সুমতি মোরারজির সহায়তায় শ্রীল প্রভুপাদের পাশ্চাত্যে যাত্রা

0
27
শ্রীল প্রভুপাদের আমেরিকা যাত্রার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন
কিভাবে একজন আধ্যাত্মিক নেতাকে ভারতীয় একটি জাহাজ পাশ্চাত্যে শ্রীমন্মহাপ্রভুর বাণী প্রচারের কাজে সহায়তা করেছিলো তারই অনবদ্য কাহিনি।

সত্যরাজ দাস

১৯৬৫ সালের দিকে “সিন্ধিয়া স্টীম নেভিগেশান কোম্পানি” ছিল ভারতবর্ষের সবচেয়ে প্রাচীন, বৃহৎ এবং স্বনামধন্য একটি শিপিং কোম্পানি। এই কোম্পানি বিশেষত মালবাহী জাহাজের সাহায্যে বিবিধ পণ্য পরিবহন করতো। এই রকমেই একটি মালবাহী জাহাজ কোম্পানি বহন করেছিলো এক আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ভাণ্ডারকে। তিনি এই জ্ঞান বহন করে নিয়ে গেলেন পাশ্চাত্যে এবং পাশ্চাত্যের সাথে সাথে সমগ্র বিশ্বে তিনি এক পরিবর্তনের ঝড় তুলেছিলেন।
ইস্‌কন ভক্তরা এই কাহিনি খুব ভালোভাবেই জানে। এক নিয়তি নির্ধারিত সমুদ্র যাত্রা কলকাতা হতে নিউইয়র্ক অভিমুখে জলদূত নামক মালবাহী জাহাজের একটি কেবিনে ভ্রমণ করেছিলেন কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। সেই সময়ে তিনি ছিলেন অপরিচিত এক বৈষ্ণব সন্ন্যাসী। তখন তাঁর বয়স ঊনসত্তর বছর। তিনি অনেক কষ্টের বিনিময়ে এই জাহাজের টিকেটের ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রভুপাদের সকল অনুসারীরাই কিভাবে তিনি জাহাজের টিকেটের ব্যবস্থা করেছিলেন তা জানে কিন্তু এর বিস্তারিত কাহিনি এখনো সর্বসাধারনের অজানা। শ্রীল প্রভুপাদের এই পাশ্চাত্য যাত্রায় তাকে সহায়তা করেছিলেন আরেক অপ্রাকৃত আত্মা শ্রীমতি মোরারজি। আমি এই লেখনীর মাধ্যমে সমগ্র ঘটনাটি জানাতে চাই ।

