লোকে বলে-সংসার ধর্ম বড় ধর্ম পর্ব-২

0
50

গত সংখ্যায় গোপালবাবু তথা গোপালবাবুর মত যারা পাপময় সংসারে লিপ্ত আছেন তাদের একটি নিদর্শন ছাপানো হয়েছিল। গোপালবাবু তার সংসার ধর্ম বড় ধর্ম পালন করতে গিয়ে অনেক পাপকর্ম করেছিলেন। তিনি তার ব্যবসায় অনেক যুবককে নিয়োজিত করেছিলেন। সেই সব যুবকেরা হাজার হাজার প্রাণী হত্যাযজ্ঞ চালাতে গোপালবাবুকে সহায়তা করেছিলেন। মনুসংহিতায় উল্লেখ আছে যে, প্রাণী হত্যার নির্দেশ দেয়, যে প্রাণী হত্যা করে, যে প্রাণী হত্যায় সহায়তা করে, যে প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করে, যে রন্ধন করে, যে পরিবেশন করে, এরা সবাই একই অপরাধে দন্ডিত হবে। এক্ষেত্রে গোপালবাবুর কারনেই যেহেতু অনেক যুবক এ পাপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল সেহেতু গোপালবাবুকে তাদের সকলের পাপের ভার বহন করতে হবে। ঐসব যুবকদের সাথে সাথে গোপালবাবুকেও নরকে যেতে হবে প্রকৃতির কঠোর নিয়মে। গোপালবাবু তার স্ত্রীর প্রতি অত্যাধিক কামে আসক্ত হয়ে তার মায়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছিল তাও শাস্ত্র মতো পাপের এক মহা নিদর্শন । বিশেষত শাস্ত্র বহির্ভূত কামে লিপ্ত হওয়া ও তার মায়ের উপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন চালানো সবই পাপকর্ম বলে স্বীকৃত। ইন্দ্ৰিয়তৃপ্তিমূলক ভয়ংকর কাম তাকে এ ভয়ংকর পাপে নিয়োজিত করেছিল, অন্য জীবের উপর কষ্ট চালানো শাস্ত্র বহির্ভূত পাপকর্ম বলে বিবেচিত। পরবর্তীতে দেখা গিয়েছিল এ কামের বিরূপ প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তিনি একজন লোককে পর্যন্ত খুন করেছিলেন যার ফলে তাকে নরক যাতনা ভোগ করতে হবে এবং পরজন্মে ভিন্ন দেহ পেয়ে তাকে এ শাস্তি ভোগ করতে হবে। তিনি বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক অপরাধমূলক কাজ যেমন ঋণখেলাপি, ঘুষ গ্রহণ, কালোবাজারী, মাছের ব্যবসায় ফরমালিনসহ অনেক কর্ম করেছিল, যা অন্য জীবের উপর নির্যাতনস্বরূপ হয়ে থাকে। যার ফল তাকে জন্ম-জন্মান্তরে ভোগ করতে হবে। ভাগবতের ৩য় স্কন্ধের ত্রিংশতি অধ্যায় থেকে নিম্নবর্ণিত শ্লোকগুলো পাঠকের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল । কেবলেন হ্যধর্মেণ কুটুম্বভরণোৎসুকঃ। যাতি জীবোহন্বতামিস্রং চরমং তমসঃ পদম্ ॥ (ভাগবত ৩/৩০/৩৩) অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি অবৈধ উপায়ের দ্বারা তার পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন পালনে অত্যন্ত উৎসুক, সে অন্ধতামিস্র নামক নরকের গভীরতম অন্ধকার প্রদেশে প্রবেশ করে।” আক্ষিপ্তাত্নেন্দ্রিয়ঃ স্ত্রীনামসতীনাং চ মায়য়া। রহোরচিতয়ালাপৈঃ শিশূণাং কলভাষিণাম্ ॥ (ভাগবত ৩/৩০/৮) অর্থাৎ, “যে রমণী মায়ার দ্বারা তাকে মোহিত করে, তাকেই সে তার হৃদয় অর্পণ করে, নির্জন স্থানে সে তার আলিঙ্গন এবং গোপন আলাপের দ্বারা তার সঙ্গসুখ উপভোগ করে, এবং শিশুদের আধ-আধ মিষ্টি বুলিতে সে মুগ্ধ হয়ে থাকে।” প্রভুপাদ এ শ্লোকের তাৎপর্যে বলেছেন, মায়ার রাজ্যের ভিতর পারিবারিক জীবন শাশ্বত জীবের পক্ষে ঠিক একটি কারাগারের মতো। কারাগারে কয়েদি লৌহ-শৃঙ্খল এবং লৌহ-পিঞ্জরের দ্বারা বন্দী থাকে। তেমনই বদ্ধ জীব রমণীর মনোহর সৌন্দর্যের দ্বারা, এবং তার শিশু সন্তানদের আধ-আধ বুলির দ্বারা বন্দি হয়ে রয়েছে। এই ভাবে সে তার প্রকৃত পরিচয় ভুলে যায় । এই শ্লোকে স্ত্রীণামসতীনাম্ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে, রমণীর প্রেম কেবল পুরুষের মনকে বিচলিত করার জন্য। প্রকৃত পক্ষে এই জড় জগতে প্রেম বলে কিছু নেই । স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়েই কেবল তাদের নিজেদের ইন্দ্রিয়-তৃপ্তি চায়। ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির জন্য স্ত্রী এক মায়িক প্রেম সৃষ্টি করে, এবং পুরুষ সেই মায়িক প্রেমে মোহিত হয়ে, তার প্রকৃত কর্তব্য বিস্মৃত হয়। এই প্রকার মিলনের ফলে যখন সন্তান উৎপন্ন হয়, তখন পরবর্তী আকর্ষণ হচ্ছে সেই শিশুর আধ-আধ মিষ্টি বুলি । গৃহে স্ত্রীর প্রেম এবং শিশুর মিষ্টি বুলি মানুষকে খুব ভালভাবে বন্দি করে রাখে, এবং তার ফলে সে তার গৃহ ত্যাগ করতে পারে না। বেদের ভাষায় এই প্রকার ব্যক্তিকে বলা হয় গৃহমেধী, অর্থাৎ ‘যার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে তার গৃহ।’ গৃহস্থ হচ্ছেন তিনি, যিনি তাঁর পরিবার, পত্নী এবং সন্তানদের সঙ্গে থাকেন, কিন্তু তাঁর জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে কৃষ্ণভক্তি বিকশিত করা। তাই মানুষকে গৃহস্থ হওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়, গৃহমেধী হতে নয়। গৃহস্থের একমাত্র চিন্তা হচ্ছে মায়া-রচিত পারিবারিক জীবন থেকে মুক্ত হয়ে, কি করে শ্রীকৃষ্ণের প্রকৃত পরিবারে প্রবেশ করা যায়; আর গৃহমেধীদের কাজ হচ্ছে তথাকথিত পারিবারিক জীবনে নিজেকে জন্ম-জন্মন্তরে বার বার জড়িয়ে ফেলে নিরন্তর মায়ার অন্ধকারে থাকা। এখানে গোপাল বাবু প্রথম দিকে তার মা, ভাই-বোন ও শেষের দিকে তার স্ত্রীর জন্য অন্যায় বা অসদুপায়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্ম করে আয় করেছিলেন। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ‘যার জন্য করি চুরি, সেই বলে চোর।’ বিষয়াসক্ত মানুষ নানাবিধ পাপকর্মে রত হয় তারা কখনই সন্তুষ্ঠ হয় না। মোহের বশে এবং তাদের সেবা করার ফলে, তাকে জীবনের নারকীয় অবস্থায় প্রবেশ করতে হয়। যেমন, একটি চোর তার পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য চুরি করে, এবং সে যখন ধরা পড়ে, তখন তাকে কারাগারে দন্ডভোগ করতে হয়। জড় অস্তিত্বের এবং জড়-জাগতিক সমাজ, বন্ধু এবং প্রেমের এটিই হচ্ছে সারমর্ম। পরিবারের প্রতি আসক্ত ব্যক্তি তার পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য সর্বদা ছলে বলে কৌশলে ধন সংগ্রহের চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে, সে নিজে কিন্তু এই প্রকার পাপ কর্ম ব্যতীত যতটুকু ভোগ করতে পারত, তার থেকে বেশি কিছু ভোগ করতে পারে না। একটি মানুষ যে দিনে এক পোয়া খাবার খায়, কিন্তু তাকে হয়তো একটি বিরাট পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে হয়, এবং পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য যে-কোন উপায়েই হোক না কেন অর্থ সংগ্রহ করতে হয়, কিন্তু সে নিজে তার আহারের ক্ষমতার অতিরিক্ত আর কিছু পায় না, এবং অনেক সময় তাকে তার পরিবারের অন্য সমস্ত সদস্যদের ভুক্তাবশিষ্টই আহার করতে হয়। অন্যায়ভাবে ধন সংগ্রহ করা সত্ত্বেও, সে নিজে তার জীবন উপভোগ করতে পারে না। এইটিকে বলা হয় মায়ার আবরণাত্মিকা শক্তি।
বার্তায়াং লুপ্যমানায়ামারব্ধায়াং পুনঃ পুনঃ ।
লোভাভিভূতো নিঃসত্ত্বঃ পরার্থে কুরুতে স্পৃহাম্ ॥
(ভাগবত ৩/৩০/১১)

