বৈদিক ঐতিহ্যে মৃত্যু

0
30

ক্যালিফোর্নিয়ার সানডিয়োগোতে দ্যা ইনস্টিটিউট যার প্যালিয়াটিভ মেডিসিন ও সানডিয়েগো হসপিসের নার্স ও ডাক্তারদের সম্মুখে প্রদত্ত একটি প্রবচন

শ্রীমৎ গিরিরাজ স্বামী

আপনাদের সবাইকে এখানে উপস্থিত দেখে আমি খুবই আনন্দিত বোধ করছি, কারণ মুমূর্ষু ব্যক্তিদের হাসপাতাল হপিস্ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে এবং সে সাথে হপিস্ শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হল সমস্ত বেদের সারতত্ত্ব যেখানে
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন :

যং যং বাপি স্মরন ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্ ।
তং তমেবৈতি কৌন্তেয় সদা তদ্ভাবভাবিতঃ ॥

“অন্তিমকালে যিনি যে ভাব স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি সেই ভাবে ভাবিত তত্ত্বকেই লাভ করেন।” (গীতা ৮/৬)

অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্তা কলেবরম্।
যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্র্যত্র সংশয়ঃ॥

“মৃত্যুর সময়ে যিনি আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি তৎক্ষণাৎ আমার ভাবই প্রাপ্ত হন। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।” (গীতা ৮/৫)
১৯৬৯ সালে আমি যখন ব্রান্ডিস বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিদ্যা বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। তখনই আমি আমার গুরুদেব শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের সান্নিধ্য লাভ করি। ১৯৭০ সালে, দেড় বছর তাঁর কাছ থেকে পারমার্থিক শিক্ষা লাভের পর, তাঁর সাথে ভারত গমন করেছিলাম এবং ১৯৭৭ সালে, তিনি তাঁর দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছিলেন যে, কিভাবে যথাযথ ও বিশুদ্ধ চেতনায় অধিষ্ঠিত হয়ে এ জড় জগৎ ত্যাগ করতে হয়। অন্তিমে তিনি বৃন্দাবনে অবস্থান করার জন্য গমন করেছিলেন যেটি ভারতের একটি পবিত্র ধাম এবং তখন তাঁকে বেষ্ঠিত করে ছিলেন ভক্তবৃন্দরা। যারা তখন সার্বক্ষণিভাবে জপ-কীর্তন করছিলেন আর পবিত্র শাস্ত্র গ্রন্থ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য অধ্যয়ন করছিলেন। এরকম একটি পবিত্র স্থানে অবস্থান করা পারমার্থিক চেতনা, ভগবৎ চেতনার জন্য সুফলপ্রদ এবং সেই পারমার্থিক পরিবেশ উত্তরোত্তর বর্ধিত হয়েছিল তাঁর প্রিয় শিষ্যগণ কর্তৃক ভগবৎ সংগীত পরিবেশন ও ভগবান সম্পর্কিত গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে।
কিছু বছর পর, আমার এক শিষ্যা, যিনি আমার চেয়েও বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং তাঁর চিত্রকর্মের বিভিন্ন বিষয়ের অনুসন্ধানে তিনি সারা বিশ্ব ভ্রমণ করতেন। এক সময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন তাঁর চিত্রকর্মের মধ্যে তিনি পারমার্থিকতার সমন্বয় সাধন করতে চান, এই প্রতিবেদনটি লেখকের সম্পাদিত গ্রন্থ লাইফ’স ফাইনাল এক্সাম : ডেথ এন্ড ডায়িং ফ্রম দ্যা বেদিক পার্সপেক্টিভ থেকে সংগৃহিত। গ্রন্থটিতে আরো যারা অবদান রেখেছেন তারা হলেন, রাধানাথ স্বামী, ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বামী, গোপাল তীর্থ স্বামী, শচীনন্দন স্বামী এবং আরো অনেকে।