সুমতি মোরারজি

শ্রীমতি মোরারজি জন্মগ্রহণ করেন মুম্বাইয়ের এক ধনাঢ্য পরিবারে ১৯০৯ সালের ১৩ মার্চ। তার পিতা মথুরা গোকুলদাস এবং মাতা ছিলেন প্রেমাবাঈ। সুমতি বাল্যকালে পরিচিত ছিলেন যমুনা নামে। যমুনা কৃষ্ণের অতিপ্রিয় নদী, যা বয়ে চলেছে বৃন্দাবনে। তিনিই ছিলেন পৃথিবীর একমাত্র মহিলা যিনি এত বড় একটি শিপিং কোম্পানি পরিচালনা করেছেন সুদক্ষ হাতে। যদিও তার ছয় জন সুশিক্ষিত ভাই ছিলেন। কিন্তু তার ভাইরা বিশাল কোম্পানি পরিচালনা করতে পারছিলেন না। তাই তারা নিজেরাই এই কোম্পানির দায়িত্বভার অর্পণ করেছিলেন তাদের আদরের বোনকে। ভারতের একটি আচার হলো কন্যা যখন বালিকা থাকে তখনই কন্যাদান সম্পন্ন করতে হয়। প্রথা অনুসারে সুমতিরও বাগদান সম্পন্ন হয় নরোত্তম মোরারজির একমাত্র পুত্র শান্তি কুমারের সাথে। সেই সময়ে নরোত্তম ছিলেন মুম্বাইয়ের সবচেয়ে নামকরা ধনাঢ্য কাপড় ব্যবসায়ী। তাই, যমুনা এক ধনাঢ্য পরিবার হতে আরো অধিক ধনাঢ্য পরিবারে গিয়েছিলেন। এই দুই ধনাঢ্য পরিবার যখন বিয়ের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছিলেন তখন যে সামাজিক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিলো তার কথা এখনও মুম্বাইয়ের প্রবীন লোকেরা বিস্ময়ের সাথে স্মরণ করে। এই অনুষ্ঠান চলেছিলো এক সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে। সেই সময়কার সকল সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় এই অনুষ্ঠানের সংবাদ ছাপানো হয়েছিলো।
এই অনুষ্ঠানের ভোজন পর্ব চলেছিলো একমাস ধরে। নরোত্তম তার পুত্রবধুর অসাধারণ প্রজ্ঞা এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে তার নতুন নামকরণ করেন সুমতি। তিনি হিন্দি, মারাঠী ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তার শ্বশুর মহাশয়ের ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ও সক্ষমতার পরিচয় দেন। যখন নরোত্তমের পত্নী মারা যান; তখন সুমতি হন এই পরিবারের একছত্র কর্ত্রী। তার সংসারকে যেমন সুদক্ষ হাতে সামলিয়েছেন তেমনি সামলিয়েছেন তার ব্যবসাকে। সুমতি ছিলেন খুব ধার্মিক। তিনি ছিলেন বল্লভ সম্প্রদায় নামে খ্যাত এক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনি শ্রীনাথজীর (ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এক জনপ্রিয় বিগ্রহ) একনিষ্ঠ ভক্ত এবং তিনি বৃন্দাদেবী তুলসী মহারাণীরও একনিষ্ঠ সেবিকা ছিলেন। এমনকি তিনি যখন বিদেশ ভ্রমনে যেতেন তখন একটি বৃন্দাদেবীর চিত্রপট নিয়ে যেতেন এবং তার সেবা করতেন। তিনি সর্বদাই অনুভব করতেন এক ব্যক্তিত্ব তার ধর্ম ভাবাপন্ন পরিবার ও ব্যবসাকে সর্বদাই সুরক্ষা প্রদান করছেন। নরোত্তম তার প্রপিতামহ হতে প্রাপ্ত জাহাজ ব্যবসার সমস্ত দায়ভার তার পুত্রবধুর হাতে অর্পণ করেন। উদ্যোগী নরোত্তম সেই সময়ে সিন্ধিয়া স্টীম নেভিগেশন কোম্পানির সাথে সংযুক্ত করেন বেশ কিছু মালবাহী জাহাজ এবং এই কোম্পানি হয়ে উঠে ভারতের আধুনিক জাহাজ ব্যবসা কোম্পানি। সুমতি খুব দীন অবস্থা হতে এই কোম্পানি শুরু করেন এবং পরবর্তী অল্প সময়ে এই কোম্পানির অগ্রযাত্রা দেখে স্বয়ং মহাত্মা গান্ধী পর্যন্ত সুমতি ও তার কোম্পানির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। সুমতির সাথে গান্ধীজির বেশ সখ্যতা গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে প্রায়ই কথাবার্তা হতো। সংবাদপত্রগুলোতেও খবর ছাপা হতো।

সিন্ধিয়া স্টীম নেভিগেশন কোম্পানি

কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯১৯ সালে। ভারতীয় মালিকানাধীন এইটি একমাত্র জাহাজ কোম্পানি। এই কোম্পানির জাহাজগুলো মূলত ভারত হতে ইউরোপে মালামাল পরিবহন করতো। কোম্পানিটির জাহাজ ইউরোপ ছাড়াও যেত আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, পূর্ব আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোতে। ১৯৪৬ সালে সিন্ধিয়া কোম্পানির সাথে সুমতিজীর চুক্তি হয় এবং সেসময় হতে নিয়মিতই কোম্পানিটির জাহাজ যাতায়াত করতো আমেরিকায়। ছয় হাজারেরও বেশী লোক জড়িত ছিলো এই কোম্পানির সাথে। সকল কর্মচারীরাই শ্রীমতির প্রতি অনুরক্ত ছিল। ১৯৫৬ সালে সুমতিজী ভারতীয় জাতীয় স্টীম জাহাজ মালিক সমিতির পরপর দু’বার সভাপতি মনোনীত হন।