“যখন তার জীবিকায় সে ব্যর্থ হয়, তখন সে বার বার তার অবস্থার উন্নতি সাধনের চেষ্টা করে, কিন্তু তার সমস্ত চেষ্টায় সে যখন ব্যর্থ হয় এবং বিনষ্ট হয়, তখন সে অত্যধিক লোভের কারনে, অন্যের ধন গ্রহন করে।”

কুটুম্বভরণাকল্পো মন্দভাগ্যো বৃথোদ্যমঃ।

শ্রিয়া বিহীনঃ কৃপণো ধ্যায় সিতি মূঢ়ধীঃ ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১২)

“যখন সেই দুর্ভাগা তার পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণে অক্ষম হয়ে হতশ্রী হয়, তখন সে তার ব্যর্থতার কথা চিন্তা করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শোক করে।”

এবং স্বভরণাকল্পং তৎকলত্রাদয়স্তথা।

নাদ্রিয়ন্তে যথাপূর্বং কীনাশা ইব গোজরম্ ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১৩)

“তাদের পালন-পোষণে তাকে অসমর্থ দেখে, তার পত্নী এবং অন্যান্য আত্মীয়েরা তাকে আর আগের মতো সম্মাত করে না, ঠিক যেমন নির্দয় কৃষকেরা বৃদ্ধ বলদকে অযত্ন করে।

তত্রাপ্যজাতনির্বেদো ম্রিয়মাণঃ স্বয়ম্ভতৈঃ।

জরয়োপত্তবৈরূপ্যো মরণাভিমূখো গৃহে ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১৪)

“কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই মূর্খ সংসার জীবনের প্রতি বিরক্ত হয় না। যাদের সে এক সময় পালন করেছিল, তাদেরই দ্বারা অবজ্ঞাভরে সে পালিত হয়। জড়ার প্রভাবে বিরূপাকৃতি হয়ে, সে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করে।

আস্তেহবমত্যোপন্যস্তং গৃহপাল ইবাহরন্।

আময়াব্যপ্রদীপ্তাগ্নিরল্পহারোহল্পচেষ্টিত ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১৫)