আর এজন্যে তিনি পবিত্র ধাম বৃন্দাবনে একটি জমি ক্রয় করেন একটি স্টুডিও স্থাপনের উদ্দেশ্যে । দয়াপরবশ হয়ে তিনি সেখানে আমার জন্য ওপরের তলায় বসবাসের কক্ষ তৈরি করেছিলেন যাতে করে বৃন্দাবন ভ্রমণের সময় আমি সেখানে অবস্থান করি। যদিও ডাক্তাররা তার বেঁচে থাকার সময় নির্ধারণ করেছিল মাত্র ছয় মাস, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি তিন বছর বেঁচেছিলেন। জীবনের শেষ দুই কি তিন মাসের সময় আমি প্রায় একরকম অবিচ্ছিন্নভাবে তাঁকে সময় দিয়েছিলাম। কেননা শুধু বৈদিক ঐতিহ্যেই নয় বিশ্বের অন্যান্য ঐতিহ্যেও এ পন্থা উল্লেখিত আছে যে, মৃত্যুর সময় ভগবানকে স্মরণ করা, ভগবানের নাম জপ-কীর্তন করা কিংবা অন্তত ভগবানের নাম শ্রবণ করা এবং আমি তার উদ্দেশ্যে ঠিক এ সহায়তাটুকু করতে চেয়েছিলাম।
গত তিরিশ বছর ধরে বিশেষভাবে ভারত ছাড়াও আমি ক্রমাগতভাবে ভ্রমণ করি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাতে। পাকিস্তানে আমি একটি গ্রন্থের সান্নিধ্য পাই যার নাম হল, ‘আল্লাহর নিরানব্বই নাম’ গ্রন্থটিতে একটি ভাগ রয়েছে যেখানে আলোচনা করা হয়েছে কিভাবে একজন ধার্মিক মুসলিম মৃত্যুকে মোকাবেলা করবেন সে বিষয়ে। গ্রন্থটিতে উক্ত হয়েছে, এটি মোকাবেলার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হল ভগবানের পবিত্র নাম জপ কীর্তন করা এবং মৃত্যুপথযাত্রী প্রিয়জনদেরকে নাম জপ করতে কিংবা অন্তত ভগবানের নাম জপ শ্রবণ করাতে সহায়তা প্রদান করা। ইহুদি ধর্মেও একই ঐতিহ্য রয়েছে যে, কারো মৃত্যুর সময় আদর্শ পন্থা হল পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সবাই ভগবানের নাম জপ-কীর্তন করবেন অথবা, কোনো প্রার্থনা আবৃত্তি করবেন যেখানে ভগবানের নাম বর্তমান থাকে। আমি দেখেছিলাম যে, ঐ একই ঐতিহ্য, বৈদিক দর্শন, কৃষ্ণভাবনার মধ্যেও রয়েছে যা ইসলাম ও ইহুদি ধর্মেও রয়েছে এবং একই ঐতিহ্য পৃথিবীর অন্যান্য ঐতিহ্যেও রয়েছে।
আমার শিষ্যার ক্ষেত্রে, আমরা সেই একই অনুশীলন অনুসরণ করেছিলাম যেটি আমাদের গুরুদেবের ক্ষেত্রে দেখেছিলাম। ভক্তরা তখন আসত আর জপ কীর্তন করত। জপ-কীর্তন শান্ত, ধ্যানগতভাবে অথবা সম্মিলিতভাবে ও বাদ্যযন্ত্র সমন্বিত হয়ে আরো উচ্চ স্বরে করা যেতে পারে। সমগ্র ব্যাপারটির তাৎপর্য হল মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির চেতনাকে পরমেশ্বরের ওপর নিবদ্ধ করা এবং সেটি যেন মৃত্যুর সময় অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তখন জপ কীর্তনের সাথে সাথে ভগবৎভাবনাময় গ্রন্থ অধ্যয়ন ও আলোচনা করা।
বৈদিক সংস্কৃতিতে মৃত্যুর সময়টিকে বিবেচনা  করা হয় জীবনের অন্তিম পরীক্ষা হিসেবে। বিদ্যালয়ে আমরা শিক্ষকের বক্তৃতায়, অ্যাসাইনমেন্ট লিখা, কুইজ ও মিড-টার্ম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকি। কিন্তু আমরা গ্র্যাজুয়েট কি না সেটা নির্ভর করে সর্বশেষ পরীক্ষায় পাশ করার মাধ্যমে। জীবনের ক্ষেত্রে অন্তিম পরীক্ষায় পাশ করা মানে ভগবানকে স্মরণ করা। এই কারণে মৃত্যুর সময় সমগ্র প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিটির ভগবানকে স্মরণ করতে সহায়তা করে। জীবদ্দশায় সে সমস্ত কর্ম থেকে মুক্ত থাকতে হবে, যেগুলো আমাদেরকে জন্মচক্রের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং সব অনুমোদিত কর্ম সম্পাদন করা হল ভগবানকে স্মরণ করার জন্য অনুশীলন। জীবন চলার পথে আমরা কিছু পরীক্ষারও মুখোমুখি হই যেমন-অসুস্থতা, ব্যর্থতা এবং আরো বিবিধ কষ্টকর পরিস্থিতি। যখন আমরা সেগুলোর সম্মুখীন হই তখন কি আমরা ভগবানকে স্মরণ করি, নাকি এসব ক্ষেত্রে শুধু জাগতিক সমাধানের অনুসন্ধান করি? এগুলোই হল জীবন চলার পথে নানা পরীক্ষা। যদি সেই পরীক্ষায় আমরা ভগবানকে স্মরণ করতে পারি। তবে আমরা গ্র্যাজুয়েট। আমরা তখন মুক্ত আর কোনো জড় শরীর নই, জন্ম-মৃত্যুর চক্র নই ।

