আপনার অহংকার আপনাকে বিনাশ করবে

0
29
কর্পোরেট পারমার্থিকতা

কোন ক্যারিয়ার ও সম্পর্ক তৈরি বা ভাঙার জন্য আপনার মনোভাব একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

মহাত্মা দাস


● স্মার্ট ব্যক্তিরা সর্বদা তাদের সঙ্গেই থাকেন যারা তাদের সাথে একমত থাকেন না।
● মাঝে মাঝে আমরা বিশেষ এক ভাবনার মধ্যেই আটকে থাকি । আমরা যত বেশি অন্যের কাছ থেকে বিপরীত মতামত শুনি, তত বেশি আমরা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অনড় থাকি।
● নিজের ধারণাকে সঠিক রাখার অর্থ হল অন্যকে ভুল প্রমাণ করা। মাঝে মাঝে কি সঠিক আর কি ভুল এটি জানার চেয়ে, নিজেরটা সঠিক রাখাটাই আমাদের অহমিকার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
● এটিও সম্ভব যে, দু’জন ব্যক্তিই সঠিক হতে পারে, যদিও তাদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। আবার এটিও সম্ভব যে, আমরাই সঠিক নই বা পুরোপুরি সঠিক না হলেও কিছুটা সঠিক, যদিও এটি যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে।
● মানুষের মন সর্বদা নিজেদের সঠিক প্রমাণের জন্য প্রমাণাদি সংগ্রহে আগ্রহী, কিন্তু কোনটা সঠিক তা প্রমাণের জন্য প্রমাণাদি সংগ্রহে আগ্রহী হয় না।
● গবেষণায় দেখা গেছে, যথেষ্ট প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও লোকেরা যত বেশি বিপরীত দর্শন বা মতামত শ্রবণ করে, তত বেশি তারা তাদের নিজেদের মতামত বা দর্শনকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে। যেন মনে হয়, কোনটা সত্য এটি বের করার চেয়ে আমরাই যে সঠিক সেটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উপরোক্ত মন্তব্যগুলোর আলোকে সাধুজন বলছেন : নিজের অহংকারকে সংকুচিত করুন। অন্যরা কি ভাবছে তা জিজ্ঞেস করুন এবং শ্রবণ করুন। তারপর অন্যের মতামতকে বিবেচনা করার চেষ্টা করুন। নিম্নোক্ত উপদেশটি অত্যন্ত মূল্যবান। “অতীতের নেতারা জানতেন কিভাবে বলতে হয়, ভবিষ্যতের নেতারা জানবেন কিভাবে জিজ্ঞেস করতে হয়।”
এক্ষেত্রে আমরা সবাই একেক জন নেতা। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব মতামত দিতে ভালোবাসে। বিশ্বের সর্বত্রই আমি ভ্রমণ করে বারবার একটি জিনিসই সর্বত্র প্রত্যক্ষ করছি, তা হলো : বিভিন্ন সংস্থা ও কোম্পানির লোকেরা হতাশ হয় তখনই যখন তাদের মতামত শোনার জন্য কোন সিস্টেম থাকে না এবং সেই মতামতগুলো চরিতার্থ করা হয় না।
আমি বলতে পারছি না যে, যদি আমরা একে অপরের কথা শ্রবণ করতাম তবে কত পরিবার ও সংস্থা বিদ্যমান সমস্যাগুলো খুব সহজেই সমাধান করতে পারত এবং যদি আমরা উত্তমভাবে শ্রবণ করতাম তবে কত সমস্যা যে উত্থাপিতই হতো না, তা আমি বলতে পারছি না। তাই যদি হয় তবে কেন আমরা অন্যের কথা যথেষ্ট শ্রবণ করি না?

