে থাকেন। শ্রীমদ্ভাগবতমে খুব স্পষ্টভাবে ও বিস্তৃতভাবে এই সব ঘটনার বর্ণনা লিপিবদ্ধ আছে। অতএব, এলিয়েন থিওরীর সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈদিক শাস্ত্রের উক্ত বর্ণনাগুলো হুবহু মিলে যায়। সেই যমদূতদের আমরা এলিয়েন বলতে পারি কেননা বৈদিক শাস্ত্রের বর্ণনা মতে এরাও এক অদ্ভুদ জীব।
এলিয়েন আক্রমনের পর ভিকটিম মানুষটি সূক্ষ্ম দেহে কিংবা সরাসরি তার দেহে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হন। বৈদিক শাস্ত্রেও এমন ঘটনার কথা পূর্বেই লিপিবদ্ধ হয়েছে। ভাগবত পুরাণে বর্ণিত হয়েছে এমন এক অদ্ভুদ সিদ্ধির কথা যার মাধ্যমে কোন ব্যাক্ত তার জড় দেহ থেকে বের হয়ে সূক্ষ্মদেহ তথা আত্মারূপে অন্য কোন ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করতে পারে। মহাভারত অনুসারে, কলুশ্বপদ নামে এক রাজা একসময় শক্তি নামক এক মুনির সাথে ঝগড়া করেন। শক্তি ছিলেন বিখ্যাত মুনি বশিষ্টের পুত্র।
শক্তি রাজাকে অভিশাপ দিলেন যে তিনি নরখাদক হবেন। পরবর্তীতে রাজা তার রাজ্যে ফিরে গেলে বিশ্বমিত্র মুনি এক রাক্ষসকে নির্দেশ দিলেন রাজাকে আক্রমণ করার জন্য। মুনির অভিশাপের কারণে সেই রাক্ষস রাজার হৃদয়ে প্রবেশ করে তাকে পরিচালনা করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে রাজা একের পর এক মানুষ খেতে লাগলেন সেই রাক্ষসের কারণে। অধিকাংশ পারমার্থিক বা ধর্মীয় উচ্চতর অবস্থিতির ক্ষেত্রেও বহু অদ্ভুদ ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। নরোত্তম নিয়মিত ধ্যান করত তার সিদ্ধ দেহের যেটি গোলক বৃন্দাবনে নানারকম পারমার্থিক সেবা করত। একদিন তিনি ধ্যানে দেখলেন যে, তিনি স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য দুধ গরম করছিলেন। পারমার্থিক রাজ্য ভগবান এবং ভক্তের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। যখন তিনি উচ্চতর ভগবদ্ স্থিতিতে থাকাবস্থায় তিনি দুধ গরম হয়েছে কিনা তা দেখতে চাইলেন। গরম দুধে হাত দেওয়ায় তার হাত পুড়ে গেল। এরপর ধ্যানভঙ্গ হলে তিনি আবিস্কার করলেন যে, সত্যিই তার হাতের আঙ্গুল পুড়েছে। এছাড়া একবার বৈষ্ণবাচার্য শ্রীনিবাস ঠাকুর ধ্যানাবস্থায় ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে একটি মালা গলায় পড়িয়ে দিয়েছিলেন। মহাপ্রভু এতে মুগ্ধ হয়ে সেই মালাটি শ্রীনিবাসের গলায় পড়িয়ে দেন। বাহ্যিক চেতনা ফিরে আসার পরও তিনি দেখলেন যে, সেই অপূর্ব সুগন্ধিযুক্ত অপ্রাকৃত মালাটি তখনও তার গলায় শোভা পাচ্ছে।
বৈদিক শাস্ত্রাদি আরো গভীরভাবে অধ্যয়নের মাধ্যমে এলিয়েন রহস্য সম্পর্কে আরো জানা সহজ হবে। কেননা সমস্ত রহস্যের সমাধান পাওয়া যায় বৈদিক শাস্ত্রে। ভবিষ্যতে হয়তো বা বিজ্ঞানীরা বৈদিক শাস্ত্রের সূত্রের আলোকে আরো নব নব রহস্যের দ্বার উন্মোচন করবেন। হরে কৃষ্ণ।
