হারানো প্রযুক্তি : বৈদিক বিমান !

0
48

এলিয়েন ও ফ্লাইং সসার (শেষ পর্ব)

বৈদিক বিমান আমাদের সম্মুখে উন্মোচন করছে এক অতিপ্রাকৃত বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ যা এখনো আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ।

সদাপূত দাস

মহাভারত এবং ভাগবত পুরাণে শাল্বের বিমান সম্পর্কে উল্লেখ আছে। এটি একটি সামরিক উড্ডয়নী যন্ত্র যা সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র বহন করতে সক্ষম। শাল্ব এটি অধিগ্রহণ করেছিলেন প্রযুক্তিবিদ্যায় সুদক্ষ ময়দানবের কাছ থেকে। পুরাণে এমন অনেক ছোট বিমানের কথা উল্লেখিত হয়েছে যাতে কেবল একজন যাত্রী – অবস্থান করতে  পারেন। এই প্রকারের বিমানসমূহ তৎকালীন সময়ে দেবতা এবং উপদেবতাদের দ্বারা ব্যবহৃত হত, তবে মানুষের পক্ষে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না।
বৈদিক সাহিত্যের বিভিন্ন স্থানে বিমানের কথা উল্লেখ আছে। এখন আমরা জানব দুটি ঘটনার কথা। প্রথমটিতে কৃষ্ণ অজগরের মত এক সাপকে হত্যা করে যে তাঁর পিতা নন্দ মহারাজকে গলাধকরণ করতে চেয়েছিল। কৃষ্ণ কৃপায় সে বিদ্যাধর নামক এক দৈব শরীর লাভ করে। কৃষ্ণ যখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন কেন তিনি এই সপ দেহ লাভ করেছেন, তখন তিনি বললেন,
“সৰ্প বললেন- আমি সুদর্শন নামে সুপরিচিত একজন বিদ্যাধর। রূপ-ঐশ্বর্য বিশিষ্ট আমি, ব্যক্তিগত বিমানযোগে চতুর্দিকে স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করতাম। একবার আমি অঙ্গিরা মুনির গোত্র জাত কয়েকজন বিকৃতরূপ ঋষিদের দর্শন করে নিজ-রূপ গর্ব-বশত উপহাস করেছিলাম আর আমার সেই পাপের জন্য তাঁরা আমাকে এই নীচ দেহ ধারণ করার অভিশাপ দেন।” (শ্ৰীমদ্ভাগবত ১০/৩৪/১২-১৩) উক্ত শ্লোকে বিমানেন্ শব্দের অর্থ হল “আমার বিমান”। সুতরাং এর দ্বারা সেই সময়কার নিজস্ব বিমানের অস্তিত্বের কথা জ্ঞাত হল। পরবর্তী ঘটনাটিও একই প্রকৃতির কৃষ্ণ একটি কুমিরের দেহ থেকে রাজা নৃগকে উদ্ধার করলেন। এরপর নৃগরাজকে নেওয়ার জন্য এক বিমান আসে ।
“নৃগরাজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রদক্ষিণ করলেন এবং শ্রীভগবানের শ্রীচরণে তাঁর মুকুট স্পর্শ করালেন। বিদায় গ্রহণের অনুমতি লাভ করে নৃগরাজ অতঃপর সমবেত সকলের সামনে একটি অপূর্ব দিব্য বিমানে আরোহন করলেন । ” (শ্রীমদ্ভাগবত ১০/৬৪/৩০)
শাস্ত্রে আরো আছে কদম মুনি বলছেন, “আমি শুনেছি যে, আপনার কন্যা যখন প্রাসাদের ছাদে কন্দুক নিয়ে খেলা করছিল, তখন তাঁর নূপুরের শব্দে তাঁর সৌন্দর্য আরও অধিক শোভাযুক্ত হয়েছিল এবং কন্দুকের প্রতি নিবদ্ধ তাঁর দৃষ্টি চঞ্চল হয়েছিল, তখন বিশ্বাবসু নামক গন্ধর্ব তাঁকে দর্শন করে, সম্মোহবশত বিমূঢ় চিত্ত হয়ে তাঁর বিমান থেকে পড়ে গিয়েছিলেন।” (ভাগবত- ৩/২২/১৭)
বিশ্বাবসুর বিমানটি ছিল একজন যাত্রী বিশিষ্ট। হয়তোবা তার যথাযথ সিট বন্ধনী ছিল না, তিনি দেবাহুতিকে দর্শনের জন্য এত বেশি ঝুঁকে পড়েছিলেন যে সেই বিমান থেকে পতিত হয়েছিলেন। দেবাহুতিকে বিবাহের পর একসময় কদম মুনি চাইলেন যে তাঁকে সমগ্র বিশ্ব দেখাবেন। তখন তিনি যোগবলে এক অত্যাশ্চর্য বিমান তৈরি করলেন। যেখানে আরাম আয়েশের সকল ব্যবস্থা ছিল। ঋষি মৈত্রেয় তার শিষ্য বিদুরকে এই ঘটনা নিম্নরূপে বর্ণনা করলেন,
