“আরব সাগরে নিমজ্জিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী আবিস্কৃত”

0
37

গত সংখ্যার পরঃ পূর্বের বছরগুলোতে প্রাপ্ত গবেষণালব্ধ উপাত্ত এবং কাজের পরিধি সম্পর্কে ধারণা রেখে আন্ডার ওয়াটার আর্কিয়োলোজি উইঙ্গ (WAU) এর ২১ জনের দল তাদের আরব সাগরের নিম্নভাগে তাদের অভিযান শুরু করেন। গত ২০০৭ইং সালের জানুয়ারী মাসে তাদের কার্যক্রম বর্তমানে ও চলছে। বর্তমানে তারা জলে নিমর্জিত সমগ্র এলাকার 3D মডেল তৈরি করেছেন। এছাড়া শক্তিশালী প্ল্যানেটেরিয়াম সফট্ওয়্যার দিয়ে ভূ-তাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি।

সমুদ্র গভীরে প্রাপ্ত নিদর্শনসমূহঃ

১। ৩০টি সুপ্রাচীন রৌপ্য মুদ্রা বিশিষ্ট ছোট ভান্ডার ।
২। ৩০০০ বছরেরও পূর্বের উজ্জ্বল লৌহিত মৃৎপাত্র। (চিত্র নং ২)
৩। কৃষ্ণ ও বলরামের ধ্বজদন্ড বা পতাকাবাহী দন্ড।
৪। এক সারিতে থাকা অনেক বাদ্যশঙ্খ।
৫। ৩৫ সে.মি বৃহৎ পাত্রের ভাঙ্গা শক্ত আবরণ।
৬। প্রাচীন কালের গলার পরিহিত মালার পুঁতি।
৭। বিশাল এবং অন্যান্য শক্ত কাঠামো বিশিষ্ট একাধিক দেওয়াল, বৃহৎ দেওয়ালটি দৈঘ্য ৫৫৮ মিটার।
৮। কারুকার্যে নির্মিত এবং কারুকার্য বিহীন ৯ প্রকার পাথর।
৯। ত্রিকোণাকার বা প্রিজম সদৃশ্য বিভিন্ন প্রকারের নোঙ্গঁর সবচেয়ে বড়টির আকৃতি দৈর্ঘ্যে ৬৩ থেকে ৯৫ সে.মি এবং প্রস্থে ৪৩ থেকে ৫০ সে.মি এর উচ্চতায় ২৫ থেকে ২৯ সে.মি।
১০। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি ৩৫টি রৌপ্য পাত্র।
১১। একটি কপারের তৈরি ঘন্টা।
১২। রথের চূর্ণ অংশ যাতে ছিল তামা, পিতল ও দস্তার সংমিশ্রনে তৈরি ধাতব বস্তু।
১৩। কালো পাথরের তৈরি বিগ্রহ মূর্তি।
১৪। বিষ্ণু মূর্তির ভগ্নাংশ ।
খনন কাজ চালানোর সময় রথের পতাকাবাহী দন্ড পাওয়া গেছে যা কৃষ্ণ ও বলরামের বলে সনাক্ত করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের পুত্র প্রদুম্ন ও নাতি অনুরুদ্ধের ধ্বজ্ব দন্ড আবিষ্কার করা হয়েছে। গোমতীর পাশে ১৩৭ সে.মি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট নোঙ্গর পাওয়া গেছে যা তখনকার উন্নত সভ্যতার নিদর্শন। দ্বারকার পাওয়া দেওয়ালগুলো এতই সূক্ষ্ণ ও উন্নত উপায়ে নির্মিত যে, উন্নত আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্য নেওয়া সত্ত্বেও তা খনন করা কষ্টকর ছিল। এছাড়া সেখানে পাওয়া পাথরসমূহ বর্তমানে অত্যন্ত দূর্লভ যা দ্বারকার অস্তিত্ত্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে। এছাড়া শঙ্খ, রথ চূর্ণ, ঘন্টা ইত্যাদি দ্রব্যাদি আবিষ্কার হওয়ার ফলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী যে এক সময় বর্তমান ছিল তা প্রমানিত হয়। WAU তাদের খনন কার্য সম্পন্ন করার সময় সমুদ্রে ডুবন্ত দ্বারকার মানচিত্র তৈরি করে যা পরবর্তীতে মহাভারতে উল্লেখিত দ্বারকার সীমানার সাথে মিলে যায়। “হরিবংশ” শাস্ত্রে উল্লেখিত ষাড়, ইউনিকর্ন ও ছাগলের মাথা বিশিষ্ট সিল (মুদ্রা) পাওয়া গেছে যা দ্বারকার অস্তিত্বের আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রমান, উমাশঙ্খর জোশি ও হৃদয়ানন্দ শাস্ত্রী প্রমূখ ঐতিহাসিকগণ কুশিনগর, অনন্তদ্বীপ, শঙ্খধরসহ মহাভারতে উল্লেখিত অনেক স্থান সনাক্ত করেছেন। জলভাগ ছাড়াও স্থলভাগের কয়েকটি সমান দ্বারকা সংশ্লিষ্ট। তার মধ্যে একটি হচেছ গোমতীঘাট। যা প্রায় ৪০০০ বছরে পুরানো। তার মধ্যে একটি হচেছ গোমতী ঘাট। উক্ত ঘাটে সমতল ছাঁদ, মিনার চূড়া এবং ঢালু জায়গায় স্থাপত্যের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া যায়। এছাড়া এই অঞ্চলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন হচ্ছে দ্বারকাধীশ মন্দির। কথিত আছে যে, এই মন্দিরটি শ্রীকৃষ্ণের নাতির নাতি ভজরনভ, বিশ্বকর্মার সহায়তায় এক রাত্রীতে নির্মাণ করেছিলেন। তবে বর্তমান মন্দিরটি প্রাচীন মন্দিরের সংস্কারকৃতরূপ যাতে রয়েছে ৬০টি বিশালাকার পিলার, প্রত্যেকটি পিলার একটিমাত্র পাথরের উপর অবস্থিত। সমগ্র মন্দির জুড়ে দ্বারকার স্থাপত্য নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। মন্দিরটি উচ্চতায় ১৫৭, ফুট। এছাড়া দ্বারকায় অন্য একটি নিদর্শন হচ্ছে “রুক্ষ্মীনি মন্দির”।
বর্তমানে গুজরাট সরকার জলে নিমজ্জিত দ্বারকার সমগ্র এলাকাকে যাদুঘরে রুপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারা ২০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা অদূর ভবিষ্যতে জলে নিমজ্জিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য দ্বারকা ধাম দর্শন করতে পারবে। স্কন্ধ পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ, হরিবংশ এবং মহাভারতে দ্বারকাকে একটি সোনালী নগরী বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। “এছাড়া জাতিসংঘ দ্বারকাকে পৃথিবীর প্রাচীন ৭টি নগরীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।”


 

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ ২০০৮ হতে প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here