রোড A টু Z: এক বিধ্বস্ত জুয়াড়ীর কাহিনী (পর্ব-১)

0
26
এটা এমন এক ব্যক্তির জীবনের গল্প যার সম্বল বলতে কিছুই ছিল না।
চোখভরা ছিল স্বপ্ন। খানিকটা সৌভাগ্যহেতু তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন 
করেছিলেন যদিও পরিশেষে তার সব শেষ হয়ে গেল।

 Vibeke Venema: টেড সবেমাত্র প্নম পেন-এর হাইস্কুলের ছাত্র। প্রেমে পড়ে গেলেন সুগানথিনীর। সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দুহিতা সুগানথিনী এখন টেডের ভাবনায় সারাক্ষণ। স্কুলের সব ছেলে এই কমণীয়া তরুণীর প্রেমে মগ্ন। আধা-চাইনীজ ভাষী টেড ভাবছে, আমি কোথাকার এক অজপাড়াগায়ের ছেলে। এই রাজকুমারীকে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই আমার নেই। প্রথমত: সে রাজকীয় পরিবারের দুহিতা। উপরন্তু, সে এক শীর্ষ নারী প্রতিনিধি।
কম্বোডিয়ার অধিবাসী টেড থাকত চতুর্থ তলায়। তার পাশের কক্ষে হাঁটাচলার জন্য খানিকটা জায়গা ছিল। কিছুটা পা বাড়িয়ে বাহিরে তাকাতেই তার চোখে পড়ল সুগানথিনীদের অট্টালিকা।
তার কাছে মনে হল, সুগানথিনীর সাথে দেখা করার এটাই সুবর্ণ মাধ্যম। তার নজর কাড়ার জন্য টেড প্রতিদিন সন্ধ্যায় খোলা জানালার পাশে বসে থাকত আর বাঁশি বাজাত।
নিস্তব্ধ শহর, সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে। টেডের বংশীধ্বনি শহরের চারপাশে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। সুগানথিনীর জননী তা লক্ষ্য করে মনে মনে বলতে লাগলেন, সুরেলা এ বংশীবাদক নিশ্চয়ই কারোও প্রেমে পড়েছে।
একদিন রাতে টেড সুগানথিনীকে তাদের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে নড়ে-চড়ে ওঠল। একটি সাদা পাতায় সে তাকে লিখল, “আমিই সেই বংশীওয়ালা। তোমাদের অট্টালিকার বিপরীত ভবনটিতেই আমি থাকি।” এটি পাথর দ্বারা রশি দিয়ে বেঁধে নিচের দিকে ছুড়ে মারল সে। বেশ কয়েকদিন ইশারা করেও তার দৃষ্টি কাড়া গেল না। পরে, তাদের বাড়ির এক ভৃত্য পত্রটির উত্তর নিয়ে আসল। এটিতে লিখা ছিল, “হে বংশীওয়ালা, তোমার বংশীর সুর সত্যিই প্রশংসার, যা মর্মস্পর্শী।” এরপর থেকে দুজনের মাঝে কথা বলার দ্বার খুলে যায়। একবার টেড রাজকুমারী সুগানথিনীকে জিজ্ঞেস করল, “কি হবে যদি আমি পাশের দালান হতে লাফ দিয়ে তোমার কক্ষে চলে আসি।” এর জবাবে সুগানথিনী লিখল, “বেশ, তবে সাবধানে থেকো, যেন লাফ দিয়ে ভুলে আমার মায়ের বেডরুমে ঢুকে না যাও।” রাজকুমারী ভাবছে, টেড মনে হয় তার সাথে রসিকতা করছে। তবে টেড সিরিয়াস ছিল। বৃষ্টিস্নাত রাত। টেড নারিকেল গাছে ওঠে পড়ল। কুকুর ও নিরাপত্তা প্রহরীদের উপেক্ষা করে কাঁটা তারের বেড়ার ভেতর দিয়ে সুগানথিনীর কক্ষে ঢুকে পড়ল টেড। সে তাকে গভীর নিদ্রায় দেখল। জাগিয়ে তোলা মাত্রই চিৎকার করে ওঠল রাজকুমারী।