একটি সভা

সুমতি মোরারজির সাথে শ্রীল প্রভুপাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৫০ সালে কুরুক্ষেত্রে, যেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞান প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীকালে সুমতিজী তার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেছিলেন। “তিনি একটি গাছের নিচে বসে জপমালায় হরিনাম করছিলেন। তাঁকে দেখেই মনে হচ্ছিল তিনি একজন সত্যিকারের ভক্ত। আমি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম আশীর্বাদ গ্রহণের আশায়। সেই সময়ে তিনি সন্ন্যাস নেননি। তখন তিনি গৃহস্থ আশ্রমে ছিলেন। আমি তার সাথে কথা বলার পর তাঁর দীনতা ও ভক্তি দেখে মুগ্ধ হলাম এবং তাকে বললাম যখন আপনি মুম্বাই যাবেন তখন অবশ্যই আমার সাথে দেখা করবেন। এভাবে কাটলো কিছুকাল এর মধ্যে প্রভুপাদ গৃহস্থ আশ্রম হতে অবসর নিয়ে সন্ন্যাস নিলেন। এর মধ্যে ঘটে গেল অনেক ঘটনা। সন্ন্যাস নেওয়ার পর শ্রীল প্রভুপাদ বৃন্দাবনে শ্রীশ্রী রাধা দামোদর মন্দিরে থাকতেন এবং সেখানেই তাঁর গ্রন্থ ও Back To Godhead পত্রিকাটি প্রকাশনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে ঘটল একটি কাকতালীয় ঘটনা। শ্রীল প্রভুপাদ বৃন্দাবনে মথুরার ব্যবসায়ী মিঃ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি তাঁকে বলেছিলেন যে, তিনি পাশ্চাত্য দেশে যেতে চান, যা তিনি প্রায় সকলকেই বলতেন। মিঃ আগরওয়াল যদিও শ্রীল প্রভুপাদকে মাত্র মিনিট কয়েক আগেই চিনেছিলেন, তবুও তাঁর আমেরিকার যাবার জন্য তিনি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে পেনসিলভেনিয়াতে তাঁর ইঞ্জিনিয়ার ছেলে গোপালকে লিখে পাঠালেন যে, সে তাঁকে জামিন হওয়ার একটি ফর্ম পাঠাতে পারবে কিনা। মিঃ আগরওয়াল যখন এইভাবে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তাঁকে সাহায্য করতে লাগলেন, শ্রীল প্রভুপাদ তখন অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করতে লাগলেন যে, তিনি যেন দয়া করে তা করেন।
শ্রীল প্রভুপাদ দিল্লিতে ফিরে এলেন, প্রশস্ত রাজপথে আগের মতো গ্রন্থ প্রচার করতে লাগলে এবং কিছু সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। একদিন তিনি বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে সম্পর্কিত হলেন এবং খবর পেলেন যে, তাঁর বিদেশ ভ্রমণের সমস্ত কিছু তৈরি দেশ ত্যাগ করার জন্য তিনি কোনো রকম উৎসাহ তখন বোধ করছিলেন না। বিশদ জানার জন্য তিনি মন্ত্রীবর্গকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তাঁরা তাঁকে মিঃ গোপাল আগরওয়াল, বাটলার, পেনসিলভেনিয়ার নাম সহিসহ একটি সংবিধিবদ্ধ ঘোষণাপত্র দেখিয়েছিলেন। মিঃ আগরওয়াল বেশ গুরুগম্ভীরভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, শ্রীল প্রভুপাদের আমেরিকায় থাকার সমস্ত খরচ তিনিই বহন করবেন।
এখন শ্রীল প্রভুপাদ একজনকে জামিনরূপে পেলেন। কিন্তু এখনো তাঁর পাসপোর্ট, ভিসা, প্রি ফর্ম এবং যাতায়াত ভাড়া প্রয়োজন। পাসপোর্টটি সহজ ছিল। পাসপোর্ট এবং জামিনের কাগজপত্র নিয়ে শ্রীল প্রভুপাদ মুম্বাই গেলেন, আমেরিকায় যাওয়ার জন্য তাঁর সহযোগী সন্ধানের কাজে-কোনো গ্রন্থ প্রচারের জন্য বা গ্রন্থ ছাপার জন্য নয় অথবা অর্থ সংগ্রহের জন্য নয়। শ্রীল প্রভুপাদ Scindia Steam-ship line -এর প্রধান শ্রীমতী সুমতি মোরারজীর সান্নিধ্যে এসেছিলেন এবং যিনি শ্রীমদ্ভাগবতের দ্বিতীয় খণ্ডটি ছাপাবার জন্য অনেক অর্থ দান করে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ সুমতি মোরারজীর সেক্রেটারি মিঃ চোক্সীকে তাঁর জামিনের সমস্ত কাগজপত্র দেখালেন এবং তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং শ্রীল প্রভুপাদের পক্ষ থেকে মিসেস মোরারজীর কাছে গিয়েছিলেন।