“মৈত্রেয় ঋষি বললেন- হে বিদুর! তাঁর প্রিয় পত্নীর প্রীতি সাধনের উদ্দেশ্যে কর্দম মুনি তাঁর যোগ-শক্তি প্রয়োগ করে, তৎক্ষণাৎ ইচ্ছা অনুসারে গমনশীল এক প্রাসাদ-সদৃশ বিমান সৃষ্টি করেছিলেন। সেইটি ছিল সব রকম রত্নে খচিত, মণি-মাণিক্যের স্তস্তে শোভিত এবং সমস্ত বাসনা পূরণকারী এক আশ্চর্যজনক প্রাসাদ। সেইটি সব রকম আসবাবপত্র এবং ঐশ্বর্যের দ্বারা সুশোভিত ছিল, যা কালক্রমে ক্রমশ বর্ধনশীল ছিল। সেই প্রসাদটি সর্বপ্রকার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দ্বারা সুসজ্জিত ছিল এবং তা সর্ব ঋতুতে সুখদায়ক ছিল। তার চারদিকে পতাকা, পট্টিকা এবং বিভিন্ন বর্ণের শিল্পকলা দ্বারা সজ্জিত ছিল। তা সুন্দর পুষ্প-মালায় সুসজ্জিত ছিল, যার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মধুকরেরা গুঞ্জন করছিল, এবং তা দুকূল, ক্ষেমৈ, কৌশেয় প্রভৃতি নানাবিধ বস্ত্রের দ্বারা সুসজ্জিত ছিল। সেই প্রাসাদে উপর্যুপরি বিরচিত সাতটি তলায় স্থানে স্থানে শয্যা, পালঙ্ক, ব্যজন ও আসনাদির দ্বারা সুসজ্জিত থাকায়, তা অত্যন্ত মনোহর প্রতিভাত হয়েছিল। সেই প্রাসাদের দেয়ালগুলি নানাবিধ শিল্প-কার্যের দ্বারা ভূষিত থাকায়, তার শোভা আরও বর্ধিত হয়েছিল। সেই প্রাসাদের মেঝে ছিল মরকত মণির দ্বারা রচিত, এবং সেখানে প্রবাল দ্বারা রচিত বেদিসমূহ বিরাজ করছিল। প্রবাল নির্মিত দ্বারদেশ এবং হীরক খচিত কপাট-সমন্বিত হওয়ায়, সেই প্রাসাদ অত্যন্ত সৌন্দর্যমণ্ডিত ছিল। ইন্দ্রনীল মণি রচিত প্রাসাদের চূড়ায়, স্বর্ণ-কুম্ভসমূহ মুকুটের মতো শোভা পাচ্ছিল । হীরকময় দেওয়ালে শ্রেষ্ঠ পদ্মরাগ মণিসমূহ খচিত থাকায়, মনে হচ্ছিল যেন তারা চক্ষুষ্মান। তা বিচিত্র চন্দ্রাতপের দ্বারা সজ্জিত ছিল এবং তাতে বহুমূল্য সোনার তোরণ ছিল। সেই প্রাসাদে ইতস্তত বহুজীবন্ত হংস এবং পারাবত ছিল এবং বহু কৃত্রিম হংস ও পারাবতও ছিল, যেগুলিকে দেখতে এতই জীবন্ত বলে মনে হত যে, প্রকৃত জীবন্ত হংস ও পারাবতের ঝাঁক সেইগুলিকে তাদেরই মতো জীবন্ত পক্ষী বলে মনে করে, তাদের উপর বার বার উড়ে বসতো এবং তার ফলে সেই প্রাসাদ পক্ষীর কলরবে মুখরিত ছিল। সেই প্রাসাদের ক্রীড়াস্থল, বিশ্রাম কক্ষ, শয়ন কক্ষ, প্রাঙ্গণ এবং বহিরাঙ্গন এমন আরামদায়কভাবে সজ্জিত ছিল যে, তা স্বয়ং কর্দম মুনিরও বিস্ময় উৎপাদন করেছিল।” (ভাগবত ৩/৩০/১২-২১) এই সাধু নিজেই বিস্মিত হয়েছিলেন কেননা প্রকৃতপক্ষে এই বিমানের নকশা তিনি করেন নি। যেহেতু তার পূণ্যকর্ম ও যোগের ফল ছিল তাই তিনি তা দিয়ে ব্রহ্মাণ্ডের সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে এই সুবিধাদি লাভ করেছিলেন। তার ভ্রমণ কেমন ছিল? “তাঁর পত্নী কর্তৃক সন্তুষ্ট হয়ে, তিনি সেই বিমানে কেবল মেরু পর্বতেই নয়, বৈশ্রস্তুক, সুরসন, নন্দন, পুষ্পভদ্রক ও চৈত্ররথ্য প্রভৃতি উদ্যানে এবং মানস সরোবরে আনন্দ উপভোগ করেছিলেন। বায়ু যেমন অপ্রতিহতভাবে সর্বত্র বিচরণ করতে পারে, ঠিক সেইভাবে তিনি বিভিন্ন লোকে বিচরণ করেছিলেন। তাঁর সেই অত্যন্ত শ্রেষ্ঠ, দীপ্তিশালী এবং ইচ্ছানুসারে গমনশীল বিমানে চড়ে তিনি যখন গগন-মার্গে বিচরণ | করছিলেন, তখন তিনি দেবতাদেরও অতিক্রম করেছিলেন।” (ভাগবত-৩/২৩/৪০-৪১)