“এইভাবে সে গৃহে ঠিক একটি পোষা কুকুরের মতো থাকে এবং অবহেলাভরে তাকে যা দেওয়া হয়, তাই সে খায়, অগ্নিমান্দ্য, অরুচি আদি নানা রকম রোগগ্রস্ত হয়, সে কেবল অল্প একটু আহার করে এবং অক্ষম হওয়ার ফলে, কোন রকম কাজ করতে পারে না।” উল্লেখ্য, অনেক সংসারে আসক্ত মানুষ চায় যে, তার মৃত্যুর পরে ও তার পরিবারের লোকেরা এক বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে তাকে বহন করে নিয়ে যাবে, যদিও সে নিজে সেই শোভাযাত্রাটি দেখতে পারে না। তবুও সে আকাঙ্খা করে যে, জাঁকজমক সহকারে শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার দেহটি যেন নিয়ে যাওয়া হয়, এ প্রকার লোকেদের অনেকেই বলে থাকে যে, মৃত্যুর পরে আমাকে একটি কাষ্টখন্ড দিবে, প্রিয়জনের পাশে শশ্মান দিও, চিতার উপর মন্দির তুলবে, মৃত্যুর পর বিবিধ ধর্মীয় ক্রিয়া সম্পন্ন করবে। মৃত্যুর পর আমার চিতাই একটি করে প্রদীপ প্রজ্বলন করবে ইত্যাদি আরো অনেক ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে, কিন্তু সে যদিও জানে না যে, তার দেহ ত্যাগের পর পরবর্তী জীবনে সে কোথায় যাবে, তবুও সে নিজেকে সুখী বলে মনে করে, তাছাড়া এ জড় দেহ এখানেই পুড়িয়ে ফেলা হবে, তার অস্তিত্বই থাকবে না, যার অস্থিত্বই থাকবে না, তাকে নিয়েই বিষয়াসক্তা মানুষেরা চিন্তা করতে থাকে ।

বায়ুনোক্রমতোত্তারঃ কফাসংরুদ্ধনাড়িকঃ।
কাসশ্বাসকৃতায়াসঃ কণ্ঠে ঘুরঘুরায়তে ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১৬)

“সেই রুগ্ন অবস্থায়, ভিতরের বায়ুর চাপে, তার চক্ষু ঠিকরে বেরিয়ে আসে, এবং কফের দ্বারা তার শ্বাসনালী রুদ্ধ হয়ে যায়। তার নিঃশ্বাস নিতে তখন খুব কষ্ট হয় এবং তার গলা দিয়ে ‘ঘুর-ঘুর’ শব্দ বের হয়।

শয়ানঃ পরিশোচদ্ভিঃ পরিবীতঃ স্ববন্ধুভিঃ।

বাচ্যমানোহপি ন ব্রুতে কালপাশবশং গতঃ ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১৭)

“এইভাবে সে মুত্যুশয্যায় শয়ন করে। তার আত্মীয় এবং বন্ধুরা তাকে ঘিরে তখন শোক করতে থাকে এবং যদিও সে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়, তবুও কালপাশের বশবর্তী হয়ে সে আর তাদের কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।” প্রভুপাদ এর তাৎপর্যে বলেন, মানুষ যখন মৃত্যুর শয্যায় শয়ন করে, তখন লৌকিকতা প্রদর্শন করার জন্য তার আত্মীয়-স্বজনেরা আসে, এবং কখনও কখনও তার মৃত ব্যক্তিকে “হে পিতা!” “হে বন্ধু!” অথবা “হে পতিদেবতা!” ইত্যাদি বলে মৃত ব্যক্তিকে সম্বোধন করে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করে। সেই করুন অবস্থায় মৃত্যুর পথযাত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় এবং তার ইচ্ছা ব্যক্ত করতে চায়, কিন্তু যেহেতু সে তখন সম্পূর্ণরূপে কালের বা মৃত্যুর নিয়ন্ত্রাধিন, তাই সে আর কিছু বলতে পারে না, এবং তার ফলে সে অবর্ননীয় বেদনা অনুভব করে, তার ব্যধির জন্য সে ইত্যিমধ্যেই এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থায় রয়েছে এবং তার গ্রন্থীগুলি ও কণ্ঠ কফের দ্বারা রুদ্ব হয়ে গেছে, সে এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থায় রয়েছে, এবং তার আত্মীয় স্বজনেরা যখন এইভাবে তাকে সম্বোধন করে ক্রন্দন করে, তখন তার শোক বর্ধিত হয়।