তিনি তাঁকে বললেন, “বৃন্দাবন থেকে স্বামীজী ফিরে এসেছেন। আপনার দানে তিনি তাঁর গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তাঁর একজন জামিন আছে এবং তিনি আমেরিকায় যেতে চান। তিনি চাইছেন যে, আপনি যেন তাঁকে একটি Scindia জাহাজে পাঠান।” মিসেস মোরারজী বলেছিলেন, না, স্বামীজী এতই বৃদ্ধ যে, তাঁর পক্ষে আমেরিকায় গিয়ে কোনো কাজ সম্পূর্ণরূপে সম্পাদন করা অসম্ভব। মিসেস মোরারজীর কথাগুলি মিঃ চোক্সী শ্রীল প্রভুপাদকে বললেন, কিন্তু তিনি অত্যন্ত উদাসীনভাবে কথাগুলি শুনলেন। মিসেস মোরারজী চাইছিলেন যে, তিনি ভারতেই থাকুন আর শ্রীমদ্ভাগবত সম্পূর্ণ করুন। তিনি জোর দিলেন, আমেরিকায় কেন যাবেন? এখানে থেকেই কাজটি শেষ করুন।
কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ যাওয়াই স্থির করেছিলেন। তিনি শ্রীমতী মোরারজীকে রাজী করানোর জন্য মিঃ চোক্সীকে বলেছিলেন এবং কি বলতে হবে, তাও শিখিয়ে দিয়েছিলেন, “আমার মনে হয় এই ভদ্রলোক আমেরিকায় যেতে এবং সেখানকার জনগণের কাছে শ্রীকৃষ্ণের বাণী প্রচার করতে খুবই উৎসাহী…” কিন্তু মিঃ চোক্সী যখন শ্রীমতী মোরারজীকে বলেন, তিনি পুনরায় অসম্মতি জানিয়েছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদের স্বাস্থ্য ভাল নয়, তা ছাড়া আমেরিকার মানুষ খুব সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবসম্পন্নও নয় এবং তারা হয়তো তাঁর কথা শুনবেই না।
মিঃ চোক্সীর অক্ষমতায় বিরক্ত হয়ে শ্রীল প্রভুপাদ একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার চাইলেন। উনার সাক্ষাৎকার প্রার্থনা মঞ্জুর হলো এবং দৃঢ়প্রত্যয়ী প্রভুপাদ খুব জোরালোভাবে অনুরোধ করেছিলেন, “অনুগ্রহ করে আমাকে একটি টিকেট দিন।”
সুমতি মোরারজী উদ্বিগ্ন হয়ে বলেছিলেন, “স্বামীজী, আপনি প্রবীণ, আপনি কেন এই দায়িত্ব নিচ্ছেন? আপনার কি মনে হয় এটি ঠিক কাজ হচ্ছে?”
প্রভুপাদ তাঁর হাত তুলে উদ্বিগ্ন কন্যাকে সন্তুষ্ট করার ভঙ্গিতে বলেছিলেন, “না, সবই ঠিক আছে।”
“কিন্তু আপনি জানেন আমার সহকারীরা কি ভাবছে? তার বলছে, ‘স্বামীজী সেখানে মৃত্যুবরণ করতে চলেছেন।”
প্রভুপাদ একটি ভ্রান্ত জনশ্রুতির প্রতি উদাসীনতা দেখানোর মতো মুখ ভার করেছিলেন। আবার তিনি একটি টিকেট দেওয়ার জন্য বলেছিলেন, “ঠিক আছে, আপনার প্রি-ফর্ম আনুন, আমি আপনাকে আমাদের জাহাজেই সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।” শ্রীল প্রভুপাদ খুশি হলেন।
শ্রীমতী মোরারজীর নির্দেশানুসারে তাঁর সেক্রেটারি সমস্ত বন্দোবস্ত করেছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদের কোনো গরম পোশাক ছিল না। মিঃ চোক্মী একটি পশমের জ্যাকেট এবং অন্যান্য পশমের পোশাক ক্রয় করার জন্য তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন । শ্রীল প্রভুপাদের অনুরোধ মিঃ চোক্সী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লেখা আটটি শ্লোক সমন্বিত পাঁচশ প্রচারপত্র এবং শ্রীমদ্ভাগবতের একটি বিজ্ঞাপন মুদ্রিত করে দিয়েছিলেন।
শ্রীমতী মোরারজী ১৩ আগস্ট কলকাতা থেকে ছেড়ে যাবার জন্য নির্ধারিত তাঁর ‘জলদূত’ জাহাজে প্রভুপাদের জন্য একটি স্থান সংরক্ষণ করেছিলেন। তিনি এমন ব্যবস্থা করেছিলেন যে, শ্রীল প্রভুপাদ যে জাহাজটিতে ভ্রমণ করবেন, তার ক্যাপ্টেন যেন একজন ব্রাহ্মণ এবং একজন নিরামিষাশীর প্রয়োজন সম্পর্কে বুঝতে পারে। শ্রীমতী মোরারজী ‘জলদূত’ জাহাজের ক্যাপ্টেন অরুণ পাণ্ডিয়াকে প্রভুপাদের জন্য অতিরিক্ত সবজি এবং ফলমূল নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মিঃ চোক্সী মুম্বাইয়ের শেষ দু’দিন প্রভুপাদের সঙ্গে অতিবাহিত করেছিলেন এবং মুদ্রণালয় থেকে প্রচারপত্রগুলি এনে, প্রয়োজনীয় পোশাকাদি ক্রয় করে এবং প্রভুপাদকে কলকাতাগামী ট্রেন ধরিয়ে দেবার জন্য তিনি স্টেশন পর্যন্ত গাড়িতে করে পৌছে দিয়েছিলেন।
‘জলদূত’ ছেড়ে যাওয়ার কয়েকদিন পূর্বে প্রভুপাদ কলকাতায় পৌঁছেছিলেন। যদিও তিনি এই শহরে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তিনি কোনো স্থানেই থাকবেন না। তিনি তাঁর ‘বৃন্দাবন ভজনে’ লিখেছিলেন-