দেবতাদেরকে এখানে বৈমানিকনরূপে বর্ণনা করা হয়েছে অর্থাৎ ‘যারা বিমানে ভ্রমণ করেন’। কদম মুনির বিমানে একজন পারদর্শী বৈমানিক ছিল। কম্পিউটার প্রযুক্তির ভাষায় যদি বৈদিক দর্শন বিচার করি তবে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডটি একটি বিশাল সমপ্রকৃতির সংস্থা বা প্রোগ্রাম। পরম নিয়ন্তা হলেন এর প্রকৃত মহাবিশ্ব সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রক। এই সিস্টেমে ক্রমানুসারে বিভিন্ন অবস্থান বা মর্যাদা অনুসারে বিভিন্ন জীবসত্তা রয়েছে। একজন সুপার ইউজার এই সার্বজনীন প্রোগ্রামটি রচনা করেছেন। মনুষ্য পর্যায়েও জীব বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্ষমতার অধিশ্বর হতে পারে। ঠিক যেমন কর্দম মুনি উচ্চতর পারমার্থিক স্থিতিতে অবস্থিত থাকায় বিপুল শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পেরেছিলেন। যখন কেউ কোন বিশেষ ক্ষমতার অধিশ্বর হয় তখনই সে সেই শক্তিমত্তা সম্পর্কে সম্যক জানতে পারে, আর যদি কেউ সেই ক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম না হয় তবে সে সেগুলোকে অসম্ভব এবং পৌরাণিক বলে মনে করে। আমাদের বর্তমান অবস্থাও ঠিক সেই রকম, যেহেতু বর্তমান যুগের মানুষেরা সেই প্রাচীন অসীম শক্তিমত্তা অর্জন করার যোগ্যতা সম্পন্ন নয়, তাই তারা অনেক সময় বৈদিক শাস্ত্রের অনেক বিষয় যেমন বৈদিক বিমান কিংবা তীর অস্ত্রের অসীম ক্ষমতা শুধুমাত্র কল্পনাপ্রসূত কিংবা পৌরাণিক গল্প বলে মনে করে।
মহাবৈশ্বিক প্রোগ্রামে পরিচালিত এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বিমান একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিমান সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রয়েছে। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীনারায়ণের নামে রয়েছে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কবচ যার নাম ‘নারায়ণ কবচ’। একবার কৌশিক নামক এক ব্রাহ্মণ নারায়ণ কবচ ধারণ করে মরুপ্রদেশে যোগবলে দেহত্যাগ করেন।
“ব্রাহ্মণ যে স্থানে তাঁর দেহত্যাগ করেছিলেন, গন্ধর্বরাজ চিত্ররথ এক সময় বহু সুন্দরী রমণী পরিবৃত হয়ে, বিমানে করে সেই স্থানের উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। চিত্ররথ হঠাৎ অধোমস্তক হয়ে তাঁর বিমান সহ আকাশ থেকে নিপতিত হয়েছিলেন। তারপর বালিখিল্য ঋষির নির্দেশ অনুসারে তিনি সেই ব্রাহ্মণের অস্থিগুলি পূর্ববাহিনী সরস্বতী নদীতে নিক্ষেপ করে তাতে স্নান করেছিলেন। তারপর তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে তাঁর ধাম গন্ধর্বলোকে গমন করেছিলেন।” (ভাগবত-৬/৮/৩৯-৪০)
