ভারতীয় জ্ঞান পদ্ধতি সমূহ (পর্ব-০১)

0
157

অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

সপ্তর্ষি: কশ্যপ, জমদগ্নী, গৌতম, ভরদ্বাজ, বিশ্বামিত্র, বশিষ্ঠ ও অত্রি, এই সাতজন ব্রহ্মর্ষি হলেন বর্তমান বৈবস্বত মন্বন্তরে সপ্তর্ষি। এই সাতজন ঋষি প্রাচীন বৈদিক ভারতের এক আদি মহাজাগতিক বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তারা হলেন সমগ্র ভারতীয় জ্ঞানপদ্ধতিসমূহের অগ্রদূত। যার কিছু দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরা হলো:
১। মহাবিশ্বতত্ত্ব, জ্যোতির্বিজ্ঞান তথা মহাজাগতিক বিজ্ঞানের প্রসার ঘটেছিল মহর্ষি ভৃগুর বংশধরগণ ও মহর্ষি বশিষ্ঠ, শক্তি পরাশর এর মাধ্যমে। এমনকি প্রাচীন ভারতের বীজগণিত ও জ্যামিতির প্রকাশ ঘটেছিল সর্বপ্রথম এদের মাধ্যমেই।
২। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান (আয়ুর্বেদ) প্রবর্তিত হয়েছিল মহর্ষি ভরদ্বাজের মাধ্যমে।
৩। ভূমি, ভৌম ও পরিবেশগত বিজ্ঞান (বাসু ও বাস্তু বিদ্যা) প্রবর্তিত হয়েছিল মহর্ষি বশিষ্ঠ ও তার অন্যান্য সহযোগী মুনিদের মাধ্যমে।
সংস্কৃত: ভারত ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের মাতৃভূমি এবং সংস্কৃত ছিল ইউরোপের সমস্ত ভাষার জননী। সংস্কৃত ছিল আমাদের দর্শনের জননী। গণিতের ক্ষেত্রেও, বিশেষত আরব জুড়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংস্কৃতকেই জননী হিসেবে ধরা হয়। ভারতমাতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সবার জননীস্বরূপ।

উইল ডুরান্ট ইতিহাসবিদ

সংস্কৃত হলো পৃথিবীর সমস্ত ভাষার মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত ও সভ্য ভাষা। এটি হলো এশিয়ার সমগ্র ইন্দো-আর্য শাখা এবং সেসাথে ইউরোপীয় সমস্ত ভাষা পদ্ধতির মূল। ঋগবেদ হল দশম এ সংখ্যাটির ভিত্তি, যেটি দশমিক বা ডেসিমেল পদ্ধতির একক। বর্তমান বিশ্বের অনেক অনেক শব্দেরও সংস্কৃতের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

বীজগণিত ও জ্যামিতিক

“আমরা ভারতীয়দের কাছে অত্যন্ত ঋণী, যারা আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে গণনা করতে হয়।”
-আলবার্ট আইনস্টাইন নোবেল লরেট ও পদার্থ বিজ্ঞানী
ভারতীয় গণনা বিজ্ঞানের একক সমূহ দ্বি-চলক বিশিষ্ট (নরহধৎু) এককসমূহ যেমন শূণ্যও অদ্বৈত(একক বা ১) বর্তমান গণনা বিজ্ঞানের জন্য ভিত্তিস্বরূপ।

অর্থশাস্ত্র (অর্থনীতি)

“ভারত হল মানবজাতির দোলনা, মানুষের ভাষার জন্মস্থান, ইতিহাসের জননী, লিজেন্ডদের ঠাকুরমা এবং ঐতিহ্যের প্রমাতামহী। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান ও গঠনমূলক উপাদানসমূহ সংরক্ষিত রয়েছে শুধুমাত্র ভারতেই।”

-মার্ক টোয়েন, আমেরিকান হিউমরিস্ট ও লেখক

চৈতন্য সন্দেশ জানুয়ারি-২০২২ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here