সাধুজন বলছেন : অহংকার এর বড় ক্ষুধা রয়েছে। যত বেশি আপনি একে খাওয়াবেন, তত বেশি সে খেতে চাইবে।

যখন শ্রীল প্রভুপাদকে তার সংস্থায় সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা করা নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি বলেন :
“সমস্যাটি হল, প্রত্যেকেই ভগবান হতে চায়।” এই জগৎটি একটি প্রতিযোগীতার ক্ষেত্র নয় যে, কে কার চেয়ে উত্তম বা কে সঠিক অথবা ভুল । যখন আপনি অহংকারকে পরিত্যাগ করেন, তখন আপনি দেখবেন আমরা সবাই একই ধারণাতে অবস্থান করছি।
এক্ষেত্রে আপনি হয়তো বলবেন, “বিষয়টি বলা সহজ, করা কঠিন।” হ্যাঁ, অহংকার সহজে দূর হয় না, কারণ এর লক্ষ্য হলো সত্য দেখা নয়, বরং বিশেষ একজন ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া। কিন্তু যখন আপনি আপনার সিদ্ধান্তগুলোকে মিথ্যা অহংকারের মাধ্যমে পরিচালনা করেন তখন তাতে প্রচুর ঝুঁকি রয়েছে। “যখন কোনটি প্রকৃত সঠিক এবং কোনটি করা সঠিক বলে মনে হচ্ছে এই দুইয়ের সঙ্গে আপনি সংগ্রাম করেন, তখনই আপনার অহংকার আপনার সিদ্ধান্তগুলোতে হস্তক্ষেপ করে।”-ড্যারেন জনসন
অহংকারের কাজ হল অপরের মনোযোগ আকর্ষন করা, সব আলো নিজের ওপর ফেলা এবং ক্রেডিট নেওয়া। এরকম অহংকারী লোকেদের ওয়ান-ম্যান কোম্পানি বা একক কর্তৃত্বের কোম্পানির সিইও হওয়া উচিত।
সাবেক আমেরিকান রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যান একবার বলেছিলেন, “আপনি জীবনে যে কোনো কিছু প্রাপ্ত হতে পারেন, যদি অন্যের উন্নতি দেখে ঈর্ষা না করেন।”
কিভাবে মিথ্যা অহংকার ধ্বংসাত্মক হতে পারে তা উপলব্ধি করা অত্যন্ত সহজ। অহংকারের প্রাথমিক আগ্রহ হল কোন দলের সদস্য হওয়া নয় বরং তাকে যেন অনুসরণ করা হয় বা সেই যে সঠিক সে সম্পর্কে অন্যের স্বীকৃতি অর্জন করা।
যা হোক, এক্ষেত্রে নিজেকে একজন সাধু ব্যক্তিতে পরিণত করা কতটা সহায়ক? কারণ সাধু সর্বদা মিথ্যা অহংকার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবন-যাপন করে ।