এই ঘটনার দ্বারা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে চিত্ররথের বিমানের কন্ট্রোল সিস্টেমে গোলযোগ সাধনে সক্ষম এই নারায়ণ কবচ। তৎকালীন বিমানসমূহ যে সেনা কিংবা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হত তার একটি উদাহরণ দেখা যায় দৈত্যরাজ বলির একটি ঘটনায়। ময়দানবের তৈরিকৃত বিমান যেটি শাল্বের ছিল সেটির মত একটি বিমান ছিল বলি মহারাজের। এই বিমানটি ব্যবহৃত হয় দেবতা ও দৈত্যদের যুদ্ধের প্রাক্কালে ।
“সেই যুদ্ধে প্রসিদ্ধ সেনাপতি বিরোচনের পুত্র বলি বৈহায়স নামক এক অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিমানে উপবেশন করেছিলেন। হে রাজন, সেই অতি সুন্দরভাবে সজ্জিত বিমানটি ময়দানব নির্মাণ করেছিল এবং তা সর্বপ্রকার যুদ্ধের উপযুক্ত অস্ত্র সমন্বিত ছিল। সেই বিমানটি ছিল অচিন্ত্য এবং অবর্ণনীয়। তা কখনও দৃশ্য এবং অদৃশ্য ছিল। সেই বিমানে এক সুন্দর ছত্রের নিচে অসুর সেনাপতিদের দ্বারা পরিবেষ্টিত বলি মহারাজকে শ্রেষ্ঠ চামরের দ্বারা ব্যজন করা হচ্ছিল, এবং তখন তাঁকে ঠিক সর্বদিক আলোকিত করে সন্ধ্যাবেলায় উদীয়মান চন্দ্রের মত মনে হচ্ছিল।” (ভাগবত-৮/১০/১৬-১৮)
এছাড়া বিমানের আরেকটি উদ্ধৃতি পাওয়া যায় দক্ষ যজ্ঞের সময়। ভগবান শিবপত্নী সতী চেয়েছিল তার পিতা দক্ষের যজ্ঞে অংশগ্রহণ করার জন্য, “হে অভব, হে নীলকণ্ঠ ! কেবল আমার আত্মীয় স্বজনেরাই নয়, অন্য রমণীরাও সুন্দর অলঙ্কার এবং বেশভূষায় বিভূষিতা হয়ে, তাঁদের পতি এবং বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে যাচ্ছেন। দেখুন, তাঁদের শ্বেত বিমানসমূহ কিভাবে সমস্ত আকাশকে সুশোভিত করেছে।” (ভাগবত-৪/৩/১২)
সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বৈদিক যুগে দেবতা এবং উপদেবতাদের ভ্রমণের আদর্শ উপায় ছিল বিমান । হিরণ্যপুর: উড়ন্ত নগর ওয়াডেলি স্টিভেনস UFO এর উৎপত্তি নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন ব্রাসেলসের ল্যাবরেটোরি ডি রিসাচি এ ক্রানিম এ। এই গবেষণার উপসংহারে বলা হয় যে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এক পর্যায়ে উপনিত হওয়ার পর কোন এক সভ্যতা তাদের নিজ গ্রহ ত্যাগ করে একটি বিশাল ‘mother-ships’ তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করে। এটি হল একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বিশাল যান অর্থাৎ এটি সেই প্রযুক্তিগণ উন্নত জীবের জন্য একটি পৃথিবী যেখানে তাঁদের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে সবকিছুর সুন্দর ব্যবস্থাপনা করেছে। মহাকাশে উড্ডয়মান এই বিশাল যান অনির্দিষ্ট কালের জন্য ভ্রমণ করতে থাকে ।
মহাভারতেও এই প্রকারের স্বনির্ভর উড্ডয়মান নগরের কথা উল্লেখ আছে যা মহাকাশে অসীম সময় ধরে ভ্রমণ করতে পারে। এর প্রথম উদাহরণ হল উড়ন্ত নগর হিরণ্যপুর। এই উড়ন্ত নগরটি প্রথম প্রত্যক্ষ দর্শন করেন অর্জুন। যখন তিনি একটি বৃহৎ যুদ্ধে নিবটকাবচকে পরাজিত করার পর মহাকাশ পথে ভ্রমণ করছিলেন। অর্জুনের সাথে সেই ভ্রমণে সহযোগী ছিলেন একজন দেবতা যার নাম ছিল মাতালী এবং তিনি অর্জুনকে সেই নগর সম্বন্ধে বলেছিলেন। মাতালী বললেন, “একসময় পুলমা নামে এক দ্বৈত নারী এবং এক