অর্থ, কৃষ্ণ ও আমরা

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ১:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ১:১৭ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 101 বার দেখা হয়েছে

আমরা সবাই খালি হাতে এসেছি খালি হাতেই যাব, অর্থাৎ আমরা যা আয় করি তা সব একদিন শূন্য হয়ে যাবে। কিন্তু যখন এসব মূল্যহীন শূন্য দিয়েই কৃষ্ণসেবা করা হয় তখন তা অমূল্য হয়ে যায়।

কিশোরী দেবী দাসী


কিভাবে অর্থকে আমরা মূল্যায়ন, অর্জন, ব্যবহার ও সম্পর্কিত করি তা আমাদের ভিতরের সত্ত্বাকে প্রতিফলন করে। শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বলেছেন, “ধন কখনও একস্থানে থাকে না। তা এক হাত থেকে অন্য হাতে হস্তান্তরিত হয়। চরমে কেউই ধন-সম্পদ ভোগ করতে পারে না, এবং তা সর্ব অবস্থাতে ভগবানের সম্পত্তি থাকে। (শ্রীমদ্ভাগবত ৫/১৪/২৪ তাৎপর্য) অর্থ ভগবানের শক্তি। তিনি এটি সৃষ্টি করেছেন, তাই এর মালিক এবং নিয়ন্ত্রক হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
এই বিশ্ব চরাচরে যা কিছু আছে তার মালিক পরমেশ্বর ভগবান এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই জীবন ধারনের জন্য তিনি যেটুকু বরাদ্দ করে দিয়েছেন, সেটুকুই গ্রহণ করা উচিত এবং সব কিছুই যে ভগবানের সম্পত্তি তা ভালভাবে জেনে, কখনো অন্যের জিনিস গ্রহণ করা উচিত নয়। আমরা কি পরিমাণ অর্থ প্রাপ্ত হব তা কৃষ্ণই নির্ধারণ করে দেন। এটি আকস্মিকভাবে হতে পারে, যেমন কেউ হয়তো কোনো ধনী গৃহে জন্ম নিতে পারে আবার কেউ দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিতে পারে, এক্ষেত্রে কৃষ্ণের কর্ম আইন এই সবকিছু নির্ধারণ করে থাকে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “প্রত্যেকেই ভাবছে ‘যদি আমি লোভী হই, তবে আরো সম্পদ অর্জন করতে পারব।” সেটি সম্ভব নয়, তুমি তোমার অদৃষ্টে যা নির্ধারিত আছে তার চেয়ে বেশি প্রাপ্ত হতে পার না।” (প্রবচন, ৩ অক্টোবর, ১৯৭৩) এবং তিনি লিখেছেন “শুধুমাত্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি অধিক প্রকৃতপক্ষে সকলেই তাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্ম অনুসারে উপার্জন করছে এবং ধন সম্পদ লাভ করছে। শ্রীমদ্ভাগবতের সিদ্ধান্ত অনুসারে কোন রকম প্রচেষ্টা ব্যতীতই আমাদের কখনও কখনও বিপদের সম্মুখীন হতে হয় অথবা দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থা প্রাপ্ত হতে হয়, তেমনই কোন রকম পরিশ্রম ব্যতীতই সুখ এবং সমৃদ্ধিপূর্ণ অবস্থাও আসবে।” (শ্রীমদ্ভাগবত ৩/২৭/৮ তাৎপর্য)
একবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রদ্ধার সহিত শিবানন্দ সেনকে বলেছিলেন, “তুমি বাসুদেব দত্তের দেখাশোনা কর। এ পরম উদার, যেদিন যা রোজগার করে সেইদিন তা ব্যয় করে। তার আয় থেকে সে কোন রকম সঞ্চয় করে না। সে গৃহস্থ, তাই তার সঞ্চয় করা প্রয়োজন- সঞ্চয় না করলে আত্মীয়-স্বজনদের ভরণ-পোষণ করা যায় না।
বাসুদেব দত্ত এবং শিবানন্দ সেন উভয়েই একই অঞ্চলে বাস করতেন, যা বর্তমানে কুমারহট্ট বা হালিশহর নামে পরিচিত।
(শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, মধ্যলীলা ১৫/৯৩-৯৬) বাসুদেব দত্তের মতো যাদের অর্থ ব্যয় বিষয়ে যথার্থ দিক নির্দেশনার ঘাটতি রয়েছে তাদের উচিত কোন বিজ্ঞ, বিশ্বস্ত ভক্তের তত্ত্বাবধানে থাকা ।

সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর অনুগ্রহ

শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেছেন, “সকলেই লক্ষ্মীদেবীর অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, কিন্তু মানুষ জানে না যে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন লক্ষ্মীদেবীর পতি ।” (শ্রীমদ্ভাগবত ২/৪/২০ তাৎপর্য)
যখন আমরা সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবীকে কৃষ্ণসেবায় নিয়োজিত করার প্রচেষ্টা করি তখন আমরা ধীরে ধীরে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভগবানকে উপলব্ধি করতে পারি কৃষ্ণভাবনার মাধ্যমে। কত অর্থ রয়েছে তার ওপর সুখ নির্ভর করে না। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “যদি এই সংস্কৃতি না থাকে, তবে শুধু অর্থের মাধ্যমে একটি আদর্শ সভ্যতা বজায় রাখতে পার না, সেটি সম্ভব নয়।

পারমার্থিক ও জাগতিক দক্ষতাসমূহ একে অপরের বিপরীত বলে মনে হলেও যেহেতু সবকিছু কৃষ্ণেরই সৃষ্টি, তাই উভয় স্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ছন্দময় গতিতে চলার জন্য কোন উপায় অবশ্যই রয়েছে। যিনি তা করতে পারেন তিনি এমনকি তার জাগতিক কর্ম বা কর্মস্থল ও পারমার্থিক চেতনার মধ্যে কোন পার্থক্য দর্শন করেন না।

এখন আমেরিকান নেতারা ভাবছে, চল অর্থ আয় করি আর তখন সবকিছু আসবে। অবশ্যই তুমি এই অর্থের মাধ্যমেই সমাজ সংস্কৃতির ত্রুটিগুলোকে আবৃত করে রাখছ। কিন্তু সেটি ঠেকানোও যাবে না। এমন একদিন আসবে যখন সবকিছু আপনা আপনিই প্রকাশিত হবে। এজন্য সংস্কৃতির প্রয়োজন । (কথোপকথন, ১৪ জুলাই ১৯৭৬)
কৃষ্ণের প্রতি বিশ্বাস বা শরণাগতির সংস্কৃতি যার রয়েছে তার সবকিছুই রয়েছে। শ্রীল প্রভুপাদ লিখেছেন, “ভগবানের বাণীর প্রতি যে শুদ্ধ ভক্তের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে…. বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
(চৈতন্য চরিতামৃত, মধ্যলীলা ৫/৭৬ তাৎপর্য)
পরিশেষে, শ্রীল প্রভুপাদ পুণরায় বলছেন, আমার গুরু মহারাজ বলতেন যে, “তুমি সঠিক কর্ম কর। অর্থ আপনা আপনিই আসবে।” এর অত্যধিক চিন্তার প্রয়োজন নেই। নিষ্ঠা সহকারে সেবা কর, তুমি যা চাও সবকিছুই কৃষ্ণ ব্যবস্থা করবে। (কথোপকথন, ৩০ জুলাই ১৯৭৭)


জানুয়ারী-মার্চ  ২০১৮ ব্যাক টু গডহেড

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।