“আছে মোর স্ত্রী-পুত্র-কন্যা-নাতি সব।
কিন্তু অর্থ নাই বলি’ বিফল বৈভব ॥”

যদিও তিনি এই শহরে শিশুর মতো যত্নে লালিত হয়েছেন, কিন্তু সেই সব দিন চিরবিদায় নিয়েছিল তাঁর যাত্রার পূর্বে তিনি মায়াপুরে তাঁর গুরু মহারাজ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সমাধি মন্দির দর্শন করতে গিয়েছিলেন। তারপর কলকাতায় ফিরে তিনি যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন।
তাঁর সঙ্গে ছিল কেবল একটি স্যুটকেস, একটি ছাতা এবং কিছু শুকনো খাদ্যশস্য। তিনি জানতেন না আমেরিকায় তিনি কি খাদ্যবস্তু পাবেন। হয়তো সেখানে কেবল মাংসই পাওয়া যায়। তাই তিনি তাঁর সঙ্গে আলুসিদ্ধ ও শুকনো খাদ্যশস্যাদি নিয়েছিলেন। তাঁর মূল জিনিসগুলি ছিল বাক্সভর্তি বই। জাহাজের মালখানায় সেগুলি পৃথকভাবে রক্ষিত ছিল । তিন খণ্ড সমন্বিত এই দু’ সেটের শ্রীমদ্ভাগবত গ্রন্থগুলির বিষয়বস্তু তাঁকে বিশেষভাবে আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলেছিল। যাত্রার দিন যখন এসেছিল, তাঁর সেই প্রত্যয়ের প্রয়োজন ছিল। তিনি তাঁর পূর্বজীবনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটিয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন প্রবীণ। তিনি এক অপরিচিত এবং সম্ভবত এমন একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন, যেখানে তাঁকে তেমনভাবে স্বাগত জানানো হবে না। ভারতবর্ষে দরিদ্র এবং অপরিচিত অবস্থায় বাস করা এক জিনিস। যদিও ভারতের নেতারা এই কলিযুগে ভারতীয় সংস্কৃতি বর্জন করে পাশ্চাত্যের অনুকরণ করছিল, তবুও তা ছিল ভারত; তবুও তা ছিল বৈদিক সভ্যতার আবাসস্থল। তিনি অনেক ধনী, অনেক রাজ্যপাল এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ভারতে একজন সন্ন্যাসীর সম্মান ছিল; শ্রীমদ্ভাগবতের সম্মান ছিল