শারীরিক যাতনা

মহিলা (১) : সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই শারীরিক বেদনার প্রতি নজর দিয়ে থাকি। শারীরিক বেদনা এবং দুঃখ কষ্ট বা যাতনা থেকে উপশমের জন্য আমাদের কি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের প্রতি অনুৎসাহিত করা উচিত? এটি কি মৃত্যুর সময় চেতনাকে প্রভাবিত করে?
গিরিরাজ স্বামী : খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মৃত্যুর সময় ভর্ণধানকে স্মরণ করাই লক্ষ্য। তাই সাধারণ পদক্ষেপ হল আমাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত, যাতে শারীরিক বেদনা খুব যন্ত্রণাদায়ক না হয় এবং আমাদের চেতনা যাতে শুধুমাত্র শারীরিক ব্যাথা বেদনার প্রতি মনোনিবেশ না করে। আবার একই সাথে, আমরা খুব বেশি চিকিৎসা বা ঔষধ পত্র গ্রহণ করতে চাই না, যার জন্য ভগবানকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে পারি না। তখন এই ব্যাপারটি চেতনাকে প্রভাবিত করে। অতএব, এক্ষেত্রে যথাযথ ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা করা উচিত।
ভদ্রলোক (১) : মৃত্যুর সময় ভগবানকে স্মরণ করা মানে কি শুধুমাত্র ভগবানের নাম উচ্চারণ করা কিংবা ভগবানের নাম স্মরণ করা নাকি অন্য কিছু যেখানে একটি দিব্য চেতনার স্তরে প্রত্যাবর্তন করে কেউ ভগবানের সাথে মিলিত হওয়ার ব্যাপারটি অনুভব করে?
গিরিরাজ স্বামী : ভগবানকে স্মরণ সম্পর্কে আমরা যখন কথা বলি তখন আমরা আসলে কি বোঝাই? ভগবান একজন ব্যক্তি-এটিই হল প্রথম বিষয়। তিনি আমার আর আপনার মতো রক্ত মাংসে গড়া সাধারণ কোনো ব্যক্তি নন। তিনি হলেন চিন্ময়, অপ্রাকৃত। কিন্তু তিনি একজন ব্যক্তি। বাইবেলে বলা হয়েছে, “মানুষ ভগবানের প্রতিমূর্তিতে গড়া” আমরা হলাম ব্যক্তি, সুতরাং আমাদের পরম পিতা বা মাতাও অবশ্যই একজন ব্যক্তি হবেন। এটি একটি কঠিন বিষয়। কারণ আমরা ব্যক্তিসত্ত্বা বিষয়ে জাগতিক ধ্যান ধারণার মধ্যে এতটাই আবদ্ধ যে, যখন আমরা ভগবানের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে শ্রবণ করি তখন তা জাগতিক অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণ করে থাকি। মাঝে মাঝে লোকেরা ভাবে, “যদি আপনি বলেন যে, ভগবান একজন ব্যক্তি, তবে তার মাধ্যমে ভগবানকে সীমাবদ্ধ করে ফেলছেন।” এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত দেয়া যায় আমি এখানে বসে আছি। আমি কিন্তু একইসাথে প্যাসিফিক বীচে অবস্থিত মন্দিরে অবস্থান করতে পারি না, আমি সাত্তা বারবারাতে অবস্থিত আমার আশ্রমেও অবস্থান করতে পারি না। কিন্তু ভগবান তিনি একজন ব্যক্তি, কিন্তু তিনি একই সাথে এ কক্ষে, প্যাসিফিক বীচে, সান্তা বারবারাতে, আমাদের হৃদয়ে এমনকি প্রতিটি অনু পরমাণুতেও অবস্থান করছেন। কিন্তু তিনি তখনও একজন ব্যক্তি।
