পতি-পত্নীর সু-সম্পর্ক

0
92

গৃহস্থ জীবনে সাধারণত অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়।
তবে নির্দিষ্ট কিছু পন্থা অনুসরনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গৃহস্থ জীবন লাভ করা যায়।

কর্ণামৃত দাস

আমি এবং আমার স্ত্রী পোর্ট রয়েলের নিকটে ভক্ত কমিউনিটিতে ভ্রমণ করেছিলাম, গৃহস্থ ভিশন টিমের একটি কর্মশালায় যোগ দেয়ার জন্য। আমি নিজের বিষয়টি সম্পর্কে একটু চিন্তিত ছিলাম। ভাবছিলাম কোন জিনিসটি সফল বিবাহ ও দাম্পত্য জীবন উপহার দিতে পারে। এর জন্য ভাল টিপস্ কী হতে পারে? ভাল সূত্র কী হতে পারে? অথবা সম্পর্কে রোপিত বীজটিকে সুশোভিত বৃক্ষে পরিণত করতে প্রকৃতি এবং অন্যান্য কী জিনিস সেখানে প্রয়োগ করা যেতে পারে?
বেশিরভাগ লোকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জীবনের অব্যাহত সমস্যাগুলোর মৌখিক সমাধান দেয়া খুবই সহজ কিন্তু বাস্তবে সেগুলো পালন করা কঠিন। তথাপিও ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। শুধু তার সাথে থাকতে হয় প্রার্থনা ও একটি সহযোগী মনোভাব।
বৃহৎ পরিসরে ব্যাখ্যার পূর্বে আসুন কিছু টিপস্ জেনে নিই ।
(১) “নিজেকে জান” নিজের ব্যক্তিগত সক্ষমতা, শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা এবং সকলের জন্য উপকারী এমন অর্থপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত হোন।
(২) আপনার পতি বা পত্নীর আচরণগত প্রকৃতিগুলো সম্পর্কে জানুন। তার প্রত্যাশিত ও প্রয়োজনীয় আচরণ ও ব্যবহার দিতে সচেষ্ট হোন। দ্বৈতভাবের উর্ধ্বে উঠে একাত্ম হতে চেষ্টা করুন। যত বেশি আপনারা পরষ্পরের সম্পর্কে জানবেন ততই আপনাদের সম্পর্ক ছন্দময় হয়ে উঠবে। এর সাথে সাথে আপনি পরবর্তী টিপসৃটি অনুশীলন করতে পারেন, যেটি সকল কিছু আপনার পছন্দসইভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।
(৩) কোনো কিছুকে ভাল বা সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে সেটিকে ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুস্বাস্থ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর, চাপ এবং আনন্দপূর্ণ সম্পর্কসমূহ পর্যবেক্ষণ করুন সাথে সাথে সর্বোত্তম পন্থা অনুসরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
(৪) সর্বদা মনে রাখা উচিত, পারমার্থিকতা অনুশীলন ও কৃষ্ণভাবনামৃত পারষ্পরিক আদান প্রদানই বিবাহের উদ্দেশ্য। পূর্বকৃত তিনটি টিপস্‌কে বাদ দিয়ে এটিকে একমাত্র টিপস্ দিতে পারতাম কিন্তু এতে করে কেউ কেউ দাম্পত্য জীবনের সফল বা সুখী হতে প্রাথমিক অবস্থায় অসুবিধা ভোগ করতে পারেন তাই এই চারটি টিপস্কে একটি চেয়ারের চারটি খুঁটি মনে করতে পারেন।
আমরা এখন ক্রেডিট কার্ড যুগে অবস্থান করছি, যেখানে অনেক সময় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে মুদ্রার প্রয়োজন হয় না। একইভাবে আমাদের মধ্যে আনন্দময়, পরিপূর্ণ এবং পারমার্থিকতা নির্ভর একটি ভাল সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক অর্থপূর্ণ লক্ষ্যের ক্ষেত্রে থাকে অদম্য ইচ্ছা, দৃশ্যমান প্রচেষ্টা এবং একাগ্রতা সেসাথে প্রয়োজন সেটি প্রাপ্তির জন্য পরমেশ্বরের কৃপা। আমি বিবাহের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে সত্য বলে মনে করি। বিবাহিত জীবনকে সর্বোচ্চ সফল করতে আত্মোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। আত্মোন্নয়ন নিজেকে যতদূর সম্ভব সর্বোত্তম ব্যক্তিতে পরিণত করে।
এটি একটি প্রক্রিয়া যেটি সম্ভব হয় কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা এবং সেটি থেকে উত্তরনের প্রচেষ্টা সেই সাথে সমস্যাগুলোকে আমাদের পরিপ্রেক্ষিতে নিরীক্ষণ করার মাধ্যমে।