এক দিব্য ভ্রমণের শুরু

কলকাতা ১৩ আগস্ট, ১৯৬৫ ‘জলদূত’ হচ্ছে সিন্ধিয়া স্টীম নেভিগেশন কোম্পানির একটি মালবাহী জাহাজ, কিন্তু তাতে একটি যাত্রী কেবিন আছে। ১৯৬৫ সালে আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা থেকে নিউইয়র্ক যাবার সময়ে সেই কেবিনটিতে যাত্রী ছিলেন শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী, খাতায় তাঁর বয়স লেখা ছিল ৬৯ বছর এবং ‘ভাতা সমেত একটি কমপ্লিমেন্টারি টিকেটে’ তিনি আমেরিকা যাচ্ছিলেন।
জলদূতের নেতৃত্ব করছিলেন ক্যাপ্টেন অরুণ পাণ্ডিয়া, তাঁর স্ত্রীও সেই জাহাজে ছিলেন। ১৩ আগস্ট, শুক্রবার সকাল নয়টায় জাহাজ ছাড়ল। তাঁর ডায়েরিতে প্রভুপাদ লিখেছেন, “কেবিনটি বেশ আরামদায়ক, সুমতি মোরারজীকে এই সমস্ত বন্দোবস্ত করতে অনুপ্রাণিত করার জন্য শ্রীকৃষ্ণকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি বেশ আরামেই আছি।” কিন্তু ১৪ তারিখে তিনি তাঁর ডায়েরিতে লিখলেন: ‘সামুদ্রিক পীড়ায় ভুগছি, মাথা ঘুরছে, বমি হচ্ছে-বঙ্গোপসাগরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। শরীর আরও খারাপ।”
১৯ তারিখ জাহাজ যখন শ্রীলঙ্কার কলম্বো শহরে পৌছল, প্রভুপাদ তখন তাঁর সামুদ্রিক পীড়া থেকে কিছুটা স্বস্তিবোধ করলেন। জাহাজের ক্যাপ্টেন প্রভুপাদকে গাড়িতে করে কলম্বো শহরটি ঘুরে দেখালেন। তারপর জাহাজ ভারতের পশ্চিম উপকূলে, কোচিনের দিকে যাত্রা শুরু করল। সেই বছর শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি ‘জন্মাষ্টমী’ ছিল আগস্ট মাসের ২০ তারিখে। এই সুযোগ নিয়ে প্রভুপাদ জাহাজের নাবিকদের কাছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের তত্ত্বদর্শন শোনালেন এবং পরে তাঁর নিজের হাতে রান্না করা প্রসাদ বিতরণ করলেন। ২১ আগস্ট ছিল তাঁর সত্তরতম জন্মদিবস। অনাড়ম্বরে তা সমুদ্রের বুকে উদ্যাপিত হলো। সেই দিনই জাহাজ কোচিনে পৌঁছল এবং মুম্বাই থেকে সমুদ্রপথে পাঠানো প্রভুপাদ অনুদিত ‘শ্রীমদ্ভাগবত, গ্রন্থ-বোঝাই তিনটি ট্রাঙ্ক জাহাজে তুলে নেওয়া হলো।
২৩ তারিখের মধ্যেই জাহাজ লোহিত সাগরে এসে পড়ল। সেখানে কিন্তু প্রভুপাদকে অনেক অসুবিধা ভোগ করতে হয়েছিল। তিনি ডায়েরিতে লিখেছেনঃ “বৃষ্টি সামুদ্রিক পীড়া, মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা, অরুচি, বমি, ” তাঁর এই অসুস্থতার লক্ষণগুলির কোনোই উপশম হলো না এবং ‘সামুদ্রিক পীড়া’ থেকে তাঁর এই অসুখটি অন্য ধরনের এবং অনেক গুরুতর ছিল। তাঁর বুকের ব্যাথাটা এতই প্রবল হয়ে উঠেছিল যে, তিনি মনে করেছিলেন, যে কোনো মুহূর্তেই তাঁর মৃত্যু ঘটতে পারে। দু’দিনে তাঁর দু’বার ‘হার্ট-আটাক্’ হয়। কিন্তু তাঁর মনে হয়েছিল, আবার যদি এই রকম একটি ‘অ্যাটাক্’ হয়, তা হলে তিনি আর তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন না।