কোনো একজন ব্যক্তির কথা ধরা যাক, যেমন কোনো দেশের রাষ্ট্রপতি, তিনি কোনো উচ্চ কার্যালয়ে রয়েছেন। এখানে রাষ্ট্রপতি শব্দটির মাধ্যমে তার অফিসকে তুলে ধরা হয় (রাষ্ট্রপতির অফিস)। কিন্তু সেখানে একজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি সেই অফিসে অবস্থান করছেন এবং সেই ব্যক্তির একটি নাম, একটি চেহারা এবং ব্যক্তিগত গুণাবলী রয়েছে; তিনি নির্দিষ্ট কার্যাবলীতে নিয়োজিত। যখন আমরা রাষ্ট্রপতিকে স্মরণ করি…হ্যাঁ, সেখানে অফিসের বিভিন্ন জিনিসপত্রের চিন্তা আসে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রপতিকে স্মরণ করা মানে হল তাঁর অনেক নাম রয়েছে। তাঁর রূপ রয়েছে অনেক রূপ, গুণ ও কার্যাবলীকে স্মরণ করা। অতএব ভগবানেরও একটি নাম রয়েছে তাঁর অনেক নাম রয়েছে। তাঁর অনেক রূপ এবং গুণাবলী রয়েছে এবং তিনি অনেক কার্যাবলীতে নিয়োজিত।
ভগবানকে ভালোবাসাই হল প্রকৃত লক্ষ্য। কারণ যখন অপনি কাউকে ভালোবাসেন তখন স্বভাবতই সেই ব্যক্তিকেই চিন্তা করেন। যখন আমরা ভগবানের প্রতি ভালোবাসা লালন পালন করি, তখন আমরা স্বভাবতই তাঁর অপূর্ব রূপ, গুণাবলী ও কার্যাবলীকে স্মরণ করব। আমরা তাঁর নাম পুনঃ পুনঃ জপ করতে পছন্দ করব, যেরকম কোনো ব্যক্তি তার ভালোবাসার ব্যক্তিটির নাম পুনঃ পুনঃ বলে থাকে এবং আমরা কিভাবে সর্বোত্তমভাবে তাকে সেবা করতে পারি ও সন্তুষ্ট করতে পারি সে বিষয়ে চিন্তা করব।
কিন্তু ভগবানকে কিভাবে আমরা ভালোভাবে জানতে পারি, যার মাধ্যমে আমরা সত্যিকারভাবে তাকে ভালোবাসতে পারি? এক্ষেত্রে, বৈদিক সাহিত্য ও পৃথিবীর অন্যান্য শাস্ত্রের মধ্যে পার্থক্য হল বেদসমূহ পরমেশ্বর ভগবান সম্পর্কে অধিক তথ্য প্রদান করে। বৈদিক শাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ভগবান শুধুই একজন পরম কর্তৃপক্ষ, সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, বিনাশকারী বা রক্ষাকারী, সর্বজ্ঞ, সবত্র বিরাজমান কিংবা সর্ব শক্তিমান নন পক্ষান্তরে তাঁর ব্যক্তিগত কিছু বিশেষন রয়েছে। সেই বিশেষনগুলো হল তাঁর নাম জপ, রূপ, গুণাবলী ও কার্যাবলী এবং যখন কেউ আরো ব্যক্তিগত পন্থায় তাঁকে জানতে আসে এবং তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে ভালোবাসারূপ আসক্তি বর্ধিত করে তখন সর্বক্ষণ তার সম্পর্কে স্মরণ করা এবং মৃত্যুর সময় তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্মরণ করা অত্যন্ত সহজতর হয়।

