“ভারত গ্রীন অ্যাওয়ার্ড”-এ ভূষিত হল ইস্‌কন

0
201
আনন্দ চৈতন্য দাস

“আইজিবিসি গ্রীন চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড ২০২০” ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ এ পুরস্কার লাভ করে। জনসাধারণের মধ্যে পরিবেশের প্রতি অনুভূতি সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে ৭ম আই.জি.বি.সি গ্রীন চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হয়ে বিজয়ী হয়েছে। ২০২০ সালের ২৯-৩১ অক্টোবর ১৮ তম “গ্রীন বিল্ডিং কংগ্রেস” এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইন্ডিয়ান গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বি. সুরেশ, গোদরেজ কোম্পানির চেয়ারম্যান সামশেদ এন গোদরেজ, আইজিবিসি এর ভাইস চেয়ারম্যান গুরমিত সিং অরোরা, আই.জি.বি.সি ব্যাঙ্গালোর শাখার চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ বিয়ারি এবং জনসন কোম্পানির ভারতীয় প্রধান শ্রীকান্ত বাপাট এর উপস্থিতিতে ইস্‌কন এই পুরস্কার গ্রহণ করে।
পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বর্ধন করা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল। তাদের মূল কাজ হল লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে পরিবেশ সতর্কতা তৈরি করা।
মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইস্‌কন চৌপাট্টি টেম্পল এবং ইস্‌কন গোবর্ধন ইকো-ভিলেজ নামে ইস্‌কনের এই দুটি প্রকল্প প্লাটিনাম লেভেলে আইজিবিসি গ্রীন সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেন। ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার নামে হতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিবিধ পরিকল্পনা হাতে নেন। ইস্‌কনের ডিউটি অফিসার এবং গোবর্ধন ইকো-ভিলেজের পরিচালক গৌরাঙ্গ দাস ইস্‌কন প্রতিনিধি হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিশ্বজুড়ে ইস্‌কনের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গুরুবর্গরা। ইস্‌কন জিবিসি সদস্য গোপালকৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, “বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জরুরী প্রয়োজন, গ্রীন বিল্ডিং প্রজেক্টের উন্নয়নের জন্য আমি আইজিবিসি-কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সরল জীবন ও উচ্চচিন্তা এবং ভগবানকে কেন্দ্রে রেখে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করাই হল বৈদিক শিক্ষা। বিশ্বজুড়ে এই প্রাচীন বার্তাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন ইস্‌কনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য শ্রীল প্রভুপাদ।
এই বার্তার উন্নতির জন্য ইস্‌কনকে স্বীকৃতি দেয়ায় আইজিবিসি এর নিকট কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি আমরা। ইস্‌কন জিবিসি সদস্য শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী ব্যক্ত করেন, আমাদের বিশ্ব আধ্যাত্মিক সদর দফতর শ্রী মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দিরের সৌজন্যে গ্রীন চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ।” রিসাইক্লিং, জিরো ওয়েস্টসহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই গ্রহকে সংরক্ষণ করতে আমরা অঙ্গীকার করছি।
‘গোবর্ধন ইকো ভিলেজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা রাধানাথ স্বামী প্রকাশ করেন, “প্রকৃতি এবং ভগবান, সমস্ত জীব, আত্মা, মন, দেহ এবং জীবনে সামঞ্জস্যতা রাখার কৌশলই ভগবদ্গীতা আমাদের শিক্ষা দান করে।
ইস্‌কনের মূলনীতির সাথে অত্যন্ত সঙ্গতিপূর্ণ এবং ভগবদ্গীতার প্রাচীন বার্তা এটাই যে, প্রকৃতিতে ভগবানের উপস্থিতি উপলব্ধি করা এবং প্রকৃতি হচ্ছে ভগবানের উপহার। এই সত্যকে অনুশীলন করার প্রয়োজনীয়তা বিশ্ব বুঝতে পারবে এটা আমরা প্রার্থনা করছি এবং আশা করছি।
‘টেম্পল অব বৈদিক প্ল্যানেটেরিয়াম’-এর চেয়ারম্যান এবং ‘ফোর্ড মটরস’-এর ট্রাস্টি মিস্টার আলফ্রেড ফোর্ড মন্তব্য করেন, “গ্রীন এজেন্ডার সাথে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে আরও অধিক সাফল্য অর্জন করতে পারব বলে আমরা আশা করছি। “টেম্পেল অব বৈদিক প্ল্যানেটরিয়াম”-এর দ্বারা আমরা অগ্রসর হচ্ছি।
৩৫০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট মন্দিরটি হবে এশিয়ার সুবৃহৎ উপাসনালয় যা প্রিয় তাজমহলকেও ছাড়িয়ে যাবে। একই সময়ে ও একই সাথে ১০হাজার ভক্ত যাতে কীর্তন করতে পারে সেরকম করে কীর্তনহলটি নির্মিত হচ্ছে।
গৌরাঙ্গ দাস অবশেষে বললেন, “প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য জীবনের উপর সর্বদাই গুরুত্বারোপ করে আসছে আমাদের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। আমাদের কাছে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের সকল ভক্ত, সহযোগীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের পাশাপাশি তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি।
প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি ও উদ্যোগমূলক কার্যক্রম হাতে নিতে জনাকীর্ণ মন্দিরগুলো আমাদের বিশেষ নজরে রয়েছে। হাজার হাজার ভক্ত এবং ভক্ত সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নতিতে আইজিবিসি-এর সহযোগিতায় আমরা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে পারবো বলে আমি আশা করছি।”

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here