অসুরী কালাকেয় ছিলেন, যারা বহু বছর ধরে তপস্যা করেন। অবশেষে তাদের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান তাদের বর দিতে চাইলেন। তারা বর চাইলেন যে তাদের বংশধরেরা যেন কোন দুর্দশা লাভ না করে, তারা যেন ইন্দ্রের মত রাজার জীবন নির্বাহ করতে পারে এবং দেবতা, রাক্ষস কিংবা সর্পরা যেন কোনভাবেই তাদের কোন ক্ষতি করতে না পারে। তারপর শূন্যে ভাসমান এই নগর তৈরি হল যাতে সকল প্রকারের মূল্যবান পাথর রয়েছে এবং এই নগর অমর জীব, যক্ষ, গন্ধর্ব, সর্প, অসুর, রাক্ষসদের কাছে দুর্ভেদ্য । এখানে সকল সদগুণ রয়েছে, এখানে কোন দুঃখ কিংবা রোগ নেই । কালাকেয়র জন্য ব্রহ্মা এটি তৈরি করেছিলেন। অমর জীবগণ এই উড়ন্ত নগরটি পরিহার করে চলেন যেটি জনসংখ্যায় ভরিয়ে দেন পুলমা এবং কালাকেয় অসুর। এই উড়ন্ত নগরের নাম হিরণ্যপুর, তথা স্বর্ণনগর।”
এই নগরের অধিবাসীদের বলা হয় পুলামাগণ এবং কালকেয়গণ এবং তারা দেবতাদের বিদ্রোহী আত্মীয় হিসেবে পরিচিত। এখানে অমর জীব বলতে দেবতাদের বুঝানো হয়েছে। তারা অমর কেননা তারা লক্ষ লক্ষ বছর বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু বেদ মতে এই জগতের সকল জীবের একটি নির্দিষ্ট আয়ু রয়েছে এবং সকলকে নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যু বরণ করতে হয় । যদিও ব্রহ্মা সেই উড়ন্ত বিমান তৈরি করেছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন যে কোন দেবতা কখনো এটি ধ্বংস করতে পারবে না। তবে তিনি আরো বলেছিলেন যে এই উড়ন্ত নগরটি কেবলমাত্র একজন মানুষ দ্বারা আক্রমণ করা সম্ভব।
অর্জুন হলেন অর্ধদেবতা, কেননা তার মাতা ছিলেন একজন পৃথিবীর মানুষ কিন্তু পিতা ছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র। ইন্দ্র তাকে অনেক আশ্চর্যকর দিব্য অস্ত্র প্রদান করেছিলেন যেন তিনি দেবতা ও শত্রুদের বিরুদ্ধে সেগুলো প্রয়োগ করতে পারেন। তারপর অর্জুন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি হিরণ্যপুর আক্রমণ করবেন। তিনি সাফল্যর সাথে হিরণ্যপুর আক্রমণ করতে সক্ষম হন। এখানে নানা ধরনের উড়ন্ত গোলাকার বিমানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, এগুলো অত্যন্ত উন্নত এবং এর গতি সীমাহীন।

(সূত্র: Van Buitenen, 1975, P. 549, 550)

দেবতাদের অন্তরীক্ষের ঘর

মহাভারত মতে দানবদের উড়ন্ত নগর হিরণ্যপুরের মত দেবতাদেরও একটি উড়ন্ত সমাবেশ ঘর আছে যেটি দেবতাদের সকল প্রকারের প্রশাসনিক কার্যকলাপের মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন ইন্দ্রের হল ঘর যার নাম হল শত্রুা, যেটি লম্বায় ৫ থেকে ৮ মাইল। এটি একটি স্বর্গীয় ও মনোমুগ্ধকর হলঘর যেটি ইন্দ্র নিজেই তৈরি করেন। এটি শতলঘু প্রস্থ এবং শত পঞ্চাশ দৈর্ঘ্য, শূণ্য ভাসমান। এখানে কোন বার্ধক্য, শোক কিংবা ক্লান্তি নেই, জড়া নেই, অপূর্ব কক্ষ ও আসন রয়েছে এবং এটি স্বর্গীয় মনোহর বৃক্ষ দ্বারা পরিপূর্ণ। এই হল ঘরে দেবরাজ ইন্দ্ৰ, স্ত্রী শচীসহ আসনে উপবিষ্ট থাকেন।
