উদিত সূর্য ও চন্দ্র

0
169

পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে অজ্ঞতার অন্ধকার দূরীভূত করার জন্য
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভু পশ্চিমবঙ্গে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য
কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ

প্রতিষ্ঠাতার প্রবচন
মায়াপুর, ভারত-মার্চ ২৬, ১৯৭৫

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের অনেক প্রকাশ রয়েছে, আর তাঁর প্রথম হচ্ছেন নিত্যানন্দ প্রভু, যিনি কৃষ্ণের ভ্রাতা, বলরাম। এসব মহাজনদের কাছ থেকে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। নরােত্তম দাস ঠাকুর একজন মহাজন। তিনি বলেছেন, ব্রজেন্দ্রনন্দন যেই শচীসূত হৈল সেই, বলরাম হৈল নিতাই।

অর্থাৎ “শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন নন্দ মহারাজের পুত্র এবং নিত্যানন্দ প্রভু হচ্ছেন বলরাম।”

কখনও কখনও মূর্খেরা বলে নিত্যানন্দ প্রভু হচ্ছেন রাধারানির প্রকাশ। সেটি সত্য নয়। নিত্যানন্দ প্রভু হচ্ছেন বলরাম। আমরা নিজস্ব ধারণা তৈরি করতে পারি না, আমাদের মহাজনদের কাছ থেকে জানতে হবে ।
একজন মহাজন হচ্ছেন তিনি, যিনি তাঁর পূর্ববর্তী মহাজনদের অনুসরণ করেন। এটিই হচ্ছে পন্থা। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দৃঢ়ভাবে এই নীতির অনুসরণ করেছিলেন এবং কৃষ্ণ ভগবদগীতায় অনুমােদন করে বলছেন এবম্ পরম্পরা প্রাপ্তম্। আমাদের শিষ্য পরম্পরাক্রমে জ্ঞান লাভ করা উচিত; আমরা তা তৈরি করতে বা বানাতে পারি না। তথাকথিত পারমার্থিক দর্শনের মিশ্রণ ভারতের আধ্যাত্মিক জীবনকে হত্যা করছে। “তুমি তােমার মতাে ভাবতে পারাে এবং আমি আমার মতাে ভাবতে পারি”- এই ধারণা মােটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। ধরা যাক, আপনি দাবি করলেন ২ + ২ = ৩ = বা ৫। সেটি কি গ্রহণযােগ্য? ২ + ২ = ৪ এবং আপনি অন্য কোনােরকম দাবি করতে পারেন না।
বলরাম কৃষ্ণকে উপস্থাপন করছেন আর তাই তিনি হচ্ছেন মূল গুরু। যে কোনাে সদ্গুরুকে অবশ্যই বলরাম বা নিত্যানন্দ প্রভুর প্রতিনিধি হতে হবে। আর যেহেতু বলরাম কৃষ্ণকে উপস্থাপন করছেন, তাকে বলা হয় প্রকাশ। যখন সূর্য উদিত হয় তখন আপনি সবকিছুই স্পষ্ট দর্শন করতে পারেন। একে বলা হয় প্রকাশ। রাতের অন্ধকারে সবকিছু আচ্ছন্ন থাকে, আমরা দেখতে পারি না, কিন্তু দিবাভাগে যখন সূর্য প্রকাশ হয়েছে তখন আমরা সবকিছু দর্শন করতে পারি।

নিত্যানন্দ প্রভু হচ্ছেন বলরাম, প্রকাশ-তত্ত্ব। আর ঠিক যেরকম বলরাম কৃষ্ণকে প্রকাশ করেছিলেন নিত্যানন্দ প্রভুও শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুকে, যিনি স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান তাঁকে প্রকাশ করেছেন।

নিত্যানন্দ প্রভু যখন বাংলায় প্রচার করছিলেন তিনি প্রথমে জগাই ও মাধাইকে উদ্ধার করেছিলেন এবং তাদেরকে উদ্ধার করে কিভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করতে হবে তিনি তা প্রদর্শন করলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য রাধাকৃষ্ণ নাহি অন্য। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য হচ্ছে রাধা ও কৃষ্ণ যুগ্মভাবে। আর নিত্যানন্দ প্রভু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে উপস্থাপন করছেন।

