সঠিক সময়ে নিদ্রার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব

0
55

শ্রীমৎ মহানিধি স্বামী : বিগত শতাধিক গবেষণা এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীগণ আবিষ্কার করলেন যে, সুস্বাস্থ্যের উত্তম লক্ষণই হল শীঘ্রই নিদ্রাযাপন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বেই শয্যা ত্যাগ করা। আমাদের দেহের জন্য নিদ্রার উপযুক্ত সময় হল রাত ১০ টা হতে সকাল ৬ টার মধ্যে। মূলত, রাত্রি ১১ টা, ১২ টা কিংবা ১ টার সময়কার নিদ্রা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং তা বর্তমান যুগের হৃদরোগ, ক্যান্সার প্রভৃতি মরণ ব্যাধি রোগের প্রত্যক্ষ উৎস। প্রকৃতির নিজ নিয়মেই পৃথিবী, চন্দ্র এবং সূর্য তাদের নিজ কক্ষ পথে ঘুরছে। প্রত্যহ সূর্য উদিত হয় ও অস্ত যায় এবং ঋতু পরিবর্তন হয়। চন্দ্র জোৎস্না দেয় এবং অস্তমিত হয়। সমুদ্রে জোয়ার ভাটা আসে। সুতরাং প্রকৃতির নিজস্ব তালেই সব কিছু চলছে। অতএব, মানব শরীরের কার্যকলাপ তথা নিদ্রা এবং জাগরণেরও নিজস্ব তাল বা কালচক্র রয়েছে। প্রকৃতিতে আমরা দেখতে পাই, সমস্ত প্রাণীকুল এবং বৃক্ষরাজিসমূহের ও নির্দিষ্ট নিদ্ৰাযাপন এবং জাগরণের সময় রয়েছে। আমাদের মানবদেহে প্রকৃতির নিয়মেই সমস্ত জৈবিক কার্যকলাপ সমূহ নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ শরীরের অভ্যন্তরেই একটি “বায়োলজিক্যাল তথা জৈবিক ঘড়ি বা সময়” তৈরি হয়।
সুতরাং প্রকৃতির ধারায় তৈরি আমাদের জৈবিক কার্যকলাপ, বিভিন্ন অভ্যাস এবং ভুল নিদ্রার কারণে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে মানব শরীরে বিভিন্ন রোগের উপদ্রব সৃষ্টি হচ্ছে। যখন আমাদের শরীর প্রকৃতির নিয়ম হতে ব্যাহত হয় তখন আপনা আপনিই আমাদের শরীরে বিভিন্ন ত্রুটির উৎপাত শুরু হয়। এটি সাধারণত হরমোন, রাসায়নিক পদার্থ, শক্তি স্তরের নিউরোট্রান্সমিয়, জীবনীশক্তি এবং অসহায় ও নিদ্রার উপর নির্ভর করে। অন্য কথায়, আমরা আমাদের জৈবিক সময়ের প্রতি সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে অসমর্থ হচ্ছি এবং প্রকৃতি মাতার তৈরীকৃত নিয়ম নীতির প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করছি। পূর্বে ভারতে যখন বিদ্যুৎ ছিল না, প্রায় পঞ্চাশ বছর আগেরকার সময়ে লোকেরা সূর্যাস্তের খানিকক্ষণ পরেই নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ত। বাহ্যিক প্রকৃতিতেও দেখা যায়, অন্যান্য প্রাণীকুলরাও প্রকৃতিগত এই নিয়ম এখনও অনুসরণ করে চলছে। মূলত, মানব শরীরের ক্ষেত্রে নিদ্রার উত্তমপ্রদ সময় হল রাত্রি ১০ টা হতে ভোর ৬টা। সমগ্র ২৪ ঘন্টা ব্যাপীই আমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহ সক্রিয় অবস্থায় থাকে। বিশেষ করে রাতে বিশ্রামের সময় (রাত ১০ টা হতে সকাল ৬টা) আমাদের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহ সকল দূষিত এবং অতিরিক্ত পদার্থ সমূহ নির্গত করে, পরিশ্রান্ত হয় এবং পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।
যা প্রাকৃতিকভাবে হয়ে চলছে। কিন্তু যদি আমরা নির্বোধের মতো নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে খাদ্য গ্রহণ বা দেরীতে ( রাত ১০ টার পর) কাজ, খেলাধূলা, টিভি কিংবা কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সমূহ পুনরায় কর্মরত হয়ে পড়তে এবং যথেষ্ট বিশ্রাম এবং পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে না। জৈবিক সময় এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ মূলত, আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহ নিদিষ্ট “সময় ধারা” অনুসরণ করেই কাজ করে চলছে। যদি আমরা তা জেনে আমাদের শরীরের প্রতি সামঞ্জস্যতা তৈরী করতে পারি এবং যথাযথ সময় ধারা অনুসরণ করি তবেই আমরা সুস্বাস্থ্য গঠনে প্রকৃত অর্থেই সক্ষম হব। নিচে তা জৈবিক ঘড়ির চার্ট দেওয়া হয়েছে- (চলবে…)

জৈবিক ঘড়ি

রাত ৯ টা- রাত ১০ টা

এ সময় আমাদের ইমিউন সিস্টেম অর্থাৎ লসিকা গ্রন্থি হতে দূষিত পদার্থসমূহ নিঃসরিত হয়।

রাত ১১ টা রাত ১ টা

এ সময় আমাদের যকৃৎ দূষিত পদার্থসমূহ বের করে দেয় এবং পুনরায় নতুন ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মধ্যরাত ১২ টা ভোর ৪ টা

এসময় আমাদের অস্তিমজ্জা হতে রক্ত উৎপাদন শুরু হয়।

রাত ১ টা ভোর ৩টা

এ সময় পিত্তকোষ হতে দূষিত পদার্থ নির্গত হয় এবং এটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ভোর ৩ টা ভোর ৫ টা

এ সময় আমাদের ফুসফুস দূষিত পদার্থ নির্গত করে, পুনরায় কার্যকর হয়।

ভোর ৫ টা সকাল ৭ টা

এ সময় আমাদের মলাশয় দূষিত পদার্থ নিঃসরণ করে, পুনরায় সক্রিয় হতে এবং খাদ্যাবশিষ্ট নির্গত করার এটিই উপযুক্ত সময়।

সকাল ৭ টা
সকাল ৯ টা

এই আমাদের অন্ত সমূহ ভিটামিন মিনারেল, প্রোটিন, এবং পুষ্টি উপাদান সমূহ শোষণ করা শুরু করে। যায় ফলে, আমাদের অবশ্যই এই সময় সকালের খাবার গ্রহণ করার উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here