আমরা ভাবতে পারি “আমি যেমন তেমনই” এ কথাটি আমরা কাউন্সিলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায়ই শুনি। কিন্তু একটি বিষয় বিবেচ্য ‘এটা কী কাজ করে’? এই কারণে সংকট আমাদের সম্পর্কে একটি ইতিবাচক উন্নয়ন আনতে পারে এবং আমাদের সম্পর্ক উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমরা সহজে দেখতে পারি তাদের সাথে কী ধরনের অন্যায় হয়েছে বা হচ্ছে। দম্পতিদের উভয়কেই তাদের সমস্যা বা সাফল্যের জন্য কমপক্ষে ৫০ শতাংশ দায়বদ্ধ থাকতে হবে। একটি দম্পতি মানে দুটি ব্যক্তি এবং উভয়ে দ্বৈত উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগত আচরণ ও স্বভাব উন্নয়নের দিকে জোর দিতে হবে। আমরা সবাই সহজেই পরিবর্তন ঘটাতে পারি।
বৈদিক আদর্শ অনুযায়ী বিবাহ হচ্ছে বিশুদ্ধ ও পরিপক্ক একতা। সেই একতার কেন্দ্রে রাখা হয় পরমেশ্বর ভগবানকে প্রকৃতপক্ষে পাশ্চাত্যে বিবাহ একটি সাংঘাতিক রকমের সমস্যাসঙ্কুল বিষয়। যেখানে তরুণ ছেলে-মেয়েরা বড় হতে হতে তাদের পিতামাতা ও বন্ধুর পিতামাতার মধ্যে চলমান সংঘর্ষ এবং বিবাদময় বিচ্ছেদের ঘটনা দেখতে দেখতে বড় হয়েছে।
এত কিছু স্বত্ত্বেও একটি চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক, পারস্পরিক অবস্থাবোধ ও সহযোগিতামূলক আচরণের মাধ্যমে সুখী বৈবাহিক দীর্ঘমেয়াদী দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা যায়। সেক্ষেত্রে পারমার্থিক দিক-নির্দেশনা ও কর্মশালা আমাদের সহায়তা করতে পারে। এটি অর্থপূর্ণ সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম টিপস্ হতে পারে।
অন্যদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি করতে প্রথমে নিজের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি করা প্রয়োজন। সর্বক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বহুমাত্রিক ও সদাচারী হওয়া বাঞ্চনীয়, গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে কৃষ্ণভক্ত হতে হবে। প্রকৃতপক্ষে আমরা চিন্ময় বস্তু এই মানব শরীর নামক জড় বস্তুর আচ্ছাদনে আবদ্ধ আছি। তার অর্থ এই নয় যে, আমরা এই জড় শরীরবৃত্তীয় প্রয়োজনীয় আত্মোন্নয়নের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করব না। আত্মাকে এই শারীরিক আবরণ হতে মুক্ত করতে আমাদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সেবা ও প্রেম সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় থাকা উচিত। সেই সাথে প্রাথমিক অবস্থায় স্বত্ত্বগুণের অধিষ্ঠিত হতে দৈহিক ও মানসিক সামঞ্জস্যতাও রাখা প্রয়োজন।
এই জড়জগতে পারমার্থিক জীবন এমনকি সাধারণ জীবন, সবকিছু সম্পকের্র ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের পতি অথবা পত্নীর সাথে সহায়ক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা উচিত। যদিও কথাটি অতি সাধারণ মনে হয় কিন্তু এই ক্রিয়া সবসময় প্রত্যাখ্যাত হয়। এই কারণে আমাদের সম্পর্ক আঘাত প্রাপ্ত হয়, ভেঙ্গে যায় বা মেরামতের প্রয়োজন হয়। আমি আত্মোন্নয়ন প্রচেষ্টায় আজ প্রায় বিশ বছর ধরে কাজ করছি। আমার মানসিকতাকে উন্নয়ন ঘটানোর জন্যও আমি বলতে পারি এটি আমার পারমার্থিক জীবন ও অন্যদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করার প্রচেষ্টায় আমাকে কতটা সহায়তা করছে, এটি একটি জীবনব্যাপী প্রচেষ্টা। আমরা সবসময় যে কোনোভাবে উন্নতি করছি। যেমন আমরা (পতি ও পত্নী) একে অপরের সাথে আদান-প্রদান, পারমার্থিক অনুশীলন, আত্মোন্নয়ন প্রচেষ্টাসমূহ ভাগাভাগি করে নিই। এভাবে একটি ভক্ত গৃহস্থদের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সমন্বয় গড়ে উঠে। তাই নিজেদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক রাখা, নিজের স্বভাব সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া, ব্যক্তিগত ও পারমার্থিক উন্নয়নে সচেষ্ট হওয়া এই বিষয়গুলোর প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত ।
