বৈষ্ণবের প্রতি ক্রোধ উৎপন্ন হলে আমাদের কি করণীয়?

0
258
শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী

চৈতন্যদেব শিক্ষাষ্টকমে বলেছিলেন
তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়া সদা হরিঃ ॥

যিনি নিজেকে সকলের পদদলিত তৃণের থেকেও ক্ষুদ্র বলে মনে করেন, যিনি বৃক্ষের মতো সহিষ্ণু, যিনি নিজে মান শূন্য এবং অন্য সকলকে সম্মান প্রদর্শন করেন, তিনি সর্বক্ষণ ভগবানের দিব্যনাম কীর্তনের অধিকারী।
আমরা হয়তো কোন বৈষ্ণব দেখি। তাদের আচরণ যদি ঠিক না হয় আমাদের রাগ হয়। সেটা করা উচিত না। বৈষ্ণব যদি ঠিক মত আচরণ না করে সেটা ভবিষ্যতে তাদের জন্য মঙ্গল নয়। কিন্তু সেটা আমার রাগ হবে কেন? আমার দেখা উচিত তাদের কি কি সদ্্গুণ আছে। যদি আমাদের কোন দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে বলার জন্য তাদের কাছে গিয়ে প্রথমে তার গুণকীর্তন করা ও তার সম্বন্ধে আলোচনা করা এবং তাকে জিজ্ঞেস করা আপনি যে এসব করলেন এটা কি ঠিক হয়? এভাবে আপনারা উনার কাছে গিয়ে আলোচনা করতে পারেন- আমি কি আমার জীবনে এটা অনুশীলন করতে পারি? এটা কি আমার জন্য ঠিক হবে? এটা ওনাকে প্রশ্ন দেয়া যেতে পারে।
বৈষ্ণব কোন অপরাধ নেয় না। আপনি গিয়ে যদি বলেন, ‘আপনি এভাবে করলেন আপনি খুব খারাপ লোক। আমি অভিযোগ করছি আপনি এভাবে আচরণ করলেন।’ এটা কি ঠিক এটা ঠিক হবে? না। সে যদি গুরুদেব হয় তার শিষ্যের উপরে রাগ করতে পারে। আপনি যে বৈষ্ণবের দোষ দেখছেন আপনি কি তাদের গুরু? কিন্তু কেন রাগ করবেন বরং তার কাছে প্রশ্ন দিন আমি আপনাকে খুব শ্রদ্ধা করি জ্যেষ্ঠ্য বৈষ্ণব হিসেবে। আপনি যে কাজটা করলেন এটা কি আমার করা উচিত? আমি কি করতে পারি এরকম?
যে কিছু ভালো গুণ বৈষ্ণবের আচরণ করেন আপনি সেটা করতে পারেন। যেটা খারাপ সেটা আপনি করবেন না। আমি করব না এমন আচরণ কিন্তু তিনি কৃষ্ণ সেবা করছেন বলে কৃষ্ণ কৃপা করবেন। কিন্তু উনি যে খারাপ আচরণ করছে সেটা আমি বলবো না। শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে (অন্ত্য ৪/১০২-১০৩) হরিদাস সম্বন্ধে বলা হয়েছে-

আপনে আচরে কেহ না করে প্রচার।
প্রচার করেন কেহ, না করেন আচার ॥
‘আচার’, ‘প্রচার’, নামের করহ ‘দুই’ কার্য।
তুমি সর্ব গুরু, তুমি জগতের আর্য ॥

কিন্তু হরিদাস ঠাকুর আচার প্রচার দুই ভাল। আপনারা এভাবে চেষ্টা করুন। অনেকের আচরণ ভালো কিন্তু প্রচার করে না, অনেকের প্রচার ভালো হয় কিন্তু আচার ঠিক নাই। আমরা দুইটাই ভালো চাই, আচার এবং প্রচার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here