শিশুদের জগৎ

0
21

গরু ও কুকুর

এক ব্যক্তির একটি গরু ছিল। গরুটি এক স্থানে বাঁধা ছিল। গরুটির খাবার পাত্রে ছিল কুচি করা খড়। গরু ক্ষুধার্ত হয়ে সেই খড় খেতে ইচ্ছা করলেও খেতে পারলো না। কেননা সেই সময়ে একটি কুকুর খড়কুচির ওপর আরাম করে ঘুমাচ্ছিল।
গরু বললো, ও হে, তুমি একটু উঠে গিয়ে অন্যত্র ঘুমাও।
আমাকে আমার খাবার খেতে দাও। কুকুর বললো, আমি উঠবই না। আমার ঘুম নষ্ট করার অধিকার তোমার নেই
গরু তাকে জানালো, তুমি তোমার স্থানে ভালোভাবেই গিয়ে ঘুমাও। আমার খাবার পাত্রে কেন?
কুকুর জানালো, তোমার পাত্র, তার বা কিসের প্রমাণ আছে । আমি সারা গ্রামটাই পাহারা দিই। গ্রামের সব জায়গায় আমার অধিকার আছে। তাই আমি এখানে ঘুমাতেই পারি।
তোমার যদিখাবার দরকার, তবে তুমি অন্যত্র গিয়ে খাবার সংগ্রহ করো । গরু তখন চিন্তা করলো, অনর্থক কুকুরের সঙ্গে ঝগড়া করে কোনও লাভ হচ্ছে না। তাই ক্ষুধার্ত হয়েও ধৈর্য ধরে কিছুক্ষণ থাকি । নইলে আমি দড়িতে বাঁধা। আর ওই কুকুর ছাড়া আছে। ও আমাকে কামড়ে দিয়েও চলে যেতে পারে কিন্তু আমি তার কিছুই করতে পারবো না ।
কিছুক্ষণ পরে গরুটি আবার বললো, আমার খুব ক্ষিদে পেয়েছে। তুমি একপাশ হয়ে শুয়ে থাকলেও আমি কিছু খাবার খেতে পারবো। কুকুরটি বিক্ষুব্ধ হয়ে বললো, আমার ক্লান্তি কাটলেই আমি উঠে পড়বো, অতএব একটু চুপচাপ থাকো । এই বলেই কুকুরটি ভালো করে খড়কুচির উপর শুয়েই থাকলো । তারপরেই রাখাল গোশালায় ঢুকে কুকুরটিকে শুতে দেখলো। রাখালের হাতে ছিল লাঠি। সে ঢাপ্ করে কুকুরের গায়ে লাঠি লাগিয়ে দিল। লাঠির ঘা খাওয়া মাত্রই কুকুরটি লাফ মেরে ‘ঘেউ ঘেউ’ করে মরিপড়ি হয়ে দৌড়ে পালাতে লাগলো। গরু তখন আনন্দে খড় খেতে শুরু করলো।
হিতোপদেশ
স্বার্থপর লোক অন্যের সুখ সুবিধা চায় না। অন্যের অসুবিধা করেই নিজের সুখ বজায় রাখতে চায়। জগতের এই ধরনের লোকের অভাব নেই। কিন্তু পরিস্থিতির রদবদল ঘটে। সব সময় সমান যায় না। স্বার্থপর হিংস্র খল চরিত্র ব্যক্তিও ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে নিজের দুর্গতি ডেকে আনতে বাধ্য হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here