নিত্যানন্দ প্রভুর উদাহরণ

কীভাবে একজন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুকে উপস্থাপন করতে পারে? তাঁর ব্যক্তিগত উদাহরণ দ্বারা নিত্যানন্দ প্রভু শিক্ষা প্রদান করেছেন। নিত্যানন্দ প্রভু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দ্বারা প্রেরিত হয়েছিলেন এবং হরিদাস ঠাকুর নবদ্বীপের পথে পথে, গৃহে গৃহে প্রচার করতেন। একদিন তাঁরা দেখলেন পথে বিরাট ভিড় এবং নিত্যানন্দ প্রভু মানুষকে জিজ্ঞাসা কররেন, “এখানে এত লােক সমবেত হয়েছে কেন? তাঁকে বলা হল, সেখানে দুজন বদমায়েশ অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। সেই বদমায়েশরা ছিল জগাই আর মাধাই। তখন তারা শারীরিকভাবে নিত্যানন্দ প্রভুকে আক্রমণ করলেও তিনি তাদের কাছে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করে যেতে লাগলেন এবং তিনি তাদের উদ্ধার করলেন। দৃঢ়ভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করাই হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করার শ্রেষ্ঠ পন্থা।

বদমায়েশদের কাজই হল অস্থিরতা সৃষ্টি করা। বিশেষত এই মুহূর্তে অনেক বদমায়েশ অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এটি যথেষ্ট কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার না হওয়ার জন্য। এই ধরনের বদমায়েশরা একসময় নিত্যানন্দ প্রভুকে প্রচার করার সুযােগে বাধা দিয়েছিল। তিনি কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারে খুবই আগ্রহী ছিলেন কিন্তু তাঁকে প্রচার করতে বাধা দিয়েছিল।

বাংলায় একটি পরিবার আছে যারা বলে তারা নিত্যানন্দ প্রভুর বংশধর। তাদের দাবি সম্বন্ধে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু বিতর্ক সত্ত্বেও তারা যদি নিত্যানন্দ প্রভুর বংশীয় হন তাদের কাজটি হল নিত্যানন্দ প্রভুর মতাে কর্ম করা। সেই কাজ কি? সেটি নরােত্তম দাস ঠাকুর বর্ণনা করেছে, পাপীতাপী যত ছিল, হরিনামে উদ্ধারিল। তাদের কাজটি হওয়া উচিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে নিত্যানন্দ প্রভু যা করেছিলেন সকল পতিত আত্মাদের হরেকৃষ্ণ কীর্তন বা জপ করতে বলে তাদের উদ্ধার করা ।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু আর শ্রীকৃষ্ণ বলরাম একই। যখন কৃষ্ণ অবতরণ করেছিলেন এই দুই ভ্রাতা মা যশােদা ও নন্দ মহারাজের পুত্ররূপে ও গােপীদের সখারূপে রাখাল বালকভাবে যুক্ত ছিলেন। সেটি ছিল তাঁদের বৃন্দাবনের গ্রামের জীবন।

পরে, যখন তাঁরা মথুরায় গমন করলেন তাঁরা কংস এবং মুষ্টিযােদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং যখন তাঁরা দ্বারকায় গমন করেছিলেন তখন তাঁদেরকে অনেক দানবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছিল। কিন্তু কৃষ্ণের ষােড়শ বর্ষ পর্যন্ত তাঁরা বৃন্দাবনে তাঁদের শৈশব অতিবাহিত করে সুখী জীবনযাপন করেছিলেন। কেবলমাত্র প্রেম। কৃষ্ণ বলরাম তাঁদের এই লীলা সম্পাদন করেছিলেন কেবলমাত্র তাঁদের ভক্তদের পরিত্রাণের জন্য (পরিত্রাণায় সাধুনাম্)। ভক্তগণ কৃষ্ণ বলরাম এবং তাঁদের পার্ষদদের দর্শন করার জন্য সর্বদাই উদ্গ্রীব এবং তাঁদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তারা দুঃখিত হয়। তাদের জীবনকে পুনশক্তি সঞ্চারের জন্য কৃষ্ণ ও বলরাম বৃন্দাবনে তাঁদের শৈশব লীলাবিলাস করেছিলেন। বৃন্দাবন, মথুরা, দ্বারকা ও অন্যান্য স্থানে সর্বত্রই তাঁদের প্রধান কার্য ছিল দানব বধ করা।

