শ্রীমদ্ভাগবত বারংবার কেন পড়া উচিত?

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 130 বার দেখা হয়েছে

শ্রীমদ্ভাগবত বারংবার কেন পড়া উচিত?

শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ শ্রীধাম মায়াপুরে ২৩ জুলাই ২০২২ প্রদত্ত শ্রীমদ্ভাভগবত (১/১৮/২৭-২৮) প্রবচনের প্রতিলিপি-
পরীক্ষিত মহারাজ রাগ করেছেন এতে কোন কারণ নেই। ঠিক যেমন পরীক্ষিত মহারাজের পিতামহ ছিল অর্জুন। অর্জুনের স্বভাব ছিলনা দুর্বল অবস্থায় থাকবেন। কৃষ্ণ তিনি সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন যাতে গীতা বলতে পারেন। ঠিক তেমনি নাতিকে এই পরিস্থিতির মধ্যে আনা হয়েছিল যাতে শ্রীমদ্ভাগবত দিতে পারেন। আমরা সন্ধায় ভগবান চৈতন্য মহাপ্রভু ও ছোট হরিদাসের লীলা শ্রবণ করছি। বৈরাগীর কিভাবে ব্যবহার করতে হয় ভগবান চৈতন্য মহাপ্রভু ছোট হরিদাসকে দিয়ে কঠোর নিয়ম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিভাবে মহিলাদের সাথে আচরণ করতে হয়। গীতা অর্জুনকে বলা হয়েছিল। অর্জুন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বেঁচে ছিল। পরীক্ষিত মহারাজকে অভিশাপ দেয়া হয়। শ্রীল শুকদেবে গোস্বামীর শ্রীমুখ থেকে সাত দিন সাত রাত্র পরীক্ষিত মহারাজ শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করেছিল। গীতায় রয়েছে ৭০০ শ্লোক, শ্রীমদ্ভাগবতে ১৮ হাজার শ্লোক। পরীক্ষিত মহারাজ জীবন উৎসর্গ করেছিল তাই আমরা শ্রীমদ্ভাগবত পেলাম। নিশ্চয় অনেক ভক্ত ভাগবত পড়েন।
আমাদের শ্রীমদ্ভাগবত বারংবার পড়া উচিত। আমি বিভিন্ন সেবা কার্যে ব্যস্ত। নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য ভক্তিবৈভব কোর্স করেছি। ভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধের পরীক্ষা দিয়েছি। আমি খবর পেলাম প্রত্যেক প্রশ্নের একশত নাম্বার আমি পেয়েছি।
তারা ইতোমধ্যে ভক্তিবৈভব ডিগ্রি পেয়ে গেছে। কিছু ভক্ত বৃন্দাবনে ভক্তি সার্বভৌম ডিগ্রী শুরু করেছেন। ভক্তরা অত্যন্ত সর্তকতার সাথে পড়েন। কিছু ভক্ত বৃন্দাবনে ভক্তি সার্বভৌম ডিগ্রী শুরু করেছেন। ভক্তরা অত্যন্ত সর্তকতার সাথে পড়ছেন। শ্রীল প্রভুপাদ এরকম ডিগ্রী প্রতিষ্ঠা করেছেন যাতে তারা পড়েন। ক্রমে ক্রমে তারা এই সমস্ত গ্রন্থ পড়ছেন এবং পরীক্ষা দিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী তপন মিশ্র মায়াপুরে থাকেন। তাড়াতাড়ি কিছু পাওয়ার জন্য তিনি পদ্ধতি দিয়েছেন। ‘শেখ-শেখাও।’ আমরা যদি মনে রাখি পরীক্ষিত মহারাজ জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাদের শ্রীমদ্ভাগবত মনোযোগ সহকারে পড়া উচিত। আমি মণি গোপালের কাজ থেকে শুনেছি। অনেকেরই ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রি রয়েছে কিন্তু তারা দীক্ষার সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। সেগুলো পড়া উচিত ও মনে রাখা দরকার। ভীম ও জরাসন্ধ দিনের বেলায় যুদ্ধ করতো কিন্তু রাতের বেলায় বন্ধুর মতো কথা বলতো। শত্রুও যদি গৃহস্থের বাড়িতে আসেন তিনি মনে করেন অতিথি। এভাবে গৃহস্থ হওয়া সহজ ব্যপার নয়। এখানে অনেক নিয়ম আছে। যদিও সেখানে ইন্দ্রিয় তৃপ্তির সুযোগ রয়েছে তবুও সেখানে নিয়ম কানুন রয়েছে কিভাবে পারমার্থিক ক্রিয়াকলাপ সম্পন্ন করতে হয়। যেমন তারা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে গর্ভাধান সংস্কার করেন। যেভাবে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর জগন্নাথের কাছে প্রার্থনা করেছেন। তাই ভক্তিসিদ্ধান্ত ঠাকুরকে সন্তান রূপে লাভ করেছেন। বৈরাগী হওয়ার অর্থ হচ্ছে কোন মহিলার সাথে গোপনে কথা বলবেন না।
শাস্ত্রে উল্লেখ আছে নিজের কন্যা, মা তাদের সাথে একা বসা উচিত নয়। অন্যান্য মহিলার কথা দূরে থাক্‌। আমরা দেখি কোন মানুষের নিভৃতে বসার কারণে অসুবিধা হচ্ছে। সেইজন্য এই উপদেশ দেওয়া হয়েছে। চাণক্য পণ্ডিত বলেছেন, নিজের স্ত্রী বাদে অন্যদের মায়ের মতো দেখা উচিত। স্বাভাবিকভাবে মন বহু নারীর সঙ্গ করতে চায়। কিন্তু আমরা যখন বলি, অবৈধ সঙ্গ নয়। যৌন সঙ্গ আইনসঙ্গত। অন্য কোন নারীর সাথে সম্পর্ক যুক্ত নয়। এই তপস্যা পুরুষ ও মহিলার আচরণ করা উচিত।
এখানে আমরা দেখি পরীক্ষিত মহারাজকে অর্ভথ্যনা করা হয়নি। উনার দ্বারা শ্রীমদ্ভাগবত প্রকাশিত হলো। যখন তিনি অভিশপ্ত হলেন ভগবানের ইচ্ছা বলে মেনে নিয়েছেন। অভিশপ্ত হওয়ার কারণ বুঝতে পেরেছেন। যখন তিনি অভিশপ্ত হয়েছেন কৃষ্ণের ব্যবস্থাপনা বলে মেনে নিয়েছেন। তার রাজ্য ও সন্তানদের ত্যাগ করেছেন। তারপর তিনি গঙ্গার তীরে গিয়েছেন। দেবতাগণ সেখানে এসেছেন ভাগবত শ্রবণ করতে। তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন মৃত্যুর সময় কি করা উচিত? সাতদিন সময় রয়েছে আমার কি করা উচিত?
তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তারপর কি করা যায়? পরীক্ষিত মহারাজ শুকদেব গোস্বামীকে একই প্রশ্ন করলেন। সাতদিন অনেক সময়। পরীক্ষিত মহারাজ জানতেন তার সাতদিন বাকি আছে। কিন্তু আমরা জানিনা আমরা সাতদিন বা সাতঘন্টা বাঁচব কিনা। পরীক্ষিত মহারাজ জানতেন উনার সাতদিন বাকি আছে কিন্তু আমরা জানিনা। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত। আর আমি যখন মন্দিরে যোগদান করি তখন আমার বয়স উনিশ। পূর্ব আশ্রমের মা বলেছেন বৃদ্ধ বয়সে ধর্ম করো। আমি মাকে জিজ্ঞাসা করলাম আমি আর কতদিন বাঁচবো? তিনি কাদঁতে শুরু করেছেন। কোন মা জানেনা সন্তান কতদিন বাঁচবো। কি করে বলতে পারি বৃদ্ধ বয়সে ভক্তি করতে পারবো। কি গ্যারান্টি আছে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকবো। যাই হোক আমাদের প্রত্যেক দিন শ্রীমদ্ভাগবত ও গীতা পড়ার জন্য সময় ব্যয় করা উচিত।


 

মাসিক চৈতন্য-সন্দেশ সেপ্টেম্বর ২০২২ হতে প্রকাশিত
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।