সাধারণত বিমানসমূহ অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে থাকে। আমরা একই ধরনের বর্ণনা দেখতে পাই দেবতাদের স্থপতি বিশ্বকর্মা কর্তৃক তৈরি যম হল ঘরের ক্ষেত্রে।
“এটি হল এমন একটি সুন্দর বাসস্থান যা ইচ্ছেমত ভ্রমণ করতে পারে, এটি কখনো জনাকীর্ণ হয় না । বহু সময় যাবৎ তপস্যা করার পর সেই তপস্যার শক্তিতে এটি নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মা। এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল । যম হল একটি বিশেষ দিক হল এটি বিভিন্ন জীবের দ্বারা জনবহুল । এটি মূলত UFO বর্ণনার সাথে মিলে যায় কেননা সেখানেও বিভিন্ন অদ্ভুত জীবের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। যমের বিমানে রয়েছে গন্ধর্ব, অপ্সরা, তপস্বী, সিদ্ধি, পিতৃ সহ নানা জীব। যেহেতু যম হলেন মৃত্যু দেবতা তাই তিনি পৃথিবীর মানুষের মৃত্যুর পর তাদের সূক্ষ্মদেহকে আকর্ষণ করে নিয়ে যান। একইভাবে পৃথিবীর অনেকের UFO বিভিন্ন বর্ণনায় দেখা যায় যে তারা এলিয়েন আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন। অনেকের দেহের বাইরে আত্মার গমনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেকে আবার যমালয়ে গিয়ে ফিরে এসেছেন।
স্টিভেন কিলবার্ন তার UFO অপহরণের ঘটনার বর্ণনায় বলেন যে ‘সেই অদ্ভুত যানটি ভেতরে বিশাল হলেও বাইরে থেকে এটিকে ছোট দেখায়। সুতরাং যম হলঘর কিংবা স্টিভেন কিলবার্ণের বর্ণিত সেই বিমানটি আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতার অতীত। বেটি অ্যান্ডারসনের বর্ণিত ঘটনায় দেখা যায় যে সেই UFO যানের ভেতর মানুষ যাত্রী থাকা সত্ত্বেও এটি আকারে ছোট হয়ে গিয়েছিল।
ব্রহ্মার আলয়টিও সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর স্থান। এখানে যারা প্রবেশ করে তাকে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, সকল চিন্তা দূর হয়ে যায়। এটি কোন স্তম্ভ দ্বারা রক্ষিত নয়। এটি সূর্যের মত স্বআলোক প্রতিফলক।
রামায়ণে রাবণের বিমানের কথাও উল্লেখ আছে। রাবণ এতই শক্তিশালী ছিলেন যে, তিনি তাঁর রাজধানীর ওপর গগণচারী প্রাসাদ তৈরি করেন। এই বিশাল ভাসমান প্রাসাদের মধ্যস্থলে ছিল পুষ্পক বিমান, যেটি মূল্যবান মণিমুক্ত দ্বারা সুন্দরভাবে সজ্জিত এবং এটি সম্পূর্ণ স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত। এই বিমানটি তৈরি করেছিলেন বিশ্বকর্মা। এটি এমনভবে নির্মিত হয়েছিল যে এটিকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। এটি স্থাপত্য বিচারে অন্যান্য বিমান অপেক্ষা সর্বশ্রেষ্ঠ। এটি কোন সাপোর্ট ছাড়া শুন্যে ভাসতে সক্ষম। এটি চালকে ইচ্ছা অনুসারে যেকোন পথ দ্রুত বেগে পাড়ি দিতে পারে।

উড়ন্ত ঘোড়া ও রথ

বৈদিক উৎস থেকে আমরা জানাতে পারি যে এক প্রকারের উড়ন্ত যন্ত্র আছে যার নাম বিমান। যেটির প্রযুক্তি এতই উন্নত যে এটি দ্রুতবেগে যেকোন স্থানে পরিভ্রমণ করতে পারে। কিন্তু এখানে আরেকটি প্রশ্ন হল কিছু কিছু বৈদিক শাস্ত্রে উড়ন্ত ঘোড়া চালিত রথের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এটি কি করে সম্ভব? যদিও আপাত দৃষ্টিতে এটি সম্ভব নয়। যে কোন প্রাণী মহাকাশে উড়তে সক্ষম নয়। কিন্তু তপস্যা ও ভক্তির দ্বারা অসম্ভব কিছুই নেই যা বিভিন্ন শাস্ত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।