আমাদের সঙ্গী আমাদের জন্য একটি জীবন্ত আয়না স্বরূপ। যে আমাদের সেসমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো দেখিয়ে দিতে পারে যেগুলোতে আমাদের নিজেদের উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন।
প্রায়ই আমরা নিজেদের পতি বা পত্নীর আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠি যেহেতু তারা আমাদের দুর্বল জায়গাগুলো উন্মোচন করেন বা আমাদের স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে তুলে ধরে। সত্যিকার অর্থে, হতে পারে সেই দুর্বলতাগুলো হতে আমাদের উত্তরণ ঘটানো উচিত। আমরা যখন বৈবাহিক সম্পর্কে চুক্তিবদ্ধ হই, তখন একত্রে বসবাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত আচরণ উন্নয়ন ঘটানোর জন্যও চুক্তিবদ্ধ হই।
তাই উভয়ের মানসিক সামঞ্জস্যতাও সকল বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য জরুরি। পারমার্থিক জীবন সম্পর্কে আগত সমস্যাগুলো আমাদের পূর্বকৃত কর্মেরই ফল এবং কিভাবে আমি তার মুখোমুখি হচ্ছি সেটির ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ আমাকে প্রত্যুত্তর দেবে।
তাই উভয়কে নিজের আচরণ উন্নয়নের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে এবং বৈবাহিক সম্পর্কে আগত সফলতা বা ব্যর্থতার ৫০ ভাগ দায়-দায়িত্ব বহন করার মানসিকতায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নিজেদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ও সুন্দর বৈবাহিক সম্পর্ক উন্নয়নে পরিপূরক বিষয়গুলো নিরীক্ষণ করতে হবে এটি ৩য় টিপস্ হতে পারে।
যেটির ওপর গৃহস্থ ভিশন টিম কাজ করছে এবং দম্পতিদের প্রশিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে। একটি জনপ্রিয় প্রবাদ, “একটি শিশু পালন করতে একটি গ্রাম প্রয়োজন” তেমনি একটি ভাল দাম্পত্য জীবন নিশ্চিত করতে সুহৃদ বন্ধু ও পরিবার প্রয়োজন। আমরা অভিজ্ঞ দম্পতিদের অভিজ্ঞতাগুলোর নিরিখে নবীন দম্পতিদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিই।
সফল কৃষ্ণভাবনাময় গৃহস্থ জীবন গড়তে আমাদের পারমার্থিক উন্নয়নের জন্য এবং সহযোগী মনোভাবের দিকে জোর দিতে হবে। যেমন একটি ধর্মীয় ভাবে সকলে মিলে একত্রে প্রার্থনা করা। পারমার্থিক জীবনে পারমার্থিক অনুশীলন আমাদের উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে যে আমরা সবাই কৃষ্ণের দাস। যেটি আমাদের হৃদয়ের উন্নয়ন ঘটানোর জন্য জরুরি। এতে করে আমরা নিজের প্রতি, পতি বা পত্নীর প্রতি, অথবা অন্যান্যদের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শনে সমর্থ হব।
আমরা যতক্ষণ বদ্ধ অবস্থায় আছি, আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকবে। এটিকে অস্বীকার করলে, তথাকথিত পারমার্থিক অগ্রগতি শুধু দুর্যোগই ঢেকে আনবে।
যা আমি প্রায় সময়ই বলি, গৃহস্থ বৈবাহিক সম্পর্ক মানে সমন্বয়ের বা মানিয়ে নেয়ার সম্পর্ক যার মাধ্যমে আমরা জড় বাসনা ও আসক্তি থেকে নিবৃত্ত হয়ে পরমেশ্বরের প্রতি অহৈতুকি প্রেম সম্পর্কে উত্তীর্ণ হতে পারি যেটি কৃষ্ণভাবনামৃতের মূল ভিত্তি।

পতি-পত্নী পছন্দের ব্যাপারটি কী আমাদের কর্ম দ্বারা নির্ধারিত হয় (বিবাহ কী স্বর্গ থেকে তৈরি)? নাকি এটি পরমেশ্বর ভগবান দ্বারা নির্ধারিত হয়? এই পছন্দের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র স্বাধীনতার কী কোনো ভূমিকা রয়েছে?