পারিবারিক সদস্যদের জন্য সান্ত্বনা

ভদ্রলোক (২) : আমরা হসপিস সেবকরা রোগীদের পরিবার নিয়ে কাজ করি। যে দেহটির সঙ্গে এতদিন আনন্দের অনুভূতি জড়িয়ে ছিল সেই দেহটিতে বিরাজমান আত্মার প্রস্থানের মাধ্যমে যে শোকাবহ অবস্থার সৃষ্টি হয় সেখানে আমরা স্বজনদের সান্ত্বনা প্রদানের সেবা করে থাকি। কোনো প্রিয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর, কেন পরিবারের সদস্য ভগবানের নাম শ্রবণ করতে পারে কিংবা ভগবানের নাম চিন্তা করতে পারে? কিন্তু আমরা যেহেতু বাইরে থাকি আমরা জানি না তখন সেই ব্যক্তির প্রকৃত অনুভুতি কি? এক্ষেত্রে আমরা কিভাবে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সান্ত্বনা ও আশ্বস্থতা প্রদান করতে পারি? আমরা তাদের শোকের মুহূর্তে এবং তাদের প্রিয়জনদের হারানোর মুহূর্তে কিভাবে সহায়তা প্রদান করতে পারি?
গিরিরাজ স্বামী : শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার প্রথম নির্দেশনা হল সেই ব্যক্তিটি তার শরীর নয়, এই বিষয়টি পৃথিবীর অন্যান্য অনেক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে প্রধান নীতি। ব্যক্তিটি হল আত্মা, যিনি নির্দিষ্ট শরীরের মধ্যে বাস করেন। যখন কোনো ব্যক্তি এ দেহত্যাগ করে, আমরা তখন বলি ব্যক্তিটির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেহটি কখনোই জীবিত ছিল না; এটি প্রকৃতপক্ষে আত্মার উপস্থিতিতে সচল ছিল। যে মুহূর্তে আত্মা দেহটিকে ছেড়ে চলে যায় তখনও দেহটির সমস্ত উপাদান বর্তমান থাকে। আমরা তখন শোক করি “ওহ্ আমার স্বামী চলে গেছে” “আমার পত্নী চলে গেছে”। কিন্তু আপনি কেন বলেন, তারা চলে গেছে? শরীরটি বিছানায় পড়ে আছে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, শরীরটি আপনার পতি কিংবা আপনার পত্নী কিংবা আপনার পিতা বা মাতা ছিল, কিন্তু যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আপনি বলেন, “ওহ্ আমার পিতা চলে গেছে, “আমার মাতা চলে গেছে।” কিন্তু শরীরটি তখনও সেখানে বর্তমান। তবে, কেন আপনি বলেন তারা চলে গেছে? সহজভাবে আমরা জানি যে, ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে তার শরীর ছিল না। সেই প্রিয়জন এই দেহটির উর্ধ্বে অন্য কিছু ছিল যিনি এখন এ দেহটি ত্যাগ করেছেন, সেই ব্যক্তিটি হল আত্মা।
যখন একজন ব্যক্তি সদৃজীবন যাপন করে এবং তারও উর্ধ্বে ভগবানের নাম স্মরণ করে, তখন আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, সেই ব্যক্তিটি একটি উত্তম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে গমন করেছেন।
এখানে রয়েছে অনেক আবেগ। এখানে রয়েছে ব্যক্তিগত কিছু হারানোর অনুভূতি যেগুলো সেই মৃত ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত ছিল যাকে, আমরা ভালবাসতাম এবং তার সঙ্গে ভাল কিছু মুহূর্তের আদান-প্রদান হয়েছিল, এ সব কিছুই তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলে যায়। ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে এ বিষয়টিও এখন বিবেচ্য যে, সেই ব্যক্তিটি এখন কোথায়? যদি আমরা জানতাম যে, ব্যক্তিটি কোনো উত্তম স্থানে গমন করেছে তখন আমরা শান্তি অনুভব করতাম। কিংবা ক্যান্সারের মতো ব্যাথাবহ অসুস্থতার সময় আমরা এটি ভাবতে পারি, ঠিক আছে। আত্মাটি তার দেহটি ত্যাগ করেছে এবং আমি তাতে বিষণ্ন। যদিও শরীরটি একটি কঠিন পরিস্থিতিতে ছিল। ক্যান্সারের দুর্বিষহ ব্যাথাময় অবস্থায় আত্মাটির বসবাসের অনুপযোগী ছিল। এই ভাল এই ব্যাথাপূর্ণ দেহটি ছেড়ে বরং অন্য কোথাও তিনি গমন করেছেন।” ব্যক্তিটি অর্থাৎ আত্মাটির অস্তিত্ব অব্যাহত রয়েছে। কোথাও না কোথাও সে গমন করেছে, যেখানে অপেক্ষাকৃত কম বেদনা ও দুর্দশা থাকবে।
তবুও আমরা ব্যক্তিগত হারানোর ব্যাপারটি অগ্রাহ্য করি না। এমনকি পারমার্থিক অনুশীলনকারীদের মধ্যেও বিভিন্ন আবেগ রয়েছে। যখন একজন প্রকৃত যোগী দেহত্যাগ করে, তখন আমরা জানি যে, ইতোমধ্যে তিনি ভগবদ্ধামে প্রত্যাবর্তনের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। অতএব সেই মৃত্যুতে আমরা খুশি হই। আসলে সুখী ও বিষণ্ন উভয়ই অনুভব করি। আমরা সুখী অনুভব করি কারণ আমরা জানি যে, ব্যক্তিটি ভগবানকে সেবার উদ্দেশ্যে গমন করেছেন। কিন্তু আমরা বিষণ্ন হই কারণ আমরা সেই ব্যক্তিটির সঙ্গ হারাব। সেই অবস্থায়ও আমরা বিশ্বাস করি যে সেই প্রস্থানগত আত্মাগণ আড়ালে থেকে যারা এখনও ভগবদ্ধামে প্রত্যাগমনের জন্য যোগ্য হয়ে উঠেনি সেই প্রিয়জনদের অনুপ্রেরণা ও তত্ত্বাবধান করতে পারেন।
এখানে আরেকটি ক্ষেত্র রয়েছে যে, ভগবান প্রার্থনার মাধ্যমে সাড়া দিয়ে থাকেন। যখন কোনো প্রিয়জন দেহত্যাগ করে। আমরা জানি যে, আত্মাটি কোথাও না কোথাও অবস্থান করছেন। আমরা ঠিক জানি না কোথায়। কিন্তু আমরা সেই আত্মাকে সহায়তা করতে চাই। কারণ, আমরা সেই ব্যক্তিকে ভালোবাসি। অতএব, আমরা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে পারি, “আমার মাতা কিংবা পিতা কিংবা যেই হোক এখন যেখানেই থাকুক না কেন, অনুগ্রহ করে তার প্রতি কৃপাপরবশ হোন। অনুগ্রহপূর্বক তাকে সাহায্য করুন যাতে তিনি আপনার সান্নিধ্যে আসতে পারেন।” এর মাধ্যমে আমি বিশ্বাস করি যে, এ সমস্ত প্রার্থনা শুধু গত আত্মাকেই সহায়তা করবে না বরং আমাদেরও একটি সুযোগ প্রদান করবে ভগবানের সাথে সম্পর্ক স্থাপনেও প্রিয়জনদের সহায়তা প্রদানের প্রয়াস করতে এবং এমনকি সেটি তাদের মৃত্যুর পরেও।
এরপর রয়েছে প্রিয়জন বিয়োগের ক্ষেত্রে নিজের পারমার্থিক অনুশীলন যেমন, হরিনাম জপ-ধ্যান, প্রার্থনা ইত্যাদি। হ্যাঁ, আমরা তাদের প্রতি আসক্ত ও তাদের বিচ্ছেদ অনুভব করি। কিন্তু সাধারণ পারমার্থিক অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা ভগবানের সংস্পর্শে আসতে পারি। অবশ্য প্রথম দিকে প্রিয়জন বিয়োগ বিরহ খুবই কষ্টদায়ক হতে পারে। কিন্তু যখন আমরা কিছু পারমার্থিক অনুশীলনে নিজেদের নিয়োজিত করি তখন সেগুলো আমাদেরকে ভগবানের সংস্পর্শে নিয়ে আসে। আমরা তখন অনুভব করি, “ভগবান তো আছেন, সব ঠিক আছে। ভগবানই তার প্রতি যত্ন বিধান করবেন। আমার সম্পর্ক হল ভগবানের সঙ্গে। ভগবানের কৃপায় ভবিষ্যতে আমি তার আশ্রয় লাভ করতে পারি।”