একই ভগবান, একই কার্য

কৃষ্ণ ও বলরামের দুটি কাজ ছিল- ভক্তদের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং দানব বধ করা। অবশ্যই যেহেতু কৃষ্ণ ও বলরাম হচ্ছেন পরম ব্রহ্ম, তাদের হত্যা ও তাঁদের প্রেমের মধ্যে কোনাে তফাৎ নেই। তারা যাদেরকে বধ করেন তারাও মায়িক বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছেন। এখন এই দুই ভ্রাতা পুনরায় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ও নিত্যানন্দ প্রভু রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁদের সূর্য ও চন্দ্রের সাথে তুলনা করা হয়। সূর্য ও চন্দ্রের কার্য হচ্ছে অন্ধকার দূরীভূত করা। সূর্য দিনের বেলা উদিত হয় আর চন্দ্র রাত্রিবেলা উদিত হয়। কিন্তু সূর্য ও চন্দ্ররূপ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভুর চমৎকারিত্ব এই যে, তাঁরা একইসঙ্গে সমান্তরালভাবে উদিত হয়েছেন।

তবুও তাঁদের কার্যটি হচ্ছে, সূর্য ও চন্দ্রের মতাে একই তমােনুদৌ- অন্ধকার দূরীভূত করা। এই জড়জগতের প্রত্যেকেই অন্ধকারে রয়েছে। অন্যভাবে বলতে গেলে তারা পশুর মতাে অজ্ঞ। কেন তারা অজ্ঞ? ভালাে পােশাক পরিহিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী এসব সভ্য মানুষেরা-তারা কি অন্ধকারে রয়েছে? হ্যা, তারা অন্ধকারে রয়েছে। প্রমাণ কি? প্রমাণ হচ্ছে এই যে, তারা কৃষ্ণভাবনাময় নয়। সেটিই হচ্ছে তাদের অন্ধকার। এখন কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে, “কে বলেছে। এটি আমাদের অন্ধকারে থাকার প্রমাণ?” আমরা এটি বলিনি, কৃষ্ণ বলছেন- ন মাং দুষ্কৃতিনো মূঢ়াঃ প্রপদ্যন্তে নরাধমাঃ মায়য়াপহৃতজ্ঞানা (ভগবদ্গীতা ৭/১৫)

মায়য়াপহৃতজ্ঞানা অর্থ হচ্ছে যদিও কারাের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে, যদিও তাকে সভ্য বলা হচ্ছে, তার জ্ঞান মায়া দ্বারা অপহৃত হয়েছে আর তাই সে কৃষ্ণের শরণাগত নয়। কৃষ্ণ স্বয়ং প্রচার করছেন: সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। “তােমাদের সকল মূর্খামি পরিত্যাগ করে আমার শরণাগত হও (ভগবদ্গীতা ১৮/৬৬)। তিনি নিজে তা প্রচার করছেন, কিন্তু যেহেতু এসব অজ্ঞ ও মূর্খেরা অন্ধকারে রয়েছে তারা জানে না জীবনের উদ্দেশ্যটি কি? তাই তারা কৃষ্ণের শরণাগত হতে ইচ্ছুক নয়।