সাধু ব্যক্তি জানেন : সে নিজে মহান নন, বরং তার আমিত্বই মহান হন।

সাধু ভালোভাবেই সতর্ক থাকেন যে, নিজের মিথ্যা অহংকারকে প্রতিরক্ষা করা একটি শক্তির অপচয় মাত্র। মিথ্যা অহমিকাকে সুরক্ষার জন্য যত বেশি মানসিক শক্তি ব্যয় হয়, তত বেশি আমরা নিজেদেরকে সৃজনশীলতা, উৎপাদনশীলতা ও বর্ধনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ব্যয় থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ি।
বিশাল অহংকারগুলো আকর্ষণীয় হয় না। কেউ সেরকম ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেন না যাদের অহংকার প্রবল ।
চলুন এই বিষয়ে কিছু সুন্দর গবেষণার দিকে লক্ষ্য করা যাক। মার্শাল গোল্ডস্মিথ ও হাওয়ার্ড মর্গান হলেন বিখ্যাত লিডারশিপ কনসালট্যান্ট। তারা ৮টি বড় বড় কর্পোরেশনের ৮৬ হাজার সহকর্মী ও ১১ হাজারেরও অধিক লিডার বা নেতাদের মাধ্যমে লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ওপর এক গবেষণা কর্ম প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মি. গোল্ডস্মিথের একটি উক্তি নিম্নে প্রদত্ত হলো :
“আমাদের গবেষণাগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছ ছিল। যে সমস্ত নেতারা সহকর্মীদের কিভাবে সংস্থা বা কোম্পানির উন্নয়ন করা যায় সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করে, তাদের কথা শ্রবণ করে এবং তাদের চারপাশের লোকদের কাছ থেকে শিখতে চায়, তারাই অধিক কার্যকর। কয়েক বছর পূর্বে, লিডার টু লিডার ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক নিয়ে অনুরুপ একটি গবেষণা প্রকাশ করে একই ফলাফল প্রদান করে। বাইরের ক্রেতাদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায় যখন ক্রেতাদের সেবায় নিয়োজিত রিপ্রেজেন্টেটিভরা ক্রেতাদের মতামত জিজ্ঞেস করে, তাদের কথা শ্রবণ ও অনুসরণ করে।’
এ বিষয়ে মি. গোল্ডস্মিথ এর পরিলক্ষণ কি ছিল সে বিষয়ে দেখা যাক। তিনি বলেছেন, “যখন ৫০ হাজারেরও অধিক নেতাদেরকে তাদের প্রফেশনাল সহকর্মীদের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদেরকে বিচার করতে বলা হয়, তখন যে ফলাফলটি বেরিয়ে আসে তা ছিল অত্যন্ত আশ্চর্যকর। প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ নেতা নিজেদেরকে শীর্ষ ১০ ভাগে বিবেচনা করে, সেই প্রফেশনাল সহকর্মীদের দলের একজন সহযোগী সদস্য বলে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে।


সাধুর মত হয়ে শ্রবণ ও চারপাশের প্রত্যেকের কাছ থেকে শেখার মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করুন। আদর্শ দৃষ্টান্ত প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধুর মতো আচরণ করুন এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলুন যাতে করে মিথ্যা অহংকারের স্থলে অন্যের কাছ থেকে কিছু শ্রবণ করার মানসিকতা গড়ে উঠে।