যখন মৃত্যুপথযাত্রী জিজ্ঞেস করে কেন?

ডা. ভরদ্বাজ : অনেক রোগী জিজ্ঞেস করে, “কেন আমার ক্ষেত্রে এরকমটি ঘটছে? ভগবান কি আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন? এর মাধ্যমে অনেক পারমার্থিক দুর্দশার সম্মুখীন হতে হয়। আপনি এই ব্যাপারটি কিভাবে সমাধান করবেন?
গিরিরাজ স্বামী : যদি কেউ যাতনাপূর্ণ রোগের মাধ্যমে দুর্দশাগ্রস্ত হয়, তখন আমি এ ধারণায় যাব না যে, ভগবান সেই ব্যক্তির প্রতি ক্রোধান্বিত হয়েছেন কিংবা তাকে তার পূর্বকৃত কর্মের জন্য শাস্তি প্রদান করছেন। বরং আমি বলব, যিনি এ জড় শরীর ধারণ করেছেন তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে।” এটিই হল বিষয়, “জন্ম, বার্ধক্য ও মৃত্যু প্রতিটি বদ্ধ জীবাত্মার জন্য অনিবার্য। মৃত্যুকে উদ্দেশ্য করে হতে পারে কোনো রোগ-ব্যাধি, বার্ধক্য কিংবা অন্য কোনো কারণ সংঘটিত হতে পারে। কিন্তু এসব বিষয় সবার জন্য। আপনি এখন যেই পরিস্থিতিতে আছেন যতটুকু সময় আছে সেটিকে ভগবানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত। যাতে করে আপনাকে অন্য কোনো জড় শরীর ধারণ করতে না হয় এবং পুনরায় জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হয়ে কষ্ট ভোগ করতে না হয়। যদি রোগীরা কোনো বিশেষ পারমার্থিক দুর্দশা বা দোষী হিসেবে অনুভব করে, নিজেকে তখন সেগুলো সহানুভূতির সাথে তাদের কাছ থেকে শ্রবণ করা উচিত এবং তা থেকে পরিত্রানের জন্য সহায়তা করা উচিত-কিছু ব্যবহারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা এবং এর চেয়েও বেশি কিছু করার মাধ্যমে।
জাগতিক স্তরে দুঃখ দুর্দশার অর্থ হল সেগুলো আমাদের খারাপ কর্মকে দগ্ধীভূত করে। এই কারণে জীবনের কোনো দুঃখ-দুর্দশার জন্য অনেক হিন্দুরা তার জন্য প্রতিবাদের চেয়ে সহ্য করাটাই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারণ তারা জানে যে, এগুলো সহ্য করার মাধ্যমে পূর্ব পাপ কর্মের প্রতিক্রিয়াকে নিঃশেষিত করছে এবং তারা সেগুলো প্রতিরোধ না করে ভোগ করাতে প্রাধান্য দিয়ে থাকে সেটি হল জাগতিক স্তরে। পারমার্থিক স্তরে সুফলটি হল যে, যে কোনো দুঃখ দুর্দশা আমাদেরকে এ শরীর ও জগতের প্রতি নিরাসক্ত করে তোলে। আমরা এর মাধ্যমে পারমার্থবাদী হওয়ার প্রয়াস করছি। আবার জাগতিক আসক্তিও রয়েছে। কিন্তু যখন আমরা কোনো দুর্যোগের মুখোমুখি হই তখন আমরা উপলব্ধি করতে পারি। “হ্যাঁ, আসলে এ জড় জগত সুখকর স্থান নয়। সুখী হওয়ার প্রচেষ্টায় আমার শক্তিকে ব্যয় করা উচিত নয়। কারণ প্রকৃতিগতভাবেই এই জগৎ সুখকর স্থান নয়। পরমেশ্বরকে উপলব্ধিতেও এ জড় জগৎ থেকে বের হওয়ার জন্য আমার শক্তিকে ব্যয় করা উচিত।” ভগবান কৃষ্ণ ভগবদ্‌গীতায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন দুঃখালয়ম্ অশাশ্বতম্ “এই জড় জগৎ হল দুঃখদুর্দশাময় স্থান এবং এটি অনিত্য।”
ডা. ভরদ্বাজ : অনেক রোগীরা ভয় পায় যে, খারাপ কর্মই তাদের বর্তমান দুর্দশার কারণ।
গিরিরাজ স্বামী : হতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের পারমার্থিক শিক্ষকরা কোনো ডুবন্ত ব্যক্তি ও সেই ব্যক্তিকে উদ্ধার করার জন্য নৌকা নিয়ে আগত অন্য একজন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। তখন ডুবন্ত ব্যক্তি ঐ পরিস্থিতিতে বলেন, “আমি এখানে কিভাবে এলাম?” কিন্তু ঐরকম মুহূর্তে প্রশ্নটি অবান্তর। উদ্ধারকারী তখন বলবে, অতীতে কি হয়েছে সে সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হইও না, আমরা সে বিষয়ে পরে কথা বলতে পারি। এখন তুমি ডুবে যাচ্ছ। দ্রুত নৌকায় উঠো।” তদ্রুপ আমরা এই শরীরটিতে, সংসারের মধ্যে পুনর্জন্ম, মৃত্যু, জড়া ও ব্যাধি নামক অথৈ সাগরে ডুবে যাচ্ছি বা নিমজ্জিত হয়ে পড়ছি। এখন আমরা এগুলো কিভাবে পেলাম সেটি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে এখান থেকে পরিত্রাণের প্রয়াস করতে হবে এবং এই প্রচেষ্টা কখনো খুব দেরীও হয় না। এটিই হল ভগবানের নামের ও তাঁর কৃপার অপার শক্তি। বৈদিক শাস্ত্রে এরকম অনেক ব্যক্তির দৃষ্টান্ত রয়েছে যারা খুবই পাপী ছিল কিন্তু অন্তিম মুহূর্তে ভগবানের নাম জপ-কীর্তনের মাধ্যমে মুক্ত হয়েছিলেন । অতএব, এটি কখনো দেরী হয় না।