কৃষ্ণ এসকল মূর্খদের নরাধম রূপেও বর্ণনা করেছেন। তারা কীভাবে নরাধম? সকল সময়ে পাপকর্মে যুক্ত থাকে। পাপময় জীবনটি কি? অবৈধ যৌনসঙ্গ, মাংসাহার, নেশা করা এবং জুয়াখেলা। যে সকল মানুষেরা এসকল কাজে আসক্ত তারা হচ্ছে দুস্কৃতি ও নরাধম। আর তাদের তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তারা যে জ্ঞান অর্জন করুক না কেন সকলই, তা সকলই মিথ্যা জ্ঞান (মায়য়াপহৃতজ্ঞানা)। এই হচ্ছে তাদের অবস্থা।
কৃষ্ণ ও বলরাম কৃপাপরবশ হয়ে পুনরায় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ও নিত্যানন্দ প্রভু রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁরা সেই একই তত্ত্ব প্রচার করছেন-সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য-কিন্তু একটু ভিন্নভাবে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভু অজ্ঞানের অন্ধকার দূরীভূত করার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণের প্রচার এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রচারের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনাে পার্থক্য নেই। একমাত্র পার্থক্যটি হচ্ছে, শ্রীকৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান রূপে দাবী করছেন, “তােমরা নরাধম, মূর্খেরা আমার শরণাগত হও। তােমাদের পাপময় কার্যকলাপ দুষ্কৃতির জন্য তােমরা এত দুর্দশা ভােগ করছ। আমি তােমাদের পিতা; আমি তােমাদের সুখী দেখতে চাই। তাই আমি অবতরণ করেছি। আমার শরণাগত হও। আমি তােমাদের সকল সুরক্ষা প্রদান করব।

কৃষ্ণভাবনাময় কার্যকলাপ ছাড়া যা-কিছুই আপনারা করছেন, তা সবই পাপময়। সমগ্র জগৎ পাপময় কার্যাবলিতে পূর্ণ আর এই পাপময় কর্মকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে- অবৈধ যৌনসঙ্গ, মাংসাহার, জুয়াখেলা আর নেশা করা। এই হচ্ছে। সার-সংক্ষেপ। কিন্তু এই সকল শ্রেণির কার্যকলাপের বহু শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এখনও আপনি যদি পাপময় কর্মের মূল ছেদন করেন অবৈধ যৌনতা, মাংসাহার, জুয়াখেলা ও নেশা করা-তাহলে আপনা থেকেই অন্যান্য পাপময় কর্মগুলাে দূর হয়ে যাবে।

সুতরাং, আমরা যারা এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন প্রচার করছি তারা আপনাদের অনুরােধ করছে যে, আপনি এসকল পাপময় কার্যাবলি পরিত্যাগ করুন। অন্যথায়, আপনারও পরিণতিটি একই হবে। সেই পরিণতিটি কী? পরিণতিটি হল আপনারা পাপময় জীবন আপনাকে আরেকটি দেহ প্রাপ্ত করাবে। আর পুনরায় আপনি দুর্দশা ভােগ করবেন। যখনই আপনি কোন জড়দেহ লাভ করছেন সেখানে দুর্দশা থাকবেই। সেটি রাজার দেহই হােক বা একটি মুচির দেহই হােক। সেটি কোনাে ব্যাপার নয়। দুর্দশাটি থাকবেই। কিন্তু যেহেতু মানুষেরা হচ্ছে মায়য়াপহৃতজ্ঞানা তাই তারা দুর্দশাকে আনন্দরূপে গ্রহণ করছে। একেই বলা হচ্ছে মায়া।

একটি শূকর যখন বিষ্ঠা খেতে থাকে, সে মনে করে সে জীবন উপভােগ করছে। সে জানে না, সে দুর্দশা ভােগ করছে। মায়া জীবকে একটি শূকরদেহ প্রদান করেছে। তাই সে দুর্দশা ভােগ করবে। কিন্তু শূকর দেহেও জীব মনে করছে সে জীবন উপভােগ করছে। এটিই মায়া।

এই জড়জগতে সকলেই দুঃখ-দুর্দশা ভােগ করছে, কিন্তু কারাগারের মতাে দুঃখ-দুর্দশার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বিভিন্ন স্তরের আসামি রয়েছে-প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি, তৃতীয় শ্রেণি-কিন্তু প্রথম শ্রেণির কয়েদি যদি মনে করে সে জীবন উপভােগ করছে, সেটি অজ্ঞতা। কারাগারে উপভােগ কোথায়? সেখানে সকলই দুর্ভোগ। সেটি হয়তাে প্রথম শ্রেণির দুর্ভোগ, কিন্তু তবুও সেটি দুর্ভোগ । সমগ্র মানবসমাজ অন্ধকারে রয়েছে এবং তাদের প্রতি করুণাবশতঃ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভু এই অন্ধকার দূর করার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন।

আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here