প্রায় ৮৫ ভাগ নেতা নিজেদের শীর্ষ ২০ ভাগে রাখে। ৯৮ ভাগেরও বেশি ‘শীর্ষ অর্ধেকে নিজেদের অবস্থান দাবি করে! নেতাদের আত্ম মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির কার্যক্ষমতা নিয়ে কম কাজ করার রয়েছে। আমি এই একই কাজটি ৪টি কোম্পানির লিডারদের নিয়ে করেছিলাম, যেগুলো আমেরিকার সবচেয়ে প্রশংসিত কোম্পানি। সে ক্ষেত্রেও ফলাফলগুলো প্রায় একই ছিল। এই একই পরীক্ষা আমি অন্য দুটি কোম্পানির নেতাদের মাঝে করেছিলাম, যেগুলো দেউলিয়া অবস্থার সম্মুখীন, তাদের ফলাফল ছিল একই না তবে প্রায় একই!”
আমার মনে হয় আমরা সবাই একটু আধটু ওদের মতই। তাই অন্যদের জিজ্ঞেস না করে কোনো কিছু বিচার করাটা নিতান্তই আশ্চর্যকর নয় কি? অন্য কাউকে কেন জিজ্ঞেস করা উচিত যখন আমাদের মন ভাবে আমরা অধিক জানি, অন্যের চেয়েও বেশি স্মার্ট ও সফল?
আপনি দেখবেন তখন কিভাবে মিথ্যা অহংকার আপনাকে ধ্বংস করে? এটিকে আরেকভাবে বললে দেখবেন কিভাবে একটি মিথ্যা অহংকার আপনাকে ধ্বংস করছে?
এক্ষেত্রে একজন সাধু ব্যক্তি কি করে? তিনি জিজ্ঞেস করে, “কিভাবে আমি উন্নতি করতে পারি? আমি কি ভুল করছি?” তিনি এমনকি এটি জিজ্ঞেস করতেও ভয় পান না যে, “আমার কি ভুল রয়েছে?” ( (ভদ্রলোকেরা, আপনারা কি এই প্রশ্নগুলো নিজের পত্নীকে জিজ্ঞেস করার জন্য যথেষ্ট সাহসী?)
‘কিভাবে সে এটি করতে পারে?’ “আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটি অত্যন্ত প্রবল তা হল আমরা নিজেদেরকে সফলতার মাধ্যমে রক্ষা করার চেয়ে প্রশংসার মাধ্যমে বিনাশ করে থাকি।”—নরম্যান ভিনসেন্ট পেল যেরকম রালফ ওয়ালডো এমারসন বলেছেন “একজন মহান বা বড় ব্যক্তি সর্বদা নিজেকে ক্ষুদ্র দেখতেই ইচ্ছে করে।”
আমরা কি নিজেদের মহান দেখতে ইচ্ছে করি? এক্ষেত্রে নিজেদের সম্পর্কে বাস্তববাদী হওয়াটা বুদ্ধিমত্তার নিদর্শন।
“মূর্খ যদি জানে যে, সে হল মূৰ্খ তখন একমাত্র এই কারণেই সে একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি। পক্ষান্তরে মূর্খ যদি ভাবে সে হল বিজ্ঞ তখন তাকে একজন মূৰ্খই বলা চলে।” (বুদ্ধ ধর্ম – ধম্মপাদ ৬৩)
একজন সাধু জানেন তিনি এই শরীর নন, বরং শরীরের মধ্যে অবস্থিত চিন্ময় আত্মা। তাই তার সত্য অহংকার তার পদ, সফলতা মেধা, বুদ্ধিমত্তা বা অর্জনের পরিচয় নয়, পক্ষান্তরে তার প্রকৃত পরিচয় হলো সে হল আত্মা।
আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক দলই ভালোভাবে একত্রে কাজ করতে পারে না শুধুমাত্র এই কারণেই। তখন অত্যন্ত যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোম্পানিগুলো তাদের কাজ করার সক্ষমতার মাত্র খানিকটা লাভ করছে। যদিও ঐ সমস্ত কোম্পানিগুলোর নেতারা তাদেরকে পুনঃ পুনঃ সহযোগিতা, আপোস ও অন্যের কথা শ্রবণের জন্য বললেও, সেগুলো আদায় করতে তারা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। কেন? কেননা তারা ‘একমাত্র আমিই সঠিক’ এই ব্যাধির ধারা আক্রান্ত ।
অহংকারের সঠিক হওয়ার একটি আত্যন্তিক প্রয়োজন রয়েছে, যেটি কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না। যতক্ষণ এটি যুক্তিতর্কে জয়ী হয় ততক্ষণ এটি সুখী থাকে। আমার ওয়ার্কশপগুলোতে আমি লোকেদেরকে এমন ভাবে যুক্তিতর্কে নিয়োজিত করি যে, তারা ভুলেই যায় যে, তারা কি নিয়ে যুক্তিতর্ক করছে। কিন্তু তবুও তারা যুক্তিতর্কে জয়ী হওয়ার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত!