এবং কুটুম্বভরণে ব্যাপৃতাত্মাজিতেন্দ্রিয়ঃ ।

ম্রিয়তে রুদতাং স্বানামুরুবেদনয়াস্তধীঃ ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১৮)

”এইভাবে, অসংযত ইন্দ্রিয়ের দ্বারা কুটুম্বভরণে ব্যাপৃত ব্যক্তি তার আত্মীয় স্বজনদের এইভাবে ক্রন্দন করতে দেখে গভীর দুঃখে তার প্রাণ ত্যাগ করে, সে অসহ্য বেদনায় অচেতন হয়ে অত্যন্ত করুন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

মদূতৌ তদা প্রাপ্তৌ ভীমৌ সরভমেক্ষণৌ।

স দৃষ্টা এস্তহৃদয়ঃ শকৃন্মুত্রঃ বিমুগ্ধতি ॥

(ভাগবত ৩/৩০/১৯)

“মৃত্যুর সময়, সক্রোধনেত্র ভয়ঙ্কর যমদূতদের সে তার কাছে আসতে দেখে, এবং তখন মহাভয়ে সে মল-মূত্র ত্যাগ করতে থাকে।” এইভাবে একদিন গোপালবাবুর মত অনেক সংসারিই করুনভাবে মৃত্যুর ভয়াল রূপের কবলিভূত হয়। যমদূতেরা তখন সেই সংসারী ব্যক্তিকে শক্ত দড়ি দিয়ে তার গলায় বেধে নরকের দিকে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে কুকুরেরা তাকে কামড়াতে থাকে এবং তখন সে তার সমস্ত পাপকর্মের কথা স্বরণ করে। তাকে নানারকম ভীষণ জ্বালাময় কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়। যমালয়ের পথে যেতে যেতে সে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে যায় এবং কথনও কখনও সে অচেতন হয়ে পড়ে, কিন্তু তাকে জোর করে উঠতে বাধ্য করা হয়। দু-তিন মুহুর্তের মধ্যে তাকে নিরানব্বই হাজার যোজন পথ করতে হয়, এবং তারপর তাকে তৎক্ষণাৎ ঘোর যন্ত্রনাদায়ক দন্ড দান করা হয়, যা ভোগ করতে সে বাধ্য হয় তাই আমাদের সামনে ভয়ংকর দিন অপেক্ষা করছে। জীবনের আগত এই সব মহাভয় থেকে মুক্ত হতে চাইলে আর একমুহুর্ত দেরী না করে সবরকম পাপকর্ম পরিত্যাগ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরনকমলে আশ্রয় গ্রহণ করুন। আর তার জন্য হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র অত্যন্ত বিনয় শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস সহকারে জপ ও কীর্তন করতে হবে, তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করে মহাভয় থেকে মুক্ত করবে। ‘সংসার ধর্ম বড় ধর্ম’ এ লৌকিক প্রবাদ বাক্যটি তখনই পূর্ণরূপে স্বার্থক হবে যখন সংসারের পাপকর্ম পরিত্যাগ করে সংসারকে কৃষ্ণভাবনাময় করা যায়। তখন সকলের এ পরিচিত এবং প্রচলিত বাক্য সফল হবে যে “সংসার ধর্ম বড় ধর্ম।”


চৈতন্য সন্দেশ আগস্ট -২০০৮ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here