যদি আমি কোনো ব্যক্তিকে পছন্দ করি এবং তার প্রতি নিরপেক্ষ থাকি, কীভাবে আমি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব? আমার কী শুধুমাত্র পরমেশ্বরের প্রতি শরণাগত থাকা উচিত এই ভেবে যে, ঈশ্বরই সিদ্ধান্ত নেবে! যদি পরমেশ্বর তাঁর সিদ্ধান্ত দিয়েও থাকেন ঐ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি কীভাবে বুঝব যে সিদ্ধান্তটি ভগবৎ প্রদত্ত?
রমাপদ স্বামী : প্রতি পদক্ষেপে আমাদের স্বতন্ত্র ইচ্ছা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। আমাদের পছন্দের মাত্রার ওপর নির্ভর করে নিজেদের জীবনের বিভিন্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়। এমনকি বিবাহও পূর্বকৃত ও বর্তমান কর্মের দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং আমাদের বর্তমান কাজের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের কর্মগুলোকে পুনরায় পর্যালোচিত করার সুযোগ থাকে।
কৃষ্ণ কখনো কারোরই স্বতন্ত্র জীবনের জড় আয়োজনগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন না। ভগবদ্‌গীতার (৯/৯ এবং ১৩/২৩) শ্লোকে উল্লেখ আছে, এই শরীরে আত্মা ছাড়াও আরো একজন পুরুষ রয়েছেন যিনি হৃদয়ে অবস্থান পূর্বক নিরপেক্ষ এবং সাক্ষীরূপে আত্মাকে নিজস্ব পছন্দানুযায়ী ফলস্বরূপ জড় সুখ উপভোগ বা দুর্ভোগ প্রাপ্তি অনুমোদন করেন। তাকে পরমাত্মা বলা হয়। তাঁর অধ্যক্ষতায় জড়া প্রকৃতি আত্মার ইচ্ছা ও কর্ম অনুযায়ী তার প্রাপ্য ফল প্রদান করে।
কিন্তু যারা তাঁর ভক্ত হতে ইচ্ছুক এবং তাঁর প্রতি শরণাগত হয়েছেন, কৃষ্ণ ব্যক্তিগতভাবে তাদের জীবনে অনুপ্রবেশ করেন এবং সিদ্ধান্ত প্রদানপূর্বক তাদের এমনভাবে পরিচালনা করেন যেন তাঁর ভক্তরা অতি দ্রুত তাঁর নিকট ফিরে যেতে পারে। ভগবদ্‌গীতা (১০/১০) এভাবে তিনি হয়তো তাঁর ভক্তকে বৈবাহিক অবস্থার ক্ষেত্রেও কৃপা বর্ষণ করতে পারেন যেটি পারমার্থিক উন্নতির পথ হয়ে উঠে ।
সংক্ষিপ্তভাবে বললে, পরমেশ্বর কর্তৃক আমাদের জীবনকে তত্ত্বাবধান করার যে ভাব বিনিময় সেটি নির্ভর করছে আমাদের লক্ষ্য বা অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যের ওপর এটি বিশেষ কোনো পছন্দের ওপর নয় ।
বৈবাহিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রসঙ্গে, সাময়িকভাবে ঈশ্বরের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করা ভাল। কিন্তু শরণাগতি শুধুমাত্র কিছু সিদ্ধান্ত আদান-প্রদান এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় বরং একাগ্রভাবে তাঁর তত্ত্বাবধান ও তাঁর প্রতি অনুরক্ত থাকার স্পৃহা প্রাপ্তির প্রার্থনার ওপর নির্ভর করে। একই সময়ে মাঝে মাঝে চতুর্দিকে পরিবেষ্টিত জড়া প্রকৃতি প্ররোচনা বা পারিপার্শ্বিক প্রয়োজন বোধে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি আমরা। তাই উচিত একজন ভাল অভিজ্ঞ গৃহস্থ তত্ত্বাবধায়কের দ্বারস্থ হওয়া যে তোমার আচরণ ও স্বভাবগত পর্যায়গুলো ভালভাবে অনুধাবন করতে পারে এবং স্বাভাবিকতার চেয়েও তার আচরণ ও বাচনভঙ্গি দ্বারা হৃদয়কে আকর্ষণ করে সেই সাথে যে যুক্তিযুক্ত নির্দেশনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here