সৃষ্টির প্রথম আমলকী বৃক্ষের মাহাত্ম্য

0
268
(২৯ই নভেম্বর)
পরমেশ্বর ভগবানকে আমলকী ফল নিবেদন করুন!
কার্তিক মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে আমলকি বৃক্ষের জন্ম। সৃষ্টির শুরুতে ব্রহ্মা ভগবানকে দেখার জন্যে আবেগে আপ্লুত হোন আর ব্রহ্মার সেই চোখের জল থেকে আমলকি বৃক্ষের জন্ম। আর এই আমলকি বৃক্ষকে দেখতে সমস্ত দেব দেবীরা এসেছিল। তখন ভগবান বললেন এই আমলকি বৃক্ষ আমার খুব প্রিয়। তাই এই বছরে ২৯ নভেম্বর রবিবার আমলকির বৃক্ষের আবির্ভাব তিথি পরেছে। এই দিনে আমলকি উচ্চারন করলে হাজার গুন ফল লাভ হয়। আর আমলকি ভগবানকে দিয়ে খেলে এর দ্বিগুন ফল লাভ হয়।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন করুণাসাগর। সাধু ও শাস্ত্র সিদ্ধান্ত আমাদের জানিয়েছেন, আমরা ভগবানের কৃপা পেতে যত না উৎসুক, ভগবান আমাদের কৃপা করতে সহস্রগুণ বেশি উৎসুক। তবে, ভগবান ভক্তদের যশস্বী করতে চান বলেই কিছু নিয়মাদি দিয়েছেন,আবার অল্পের জন্য বিশাল প্রতিদানের কথা দিয়েছেন, যাতে আমরা সহজেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভগবানের প্রিয় হতে পারি। তাছাড়া কৃপা মানেই হলো, ‘নির্দিষ্ট কৃত্য করার ফলে যা লাভ হয়।’ এই দিনে আমলকি বৃক্ষকে প্রদক্ষিন, আমলকি বৃক্ষের নিচে শাস্ত্র অধ্যায়ন, আমলকি ফল ভগবানকে নিবেদন করে খাওয়া।
দামোদর মাস এমনই একটি সুযোগ, যার মাধ্যমে আমরা যেকোনো ভক্তিমূলক সেবায় সহস্র গুণে বেশী কৃপা লাভ করতে পারি। দামোদর মাসে দীপদান, তুলসীকাষ্ঠের প্রদীপ নিবেদনের পাশাপাশি আরেকটি সুযোগ হলো ভগবানের সেবায় আমলকী নিয়োজন।অতি ক্ষুদ্র, মধুরতাবিহীন এই ফলটিকেই বৈদিক শাস্ত্রে বিশদ ভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে। পুরাণে বলা হয়েছে, কোনো এক কল্পে দেবী লক্ষ্মী ও পার্বতী একত্রে হরিকথা আলোচনার সময় ভক্তিপূর্ণ অশ্রু বিসর্জন করায় সেই প্রেমাশ্রু থেকে আমলকীর উৎপত্তি। এরহ পরবর্তী কোনো কল্পে জড়জগতে আদিবৃক্ষরূপে আমলকীর আবির্ভাব।
আমলকী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এত প্রিয় যে বলা হয়েছে, আমলকী বৃক্ষের তলে বসে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা, জপ প্রভৃতি করলে প্রতি ক্ষণে মহাযজ্ঞের ফল লাভ হয়। (স্কন্দপুরাণ)
উক্ত পুরাণে আরো বর্ণিত হয়েছে, ভগবানের চরণে নিবেদিত আমলকী ফল আর তুলসীপত্র গ্রহণ করা হলে কোটি কোটি তীর্থদর্শনের ফল লাভ হয়।তুলসী যেমন ভগবানের সবকিছুর মধ্যে সবথেকে বেশী প্রিয় ফলের মধ্যে আমলকীও তেমনি প্রিয়। তুলসীর ন্যায় তাই ভগবানের চরণে আমলকীফল, ভোগে আমলকী আবার এমনকি আমলকী ফল দিয়ে মালা গেঁথে দিলেও কৃষ্ণ সেবকের প্রতি কোটিগুণ সন্তুষ্ট হন।
প্রত্যহ কৃষ্ণের প্রসাদী আমলকী ও তুলসী ভক্ষণের মাধ্যমে নিখিল পাতক ও দুর্ভাগ্য দূর হয়, জীব ভগবানের ন্যায় নির্মল হয়ে নিজ প্রকৃত শুদ্ধসত্ত্বময় স্বরূপ লাভ করে,পরিশেষে বিশুদ্ধ ভগবদ্ভক্তি লাভ করে থাকে।
এই দামোদর মাসে ভগবানের ইচ্ছায় প্রতি বছর আমলকীফল পরিপুষ্ট হয়। তাই ভগবৎপ্রদত্ত এই সুযোগ গ্রহণ করুন, তুলসীকাষ্ঠের প্রদীপ, তুলসী মঞ্জরীর সাথে সাথে আমলকী ফল ভগবানের সেবায় প্রদান করে পরম ভক্তিসহকারে তা গ্রহণ করে কৃতার্থ হোন। হরেকৃষ্ণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here