ভগবানকে দোষারোপ করে সময় নষ্ট করবেন না

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 77 বার দেখা হয়েছে

ভগবানকে দোষারোপ করে সময় নষ্ট করবেন না
আমাদের জড় জাগতিক জ্ঞানের নিরিখে আপাতদৃষ্টিতে কখনও কখনও মানুষের মনে হয় যে, ভগবান বুঝি পক্ষপাত দুষ্ট। তিনি কাউকে কাউকে উজাড় করে অনেক কিছু দিচ্ছেন, সুখ ভোগ করাচ্ছেন, আবার কারোর কারোর দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেন না, তারা নানা রকমের দুঃখ ভোগ করছে, কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি এরকম নয়। ভগবান সকল সময়েই সর্বতোভাবে নিরপেক্ষ। বেদান্ত সূত্রে (২/১/৩৪) বলা হয়েছে, বৈষম্য নৈর্ঘণ্যে ন সাপেক্ষত্ত্বাৎ তথা হি দর্শয়তি, অর্থাৎ “সে রকম মনে হলেও বস্তুতঃ ভগবান কাউকে ঘৃণা করেন না অথবা ভালবাসেন না।” শাস্ত্রোক্ত এই কথাটিই ঠিক। ভগবান হচ্ছেন পরম নিরপেক্ষ এবং সমস্ত কিছুর অধীশ্বর। তিনি পরম নিয়ন্তা এবং তার ইচ্ছাতেই জগৎ সংসারের সবকিছু সংঘটিত হচ্ছে। এখানে তার ইচ্ছাতেই কথাটি নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির কবলে পড়ছে। আর সেই বিভ্রান্তি বশতঃ সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে “ভগবানের ইচ্ছাতেই যখন সব হচ্ছে, তাহলে তিনি কেন আমাকে এত দুঃখ দিচ্ছেন? আমার দুর্দশার জন্য তাহলে তিনিই দায়ী কেননা তার ইচ্ছা ব্যতীত আমার সুখ ভোগও হবে না।’ হ্যাঁ, ভগবানের ইচ্ছাতেই সবকিছু সংঘটিত হচ্ছে এটা ঠিকই, কিন্তু আমরা যারা ভগবানকে আমাদের দুর্দশার কারণ বলে দায়ী করে অভিযোগ করছি, তারা কি জানে, ঠিক কি ভাবে, কোন পন্থায় ভগবানের ইচ্ছায় সবকিছু সংঘটিত হচ্ছে? যারা ভগবানের নামে অভিযোগ করছে তারা কি কখনও জানবার চেষ্টা করেছে তারা প্রকৃতপক্ষে কে? কি তাদের আসল পরিচয়? এই দেহাত্মবুদ্ধিগত জন্ম-মৃত্যুর মধ্যবর্তী ক্ষণিকের জীবনটিই কি তার পরিচয়, না এই দেহের অতীত তার কোন নিত্য পরিচয় রয়েছে? নিশ্চয়ই তারা কেউই এই সব প্রশ্নের উত্তর জানে না। কেননা যারা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানেন, যারা নিজেদের স্বরূপগত প্রকৃত পরিচয় সম্বন্ধে অবগত তারা কখনোই ভগবানকে দায়ী করে কখনও অভিযোগ করেন না। ভগবদগীতায় (৯/১০) স্পষ্টভাবে ভগবান বর্ণনা করেছেন যে, কিভাবে তাঁর ইচ্ছাতেই সবকিছু সংঘটিত হচ্ছে- ময়াধ্যক্ষেন প্রকৃতিঃ সূয়তে সচরাচরম্– অর্থাৎ ভগবান বলছেন যে, তাঁর অধ্যক্ষতায়, তাঁর অধীনে প্রকৃতি এই জগৎ চরাচরের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের কার্য সম্পাদন করছে। তার মানে আমরা এই জগতে সকলে প্রকৃতির শাসনাধীনে রয়েছি। আমরা যদি প্রকৃতির নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করি তাহলে আমাদের সেই নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করার ফলে প্রকৃতির আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে, দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হবে। এখানে ভগবানের ইচ্ছায় প্রকৃতি কাজ করলেও ভগবানের কিছু করার নেই, কেননা তিনি প্রকৃতির আইনে হস্তক্ষেপ করেন না। এ বিষয়ে ভগবদ্গীতায় (৯/৮/৯) ভগবান স্বয়ং বলেছেন “প্রকৃতিং স্বামবষ্টভ্য বিসৃজামি।” পুনঃ পুনঃ সৃষ্ট হয় এবং আমারই ইচ্ছায় অন্তকালে বিনষ্ট হয়। হে ধনঞ্জয়, কিন্তু এই প্রকৃতির সেই সমস্ত কর্ম আমাকে আবদ্ধ করতে পারে না; আমি সেই সমস্ত কার্যে অনাসক্ত ও উদাসীনের ন্যায় অবস্থিত থাকি।’ ঠিক যেমন দেশের সরকার আইন প্রণয়ন করে সেই আইন পরিচালনার ভার বিচার- বিভাগের উপর ন্যস্ত করেন এবং পরে আর বিচার বিভাগের সেই আইন পরিচালনার কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। তেমনই ভগবানের নিখুঁত নিরপেক্ষ আইনসমূহ প্রকৃতির দ্বারা পরিচালনার কাজে ভগবান আর হস্তক্ষেপ করেন না। এই প্রকৃতির আইন এমনই যে, আমরা যেমন কর্ম করব তেমন ফল লাভ করব। আমরা যদি বলি “আমি জানতাম না এটা করলে ওটা হয়’, এই কথা বলে লাভ নেই, কেননা সবকিছু জানার সুযোগ, অধিকার স্বাধীনতা আপনার রয়েছে। তাই না জানার দায় আপনারই, অন্য কারো নয়। আগুনে হাত দিলে হাত পুড়বেই। ‘জানতাম না’ বললে আগুন আপনাকে ক্ষমা করবেন না। প্রকৃতির আইনও ঠিক তেমনই। তাই আপনাকে ঠিক করতে হবে, আপনি এই জগতে বসে বসে এই জীবন ও ভগবান সম্বন্ধে কোন কিছু না জানার চেষ্টা করে সময়ের অপচয় করে, দুঃখ দুর্দশা ভোগ করে ভগবানকে দোষারোপ করে যাবেন, না কি আমাদের প্রকৃত স্বরূপ ও ভগবানের সঙ্গে অমাদের সম্পর্কটি কি তা জানার চেষ্টা করে ক্রমে ক্রমে এই জগতের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হয়ে ভগবৎধামে প্রবেশ করে নিত্য আনন্দে বিরাজ করবেন? এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ভগবান আপনাকে পূর্ণাঙ্গরূপে প্রদান করেছেন । আপনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেই অনুযায়ী আপনি ফল ভোগ করবেন ।
হরেকৃষ্ণ।

১/৮/২০০৮

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।