যুবক বয়সে মৃত্যু

মহিলা (২) : আমার অনেক রোগী রয়েছে যারা বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুবরণ করেনি। যুবক বা যুবতী বয়সে সেই মৃত্যু প্রত্যেকের জন্যই কঠিন। আমাদের উপলব্ধিতে সে রকম মৃত ব্যক্তির জীবন অসম্পূর্ণ। এক্ষেত্রে কি বলবেন?
গিরিরাজ স্বামী : তাদের কর্ম অনুসারে গন্তব্য নির্ধারিত হয়। যে কারণেই হোক না কেন, তারা পূর্বে এমন কিছু করেছিল যা তাদেরকে স্বাভাবিক সময়ের পূর্বেই এ দেহকে প্রস্থান করতে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে আমাদের সর্বদা ইতিবাচক হতে হবে এবং পারমার্থিক প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক বিষয়টি হল যে কোনো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, একজন যুবক/যুবতী ব্যক্তি বৃদ্ধ বয়সের চেয়েও অধিক কার্যকরভাবে ভগবানকে স্মরণ করতে পারে, যেখানে বৃদ্ধ বয়সে, ব্যক্তি তার কর্মক্ষমতার বা শক্তির অধিকাংশই হারিয়ে ফেলে। প্রকৃতপক্ষে, এ বিষয়ে একটি সংস্কৃত প্রার্থনাও রয়েছে :

কৃষ্ণ তদীয়পদপঙ্কজ-পঞ্জরান্তম্
অদ্যৈব বিশতু মে মানসরাজহংসঃ।
প্রাণপ্রয়াণসময়ে কফবাতপিত্তেঃ
কণ্ঠাবরোধনবিধৌ স্মরণং কুতন্তে ॥

“হে কৃষ্ণ! আমি প্রার্থনা করি আমার মনের রাজহংস যেন এখনই তোমার পাদপদ্মে ডুব দেয় এবং তাদের পিঞ্জরে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। অন্যথায়, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সময়, যখন আমার কণ্ঠ কফ, বাত ও পিত্তে অবরুদ্ধ হবে, তখন তোমাকে স্মরণ করা কি করে সম্ভব হবে?” (মুকুন্দমালা-স্তোত্র)
এই বিষয়টি আমাদের জাগতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে বৈপরিত্যমূলক মনে হতে পারে, যেখানে দেহকে টিকিয়ে রাখার জন্য ও দেহগত ভোগের ক্ষেত্রে প্রশ্রয় প্রদানের জন্য এবং যত দীর্ঘদিন সম্ভব এই দেহে অবস্থান করে সর্বশেষ আনন্দ আস্বাদনের ব্যাপারটি পূর্ব থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে। উপরোক্ত এই প্রার্থনা সেই উন্মাদময়, ব্যর্থ প্রচেষ্টারই বিপরীত যা প্রদান করে আরও অধিক দার্শনিক প্রেক্ষাপট। এমনকি বৃদ্ধ বয়সের পূর্বে মৃত্যুর একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট যা ইতিবাচক ও চিন্ময়।

লেখক পরিচিতি : শ্রীমৎ গিরিরাজ স্বামী শিকাগোর এক সম্মানিত বিচারকের একমাত্র পুত্র। ১৯৬৯ সালে বোস্টনের ব্রান্ডিস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় শ্রীল প্রভুপাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। পরবর্তীতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর শ্রীল প্রভুপাদ থেকে দীক্ষা নেওয়ার পর নাম হয় গিরিরাজ দাস। তিনি বৃন্দাবনের গোবর্ধনে ভক্তিবেদান্ত আশ্রম, নারীদের জন্য কীর্তন আশ্রম, ভক্তিবেদান্ত হসপিস এবং বৃন্দাবন ইনস্টিটিউট উন্নয়নের জন্য সেবা করে গেছেন। বর্তমানে তিনি বিশেষভাবে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন।


 

এপ্রিল-জুন ২০১৫ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here