সাধু ব্যক্তি বলেন : শ্রবণ করার পন্থাটি সরল ও স্মার্ট বিষয়

কেন? কারণ আমরা সবকিছু জানি না, এবং আমাদের চারপাশে এমন সব লোক রয়েছে যারা এমন কিছু জানে যা আমরা জানি না। এবং আমরা যা বলি তা করে না এমন লোকেরা কি বলতে চায় তা শ্রবণ করা। আমরা যা করি তার চেয়েও ভিন্নভাবে সবকিছু দর্শন করে তারা। তারা আমাদের পরিকল্পনাকে আরো প্রসারিত করে, আমাদের দৃষ্টান্তগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে এবং ভিন্নভাবে চিন্তা ও দর্শন করার জন্য আমাদের মনকে উন্মোচন করে। তারা তখন আমাদেরকে একই জিনিস অন্যভাবে দর্শন করার জন্য সহায়তা করবে।
মানবের মনঃস্তাত্ত্বিক দর্শনের ওপর একটি সুন্দর বিষয় আমাদের উপলব্ধি করা উচিত। একবার যখন আমরা কোনো কিছু গ্রহণ করি তখন আমরা আমাদের মতামত পরিবর্তন করার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়ি। এর কারণ আমরা সঠিক তা নয়, কারণটি অন্য। কেন সেটি বলাটাও কঠিন। কলম্বাস যখন প্রমাণ করল যে, এই বিশ্বটি গোলাকৃতির, তখন যারা বিশ্বাস করত এই বিশ্ব সমতল তারা তখন তাদের মতামত বা দর্শন পরিবর্তন করেনি। যদিও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তখন পৃথিবী গোরাকার এই শিক্ষাই দিচ্ছিল। আপনি শুধু কোনো পুরনো কুকুরকে নতুন কৌশল পারেন না, সে সাথে নতুন ধারণাও শিখাতে পারেন না।

সাধু সাবধান করছে :
পুরোনো কুকুর কর্তৃক কোম্পানি চালানো উচিত নয়, নেতা বা ব্যবস্থাপক হও

অন্যের কাছ থেকে শ্রবণ না করার জন্য আপনাকে মূল্য দিতে হতে পারে। অনেক লোক শ্রবণ না করার ফলে তাদের জীবনে অনেক মহাসুযোগ হেলায় হারিয়েছে। ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত কম্পিউটারগুলো প্রচলিত কিছু ধারণার জন্য প্রত্যাখাত হয়েছিল। তাইতো বিল গেটসকে নতুন কোনো ধারণা নিজেকেই নিয়ে আসতে হয়েছিল। বিটলস ইলেকট্রিক গীটারের ধারণাটি নিয়ে আসার পূর্বে প্রচলিত ছিল এর কোনো ভবিষ্যতই নেই। বিশ্বের অন্যতম সেরা বিক্রিত গ্রন্থ, আত্মার জন্য চিকেন স্যুপ ১৩০টি প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক প্রত্যাখাত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেটিই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এরকম অনেক ধারণায় এক সময় খারাপ বা অকেজো ধারণা হিসেবে প্রত্যাখাত হয়েছিল, কারণ সেগুলো কোনো সিইও এর ভাবনার দৃষ্টান্তের সাথে উপযুক্ত ছিল না বলে ।
অতএব সাধুর মত হয়ে শ্রবণ ও চারপাশের প্রত্যেকের কাছ থেকে শেখার মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করুন। আদর্শ দৃষ্টান্ত প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধুর মতো আচরণ করুন এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলুন যাতে করে মিথ্যা অহংকারের স্থলে অন্যের কাছ থেকে কিছু শ্রবণ করার মানসিকতা গড়ে উঠে। যদি আপনি তা করতে পারেন, তবে আপনি নিজেকেতো প্রস্ফুটিত করবেনই সে সাথে আপনার পরিবার ও কোম্পানি বা সংস্থাও আপনার সুন্দর কার্যক্রমে প্রস্ফুটিত হবে।
লেখক পরিচিতি : মহাত্মা দাস, শ্রীল প্রভুপাদের একজন শিষ্য। তিনি ১৯৬৯ সালে ইস্‌কনের সাথে যুক্ত হন। ইস্‌কনে তিনি তার সুললিত কীর্তন, ভজন ও সেমিনারের জন্য বেশ সুপরিচিত।


 

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here