অর্জুন একবার ঘোড়া চালিত রথে করে মহাকাশ ভ্রমণ করেছিলেন। যার বর্ণনায় আছে যে, তিনি ক্রমাগত উর্ধ্বদিকে এগুতে থাকলেন যেখানে কোন সূর্য কিংবা চাঁদের অস্তিত্ব ছিল না। সেই রথের ছিল নিজস্ব আলোক। সেই আলোক দিয়ে তারা দূরবর্তী জ্যোতিষ্কগুলো দেখছিলেন যেগুলোকে ছোট ছোট তারার মত দেখাচ্ছিল। অর্জুন যখন সেই জ্যোতিষ্কগুলোর মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করছিলেন তখন তারা সেখানে গন্ধর্ব, গায়কসহ নানা জীবের আনাগোনা দেখলেন এবং সেগুলো স্বআলোক উৎপাদনকারী জ্যোতিষ্ক। পূণ্যকর্মের ফলে বহু জীব এখানে পুনর্জন্মের মাধ্যমে বসবাস করতে পারে। এরপর তারা সিদ্ধি লোকে গেলেন এবং পরবর্তীতে ইন্দ্রলোকে গমন করেন। মনে হচ্ছিল যে অর্জুনের রথ একটি সুনির্দিষ্ট পথ দিয়ে মহাকাশে ভ্রমণ করছিল। বিষ্ণু পুরাণে অর্জুনের এই নির্দিষ্ট পথের বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে।
এত বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করার সময় কি ঘোড়াগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে না? এ প্রসঙ্গে বলতে হয় মহাভারতের একটি ঘটনা। চিত্ররথ নামে এক গন্ধব যার একটি অশ্বচালিত রথ ছিল তিনি একবার পাণ্ডবদের একটি বর দিয়েছিলেন। “হে মানবশ্রেষ্ট, আমি এখন আপনাদের পাঁচ ভাইকে গন্ধর্বদের দ্বারা পালিত এক শত অশ্ব প্রদান করছি। দেবতা এবং গন্ধর্বেরা একটি চিন্ময় সুভাস ক্ষরিত করেন এবং এতে অশ্বগুলো মনের বেগে চলাচলা করতে সক্ষম হয়। তারা যেকোন মুহুর্তে সেবার জন্য প্রস্তুত থাকে।”
এই ধরনের জাদুকরী অশ্বগুলো যেহেতু মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম শক্তির নিয়মে কাজ করে তাই তারা প্রাকৃত নিয়মের অতীত। অতিপ্রাকৃত বৈশ্বিক নিয়মসমূহ প্রাকৃত জগতের নিয়মের অধীন নয়। কিন্তু জড় জগতের মানুষ চাইলে সেই বিশেষ শক্তি ও ক্ষমতা লাভ করতে সক্ষম। একে বলা হয় প্রাপ্তি সিদ্ধি তপস্যার দ্বারা এই ধরনের আরো বহু অদ্ভুত শক্তি লাভ করা সম্ভব।
উপরোক্ত বিভিন্ন গবেষণামূলক পর্যালোচনা দ্বারা বলা যায়, বিমানসমূহ এবং অশ্বচালিত রথে একই প্রকারের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো চালাতে অপ্রাকৃত শক্তি এবং উচ্চমাত্রিক জড় শক্তি প্রয়োজন যা বর্তমান যুগের বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। বর্তমান মানুষের কাছে অজানা হলেও এই প্রকার প্রযুক্তির জ্ঞান দেবতাদের জন্য অত্যন্ত সহজবোধ্য ও স্বাভাবিক। বিমান হল এমন একটি স্থাপত্য নির্মাণ যা ত্রিমাত্রিক কিংবা উচ্চমাত্রিক পরিবেশে উড়তে সক্ষম এবং এটি অপ্রাকৃত শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। গন্ধর্ব অশ্বসমূহ অতিপ্রাকৃত শক্তি দ্বারা উড়তে সক্ষম।