“তুমি, তুমি এখানে কি করছ?” জানতে চাইলে টেড বলল, “কারণ আমি যে তোমার প্রেমে পড়ে গেছি।” এরপর সুগানথিনী জিজ্ঞেস করল, “সকালে কি করব? আমাকে যে স্কুলে যেতে হবে!” “চিন্তা করো না, আমি তোমার খাটের নিচে লুকিয়ে থাকব”, জানাল টেড।
শেষ পর্যন্ত টেড এটাই করল। সুগানথিনী স্কুল থেকে ফিরে তার জন্য রাতের খাবার লুকিয়ে নিয়ে আসত। এমন করে বেশ কয়েকদিন পার হতেই সুগানথিনীও তাকে ‘ভালোবাসি’ বলে ফেলল। একে অপরের প্রতি সুদৃঢ় আস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে উভয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হল। জানা যায়, সে এভাবে ৪৫ দিন সুগানথিনীর কক্ষে লুকিয়ে ছিল। অবশেষে টেড ধরা পড়ল।
সুগানথিনীর পরিবার তাকে বুঝাল সে যেন তাকে ভুলে যায়। টেড নিরুপায় হয়ে তাকে ‘ভালোবাসি না’ বলে জানিয়ে দেয় বটে। তবে সে একটা ছুরি বের করে নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করতে লাগল। আর প্রকাশ্যে জানিয়ে দিল যে, সে তাকে না পেলে বরং আত্মহত্যা করবে। হাসপাতালে নেয়া হল টেডকে। এদিকে সুগানথিনীও আত্মহত্যা নির্ণয় নিয়ে নিল। তাদের এমন দৃঢ় সিদ্ধান্ত শুনে সুগানথিনীর পরিবার তাদের ভালোবাসাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারলেন না। তারা সাংসারিক জীবন শুরু করল।
বেশ সুখেই তারা দিন কাটাতে লাগল। ১৯৭০ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে শেয়ার বাজারের ধ্বস নামে। লোকজন দেশ ছেড়ে পালাতে থাকে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভিয়েতনাম ও ক্যাম্বোডিয়ার ১৩ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয়দান করেন। টেড ও সুগানথিনী তাদের যা কিছু ছিল সববিক্রি করে পালক তিন সন্তানকে নিয়ে আমেরিকার ক্যালিফোনিয়া রাজ্যে ছুটে আসেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণদাতা উইনচিল তাকে একটি দোকান পরিচালনার দায়িত্ব দিলে সুগানথিনী অভ্যর্থনা কক্ষে এবং পালকসন্তান ক্রিস, বিস্কুট তৈরির কাজে সহায়তা করত।
তাঁর মাথায় এখন অর্থচিন্তা। পরিবারকে নিয়ে প্রতিদিন ১২-১৭ ঘন্টা কাজ করতেন টেড। বন্ধের দিনে পালক কন্যাদ্বয়ও তাদের সাহায্য করতেন। বন্ধের দিন ছাড়া তারা সারা সপ্তাহ স্কুলে যেত। যখনি তাদের খিদে পেত তারা স্কুলের অন্যান্য বাচ্চাদের টিফিনগুলো লুুকিয়ে লুকিয়ে খেয়ে ফেলত। বেকারির দোকান হতে জমানো অর্থ দিয়ে টেড নতুন আরেকটি দোকান ক্রয় করল। এক বছরে দোকান দুটি হতে ৪০ হাজার ডলার আয়ের অর্থ দিয়ে নতুন জায়গার লীজ নিয়ে সেগুলোকে আরো প্রসারিত করলেন। ব্যবসায়ের মুনাফা ঊর্ধ্বমুখি হওয়াই তিনি আরো কয়েকটি দোকান বেকারির জন্য খরিদ করলেন। (চলবে…)

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ, জানুয়ারি ২০২১ সংখ্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here