মায়াপুরের পূণ্যভূমিতে প্রভুপাদ ঘাট প্রতিষ্ঠা

0
47

ভারত প্রতিনিধি: ভারত সরকার জাতীয় গঙ্গা পরিষ্কারকরণ প্রকল্পের (NMCG) আওতায় শীঘ্রই মায়াপুরের পূণ্যভূমিতে প্রভুপাদ ঘাট প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। মে মাসের ১৩ তারিখে ইস্‌কন মন্দিরের বিপরীতে প্রভুপাদের বর্তমান ঘাটে ভূমি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ, শ্রীমৎ ভক্তিবিনোদ স্বামী এবং মায়াপুরের সহকারী পরিচালকদের সাথে উক্ত প্রজেক্টের মহাপরিচালক শ্রী অশোক কুমার উপস্থিত ছিলেন। গঙ্গার তীরে অবস্থিত মায়াপুর হলো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান। এছাড়া এটি হলো গৌড়ীয় বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র।
প্রভুপাদের ঘাটটি ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার প্রজেক্ট লিমিটেডের মাধ্যমে ১৫.৩ কোটি রুপি (প্রায় দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে নির্মাণ করার জন্য বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ঘাটটি তৈরি হলে প্রায় এক কোটি, তীর্থযাত্রী এবং দর্শনার্থী উপকৃত হবেন যারা প্রতিবছর মায়াপুর ভ্রমনে আসেন। ইস্‌কনের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক যুধিষ্ঠির গৌবিন্দ দাস বলেন, “মায়াপুর হলো একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ।”
১৫ শতাব্দীতে এটি ছিল শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং এটি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের ভক্তি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। আমরা ভারত সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ যে, শ্রীল প্রভুপাদকে সম্মান প্রদর্শন করার জন্য এখানে শ্রীল প্রভুপাদের নামে প্রথম সার্বজনীন ঘাট তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রভুপাদের ঘাটে ভ্রমনকারী ভক্তদের আধ্যত্মিক অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য এখানে বেশ কিছু সুবিধা দেয়া হবে। যেমন: সুরক্ষিত রেলিং, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা কাপড় পরিধানের কক্ষ, টয়লেট, পার্ক, বয়স্ক ব্যক্তিদের স্নানের ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই ঘাটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ২৪ মাস সময় লাগবে।
যুধিষ্ঠির গৌবিন্দ দাস বলেন, এই ঘাটটি যখন নির্মিত হবে তখন ভক্তরা সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতির সৌন্দর্য এবং মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারবে যা দেখার জন্য তীর্থ যাত্রীরা বেনারস ও ঋষিকেশ ভ্রমন করেন। আরতি ছাড়াও জনসাধারণকে গঙ্গার মহিমা সম্বন্ধে জানানোর জন্য এখানে নিয়মিত কিছু অনুষ্ঠান যেমন: গঙ্গাকথা এবং সেমিনার নদীর তীরে আয়োজিত হবে। এর মাধ্যমে আমরা পরিবেশ পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখতে সক্ষম হব।”


 

মাসিক চৈতন্য-সন্দেশ ২০২২ হতে প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here