এখন প্রশ্ন হল উন্নত শক্তিসম্পন্ন বিমান থাকা সত্ত্বেও কেন তৎকালীন দেবতারা বা উচ্চতর শক্তিশালী মানুষেরা অশ্ব চালিত রথ ব্যবহার করত? এর কারণ হল তারা এই অশ্বরথ পছন্দ করত ঠিক যেমন অতি বিধ্বংসী ব্রহ্মাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও তারা সাধারণ তীর ধনুকের সাহায্যে যুদ্ধ পরিচালনা করত।
বৈদিক শাস্ত্রে বৈকুণ্ঠ বিমাডঠশস উল্লেখ আছে।। এরর উৎপত্তি স্থান ভগবানের আলয় বৈকুণ্ঠ। বৈকুণ্ঠ বিমানকে অনেকসময় রাজহাঁসের সাথে তুলনা করা হয় কেননা এটির স্থাপত্য নকশা ঠিক রাজ হাঁসের মত। এই বিমানটি তৈরি হয়েছে চিন্তামণি পাথর দ্বারা এবং এটি শুদ্ধচেতনা সম্পন্ন জীবদের শক্তিতে চলাচল করে। বৈকুণ্ঠ বিমানের কথা উল্লেখিত হয়েছে ধ্রুবের ঘটনায়। যখনই ধ্রুব মহারাজ জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হলেন, তিনি একটি বিমান দেখলেন ।
“মুক্তির সেই লক্ষণগুলি প্রকট হওয়া মাত্র, তিনি দেখতে পেলেন যে, একটি সুন্দর বিমান দশদিক আলোকিত করে আকাশ থেকে অবতরণ করছে, যেন পূর্ণচন্দ্র আকাশ থেকে নীচে নেমে আসছে। ধ্রুব মহারাজ সেই বিমানে দুইজন অতি সুন্দর বিষ্ণুপার্ষদের দেখতে পেলেন। তাঁরা চতুর্ভুজ এবং তাঁদের অঙ্গকান্তি শ্যামবর্ণ, তাঁরা কিশোর বয়স্ক, এবং তাঁদের নয়ন কমলের মতো অরুণবর্ণ । তাঁদের হাতে গদা ছিল, এবং তাঁদের পরিধানে ছিল অত্যান্ত সুন্দর বসন এবং মাথায় ছিল মুকুট, আর তাঁরা হার, অঙ্গদ, কুণ্ডল ইত্যাদি অলঙ্কারের দ্বারা ভূষিত ছিলেন।” (ভাগবত ৪/১২/১৯-২০)
“অন্তরীক্ষ দিয়ে যাওয়ার সময়, ধ্রুব মহারাজ ক্রমশ সৌরমণ্ডলের সমস্ত গ্রহগুলি দেখতে পেলেন এবং পথে তাঁর ওপর পুষ্প বর্ষণকারী ও বিভিন্ন বিমানে বিচরণকারী সমস্ত দেবতাদের দেখতে পেলেন। এইভাবে ধ্রুব মহারাজ সপ্তর্ষিমণ্ডল অতিক্রম করেছিলেন। সেই স্থানের ঊর্ধ্বলোকে তিনি শাশ্বত চিন্ময় পদ প্রাপ্ত হয়েছিলেন, যেখানে শ্রীবিষ্ণু বাস করেন।” (ভাগবত-৪/১২/৩৪-৩৫)
পরিশেষে আরেকটি বিষয়ের অবতারণ করব যেখানে বৈদিক শাস্ত্রের বহু স্থানে দেখা যায় যে দেবতারা বেশিরভাগ সময় পুষ্পবৃষ্টি প্রদান করেন যখনই কোন মহৎ ঘটনা ঘটে। নিশ্চয়ই এই ধরনের ফুলের পাপড়ি কোন অতিপ্রাকৃত উপায়ে বর্ষিত হয়। আশ্চর্যের বিষয় আধুনিক মানুষেরাও এই ধরনের একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। পর্তুগালের ফাতিমা নগরে একবার এক অত্যন্ত দীপ্তিমান নারী পদার্পন করলে অদৃশ্য উপায়ে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অনেকেই সেই নারীকে ভার্জিন মেরী বলে মনে করেন।
লেখক পরিচিতি : বিশিষ্ট বিজ্ঞানি রিচার্ড লেসলি থম্পসনের দীক্ষিত নাম সদাপুত দাস একজন আমেরিকান গণিতবিদ, লেখক এবং প্রভুপাদের অন্যতম প্রিয় শিষ্য। বৈদিক সৃষ্টিতত্ত্বের ওপর গবেষণায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখেন। এ বিষয়ে তাঁর অনেক বিখ্যাত গ্রন্থ রয়েছে, যা সারা বিশ্বে খ্যাতি লাভ করে। তিনি ভক্তিবেদান্ত ইনস্টিটিউটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য। ২০০৮ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি অপ্রকট হন।


 

অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৭ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here