দ্বিতীয় রাত্রে প্রভুপাদ স্বপ্নে দেখেন যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ একটি নৌকা বাইছেন এবং তিনি তাঁকে অভয় দিয়ে তাঁর কাছে আসতে বলছেন। প্রভুপাদ উপলব্ধি করলেন যে, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ তাঁর রক্ষা করছেন এবং সেই যাত্রায় আর সেই রকম ‘হার্ট অ্যাটাক্’ তাঁর হয়নি।=
১ সেপ্টেম্বর ‘জলদূত’ সুয়েজ খালে প্রবেশ করল এবং ২ সেপ্টেম্বর পোর্ট সৈয়দে নোঙর ফেলল। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সেই দিন তিনি শহরে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং সেই শহরটি তাঁর ভাল লেগেছিল। ৬ তারিখের মধ্যেই তাঁর অসুখ অনেকটা সেরে উঠল, এবং দু’ সপ্তাহের মধ্যেই আবার তিনি আগের মতো নিজের হাতে চচ্চড়ি ও পুরি রান্না করে নিয়মিত আহার করতে লাগলেন। তিনি ডায়েরিতে লিখেছিলেন যে, তাঁর শরীরের শক্তি আস্তে আস্তে ফিরে আসছে। শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর
আজ জাহাজ খুব সাবলীল গতিতে চলছে, আমি আগের চেয়ে অনেকটা ভাল বোধ করছি। কিন্তু আমি শ্রীবৃন্দাবনের বিরহ অনুভব করছি, আর অনুভব করছি আমার প্রাণনাথ শ্রীগোবিন্দ, গোপীনাথ, রাধা-দামোদরের বিরহ। তবু এই অবস্থায় আমার একমাত্র সান্তনা হচ্ছে শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, যা অধ্যয়নে আমি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলামৃতের আস্বাদন পাই। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে আর গুরুদেব শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের আদেশ শিরোধার্য করে আমি ভারতভূমি ত্যাগ করেছি। আমার কোনো যোগ্যতা নেই, কিন্তু আমার পরমারাধ্য গুরুদেবের আদেশ পালন করার জন্যই আমি এই দুঃসাহসিক কাজে ব্রতী হয়েছি। বৃন্দাবন থেকে বহু দূরে, কেবল তাঁদের কৃপার ওপর আমি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আছি।
১৯৬৫ সালের ‘জলদূতের’ সেই যাত্রা ছিল এক ধীর ও শান্ত জলযাত্রা। সেই সম্বন্ধে জাহাজের ক্যাপ্টেন বলেছেন যে, তাঁর পুরো কর্মজীবনে তিনি জাহাজকে এত শান্ত এবং ধীরভাবে আটলান্টিক মহাসাগর পার হতে দেখেননি। তার উত্তরে প্রভূপাদ বলেছিলেন যে, সেই শান্ত, ধীরভাব শ্রীকৃষ্ণেরই করুণার নিদর্শন এবং শ্রীমান পাণ্ডিয়া প্রভুপাদকে অনুরোধ করেন, ফেরবার সময়ও তিনি যেন তাঁদের সঙ্গে আসেন, যাতে তাঁরা আবার এই রকম শান্তভাবে আটলান্টিক পার হতে পারেন। প্রভুপাদ তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেনঃ “আটলান্টিক যদি তার স্বাভাবিক রূপ ধারণ করত, তা হলে হয়তো আর বেঁচে থাকতাম না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণই ছিলেন জাহাজটির কাণ্ডারি।”
কলকাতা ছেড়ে পঁয়ত্রিশ দিন ভ্রমণের পর, ‘জলদূত’ ১৯৬৫, ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৫-৩০ মিনিটে বোস্টনের কমনওয়েল্থ জেটিতে পৌছল। নিউইয়র্ক শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে জাহাজটি বোস্টনে কিছু সময় থেমেছিল।

ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ রপ্তানি

বহু বছর পর্যন্ত শ্রীল প্রভুপাদ ও সুমতি মোরারজী পরস্পরের সান্নিধ্যে ছিলেন। বিশেষত তাদের মধ্যে চিঠিপত্রের আদান-প্রদান হতো। তিনি সুমতি বিষয়ে জানতে চাইতেন এবং তিনি তার আন্দোলন সম্পর্কে সুমতি মোরারজীকে অবহিত করতেন মাঝে মাঝে সুমতি মোরারজী প্রভুপাদকে বিদেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করতেন এবং শ্রীল প্রভুপাদ তার প্রতিটি চিঠিতেই পাশ্চাত্যে আসার ব্যাপারে সুমতিজীকে অকুণ্ঠ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতেন। এভাবে তাদের মধ্যে ১৯৭৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রভুপাদের অপ্রকট হওয়ার আগ পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল। শ্রীল প্রভুপাদের দেহত্যাগের প্রায় ২১ বছর পর সুমতিজী দেহত্যাগ করেন। ভারতের পত্রিকাগুলোতে তার মৃত্যু সম্পর্কে সংবাদ ছাপানো হয়।
ভারতের প্রথম নারী ও সফল জাহাজ ব্যবসায়ী সুমতি মোরারজি ২৮ জুন ১৯৯৮ আমাদের ছেড়ে তার নিত্য ধামে ফিরে গেছেন। যাওয়ার আগে রেখে গিয়েছেন তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও কর্মপ্রেরণা শিক্ষা, যা সারা ভারতবর্ষকে তথা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। তিনি ভারতবর্ষের সবচেয়ে সফল মহিলা জাহাজ ব্যবসায়ী এবং তার সাথে মহাত্মা গান্ধীর ছিল খুব হৃদ্যতার সম্পর্ক। তিনি ছিলেন সিন্ধিয়া স্টীম নেভিগেশন কোম্পানির ৯৯তম পুত্রবধু। যিনি এই কোম্পানিকে তার প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সবচেয়ে সোনালী দিনগুলো উপহার দিয়েছিলেন।
সুমতি মোরারজি একবার লিখেছিলেন, “এটা পুরোপুরি ব্যবসা ভিত্তিক মনোভাব ছিলো। আমি চেয়েছি আমাদের দেশের জনগণ যাতে খুব সহজে বিদেশে ভ্রমণ ও ব্যবসা করতে পারে এবং বিদেশীরাও খুব সহজে তাদের পণ্য এদেশে নিয়ে আসতে পারে। ভারতবর্ষের একটি ঐতিহ্য হলো সবচেয়ে ভালো জিনিসটি বিদেশে রপ্তানি করা। আমরা বিদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে লেনদেন করছি তবে আমাদের সবচেয়ে মাহাত্ম্যপূর্ণ রপ্তানি হলো সমগ্র বিশ্বে ভ্রাতৃত্বের মনোভাব ও আমাদের আধ্যাত্মিকতা। আমরা তা শ্রীল প্রভুপাদের মাধ্যমে সফলভাবেই করেছিলাম।
এই গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে শ্রীমৎ সৎস্বরূপ দাস গোস্বামী মহারাজ রচিত প্রভুপাদ ও সুমতি মোরারজীর স্মৃতিকথা সমন্বিত গ্রন্থ “ভারতের জাহাজ শিল্পের সেবা” নামক গ্রন্থের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

সত্যরাজ দাস (স্টিভেন জে. রোজেন) একজন আমেরিকান লেখক। শ্রীল প্রভুপাদের অন্যতম একজন শিষ্য এবং শ্রীমৎ ভক্তিতীর্থ স্বামী মহারাজের অন্তরঙ্গ জন। বৈদিক শাস্ত্রের বিবিধ বিষয়ের ওপর ২০টিরও বেশী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি জার্নাল অব বৈষ্ণব স্টাডিজ এর প্রধান সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক ব্যাক টু গডহেড এর সহ সম্পাদক। তাঁর অন্যতম বিখ্যাত একটি গ্রন্থ হলো, শ্রীমৎ ভক্তিতীর্থ স্বামী মহারাজের জীবনী সম্বলিত ব্ল্যাক লোটাস : দ্যা স্পিরিচুয়াল জার্নি অব এন আর্বান মিস্টিক


 

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৫ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here